21/03/2026
সাম্রাজ্য। সাইরাস সত্যিকার সম্রাটের প্রথম মুখ। আজকের ইরানকে কেন্দ্র করে এ সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি ছিল ইউরোপ থেকে মিসর, একসময় ভারত পর্যন্ত।
পারস্য এ দুনিয়ার প্রথম আনুষ্ঠানিক সাম্রাজ্য। সাইরাস সত্যিকার সম্রাটের প্রথম মুখ। আজকের ইরানকে কেন্দ্র করে এ সাম্রাজ্যের বিস্তৃতি ছিল ইউরোপ থেকে মিসর, একসময় ভারত পর্যন্ত। পারস্যই ইতিহাসের প্রথম পরাশক্তি। সাইরাস থেকে নাদের শাহ।পারস্যের ঐতিহ্যে কবিতা কেবল সাহিত্যের শৈলী নয়, যেন জীবনের এক ভাষা। ইরানিরা কবিতার পঙক্তি মুখস্থ করে, রাস্তায়, চায়ের দোকানে, প্রার্থনায়—প্রতিদিনের কথোপকথনে উচ্চারণ করে হাফিজ, রুমি বা ফেরদৌসীর চরণ। এ কবিতার ভাষা শুধু প্রেম, গোলাপ, মদ আর সৌন্দর্যের নয়, এটি আত্মা ও ঈশ্বর, জীবন ও মৃত্যুর সীমান্তে দাঁড়িয়ে উচ্চারিত আরাধনা।
এ দেশে মহররমের শোকাবহ স্মৃতিতে রাস্তায় নামে ক্রন্দনরত মানুষের স্রোত—ইমাম হোসাইনের মৃত্যু যেন এখনো হৃদয়ের রক্তক্ষরণ। ঘরে ঘরে যেন কারবালা। এ দেশ বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে কঠোর, বিচক্ষণ ও বিধিবদ্ধ শিয়া মুসলিম পণ্ডিতদের আবাসস্থল।
ইরান এবং পারস্য—একই দেশের দুটি নাম, কিন্তু পশ্চিমের কাছে দুই নামের সৃষ্ট প্রতিচ্ছবি একেবারেই আলাদা। ‘পারস্য’ শব্দটি প্রাচীনকাল থেকে রোমান্টিক ও সৌন্দর্যের প্রতীক—গোলাপ, বুলবুলি, বেহেশতের মতো বাগান, রঙিন গালিচা ও সুরেলা সংগীত। অন্যদিকে পশ্চিমা মিডিয়ায় ‘ইরান’ নামটি হাজির হয় ধর্মীয় নীতিতে কঠোর, পশ্চিমবিরোধী মিছিল, কালো চাদরে ঢাকা নারীর ছবিতে।
কিন্তু এসব কালপর্বেও এ সাম্রাজ্যগুলোর জনগণ নিজেদের ‘ইরানি’ নামে পরিচয় দিত এবং তাদের দেশ বলত ‘ইরান’। ‘ইরান’ শব্দটির উৎপত্তি প্রাচীন যুগেই, যার অর্থ ‘মহিমান্বিত’ বা ‘উত্তম’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। এ নাম ‘আর্য’ ধারণাটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে। পরবর্তী সময় এ আর্য ধারণা নিয়ে ইতিহাস চর্চা ও এর অপব্যবহারের অনেক ঘটনা ঘটেছে।
১৯৩৫ সালে রেজা শাহ, তার পূর্বসূরি কাজার শাসনের অবক্ষয়ের বদনাম থেকে নিজেকে দূরে রাখতে, বিদেশে তাদের দূতাবাসকে নির্দেশ দেন ভবিষ্যতে সরকারি যোগাযোগে দেশের নাম ‘ইরান’ ব্যবহার করতে। তবে অনেক ইরানি ‘পারস্য’ নামটিকেই পছন্দ করেন। এ নাম তাদের প্রাচীন, সমৃদ্ধ ও আনন্দময় স্মৃতিতে জড়িয়ে আছে। ইংরেজিভাষী দুনিয়ার কাছে ঐতিহাসিকভাবে পারস্য নামটিই ছিল মূল পরিচয়। ১৯৩৫ সালের আগে সবাই পারস্যই ব্যবহার করতেন। পরে ইরান নামের ব্যবহার বাড়তে থাকে।
পারস্য কিংবা ইরান—যে নামেই ডাকা হোক, এ জাতি, সভ্যতা কিংবা রাষ্ট্রের ইতিহাস কয়েক হাজার বছরের ভাষা, স্থাপত্য, পরম্পরা, সংস্কৃতি, চিন্তায় সমৃদ্ধ। তাদের ইতিহাস বিজয়ের, বিপর্যয়ের কখনো শোকের কখনো উদযাপনের। হাজার বছরের ধারাবাহিকতা তাদের টিকে থাকার ইচ্ছা, পরিস্থিতি মোকাবেলার সাহস আর সৃষ্টিশীলতার জীবন্ত সাক্ষ্য। বর্তমান ইরানি নেতাদের দেখলেই বুজতে পারবেন মৃত্যুকে বরন করবে কিন্তু মাতা নোয়াবে না খামেনি সহ ইরানি সকল শহিদ নেতারদের শ্রদ্ধা!! ইরান হচ্ছে সাইরাসের মতো দিগবিজয়ী নেতা,আর খামেনির মতো বিশ্ব জালিম পরাশক্তির দের বিরুদ্ধে একা বুকচিতিয়ে লড়াই করা মানুষের দেশ💙