04/09/2024
জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে সংস্কার প্রয়োজন
_______________________________
রক্তে রঞ্জিত রাজপথে শহীদ আবু সাইদ, মুগ্ধ সহ অসংখ্য শহীদ ও হতাহতদের ত্যাগ ও সাহসী ভূমিকায়
দেড় দশকের স্বৈরাচার শেখ হাসিনা ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। স্বৈর শাসনের দীর্ঘ এ সময়ে রাষ্ট্রের সর্বাঙ্গকে বিনষ্ট করে দিয়েছে। তিন দিন সরকারহীন বাংলাদেশে ০৮ আগস্ট ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হওয়ার পর শুরু হয় রাষ্ট্র সংস্কারের কার্যক্রম। এই ক্লিন হার্ট অপারেশনের ভয়ে পালিয়ে যায় মসজিদের ইমাম, সাংবাদিক, সুশিল, মাতব্বর, ক্রিড়াবিদ, মেম্বার, চেয়ারম্যান, মেয়র, এমপি, মন্ত্রী, বিচারক, অসি, ডিসি, আমলা কামলা সব। বিশ্বের ইতিহাসে নজির স্থাপণ করেছে এক সাথে ৩০০ আসনের সংসদ সদস্যগণ পালিয়ে গিয়ে। এটি ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
অযথা কথা না ভাড়িয়ে উল্লেখ্য বিষয় নিয়ে আলোকপাত করা যাক। জুলাই বিপ্লব (৩৬) ৫ আগস্ট ২০২৪ ইংরেজি বিপ্লবোত্তর ২য় স্বাধীন বাংলাদেশের সর্বসেক্টরে সংস্কার চলমান। তার ধারা বাহিকতায় জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার নিয়ে কিছু প্রস্তাবনা পেশ করা যাক।
স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিক্রম করলেও এখনো নির্বাচন আসলে সময়ে সময়ে নির্বাচন নিয়ে আন্দোলন করতে হয়। যে ক্ষমতায় যায় সে জনগণের মেন্ডেটহীণ অবৈধভাবে ঠিকে থাকতে চায় এবং ক্ষমতা ছাড়তে চায় না। এর কোন স্থায়ী বন্দবস্ত হয়নি। ১৯৭১ সালে দেশ পাকবাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয় এই ভোটের জন্য গণতন্ত্রের জন্য কিন্তু হলো কি ১৯৭৩ সালে গণতন্ত্রের কথা বলে গণমানুষকে বোকা বানিয়ে সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শেখ মুজিব ক্ষমতায় আসিন হয়ে তার চেলা চামুণ্ডাদের কথায় ২৫ শে জানুয়ারি ১৯৭৫ সনে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল কায়েম করেন। হীতে বিপরীত হয় এবং নিজ দলের এবং বিশ্বস্ত সহচর মোস্তাকদের নেতৃত্বে সেনাদের বুলেটে মৃত্যবরণ করেন। তিনির জানাযায় ৮-১০ জন মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন বলে পত্র-পত্রিকায় মারফত জানা য়ায়। স্বৈরাচারের পতন এমনি হয়ে থাকে, ইতিহাস তাই বলে।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে নির্বাচন ব্যবস্থার স্থায়ী পদ্ধতি রয়েছে, ব্রিটেন, পার্শবর্তী দেশ ভারত সহ বিভিন্ন দেশে এ সিস্টেম ফল করে থাকে। এতে কোন গণ্ডগোল হয় না গণতন্ত্র সমোন্নত থাকে।
বাংলাদেশেও নির্বাচন কমিশন আছে কিন্তু সরকারের অনুগত হওয়ায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান থাকলেও স্বতন্ত্রভাবে কাজ করতে ব্যর্থ হয়। আর ৫ বছর মেয়াদী কমিশন হলেও সারা বছরই ইলেকশন হয় এতে বেশি অর্থ ও সময়ক্ষেপন হয়। নিম্মে আমার প্রস্তাব তুলে ধরা হলো।
জাতীয় নির্বাচন পদ্ধতি: আইন সভা বা সংসদ দ্বি কক্ষ বিশিষ্ট করতে হবে। যথা
১. উচ্চ কক্ষ
২. নিম্ন কক্ষ
এটি বাস্তবায়ন হলে সবার রাজনীতি করার সুযোগ থাকবে। যেমন যাদের টাকা নেই কিন্তু মেধাবী দক্ষ তারা উচ্চ কক্ষে যাবে, আইন তৈরি করবে। জনগণের অধিকার প্রতিফলিত হবে।
নিম্ন কক্ষে যারা নির্বাচন করবে তারা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে বিজয়ী হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে। চাই ব্যবসায়ী হোক কিংবা কম শিক্ষিত হোক।
প্রাদেশীক সরকার ব্যবস্থা : যদি প্রাদেশিক সরকার ব্যবস্থা চালু করা যায়, এতে উন্নয়ন ও রাষ্ট্রকাঠামো সুদৃঢ় হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যেমন ভারতেও এ সিস্টেম বিদ্যামান। ০১ আসন নিয়েও প্রদেশ রয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার তা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। প্রদেশ ভিত্তিক দল থাকবে। এতে নেতৃত্ব সৃষ্টি ও গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।
জাতীয় নির্বাচন দু-ধাপে সম্পন্ন সম্ভব। যদি নির্বাচন কমিশন স্বাধীন থাকে। প্রদেশে প্রদেশে ইলেকশন করে কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করবে। একচ্ছত্র হবে না স্বৈরাচার সৃষ্টি হবে না। বাক স্বাধীনতা থাকবে। বিচার বিভাগ সহ বিভিন্ন অর্গান কাজ করবে স্বাধীন ভাবে
প্রাদেশিক বিসিএস কমিশন গঠন করে স্থানীয় জনপ্রশাসন কে ঢেলে সাজানো সম্ভব। এটি বাস্তবায়ন হলে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাবে সমান ভাবে, কোন বৈষাম্য হবে না।
স্থানীয় নির্বাচন ব্যবস্থা: ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদ এবং সিটি মেয়র ও পৌর মেয়র নির্বাচন এখন ধাপে ধাপে হয়। এতে ৫ বছর লেগে যায়। যদি ইউনিয়ন পরিষদে প্রথমে প্রত্যক ওয়ার্ড থেকে সদস্য নির্বাচন করা হয়, মহিলা সদস্য সহ মোট নয় জন পুরুষ এবং তিন জন মহিলা বাছাই হয়ে যায় তখন তাদের মধ্য থেকে একজন কে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করবে। তিনি দায়িত্বপালন করবেন। বাকীরা সদস্য হিসেবে কাজ করবে। এতে সুবিধা হয়, যেমন কোন বিশেষ কারণে চেয়ারম্যান ব্যর্থ হলে দ্রুত পরিবর্তন করা সম্ভব। তিনটি ভোট লাগবে না। ২টি ভোট হলে চলবে। বিশেষ ক্ষেত্রে শুধু চেয়ারম্যান প্রার্থী হবে না। তখন স্ট্রং লোক পাওয়া যাবে, সদস্য নির্বাচনে অনিহা কাটবে। ভালো নেতৃত্ব বেরিয়ে আসবে। একই সাথে একদিনে উপজেলা ও জেলা পরিষদ নির্বাচন করা যাবে।
উপজেলার ক্ষেত্রে প্রত্যক ইউনিয়নে হবে তিনটি আসন। এখান থেকে ৩ জন সদস্য ও ১জন মহিলা সদস্য বের হয়ে আসবে এবং তাদের মধ্য থেকে একজন চেয়ারম্যান নির্বাচন করবে। সিটি ও জেলা পরিষদে সেইম পদ্ধতি অবলম্বন করে নির্বাচন করবে। এতে সময় ও অর্থ অনেক সেইভ হবে। ভালো নেতৃত্ব পাওয়া যাবে। এটা পৃথিবীর অনেক দেশে রয়েছে। বিষয়টি কঠিন মনে হলেও ১- ২ টা সেশন বাস্তবায়ন করলে ইজি হয়ে যাবে। নির্বাচনের সিস্টেম কে ডেভেলপ ও স্থায়ী বন্দবস্ত ছাড়া সময়ে সময়ে বিরাজমান সংকটের অবসান হবে না।
লেখক: রিয়াজ উদ্দিন বাবুল, রাজনৈতিক কর্মী।