12/11/2025
“পূজা” মানে কেবল ফুল, ধূপ, প্রদীপ নয় —
বরং চিন্তা, মনোযোগ, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা কোনো এক সত্তার দিকে নিবিষ্ট করা।
যাকে আমরা পূজা করি, তার গুণ, ভাব, চরিত্র আমাদের মনে বারবার প্রতিফলিত হয়।
গীতা বলছে, যাঁরা দেবতাদের উপাসনা করেন, তাঁরা দেবলোক প্রাপ্ত হন; যাঁরা পিতৃগণের উপাসনা করেন, তাঁরা পিতৃলোক প্রাপ্ত হন; যাঁরা ভূত বা প্রেতদের পূজা করেন, তাঁরা তাদেরই মধ্যে গমন করেন। কিন্তু যাঁরা ভগবান শ্রীকৃষ্ণের একনিষ্ঠ ভক্ত, তাঁরা ভগবানের নিত্যধাম, অর্থাৎ গোলোক বা বৈকুণ্ঠধাম লাভ করেন, যা অমর ও চিরস্থায়ী।
আমরা যার পূজা করি, আমাদের চেতনা তার স্তরে উন্নীত বা অবনমিত হয়।
সাময়িক দেবতাদের পূজায় সাময়িক ফল মেলে, কিন্তু ভগবানের ভক্তি মানুষকে মুক্তি ও চিরসুখের পথে নিয়ে যায়।
অর্থাৎ যে ব্যক্তি যাঁর উপাসনা করে, সে শেষপর্যন্ত সেই উপাস্য সত্তার অধীন জগতে পৌছে যায়। উপাসনা মানে হলো চেতনার আকর্ষণ ও সংযোগ। যে সত্তাকে মানুষ শ্রদ্ধা, প্রেম বা পূজার ভাব নিয়ে ভাবতে থাকে — তার মন, বুদ্ধি ও হৃদয় ধীরে ধীরে সেই সত্তার গুণ, ভাব ও চেতনার সঙ্গে একাত্ম হতে শুরু করে।
👉 তাই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গীতায় অর্জুনকে বলেছেন,
"মন্মনা ভব মদ্ভক্তো মদযাজী মাং নমস্কুরু,
মামেবৈষ্যসি যুক্ত্বৈবমাত্মানং মৎপরায়ণঃ।।৯/৩৪।।
অর্থাৎ তোমার মনকে আমার ভাবনায় নিযুক্ত কর, আমার ভক্ত হও, আমাকে প্রণাম কর এবং আমার পূজা কর। এভাবেই মৎপরায়ণ হয়ে সম্পূর্ণরূপে আমাতে অভিনিবিষ্ট হলে, নিঃসন্দেহে তুমি আমাকে লাভ করবে।
।। জয় শ্রীকৃষ্ণ।।🙏