19/09/2026
এই দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়ে আর কোনো মন্তব্য নেই।
হোক শিশু ধর্ষণের শিকার,
হোক কোনো নিরপরাধ মানুষের নির্মম হত্যা,
তাতে আমার কী-ই বা আসে যায়?
খবরটা দেখে হয়তো দু’দিন কষ্ট হবে।
কেউ প্রতিবাদ করবে, কেউ ফেসবুকে লিখবে,
কেউ হয়তো চোখের জলও ফেলবে।
তারপর?
কিছুদিন পর সবকিছু আবার স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
জীবন তো থেমে থাকবে না।
এই দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়ে কথা বলে,
নিজের জন্য শত্রু বানানোরই বা কী দরকার?
চুপ থাকি।
নিজের মতো থাকি।
নিজের জীবনটা নিরাপদে কাটাই।
কেনই বা উচিত কথা বলতে যাব?
কারও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে
নিজের মা-বাবাকে সন্তানহারা করার ভয় বয়ে বেড়াব কেন?
কাউকে বিধবা করার আশঙ্কা তৈরি করব কেন?
কোনো শিশুকে পিতৃহারা করার কারণ হব কেন?
আমি তো বেশ ভালোই আছি।
ঘটুক না রামিসা কলির মতো ঘটনা,
অন্য কারও ঘরে ঘটছে তো!
আমার ঘরে তো নয়।
তাই আমিও চুপ।
কারণ অন্যের কান্না যতক্ষণ
নিজের ঘরের দরজায় এসে কড়া নাড়ে না,
ততক্ষণ অন্যের মৃত্যু কেবল একটা খবর,
অন্যের কান্না কেবল কিছু শব্দ,
আর অন্যের বিচারহীনতা কেবল একটা সংখ্যা।
আমরা কষ্ট পাই,
তারপর ভুলে যাই।
আমরা প্রতিবাদ করি,
তারপর ক্লান্ত হয়ে চুপ হয়ে যাই।
আর একটা পরিবার?
তারা হয়তো সারাজীবন
একটা মানুষকে হারানোর শূন্যতা বয়ে বেড়ায়।
কিন্তু যেদিন সেই কান্না
নিজের ঘরের মানুষটির কণ্ঠে শুনতে হবে,
যেদিন হাসপাতালের করিডোরে দাঁড়িয়ে
নিজের প্রিয় মানুষটার জন্য কাঁদতে হবে,
যেদিন কোনো মায়ের বুক খালি হয়ে যাবে,
কোনো বাবার পৃথিবী থেমে যাবে,
কোনো স্ত্রী তার প্রিয় মানুষটাকে হারিয়ে
নিঃশব্দে বিধবা হয়ে যাবে,
কোনো শিশু বাবাকে খুঁজে
কাঁদতে কাঁদতে ঘুমিয়ে পড়বে!
সেদিন হয়তো বুঝব,
অন্যের কষ্ট বলে আসলে কিছু নেই।
প্রতিটি কান্নার পেছনে
একটা পরিবার থাকে,
একটা পৃথিবী থাকে,
কিছু অসমাপ্ত স্বপ্ন থাকে।
আর সেদিন হয়তো বুঝব,
অন্যায়ের সামনে নীরব থাকাও
কখনো কখনো অন্যায়েরই পাশে দাঁড়ানো।
তবুও আজ আমি চুপ।
কারণ আমি নিরাপদে আছি।
কারণ কান্নাটা এখনো আমার ঘর থেকে ওঠেনি।
কারণ হারানোর আগ পর্যন্ত
আমরা সবাই নিজেকে নিরাপদ মনে করি।
এমনি বড্ড ভালো আছি,
অন্যের চোখের জল থেকে
নিজের চোখ দুটো বাঁচিয়ে,
অন্যের শোক থেকে
নিজের জীবনটাকে আলাদা করে।
আমি চুপ।
আপনিও চুপ থাকুন।
যতক্ষণ না
কারও কান্না এসে
আমাদের নিজের দরজায় কড়া নাড়ে।