15/06/2026
নেদারল্যান্ডস এবং জাপানের মধ্যকার এই লড়াইটি ছিল মূলত ডাচদের পজিশনিং বনাম জাপানের কঠোর শৃঙ্খলার দারুন ট্যাকটিক্যাল ক্ল্যাশ। ফ্র্যাংকি ডি ইয়ং ও ভার্জিল ভ্যান ডাইকের পার্সোনাল ডমিনেশনের বিপরীতে জাপান কোচ হাজিমে মোরিয়াসুর টিম গেইম এক চমৎকার ছিল চমৎকার প্রদর্শনী ।
প্রথমে খেলা থেকে মনে হচ্ছিল ডাচরা যে ডি বক্সের বাইরে বল ঘোরাচ্ছে তারা শুধু জাপনিজ গোলকিপারকে পাস দিতে পারছেনা তবে
আক্রমণের সময় নেদারল্যান্ডস ৪-১-৫ ফরমেশনে বিল্ড-আপ করছিল, যেখানে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং ছিলেন একমাত্র 'সিঙ্গেল পিভট'। ফুল-ব্যাকরা নিচে নেমে জাপানের প্রথম সারির প্রেসিংকে ওভারলোড করার চেষ্টা করলেও, ডাচদের ধীরগতির বল সার্কুলেশনের কারণে জাপানের রক্ষণ ভাঙা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
তবে ম্যাচের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স , বল ছাড়া তিনি নিচে নেমে এসে ৩-ম্যান ব্যাকলাইন তৈরি করছিলেন, আর রক্ষণ সামলানোর সময় ৫-৪-১ ব্লকে রাইট সেন্টার-ব্যাকের দায়িত্ব পালন করছিলেন। আবার বল পায়ে পেলেই তিনি ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসেবে পুরো মিডফিল্ড ও বল প্রগ্রেশন নিয়ন্ত্রণ করেছেন।
সেন্টার ব্যাক এবং ডিএম হিসেবে খেলার পরও ফাইনাল থার্ডে ১৫টি পাস ,৯৫% পাস অ্যাকুরেসি, ৫টি রিকভারি এবং ৫টি ডুয়েল উইন। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডি ইয়ং ছাড়া ডাচরা প্রতি ম্যাচে গড়ে ১.৯টি গোল করে, কিন্তু তিনি থাকলে সেটি বেড়ে দাঁড়ায় ২.৫-এ। এই ম্যাচেও তিনি আক্ষরিক অর্থেই দুজনের কাজ একা সামলেছেন।
২০১৮ সাল থেকে জাপানিজ প্রজেক্ট ম্যানেজার হাজিমে মোরিয়াসুর অধীনে এমন এক সিস্টেমে খেলছে, যেখানে ব্যক্তিগত তারকার চেয়ে দলগত পারফরম্যান্স বেশি প্রাধান্য পায়। এই ম্যাচেও তারা একটি সুশৃঙ্খল ৫-২-৩ মিডব্লক পদ্ধতিতে রক্ষণ সামলেছে।
তাদের সামনের তিন খেলোয়াড় ডাচদের পিভটদের কাছে বল পৌঁছানোর সব রাস্তা বন্ধ করে দেয়। দলটির প্রেসিং, রক্ষণভাগের কাভারেজ এবং পজিশনাল রোটেশন এতটাই নিখুঁত ছিল যে একজন জায়গা ছাড়লে অন্যজন সাথে সাথে সেই শূন্যস্থান পূরণ করেছে। বিশ্বমানের তারকা না থাকা জাপান নির্দিষ্ট জোনে সংখ্যাগত সুবিধা তৈরি করে এবং ফ্ল্যাঙ্কে ওভারলোড গড়ে তোলে। দ্বিতীয়ার্ধে মোরিয়াসুর সাবস্টিটিউশনগুলো দলের আক্রমণকে আরও ধারালো করে তোলে।
ট্যাকটিক্যাল প্ল্যানের বাইরে গিয়ে নেদারল্যান্ডস তাদের ফিজিক্যালিটিকে দারুণভাবে কাজে লাগিয়েছে, যার মূল কারিগর ছিলেন অধিনায়ক ভার্জিল ভ্যান ডাইক। পুরো ম্যাচে সবচেয়ে বেশি বল টাচ, সবচেয়ে বেশি পাস কমপ্লিট, লং পাস এবং ক্লিয়ারেন্স এসেছে তার পা থেকে।
ডাচদের প্রবল চাপ এবং দুইবার পিছিয়ে পড়ার পরও জাপান ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়নি। বল দখলে রাখার চেয়ে তারা দ্রুত ট্রানজিশনের ওপর বেশি জোর দিয়েছিল। তাকেফুসা কুবো এবং দাইচি কামাদার মতো খেলোয়াড়রা ডাচ লাইনের মাঝে জায়গা খুঁজে নিয়ে বারবার রক্ষণকে চাপে ফেলেছেন। শেষ পর্যন্ত এই লড়াকু মানসিকতা এবং দ্রুত আক্রমণের ফসল হিসেবেই কামাদার পা থেকে আসে নাটকীয় সমতাসূচক গোলটি।
পরিশেষে, এই ম্যাচটি প্রমাণ করেছে যে ফুটবলে কেবল শারীরিক বা ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বই শেষ কথা নয়; নিখুঁত কৌশল, দলগত একতা এবং শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত হাল না ছাড়ার মানসিকতা দিয়ে যেকোনো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকেই রুখে দেওয়া সম্ভব।
ব্রাজিলের রাউন্ড অফ ৩২ এর প্রতিপক্ষ হতে পারে এই দুই দলের।মোট কথা গ্রুপ পর্ব উতরালেও নকআউট স্টেজে ব্রাজিলের জন্যে দারুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে অপেক্ষা করছে এরা।