17/06/2026
ব্যাংক খাতে মূলধন পর্যাপ্ততা এখন ঋণাত্মক: বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
দেশের ব্যাংক খাতে মূলধন পর্যাপ্ততা বা Capital Adequacy Ratio (CAR) ঋণাত্মক পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা ব্যাংকিং স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ''ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৫'' অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে ব্যাংক খাতে সামগ্রিক CRAR দাঁড়িয়েছে -২.৬৪% যেখানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্যাসেল৩ অনুযায়ী ন্যূনতম ১২.৫% থাকার কথা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, কোনো দেশের ব্যাংক খাতের মূলধন ঋণাত্মক পর্যায়ে চলে যাওয়া সাধারণত চরম আর্থিক দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়, যা ব্যাংকের দেউলিয়াত্ব ঝুঁকি বাড়ায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খেলাপি ঋণের দ্রুত বৃদ্ধি, পুনঃতফসিলকৃত ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত প্রভিশন সংরক্ষণ না করতে পারার কারণে ব্যাংকগুলোর মূলধন ভিত্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ২ ডজন ব্যাংক এখন তীব্র মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে। সম্মিলিতভাবে এই ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার বেশি।
আগে লুকানো খেলাপি ঋণ প্রকাশ্যে আসা এবং ঋণ শ্রেণিকরণ নীতিমালা কঠোর হওয়ায় প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে এসেছে, যার ফলে ব্যাংক খাতে চাপ আরও বেড়েছে।
এদিকে প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার ব্যাংকগুলো তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী মূলধন অবস্থানে রয়েছে, যা বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত কাঠামোগত সংস্কার, দুর্বল ব্যাংক পুনর্গঠন এবং খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে পুরো ব্যাংকিং খাতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।