Shomoyer Songbad

Shomoyer Songbad News Paper

ঈদ মোবারক।  ঈদ মোবারক।।  ঈদ মোবারক।।। "এফ, আর, রাফসান ট্রাভেলস এন্ড কনসালটেন্সি,   ট্রাভেল উইথ ফয়সাল ৬৭৮ এবং দৈনিক সময়ের...
28/05/2026

ঈদ মোবারক। ঈদ মোবারক।। ঈদ মোবারক।।।
"এফ, আর, রাফসান ট্রাভেলস এন্ড কনসালটেন্সি, ট্রাভেল উইথ ফয়সাল ৬৭৮ এবং দৈনিক সময়ের সংবাদ " এর পক্ষ থেকে সবাইকে জানাই পবিত্র ঈদ উল আযহার শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন । ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত হোক সবার জীবন।

দেড় কোটি টাকার ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেফতার নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ও বোয়ালখালী থানা এলাকায় পৃথক অভিয...
23/05/2026

দেড় কোটি টাকার ইয়াবাসহ তিনজন গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম:

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ও বোয়ালখালী থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনজনকে এবং জব্দ করা মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কাভার্ডভ্যান। শুক্রবার এসব তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, কর্ণফুলী থানা এলাকায় র‌্যাব গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রামমুখী একটি কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে গাড়িটির পেছনে বিশেষ কৌশলে তৈরি লোহার চেম্বার থেকে কালো স্কচটেপে মোড়ানো ২৩ হাজার ৬৬০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে। উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৭০ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। এসময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি কাভার্ড ভ্যান জব্দ এবং মাদক কারবারি নাজমুল হক (৩৭) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার নাজমুল নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার ফাজিলপুর এলাকার মো. বেলাল হোসেনের ছেলে।

র‌্যাবের সহকারী পরিচালক মোজাফ্ফর হোসেন জানান, কাভার্ড ভ্যানে করে কক্সবাজার থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা চট্টগ্রাম শহরের দিকে আনার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাতে কর্ণফুলীর ফকিরনীরহাট শাহ মোহছেন আউলিয়া (র.) এলাকায় অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। পরে ইয়াবা ও জব্দ করা কাভার্ড ভ্যানসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে কর্ণফুলী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

অপরদিকে শুক্রবার রাতে বোয়ালখালী পৌর সদরের পূর্ব কালুরঘাটে র‍্যাবের অস্থায়ী চেকপোস্ট একটি অটোরিকশায় তল্লাশি করে ১৯ হাজার ৬০০টি ইয়াবা জব্দ করেছে। জব্দ করা ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৫৯ লাখ টাকা। এসময় অটোরিক্সায় থাকা বাদশা মিয়া (৪৭) ও তাহেরা বেগম শমসিদা (৩৫) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বিডি প্রতিদিন

ট্রেনের ছাদ থেকে যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:কুষ্টিয়ায় ট্রেনের ছাদ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় নুরুল আবছার...
23/05/2026

ট্রেনের ছাদ থেকে যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:

কুষ্টিয়ায় ট্রেনের ছাদ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় নুরুল আবছার (৩০) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৩ মে) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ছাদ থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় পোড়াদহ জিআরপি পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত যুবকের পকেটে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপির সূত্র ধরে জানা যায়, ওই যুবকের বাড়ি চট্টগ্রাম। তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানাধীন সাধনপুর এলাকার বজল আহমেদের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি কুষ্টিয়া মিল লাইন রেলগেট ক্রস করার সময় ঈদের জন্য নির্মাণাধীন প্যান্ডেলের ওপর কাজ করার সময় ডেকোরেটরের একজন শ্রমিক ট্রেনের ছাদে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি তিনি স্থানীয়দের জানালে তারা রেলওয়ে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনে ট্রেন থামলে ট্রেনের ছাদ থেকে যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।

মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে পোড়াদহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল ইসলাম জানান, ট্রেনের ছাদ থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার বুকে ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন আছে। মরদেহের পকেটের মধ্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের একটি ফটোকপির মাধ্যমে তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী থানাধীন সাধনপুর এলাকায়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ঢাকা থেকে ট্রেনটি ছেড়ে আসার সময় রাজবাড়ি স্টেশন পার হয়ে ছোট ছোট ব্রিজ রয়েছে। ব্রিজের সাথে ধাক্কা লেগে তার মৃত্যু হতে পারে। মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য কুষ্টিয়া আড়াই’শ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

বিডি প্রতিদিন

বিশ্বকাপে নতুন স্বপ্ন নিয়ে নামবে ‘কমলা বাহিনী’ অনলাইন ডেস্কইয়োহান ক্রুইফ, মার্কো ফন বাস্তেন, রুড গুলিত, ডেনিস বার্গক্যাম...
23/05/2026

বিশ্বকাপে নতুন স্বপ্ন নিয়ে নামবে ‘কমলা বাহিনী’
অনলাইন ডেস্ক

ইয়োহান ক্রুইফ, মার্কো ফন বাস্তেন, রুড গুলিত, ডেনিস বার্গক্যাম্প কিংবা আরিয়েন রোবেন বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে নেদারল্যান্ডস এমন অসংখ্য কিংবদন্তি ফুটবলারের জন্ম দিয়েছে। সুন্দর ফুটবল, আক্রমণাত্মক কৌশল আর দৃষ্টিনন্দন পাসিংয়ের জন্য আলাদা পরিচিতি রয়েছে ডাচদের। কিন্তু এত প্রতিভা ও ইতিহাস থাকার পরও এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের শিরোপা জেতা হয়নি তাদের।

বিশ্বকাপের মঞ্চে নেদারল্যান্ডস বরাবরই অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচিত। ১৯৭৪, ১৯৭৮ ও ২০১০ সালে তারা ফাইনালে উঠেছিল। কিন্তু প্রতিবারই শিরোপা অধরাই থেকে গেছে। বিশেষ করে ২০১০ সালের ফাইনালে স্পেনের কাছে হার আজও ডাচ সমর্থকদের কষ্ট দেয়।

সবশেষ কাতার বিশ্বকাপেও দারুণ সম্ভাবনা দেখিয়েছিল দলটি। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছানোর পর টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় তাদের। সেই আক্ষেপ বুকে নিয়েই এবার আবারও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরছে ‘কমলা বাহিনী’।

দ্বাদশবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে নেদারল্যান্ডস। ইউরোপ অঞ্চলের বাছাইপর্বে দুর্দান্ত খেলেই জায়গা নিশ্চিত করেছে তারা। ‘জি’ গ্রুপে ৮ ম্যাচের ৬টিতে জয় এবং বাকি দুই ম্যাচে ড্র করে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপে এসেছে ডাচরা। এই সময়ে তারা করেছে ২৫ গোল, বিপরীতে হজম করেছে মাত্র ২টি।

এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, এবারের ডাচ দল কতটা ভারসাম্যপূর্ণ। তবে কোচ রোনাল্ড কোম্যান বাস্তবতাও মানছেন। তার মতে, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স বা স্পেনের মতো বড় ফেবারিট না হলেও যেকোনো দলকে হারানোর সামর্থ্য রয়েছে তার দলের।

কোম্যান বলেন,‘মানুষ হয়তো আমাদের শিরোপার প্রধান দাবিদার মনে করছে না। কিন্তু নেদারল্যান্ডসের শক্তি হলো, আমরা যেকোনো দলকে হারাতে পারি।’

এবার ডাচদের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের রক্ষণভাগ। অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইকের নেতৃত্বে রক্ষণে আছেন নাথান আকে, মিকি ফন ডে ফেন ও জুরিয়েন টিম্বারের মতো নির্ভরযোগ্য ফুটবলার। মাঝমাঠেও আছে দারুণ ভারসাম্য। ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং, রায়ান গ্রাভেনবার্খ ও তিজাননি রেইন্ডার্সদের নিয়ে গড়া মধ্যমাঠ প্রতিপক্ষের জন্য হতে পারে বড় চ্যালেঞ্জ।
তবে চোটের কারণে সম্ভাবনাময় ডিফেন্ডার ম্যাথিয়াস ডি লিটকে না পাওয়া ডাচদের জন্য কিছুটা ধাক্কার।

বল দখলে রেখে দ্রুত ছোট ছোট পাসে আক্রমণে ওঠা এটাই নেদারল্যান্ডসের ফুটবলের সৌন্দর্য। ডাচদের খেলা বরাবরই ফুটবলপ্রেমীদের আলাদা আনন্দ দেয়। ১৯৭৪ বিশ্বকাপে ইয়োহান ক্রুইফের বিখ্যাত ‘ক্রুইফ টার্ন’, ১৯৯৮ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ডেনিস বার্গক্যাম্পের অসাধারণ গোল কিংবা ২০১৪ বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে রবিন ফন পার্সির অবিশ্বাস্য হেড সবই বিশ্বকাপ ইতিহাসের স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে আছে। এবারও সমর্থকদের আশা, ডাচরা হয়তো আবারও উপহার দেবে এমন কোনো জাদুকরী মুহূর্ত।

বিডি-প্রতিদিন

বেগম জিয়া পরিবারকে গ্রেপ্তারের মাস্টারমাইন্ড মতি-মাহফুজরিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ বিশেষ প্রতিনিধিপ্রথম আলো সম্পাদক মতিউ...
23/05/2026

বেগম জিয়া পরিবারকে গ্রেপ্তারের মাস্টারমাইন্ড মতি-মাহফুজ
রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ
বিশেষ প্রতিনিধি

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের নেতৃত্বে সুশীল সমাজের একটি অংশের চাপেই এক-এগারোর সময় বেগম খালেদা জিয়া, তাঁর ছেলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এক-এগারোর দুই কুশীলব লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন এবং মেজর জেনারেল (অব.) মামুন খালেদ গোয়েন্দাদের কাছে এ তথ্য জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে দুজনই এক- এগারোর মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে মতি এবং মাহফুজের নাম উল্লেখ করেছেন।

এক-এগারোর অন্যতম ক্ষমতাধর ব্যক্তি জেনারেল মাসুদ উদ্দিন রিমান্ডে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। একাধিক গোয়েন্দা সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা বলেছেন, সেনাবাহিনী বেগম জিয়া এবং তারেক রহমানকে গ্রেপ্তারের পক্ষে ছিল না। কিন্তু সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বিশেষ করে দুই সম্পাদক তাঁদের গ্রেপ্তারের জন্য রীতিমতো চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচন হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সমঝোতার ভিত্তিতে।

উল্লেখ্য, গত ২৩ মার্চ দিবাগত রাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার নিজ বাসা থেকে মাসুদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ২৪ মার্চ পল্টন মডেল থানার মামলায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন আদালত। পরবর্তীতে গত ২৯ মার্চ দ্বিতীয় দফায় তার ফের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

গত ৪ এপ্রিল তৃতীয় দফায় আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। সর্বশেষ গত ৭ এপ্রিল পল্টন মডেল থানার মামলায় তিন দফায় ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। ওই দিন দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

গত ১১ এপ্রিল এক-এগারোর আলোচিত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ফের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক কর্মকর্তা জানান, তাকে মূলত ২০০৭ সালের এক-এগারোর ষড়যন্ত্র নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

মাসুদ উদ্দিন বলেন, ২০০৬ সালের শুরু থেকেই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে। তখন তিনি সেনাবাহিনীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশন অর্থাৎ নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি। নানা কারণেই এই ডিভিশনের গুরুত্ব অপরিসীম। এই ডিভিশনকে বলা হয় সেনাবাহিনীর অন্যতম স্তম্ভ। মাসুদ বলেন, এ সময় তিনি একজন সম্মানিত সম্পাদকের ফোন পান। ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের এই সম্পাদক তার সঙ্গে একান্তে কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ করেন। মাসুদ বলেন, সাভার সেনানিবাসে তাকে আমন্ত্রণ জানালে তিনি রাজি হননি। তিনি আমাকে গুলশানের একটি বাসায় নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান। আমি তার প্রস্তাব গ্রহণ করি। মাসুদ বলেন, ২০০৬-এর অক্টোবরে গুলশানে একজন শিল্পপতির বাসায় আমি সস্ত্রীক যাই। ওই শিল্পপতি দুটি প্রভাবশালী সংবাদপত্রের মালিক। সেখানে আমি আরও কয়েকজন সুশীল সমাজের প্রতিনিধির সঙ্গে পরিচিত হই। তাদের মধ্যে প্রথম আলো সম্পাদক, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, লেখক এবং বুদ্ধিজীবী ছিলেন। সেখানে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। নৈশভোজের ফাঁকে দুই সম্পাদক এবং একজন স্বনামধন্য বুদ্ধিজীবী আমার সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় অংশ নেন। মাসুদ দাবি করেন, এ আলোচনায় রাজনৈতিক সংকটে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়। জেনারেল মাসুদ গোয়েন্দাদের কাছে দাবি করেছেন, আমি তিনজনকেই বলি সেনাবাহিনী চলে চেইন অব কমান্ডে, তাই এ বিষয়ে সেনাপ্রধানের সঙ্গে তাদের আলোচনা করা উচিত। তারা মাসুদকে জানান, সেনাপ্রধানের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। তিনি আপনার ভূমিকা নিয়ে নিশ্চিত নন। মাসুদ বলেন, এ সময় আমি বলি সেনাপ্রধান সেনাবাহিনী এবং দেশের স্বার্থে যে সিদ্ধান্ত নেবেন আমি তা পালন করব।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ওই নৈশভোজের এক দিন পরই সেনাপ্রধান তাকে ফোন করেন এবং জরুরি বৈঠকের জন্য সেনা সদরে আসতে বলেন। মাসুদ বলেন, মইন তার ভালো বন্ধু হলেও সেনাপ্রধান হওয়ার পর তার সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। তবে সেনা সদরের বৈঠকে তাদের দূরত্ব কমে যায় বলে মাসুদ জানান। ওই বৈঠকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। মইন তাকে জানান যে, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করবে না। মাসুদ এ তথ্য বিশ্বাস করেননি। তিনি বলেন, ২২ জানুয়ারির নির্বাচন যদি আওয়ামী লীগ বর্জন করে তাহলে সেনাপ্রধান যে সিদ্ধান্ত নেবেন তা আমি মেনে নেব। মাসুদ বলেন, এরপর দ্রুত পরিস্থিতি পাল্টাতে থাকে। রিমান্ডে তিনি বলেন, ৮ জানুয়ারি সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠকে আমরা ইয়াজউদ্দিনের সরকারকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করি। মাসুদ দাবি করেন, সেনাবাহিনীতে তিনি সেনাপ্রধানের চেয়ে জনপ্রিয় ছিলেন। এজন্য এক-এগারোর সময় তাকে সামনে রেখে মইন সবকিছু করেছিলেন।

রিমান্ডে মাসুদ উদ্দিন দাবি করেন, তিনি নিজে বা সেনাবাহিনী বেগম জিয়ার পরিবারকে গ্রেপ্তার করার পক্ষে ছিলেন না। কোর কমান্ডের বৈঠকে তাদের গৃহবন্দি অথবা বিদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বিশেষ করে দুই সম্পাদক মতিউর রহমান ও মাহফুজ আনাম তাঁদের গ্রেপ্তারের জন্য রীতিমতো চাপ সৃষ্টি করেন। মাসুদ দাবি করেন, আমি তাদের বলেছিলাম, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীতে অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। তাঁকে আপামর সেনা সদস্যরা শ্রদ্ধা করেন। জিয়া পরিবারকে গ্রেপ্তার করা হলে সেনাবাহিনীতে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে। কিন্তু সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে বলা হয়, দুই নেত্রীকে না সরালে দেশে রাজনৈতিক সংস্কার অসম্ভব। মাসুদ বলেন, আমি তখন দুই সম্পাদককে এ বিষয়ে জনমত তৈরি করতে বলেছিলাম। এরপর দুই নেত্রীর বিরুদ্ধে দুটি সংবাদপত্র একাধিক সংবাদ প্রকাশ করে।

মতিউর রহমানের স্বনামে লেখা ‘দুই নেত্রীকে সরে দাঁড়াতে হবে’ শিরোনামে লেখাটিই এক-এগারো সরকারের পথ নির্দেশনা। মাসুদ উদ্দিন দাবি করেছেন, এক-এগারোতে সবকিছুই করা হয়েছে মতিউর রহমান, মাহফুজ আনামের নেতৃত্বে সুশীল সমাজের পরামর্শে। তিনি বলেন, এক-এগারোর পটভূমি তৈরি করতে ২০০৫ সাল থেকে পত্রিকা দুটি নিয়মিতভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে সংবাদ ও কলাম লিখতে থাকে।

২০০৮ সালের ১১ জানুয়ারিতে ফখরুদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মোট ১৬ জন উপদেষ্টার মধ্যে ৯ জনই সুশীল সমাজের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত দুটি পত্রিকায় নিয়মিত কলাম লিখেছেন অথবা তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ। তাদের দিয়ে ওই সংবাদপত্র দুটি নিয়মিত গোলটেবিল বৈঠক, আলোচনা সভার আয়োজন করত। এদের মধ্যে ছিলেন এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম, আইয়ুব কাদরী, ড. ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী, চৌধুরী সাজ্জাদুল করিম (সি এস করিম), এ এম এম শওকত আলী (সাবেক সচিব), রাশেদা কে চৌধূরী, ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। এ ছাড়াও হাসান আরিফ ছিলেন এই সংবাদপত্র দুটির আইনজীবী। গীতি আরা সাফিয়া চৌধুরী এই পত্রিকা দুটির বিভিন্ন প্রচারণায় জড়িত ছিলেন।

জেনারেল মাসুদ দাবি করেন, ২০০১ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একটি বিশেষ চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। ২০০৬ সালের শুরু থেকে দেশের প্রভাবশালী একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি দৈনিক সুপরিকল্পিতভাবে সরকারের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার শুরু করে। তথাকথিত ‘যোগ্য প্রার্থী’ বাছাইয়ের নামে এনজিও ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়ে দেশব্যাপী সেমিনার এবং গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়, যার মূল লক্ষ্য ছিল রাজনীতিবিদদের প্রতি সাধারণ মানুষের ঘৃণা সৃষ্টি করা।

মাসুদ দাবি করেন, ওই সময় কিছু প্রভাবশালী মহল দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নির্দিষ্ট দিকে নিতে কাজ করেছিল। তার ভাষ্যমতে, একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি দৈনিক তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সমালোচনার আড়ালে এমন একটি জনমত তৈরি করেছিল, যেখানে রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যায়। তিনি অভিযোগ করেন, এ প্রক্রিয়ায় ‘বিরাজনীতিকরণ’ ধারণাটি সামনে আনা হয় এবং সেটিকে জনপ্রিয় করতে সংবাদ পরিবেশন ও বিশ্লেষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

গোয়েন্দারা মনে করছেন, এক-এগারো ষড়যন্ত্রের আসল রহস্য উদ্ঘাটন করতে হলে এই দুই সম্পাদককে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। এক-এগারোর ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিদিনের পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি প্রথম আলো কার্যালয়ে মতিউর রহমানের বক্তব্যের জন্য গেলে জানানো হয় তিনি অফিসে নেই।

সুত্র: বিডি প্রতিদিন

আরও কমেছে জেট ফুয়েলের দাম অনলাইন ডেস্কঅভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে কমিয়ে ১৬৫ টাক...
23/05/2026

আরও কমেছে জেট ফুয়েলের দাম
অনলাইন ডেস্ক

অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে কমিয়ে ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার জেট ফুয়েলের দাম লিটারে ৩৯ টাকা ৫৭ পয়সা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

আর আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইনসের জন্য শুল্ক ও মূসকমুক্ত জেট ফুয়েলের দাম প্রতি লিটার ১ দশমিক ৩৪ ডলার থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ০৮২৩ ডলার করা হয়েছে।

নতুন দর শনিবার রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এটি বহাল থাকবে।

এর আগে ৭ মে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২২৭ টাকা ৮ পয়সা থেকে কমিয়ে ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা করেছিল বিইআরসি। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে দাম ১ দশমিক ৪৮ ডলার থেকে কমিয়ে ১ দশমিক ৩৪ ডলার করা হয়েছিল।

বিইআরসি বলছে, ২০২৫ সালের ১৩ মে জারি করা কমিশনের আদেশ অনুযায়ী মাসভিত্তিতে প্ল্যাটস রেটের ভিত্তিতে জেট ফুয়েলের দাম সমন্বয় করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ‘জেট এ-১’ এর দামে ‘বড় পরিবর্তন’ হওয়ায় ৫ মে থেকে ২১ মে পর্যন্ত প্ল্যাটস রেটের গড় বিবেচনায় মে মাসের মধ্যবর্তী সময়ের জন্য নতুন মূল্যহার নির্ধারণ করা হয়েছে।

কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের এলসি নিষ্পত্তিতে মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং ডিজেলের বিদ্যমান দামের কারণে কোস্টাল ট্যাংকার ও ট্যাংক লরির পরিবহন চার্জও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

এর আগে এপ্রিলে জেট ফুয়েলের দাম বাড়িয়েছিল বিইআরসি। ৭ এপ্রিল অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২০২ টাকা ২৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২২৭ টাকা ৮ পয়সা করা হয়। আন্তর্জাতিক রুটে লিটারে দাম করা হয় ১ দশমিক ৪৮ ডলার। তারও আগে ২৪ মার্চ অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক রুটে দাম বাড়ানো হয় ০ দশমিক ৭৪ ডলার থেকে ১ দশমিক ৩২ ডলারে।

মার্চের শুরুতেও জেট ফুয়েলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। ৮ মার্চ অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার দাম ৯৫ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১২ টাকা ৪১ পয়সা এবং আন্তর্জাতিক রুটে ০ দশমিক ৬২ ডলার থেকে ০ দশমিক ৭৩৮৪ ডলার নির্ধারণ করে বিইআরসি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ছিল ৯৪ টাকা ৯৩ পয়সা। ফেব্রুয়ারিতে তা ১৯ পয়সা বাড়িয়ে ৯৫ টাকা ১২ পয়সা করা হয়।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েলের অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল বলে এর আগে বলেছিল বিইআরসি।

আকাশপথে মানব পাচারের ৭ রুট চিহ্নিত, নতুন গন্তব্য কম্বোডিয়া ও লাওস অনলাইন ডেস্কবাংলাদেশ থেকে পর্যটন, শিক্ষা ও চাকরির ভিসা...
23/05/2026

আকাশপথে মানব পাচারের ৭ রুট চিহ্নিত, নতুন গন্তব্য কম্বোডিয়া ও লাওস
অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ থেকে পর্যটন, শিক্ষা ও চাকরির ভিসার আড়ালে তরুণদের ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পাচার করা হচ্ছে। এজন্য ব্যবহার করা হচ্ছে সাতটি আন্তর্জাতিক রুট। এর মধ্যে মানব পাচারের নতুন কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কম্বোডিয়া ও লাওস।

বাংলাদেশ থেকে প্রথমে থাইল্যান্ড এবং পরে কম্বোডিয়া বা লাওসে নেয়া হয়। সেখানে তথাকথিত ‘অনলাইন চাকরি’ বা ‘কাস্টমার সার্ভিস’ কাজের প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও অনেকে সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে আটকা পড়েন। জোরপূর্বক অনলাইন প্রতারণা, জুয়া কিংবা আর্থিক জালিয়াতির কাজে বাধ্য করা হয়। পালাতে চাইলে নির্যাতনের শিকার হতে হয়। পাশাপাশি সমুদ্রপথে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রার মাধ্যমে অসংখ্য মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। মানব পাচার নিয়ে কাজ করা পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রতিবেদনে এসব রুটের তথ্য উঠে এসেছে।

সিআইডির তথ্যমতে, বিমানপথে মানব পাচারের জন্য বর্তমানে সাতটি প্রধান আন্তর্জাতিক গন্তব্য সক্রিয় রয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ইতালি, সার্বিয়া/মেসিডোনিয়া, রাশিয়া, আমেরিকা, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও কম্বোডিয়া/লাওস। এসব কর্মকাণ্ডে দেশের কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি ও ট্রাভেল এজেন্সি এবং দালাল চক্র জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত চক্রগুলো ভুক্তভোগীদের বিভিন্ন দেশে আকর্ষণীয় বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে আকৃষ্ট করে।

এরপর পাসপোর্ট নিয়ে বৈধ কাগজপত্রের আড়ালে তাদের বিদেশে পাঠায়। প্রথমে পর্যটন, শিক্ষা বা চাকরির ভিসা সংগ্রহ করা হয়। এরপর তৃতীয় কোনো দেশে ট্রানজিট করিয়ে চূড়ান্ত গন্তব্যে নেয়া হয়, যাতে সরাসরি গন্তব্য দেশের নজরদারি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডামুখী পাচার রুটেও নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আমেরিকাগামীদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ থেকে প্রথমে ব্রাজিল, পরে মেক্সিকো হয়ে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ আমেরিকাকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার বেড়েছে। কারণ অনেক দেশে অন-অ্যারাইভাল সুবিধা বা তুলনামূলক দুর্বল ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা পাচারকারীদের সুযোগ করে দিচ্ছে।

এছাড়া কানাডাগামী রুটে শিক্ষা ও পর্যটন ভিসা ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে। বাংলাদেশ থেকে প্রথমে নেপালসহ তৃতীয় কোনো দেশে নিয়ে পরে কানাডায় পাঠানো হয়। বিদেশে স্থায়ী হওয়ার সুযোগ ও উচ্চ আয়ের চাকরির প্রলোভনে অনেকে এ ফাঁদে জড়াচ্ছেন।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্টাডি ও ভিজিট ভিসার আড়ালে পরিচালিত এসব নেটওয়ার্ক এখন আকাশপথে মানব পাচারের অন্যতম নতুন কৌশলে পরিণত হয়েছে। সেখানে গিয়ে অনেকে অবৈধ হয়ে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হন।

মানব পাচার মামলার তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, ইতালিগামী রুটটি বর্তমানে সবচেয়ে জটিল ও দীর্ঘ রুটগুলোর একটি। বাংলাদেশ থেকে পাচারকারীরা প্রথমে নেপাল, ভারত বা শ্রীলংকা হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠায়। এরপর মিসর, তিউনিসিয়া কিংবা লিবিয়া হয়ে অবশেষে ইতালিতে পৌঁছানো হয়। সমুদ্রপথে পাড়ি দিতে গিয়ে অসংখ্য যুবককে প্রাণ হারাতে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের মরুভূমি ও ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে বাধ্য করা হয়। সেখানে মৃত্যুঝুঁকিও অত্যন্ত বেশি। যাত্রাপথে একাধিক ভুয়া ট্রাভেল ডকুমেন্ট, জাল ভিসা এবং স্থানীয় দালালচক্র সক্রিয় থাকে। অস্ট্রেলিয়াগামী রুটে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া, পরে ইন্দোনেশিয়া হয়ে সমুদ্রপথে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়। অনেক সময় বিমানপথ ও জলপথ মিলিয়ে মিশ্র রুট ব্যবহার করা হয়। এ যাত্রায় শত শত মানুষকে ছোট নৌকা বা মাছ ধরার ট্রলারে তোলা হয়। খাবার ও নিরাপত্তার অভাবে বহু মানুষ নিখোঁজ কিংবা নিহত হন। অন্যদিকে রাশিয়াগামী রুটে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরব হয়ে রাশিয়ায় নেয়ার তথ্য দিয়েছে সিআইডি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধক্ষেত্রে প্রেরণের প্রবণতাও উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে।

আকাশপথের পাশাপাশি অনিরাপদ সমুদ্রপথে মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে। জলপথে মানব পাচারের ক্ষেত্রেও দুটি বড় রুট চিহ্নিত করেছে সিআইডি। প্রথম রুটে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়া, পরে ইন্দোনেশিয়া হয়ে অস্ট্রেলিয়ায় নেয়া হয়। দ্বিতীয় রুটে বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়ায় প্রবেশ করানো হয়। এ যাত্রায় ছোট নৌযান, ট্রলার ও মাছ ধরার নৌকা ব্যবহার করা হয়। ভুক্তভোগীদের অনেক সময় সপ্তাহের পর সপ্তাহ সাগরে আটকে রাখা হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে অনিরাপদ সমুদ্রযাত্রায় নৌকাডুবি, অনাহার, মুক্তিপণের জন্য নির্যাতন এবং মৃত্যুর ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। সমুদ্রপথের পাচার সবচেয়ে নিষ্ঠুর। এখানে মানুষকে পণ্য হিসেবে পরিবহন করা হয়। অনেকে জীবিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন না। দিনের পর দিন এ পথে মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে। অনেক পরিবার তার সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে।

সিআইডির মানব পাচার ইউনিটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মামলা ও গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়েছে। গত কয়েক বছরে মানব পাচার প্রতিরোধ (টিএইচবি) ইউনিট মোট ৩৪৪ আসামিকে গ্রেফতার করেছে। ২০২৫ সালে সর্বোচ্চ ১২২টি মামলা তদন্তাধীন বা নথিভুক্ত হওয়ার তথ্য দেখানো হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে ১০০ এবং ২০২৩ সালে ৮৬টি মামলা ছিল।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, বিভিন্ন আদালতে মানব পাচারের অধিকাংশ মামলার বিচার কার্যক্রম চলছে ধীরগতিতে। মামলার উপাদান, সাক্ষ্য ও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করতে না পারায় তদন্ত কর্মকর্তারা যথাসময়ে তদন্ত শেষ করতে পারছেন না। মানব পাচার আইনে করা মামলায় ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে অভিযোগ গঠন এবং ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে বিচার শেষ করার বিধান থাকলেও তদন্ত ধীর হওয়ায় বিচার সম্ভব হচ্ছে না। যে কারণে বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকছে মামলার কার্যক্রম। ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, গ্রিস, ইতালি, সাইপ্রাস, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, ইরাক, বাহরাইন ও লিবিয়ায় বাংলাদেশীদের বেশি পাচার করা হয়ে থাকে। এসব দেশে কাজের জন্য গিয়ে নানা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন রেমিট্যান্স যোদ্ধারা। প্রতারণার ফাঁদে সবকিছু হারিয়ে দেশে ফিরে আইনের আশ্রয় নেন তারা। তবে এসব মামলায় এ পর্যন্ত কোনো রিক্রুটিং এজেন্সি বা ট্রাভেল এজেন্সির মালিকের বিরুদ্ধে সাজা হওয়ার নজির নেই বললেই চলে। অর্থের বিনিময়ে আপসরফা করায় বিদ্যমান মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন প্রয়োগ হচ্ছে না। অথচ বিদ্যমান আইনে সংঘবদ্ধভাবে মানব পাচারের জন্য মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও সর্বনিম্ন সাত বছরের কারাদণ্ড এবং অন্যূন ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। আইনে সাজা না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে পাচারকারীরা অপ্রতিরোধ্য হয়ে পুনরায় মানব পাচারে জড়িত হচ্ছেন।

দায় চাপানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে মানব পাচারের মতো অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে না বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম সোহাগ। তিনি বলেন, ‘মানব পাচারকারীরা সব সময় সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে টার্গেট করে থাকে। মিথ্যে স্বপ্ন দেখিয়ে তাদের নানা প্রক্রিয়ায় বিদেশে পাচার করা হয়। আকাশপথের পাশাপাশি অনেক সময় সীমান্তবর্তী অঞ্চল দিয়ে এবং সাগরপথেও মানব পাচার হয়। বেশকিছু রিক্রুটিং এজেন্সি মানব পাচারে জড়িত। মানব পাচার ক্রমবর্ধমান হারে বেড়ে চলার পেছনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটিএ) গাফিলতি রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের অভিযোগগুলো তারা একে অন্যের ওপর দায় চাপানোর চেষ্টা করে। আর এ সুযোগে পার পেয়ে যান অপরাধীরা। মানব পাচার নিয়ন্ত্রণ করতে হলে অবশ্যই যার যে দায়িত্ব সেটা সঠিকভাবে পালন করতে হবে। অনেক সময় মানব পাচার চক্রের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাও থাকে। বিপদে পড়লেই রাজনৈতিক সুবিধা নেয়। এছাড়া বিচারহীনতার একটা সংস্কৃতি তো আছে। এসব মিলিয়েই মানব পাচারের মতো অপরাধ বেড়ে চলেছে।’

মানব পাচার তদন্তসংশ্লিষ্ট সিআইডির এক কর্মকর্তা বলেন, মানব পাচার এখন আন্তঃদেশীয় অপরাধ। এককভাবে কোনো দেশের পক্ষে এটি মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। তথ্য বিনিময় ও যৌথ তদন্ত ছাড়া বড় চক্র ভাঙা কঠিন। মানব পাচারকারীরা এখন প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিকভাবে সংগঠিত। তারা ভুয়া ভিসা, প্রতারণামূলক চাকরির অফার এবং দীর্ঘ ট্রানজিট রুট ব্যবহার করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তবে সিআইডি ও অন্যান্য সংস্থা সমন্বিতভাবে এ নেটওয়ার্ক ভাঙতে কাজ করছে। যেকোনো সন্দেহজনক বিদেশযাত্রা, অস্বাভাবিক ট্রাভেল রুট বা অনলাইনে বিদেশে চাকরির প্রস্তাব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন হতে হবে। পাচারকারীদের বিরুদ্ধে তথ্য পেলে দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো জরুরি। অনেক সময় দেখা যায়, একই চক্র ভুয়া রিক্রুটিং এজেন্সি, ট্রাভেল এজেন্সি ও সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ব্যবহার করছে। তাই প্রতিরোধে প্রযুক্তিগত নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।

সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান বলেন, ‘বেশকিছু মামলা তদন্ত করতে গিয়ে মানব পাচারের আন্তর্জাতিক বেশকিছু রুট চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব রুট দিয়ে নানা শ্রেণী-পেশার মানুষকে বিভিন্ন দেশে পাচার করা হচ্ছে। চিহ্নিত করা রুটগুলো নিয়ে বিস্তর কাজ চলছে। পাশাপাশি পাচারকারীদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

সূত্র: বণিক বার্তা

ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু অনলাইন ডেস্কঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। আজ ভোর ৬টায় ঢাকা থেকে বিশেষ ব্য...
23/05/2026

ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু
অনলাইন ডেস্ক

ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। আজ ভোর ৬টায় ঢাকা থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় রাজশাহীগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ছেড়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে ট্রেনে ঈদযাত্রা শুরু হয়। এরপর একে একে আরও বেশ কয়েকটি ট্রেন বিভিন্ন জেলায় যাত্রী নিয়ে ঢাকা ছেড়ে গেছে।

সকাল ১০টা পর্যন্ত ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে অন্তত ৬টি ট্রেন ছেড়ে গেছে। তবে প্রত্যেকটি ট্রেন ছেড়ে যেতে সর্বনিম্ন ১৫ মিনিট থেকে ৩০ মিনিট বা তার বেশি সময় দেরি হচ্ছে।

এদিকে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রেলস্টেশনে কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম ঘুরে যাত্রীদের সমস্যার কথা শুনেছেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) মো. আফজাল হোসেন।

এ সময় তিনি যাত্রীদের কাছে জানতে চান অনলাইনে টিকিট কাটতে কোনো সমস্যা হয় কিনা। এ ছাড়া যাত্রীরা নিজ আসনে বসে যেতে পারছেন কি না, তাও জানতে চান। বাংলাদেশ রেলওয়ের ডিজি যাত্রীদের সমস্যা শুনে ধীরে ধীরে তা সমাধানের আশ্বাস দেন।

বিডি-প্রতিদিন

শেষ হলো হজ ফ্লাইট, হজে গিয়ে মারা গেছেন ২৪ জন অনলাইন ডেস্কবাংলাদেশ থেকে চলতি বছরের হজ ফ্লাইট শেষ হয়েছে। সৌদি আরবে পৌঁছেছে...
23/05/2026

শেষ হলো হজ ফ্লাইট, হজে গিয়ে মারা গেছেন ২৪ জন
অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ থেকে চলতি বছরের হজ ফ্লাইট শেষ হয়েছে। সৌদি আরবে পৌঁছেছেন বাংলাদেশ থেকে নিবন্ধিত সব হজযাত্রী।

শুক্রবার (২২ মে) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালে আইটি হেল্পডেস্কের প্রতিদিনের বুলেটিন থেকে জানানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত হজ ফ্লাইটে ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ৭৯ হাজার ১৬৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী।

হজ বুলেটিনে বলা হয়েছে, এবার মোট ২০১টি ফ্লাইটে সরকারি মাধ্যমে ৪ হাজার ৪৬৪ জন এবং বেসরকারি মাধ্যমে ৭৩ হাজার ৯২৬ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন।

হজ শেষে ৩০ মে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে। দেশে ফেরার ফ্লাইট শেষ হবে আগামী ৩০ জুন।

অন্যদিকে, এখন পর্যন্ত ২৪ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী সৌদি আরবে মারা গেছেন। মারা যাওয়া হজযাত্রীদের মধ্যে ১৭ জন পুরুষ, ৭ জন নারী। মক্কায় ১৫ জন ও মদিনায় ৯ জন মারা গেছেন। সবশেষ ২২ মে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (৬১) নামে এক ব্যক্তি মারা গেছেন।

বিডি-প্রতিদিন

বহু বছর পর তিন বন্ধু একসাথে
01/05/2026

বহু বছর পর তিন বন্ধু একসাথে

Address

34 H. M. Plaza, 10th Floor
Dhaka
1230

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Shomoyer Songbad posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share