04/08/2026
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি: ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত আল্টিমেটাম
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের পেশাগত সমস্যা ও বিভিন্ন দাবি-দাওয়া বাস্তবায়নের দাবিতে সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় সেগুনবাগিচাস্থ পূর্ত ভবন চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ গণপূর্ত কর্মচারী ইউনিয়ন (রেজি. নং-১৬৪৭)।
কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়নের সভাপতি জসীম উদ্দীন। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ গণপূর্ত কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম সবুজ। এছাড়া সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন কার্যকরী সভাপতি কাজী মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মোজাম্মেল হক, মোহাম্মদ বাকীবিল্লাহ সিদ্দিকী, মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন খোকা, মজিবুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী মিয়া, মোঃ শাহাদাত হোসেন বাবু, সহকারী সাধারণ সম্পাদক মোঃ শরিফুল ইসলাম আওয়াল , দপ্তর সম্পাদক মোঃ ফারুক হোসেন, সহকারি দপ্তর সম্পাদক সাইদুল করিম, অর্থ সম্পাদক আবুল কাশেম, সহকারী সাংগঠনিক রাহীন মসরুর মনন , সহকারী অর্থ সম্পাদক হক জিয়া সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান বক্তা বদরুল আলম সবুজ বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের কার্যভিত্তিক কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটাতে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি জানান, কার্যভিত্তিক ৬০২ জন ও ৮৯৩ জন কর্মচারীকে অস্থায়ী থেকে নিয়মিত পদে রূপান্তরের বিষয়ে দুটি পৃথক ফাইল মহামান্য হাইকোর্টের রায়ের আলোকে বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি দ্রুত অনুমোদন দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের নিয়মিতকরণের দাবি জানান।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ১,৫০০ কর্মচারী দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্ব পালন করলেও এখনো নিয়মিতকরণ ও পেনশন সুবিধার বাইরে রয়েছেন। এতে তারা চরম আর্থিক ও সামাজিক অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। তাই দ্রুত তাদের নিয়মিত করে সরকারি পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
নেতৃবৃন্দ বলেন, কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কার্যভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়মিতকরণ, পেনশন সুবিধা প্রদানসহ ৯ দফা দাবি দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হলেও এখনো বাস্তবসম্মত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। তারা আগামী ১৬ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে ৯ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়িত না হলে বাংলাদেশ গণপূর্ত কর্মচারী ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করা হবে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী—
* আগামী ১৭ আগস্ট ২০২৬ (মঙ্গলবার) সকাল ১১টায় মাননীয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।
* ২৪ আগস্ট ২০২৬ (সোমবার) সকাল ১১টায় পূর্ত ভবন চত্বরসহ ঢাকা মহানগর এবং দেশের বিভিন্ন জেলার নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।তিনি আরো বলেন, এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক কর্মচারী চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন, অনেকে অবসরে গেছেন। কিন্তু নিয়মিতকরণ না হওয়ায় তারা পেনশন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর
সবুজ বলেন গণপূর্ত অধিদপ্তরে দীর্ঘদিন ধরে ড্রাইভার, মালি, কার্যসহকারী, প্লাম্বার, কাঠমিস্ত্রি, রাজমিস্ত্রি, রংমিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ান, পাম্পচালক, লিফটম্যান, গার্ড, সুইপার ও ঝাড়ুদারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত কর্মচারীদের জন্য স্থায়ী সেটআপ না থাকায় নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে।বদরুল আলম সবুজ বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তর প্রায় দুই শতাব্দীর পুরোনো একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। অথচ এখনো পূর্ণাঙ্গ স্থায়ী সেটআপ বাস্তবায়িত হয়নি। এতে কর্মচারীরা যেমন বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন, তেমনি প্রতিষ্ঠানও দক্ষ জনবল ব্যবস্থাপনায় পিছিয়ে পড়ছে। দৈনিকভিত্তিক ও ভাউচারভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়মিত পদে অন্তর্ভুক্ত করা, পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টি, আউটসোর্সিং নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগ ব্যবস্থা বাতিল করে সরাসরি গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া, ট্রেড ইউনিয়ন অধিকার প্রতিষ্ঠা, বার্ষিক পোশাক দেওয়া, কর্মচারীদের আবাসন সমস্যা সমাধান এবং গণপূর্তের আবাসিক এলাকাগুলোর সংস্কার ও পরিবেশ উন্নয়নের দাবিও তুলে ধরা হয় ।