14/06/2026
হাবিব ও বিল্লাহকে আঁকড়ে, নগদে চলছে অনুভব-ইফাত শিহরন!
নগদে শুরু হয়েছে সুশাসনের আড়ালে ক্ষমতার ভাগ-বাটোয়ারা আর হরিলুটের নতুন অধ্যায়!
ক্ষমতার আড়ালে চলছে লাখ লাখ টাকার খরচের বন্যা আর নিজেদের লোকদের লাগামহীন নিয়োগ উৎসব!
নগদের সহযোগী প্রশাসক মো: হাবিবের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একজন হচ্ছে অনুভব রহমান। যিনি আগস্ট ২০২৫ সালে হেড অব হিউম্যান রিসোর্স হিসেবে নগদে যোগ দেন। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, মাত্র ৪ মাসের মাথায় ক্ষমতার জোরে তাকে পদোন্নতি দিয়ে বানিয়ে দেওয়া হয়েছে 'চিফ হিউম্যান রিসোর্স অফিসার'! অভিযোগ উঠেছে, মো: হাবিবুর রহমান এবং প্রধান প্রশাসক মো: মোতাছিম বিল্লাহর খুব ব্যক্তিগত ও কাছের মানুষ এই অনুভব রহমান।
লোক দেখানো মনোরঞ্জন আর লাগামহীন খরচের আড়ালে আসলে প্রশাসকদের সামনে অর্থ লুটপাটে খরচের জোয়ার বইয়ে দিচ্ছেন এই অনুভব। আর পেছন থেকে সব লিগ্যাল আইনি জটিলতা সামলাচ্ছেন ইফফাত গিয়াস আরেফিন । আপনাদের কি মনে আছে এই তিক্ত ব্যারিস্টার ইফফাতের কথা । ভিকারুন্নেসা কলেজের এলাইমানই হয়ে শিক্ষিকা কেকা রায় চৌধুরী ও ফারহানা খানমকে জোরপূর্বক চাকুরি থেকে সরিয়ে দিতে নিজেই ড্রাফট করে দিয়েছিলেন রিজাইন লেটার। সেই তিনিই এখন ডাকবিভাগের ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস নগদের হেড অব লিগ্যালের চেয়ারে বসে সামলাচ্ছেন হাবিব, বিল্লাহ ও অনুভবের নগদের টাকা হরিলুটের আইনি সব পেপারস। নগদ এ যোগদান এর পূর্বে এই আইনজীবীর কোন কর্পোরেট এর অভিজ্ঞতা ছিলো না।শুধুমাত্র মোতাছিম বিল্লাহ এবং মো: হাবিব এর শর্তে রাজি হয়ে এবং ২৪ এর গণঅভুত্থান গল্প বিক্রি করে নগদ এ যোগদান করেন।বর্তমানে প্রশাসকের সকল অনিয়ম কে বৈধ করার আইনী ফাঁক খুঁজে তা হালাল করাই এই আইনজীবীর দইনন্দিন কাজ।
নগদের চাকুরীর ইন্টারভিউ দিতে আসা প্রতি ক্যান্ডিডেটের ইন্টারভিউ নেবার জন্য নগদ থেকে নিচ্ছেন পাঁচ হাজার টাকা করে। কিন্তু এখানেও চাকুরিপ্রত্যাশীদের সাথে তারা করছে বিশাল জালিয়াতি। ব্যাকডোরে নিয়োগ দিচ্ছেন তাদের নিজস্ব সব প্রার্থীদের। বোর্ড মেম্বারদের এক্সটার্নাল ভিজিটের বিল ৬ লাখ ৪৯ হাজার ২০০ টাকা । শুধুমাত্র ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নগদ প্রশাসকের ব্যাংক একাউন্টে যোগ হয়েছে ২৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা
অফিসের বোর্ড মিটিং এর নামেও প্রশাসক বিল্লাহকে ৩৬০০০ টাকা করে টাকা পাইয়ে দিচ্ছে অনুভব । আর এই সব জালিয়াতির লিগ্যাল সব ডকুমেন্টস বানিয়ে নিজের ভাগ বুঝে নিচ্ছেন ইফফাত।
প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত ব্যয়কে অফিশিয়াল খরচ হিসেবে দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানের এই চার খিলাড়ি মিলে করে চলেছেন নগদের অর্থ অপচয় ও দায়িত্বের অপব্যবহার ।
এই সিন্ডিকেটের আরেক গুরুত্বপূর্ণ খিলাড়ি হলেন 'ছুটি রিসোর্ট' এর এমডি শামসুল ইসলাম মাসুদ। তিনি নগদে 'চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার' হিসেবে নিযুক্ত আছেন। প্রশাসকদের নিয়োগ দেওয়া লোক না হয়েও, সরকারি ভাতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও গোপনীয় নথিপত্র ধামাচাপা দিতে তার ভূমিকা অকল্পনীয়! নিজের রিসোর্ট ব্যবসা সামলানোর পাশাপাশি সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের হাত করে নগদে বসে তিনি স্রেফ 'চাকরির নাটক' করে যাচ্ছেন।
নগদের টাকায় বোট ক্লাবে প্রধান প্রশাসক হাবিবের জন্মদিন পালন, ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে অফিসের কর্মচারীদের নিয়ে ফ্ল্যাশ মব, লাখ লাখ টাকার জার্সি ক্রয়, রাস্তায় ফুটবল বিশ্বকাপ দলগুলির পতাকা উড়িয়ে উনারা পকেটে পুড়ছেন বিশাল অংকের টাকা ।
কখনো কি শুনেছেন বোট ক্লাবে জন্মদিন পালন উৎসবে টাকা দেয় বন্ধু আর উপভোগ করেন অন্য অফিসের কলিগরা । হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন। নগদের টাকায় বোট ক্লাবে জন্মদিন পালন করে ঠিক এমনটাই প্রচার করছেন নগদের প্রধান প্রশাসক মোতাছিম বিল্লাহ।
নগদকে আলাদীনের দৈত্য বানানো এসব শোষকদের বিরুদ্ধে কি কোন ব্যাবস্থা নেবে দুদক । নাকি সরকারি এই শোষকদের শেকড় অনেক গভীরে?