Sompremer Kabbo

Sompremer Kabbo Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Sompremer Kabbo, Magazine, যাত্রাবাড়ী Dhaka, Dhaka.

08/07/2026

🖤🔪 বউ না শালিকা 🙂🖤
✦ সমপ্রেমের ধারাবাহিক উপন্যাস ✦
পরিচ্ছেদ: ২ —
লেখক: কাব্য
━━━━━━━━━━━━━━━
টক...
টক...
টক...
রাত তখন প্রায় দুইটা।
ঘরের ভেতর নিস্তব্ধতা। পাশেই গভীর ঘুমে মেঘলা।
আরিবের বুকের ভেতর ধুকপুকানি বেড়ে গেল। এত রাতে কে দরজায়?
সে ধীরে ধীরে বিছানা থেকে নামল। পা টিপে টিপে দরজার কাছে গিয়ে ফিসফিস করে বলল,
— কে?
বাইর থেকে খুব আস্তে উত্তর এল,
— আমি... শাওন।
কণ্ঠটা কাঁপছিল।
আরিব এক মুহূর্ত ইতস্তত করলেও দরজা খুলে দিল।
দরজা খুলতেই শাওন মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে আছে। পরনে সাদা টি-শার্ট, এলোমেলো চুল, চোখ দুটো লাল।
মনে হচ্ছে অনেকক্ষণ ধরে জেগে আছে।
— কিছু হয়েছে?
শাওন চারপাশে একবার তাকিয়ে নিচু স্বরে বলল,
— একটু ছাদে আসবেন? খুব জরুরি কথা আছে।
আরিব অবাক হলো।
— এখন?
— প্লিজ...
শাওনের কণ্ঠে এমন এক অসহায়ত্ব ছিল, না বলতে পারল না।
সে আস্তে করে দরজা বন্ধ করল। মেঘলার ঘুম যেন না ভাঙে, সেদিকে খেয়াল রেখে দুজনে নিঃশব্দে সিঁড়ি বেয়ে ছাদে উঠে গেল।
রাতের আকাশে অসংখ্য তারা।
হালকা বাতাস বইছে।
চারপাশে এমন নীরবতা, যেন পৃথিবীতে তারা দুজন ছাড়া আর কেউ নেই।
কিছুক্ষণ কেউ কোনো কথা বলল না।
হঠাৎ শাওন বলল,
— জানেন... আমি কারও সঙ্গে নিজের কথা বলতে পারি না।
আরিব তার দিকে তাকাল।
— কেন?
শাওন মৃদু হেসে বলল,
— কারণ কেউ শোনে না।
হাসিটা ছিল কষ্টে ভরা।
আরিব শান্ত গলায় বলল,
— আজ বলো। আমি শুনছি।
শাওন ছাদের রেলিংয়ে হাত রাখল।
— ছোটবেলা থেকে সবাই আমাকে বলে, আমি নাকি অন্যরকম। আমার চলাফেরা, কথা বলা... কিছুই নাকি ঠিক না। তাই ধীরে ধীরে সবার থেকে দূরে সরে গেছি।
কথাগুলো শুনে আরিবের বুকটা কেমন ভারী হয়ে উঠল।
সে বুঝতে পারছিল, ছেলেটা অনেক কিছু একা সহ্য করেছে।
— কিন্তু আজ হঠাৎ আমাকে এসব বলছ কেন?
শাওন কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর ধীরে ধীরে বলল,
— কারণ আপনাকে বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে।
আরিব উত্তর দিতে পারল না।
কেন জানি এই কথাটা তার বুকের ভেতর গিয়ে লাগল।
ঠিক তখনই নিচ থেকে কারও গলার শব্দ ভেসে এল।
— শাওন...!
দুজনেই চমকে উঠল।
মেঘলার কণ্ঠ!
শাওন দ্রুত ফিসফিস করে বলল,
— আমি যাচ্ছি। আপনি পাঁচ মিনিট পরে নামবেন।
বলে সে দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে গেল।
আরিব একা দাঁড়িয়ে রইল।
তার মাথায় ঘুরছে একটাই প্রশ্ন—
কেন সে এত সহজে শাওনের কথা শুনে ফেলল?
পাঁচ মিনিট পর সে নিচে নেমে নিজের ঘরে ফিরল।
ঘরে ঢুকতেই দেখল মেঘলা জেগে বসে আছে।
মুখে মৃদু হাসি।
কিন্তু সেই হাসির আড়ালে যেন প্রশ্ন লুকিয়ে আছে।
— কোথায় গিয়েছিলে?
আরিব এক মুহূর্ত থেমে বলল,
— ঘুম আসছিল না... তাই একটু হাঁটতে গিয়েছিলাম।
মেঘলা কিছু বলল না।
শুধু তাকিয়ে রইল।
সকালে নাস্তার টেবিলে সবাই একসঙ্গে বসেছে।
শাওন স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছে।
আরিবও তাই।
কিন্তু দুজনের চোখ বারবার একে অপরের দিকে চলে যাচ্ছে।
হঠাৎ মেঘলা হাসতে হাসতে বলল,
— আচ্ছা শাওন, কাল রাতে তোকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছিলাম না। কোথায় ছিলি?
চামচটা শাওনের হাত থেকে পড়ে গেল।
পুরো টেবিল নিস্তব্ধ।
শাওন ধীরে ধীরে মাথা তুলল...
আর ঠিক তখনই মেঘলা বলল,
— তুই কি কারও সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলি?
━━━━━━━━━━━━━━━
চলবে...
🖤🔪 বউ না শালিকা 🙂🖤
পরিচ্ছেদ: ২
লেখক: কাব্য ✍️

08/07/2026

প্রাইভেট স্যার থেকে বফ

পর্ব – ৬ :

লেখক: কাব্য

"হয়তো এটাই হিংসে। আর হিংসেটা জন্ম নেয় তখনই, যখন কাউকে নিজের চেয়ে একটু বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করি।"

লাইনটা লিখে ইরফান অনেকক্ষণ ডায়েরিটার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ধীরে ধীরে সেটা বন্ধ করে বাতি নিভিয়ে শুয়ে পড়ল। কিন্তু ঘুম আর এলো না। চোখ বন্ধ করলেই বারবার আদ্রিত স্যারের মুখটা ভেসে উঠছিল। নিজের ওপর রাগ হচ্ছিল। সে জানে, একজন শিক্ষককে নিয়ে এভাবে ভাবা ঠিক নয়। তবুও মনকে বোঝাবে কীভাবে?

পরদিন সকাল থেকেই তার শরীরটা কেমন যেন লাগছিল। মাথা ভারী, চোখ জ্বলছে। মা কপালে হাত দিয়ে বললেন,

— তোর তো জ্বর এসেছে।

ইরফান হালকা হেসে বলল,

— কিছু হবে না। একটু পর ঠিক হয়ে যাবে।

কিন্তু ঠিক হলো না। বরং দুপুরের দিকে জ্বর আরও বেড়ে গেল। সারা শরীর ব্যথা করতে লাগল।

সেদিন স্কুলেও যেতে পারল না। বিছানায় শুয়ে শুয়ে শুধু একটাই কথা ভাবছিল, আজ প্রাইভেটে যেতে পারবে না।

এই একটা কথাই যেন তাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছিল।

বিকেল পাঁচটা বাজতেই তার মনে হলো এখন সবাই হয়তো ক্লাসে বসে আছে। আদ্রিত স্যার বোর্ডে অঙ্ক লিখছেন। সবাই খাতায় লিখছে।

হঠাৎ মনে প্রশ্ন জাগল, স্যার কি আজ তাকে খেয়াল করবেন?

তিনি কি বুঝবেন যে ইরফান আসেনি?

নাকি এত ছাত্রের ভিড়ে একজন না এলে সেটা বোঝাই যাবে না?

এসব ভাবতে ভাবতেই কখন যে তার চোখ লেগে এসেছিল সে বুঝতেই পারেনি।

সন্ধ্যার একটু আগে দরজায় কড়া নাড়ার শব্দে ঘুম ভাঙল।

মা দরজা খুলে কারও সঙ্গে কথা বলছেন।

ইরফান স্পষ্ট শুনতে পেল,

— আসুন বাবা, ভেতরে আসুন।

কিছুক্ষণ পর মা তার ঘরে এসে বললেন,

— ইরফান, দেখ তো কে এসেছে।

ইরফান ধীরে ধীরে উঠে বসতেই দরজার দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেল।

আদ্রিত স্যার।

হাতে একটা ফলের ব্যাগ আর কয়েকটা নোট।

ইরফান যেন বিশ্বাসই করতে পারছিল না।

— স্যার... আপনি?

আদ্রিত মুচকি হেসে বললেন,

— আজ ক্লাসে এলে না। ফোন নম্বরও ছিল না। তাই ভাবলাম দেখে যাই।

ইরফানের বুকের ভেতরটা কেমন যেন করে উঠল।

সে শুধু তাকিয়ে রইল।

আদ্রিত পাশে বসে বললেন,

— জ্বর কত?

— খুব বেশি না।

স্যার কপালে হাত দিয়ে দেখলেন।

— এটাকে বেশি না বলে?

ডাক্তার দেখিয়েছ?

— এখনো না।

মা তখন পাশে দাঁড়িয়ে বললেন,

— ও কিছুতেই যেতে চাইছিল না।

আদ্রিত একটু গম্ভীর হয়ে বললেন,

— নিজের শরীরের যত্ন নিতে হবে। পড়াশোনা পরে হবে।

ইরফান চুপ করে রইল।

কেন জানি এই বকুনিটাও তার ভালো লাগছিল।

কিছুক্ষণ পর মা চা বানাতে রান্নাঘরে চলে গেলেন।

ঘরে শুধু দুজন।

কয়েক মুহূর্ত কেউ কোনো কথা বলল না।

তারপর আদ্রিত ব্যাগ থেকে একটা খাতা বের করলেন।

— আজ যা পড়িয়েছি সব লিখে এনেছি। তুমি সুস্থ হলে দেখে নিও।

ইরফান খাতাটা হাতে নিয়ে বলল,

— এত কষ্ট করে আসলেন কেন?

— কষ্ট?

আদ্রিত হালকা হেসে বললেন,

— একজন ছাত্র দুই দিন না এলে খোঁজ নেওয়া কি এত বড় কষ্ট?

এই সাধারণ কথাটাই ইরফানের কাছে অসাধারণ মনে হলো।

সে মনে মনে ভাবল, যদি স্যার জানতেন এই কথাগুলো তার কাছে কতটা মূল্যবান।

বাইরে তখন হালকা বৃষ্টি শুরু হয়েছে।

জানালার কাঁচে টুপটাপ শব্দ পড়ছে।

আদ্রিত জানালার দিকে তাকিয়ে বললেন,

— বৃষ্টি তোমার ভালো লাগে?

— খুব।

— আমারও।

আবার নীরবতা।

হঠাৎ ইরফান বলল,

— স্যার, আপনি ছোটবেলায় কখনো জ্বর হলে স্কুল মিস করতে চাইতেন?

আদ্রিত একটু হেসে বললেন,

— না। তবে একটা মানুষকে খুব মিস করতাম।

— কে?

— আমার স্কুলের বাংলা স্যার। উনি আমাকে অনেক সাহস দিতেন। তাই স্কুলে যেতে না পারলে মন খারাপ হতো।

ইরফান চুপ করে শুনছিল।

কেন জানি মনে হলো, তার অবস্থাটাও বুঝি এমনই।

কিন্তু সে কিছু বলল না।

ঠিক তখনই মা চা নিয়ে এলেন।

আদ্রিত কাপটা হাতে নিয়ে বললেন,

— দুদিন বিশ্রাম নাও। তারপর আসবে।

— যদি তিনদিন লাগে?

— তাহলে তিনদিন পর।

— আর যদি...

কথাটা শেষ করল না ইরফান।

আদ্রিত তাকিয়ে বললেন,

— এত চিন্তা কোরো না। ক্লাস কোথাও পালিয়ে যাচ্ছে না।

কিন্তু ইরফান মনে মনে বলল,

"ক্লাস না, আমি তো আপনাকেই মিস করি।"

কথাটা মুখে আসার আগেই সে থেমে গেল।

আদ্রিত কিছুক্ষণ পর উঠে দাঁড়ালেন।

— আচ্ছা, আমি চলি।

দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিতে গিয়ে ইরফান বলল,

— স্যার।

— হ্যাঁ?

— আজ আসার জন্য... ধন্যবাদ।

আদ্রিত তার কাঁধে আলতো হাত রেখে বললেন,

— ধন্যবাদ দেওয়ার কিছু নেই। দ্রুত সুস্থ হয়ে এসো। সবাই তোমাকে খুঁজছিল।

"সবাই" শব্দটার মধ্যে কেন জানি ইরফান শুধু একজনকেই শুনতে পেল।

দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও সে অনেকক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়ে রইল।

মনে হচ্ছিল ঘরজুড়ে এখনো স্যারের উপস্থিতি রয়ে গেছে।

রাতে জ্বর একটু কমতেই সে ডায়েরিটা বের করল।

আজ অনেক কিছু লেখার ছিল।

সে ধীরে ধীরে লিখল,

"আজ বুঝলাম, কিছু মানুষের উপস্থিতি ওষুধের চেয়েও বেশি কাজ করে। সারা দিন শরীর খারাপ ছিল। কিন্তু উনি ঘরে ঢোকার পর কেন যেন মনে হলো আমি আগের চেয়ে অনেক ভালো আছি। হয়তো এটা জ্বরের প্রভাব নয়। হয়তো এটা এমন এক অনুভূতি, যার নাম আমি এখনো কাউকে বলতে পারিনি।"

আরেকটু নিচে লিখল,

"আজ প্রথমবার উনি আমার বাড়িতে এলেন। আমার ঘরে বসলেন। আমার কপালে হাত রেখে জ্বর দেখলেন। এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলো হয়তো উনার কাছে সাধারণ। কিন্তু আমার কাছে এগুলো সারাজীবন মনে রাখার মতো স্মৃতি হয়ে থাকবে।"

ডায়েরি বন্ধ করার আগে সে শেষ একটা লাইন লিখল।

"আজ অসুস্থ ছিল শরীর। কিন্তু সবচেয়ে বেশি কেঁপেছে মন।"

চলবে...

29/06/2026

সম্মানিত পাঠক বৃন্দ ‌
আপনাদের লেখক খুব অসুস্থ
সকলের কাছে দোয়া প্রার্থী 🤒

হাজারো সমপ্রেমির স্বপ্ন❤️‍🩹😊
25/06/2026

হাজারো সমপ্রেমির স্বপ্ন❤️‍🩹😊

24/06/2026

✦ বউ না শালিকা✦

প্রথম পরিচ্ছেদ

লেখক: কাব্য

━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━━

নতুন জামাই, অচেনা দৃষ্টি
বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে মাত্র দুই দিন আগে।
আরিব এখনো পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছে না যে সে বিবাহিত। চারপাশে সবাই তাকে নতুন জামাই বলে ডাকছে, যত্ন করছে, খোঁজ নিচ্ছে। অথচ তার ভেতরে এখনো সেই আগের সাধারণ ছেলেটাই রয়ে গেছে।
আজ প্রথমবারের মতো সে এসেছে তার শ্বশুরবাড়িতে।
সকাল থেকেই বাড়িটা লোকজনে ভরা। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, ছোট বড় সবাই নতুন জামাইকে এক নজর দেখার জন্য ব্যস্ত।
আরিব সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলছিল। কিন্তু ভিড়ের মাঝেও হঠাৎ তার চোখ আটকে গেল এক ছেলের দিকে।
ছেলেটা সবার থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিল।
কালো টি-শার্ট, এলোমেলো চুল, মুখে এক ধরনের উদাস ভাব।
সে কারও সঙ্গে খুব একটা কথা বলছে না।
শুধু মাঝে মাঝে আরিবের দিকে তাকাচ্ছে।
আরিবও অদ্ভুতভাবে তাকিয়ে রইল।
কয়েক সেকেন্ড।
তারপর ছেলেটা চোখ সরিয়ে নিল।
"ওইটা আমার ছোট ভাই শাওন।"
পাশ থেকে মেঘলার কণ্ঠ শুনে চমকে উঠল আরিব।
"ও একটু চুপচাপ স্বভাবের। কারও সাথে বেশি মিশে না।"
আরিব হালকা মাথা নাড়ল।
কিন্তু কেন জানি না, তার মনে হলো ছেলেটার চোখে কিছু একটা আছে।
এমন কিছু, যা সহজে বোঝা যায় না।
দুপুরের খাবারের সময় সবাই একসাথে বসেছে।
হাসাহাসি, গল্প, আড্ডায় পুরো বাড়ি সরগরম।
হঠাৎ একজন খালা বলে উঠলেন,
— শাওন, জামাইবাবুর পাশে বসো।
শাওন একটু ইতস্তত করলেও শেষ পর্যন্ত এসে আরিবের পাশেই বসল।
দুজনের কাঁধ প্রায় ছুঁয়ে গেল।
আরিব অকারণেই অস্বস্তি অনুভব করল।
কেন করছে সে নিজেও জানে না।
খাওয়ার মাঝখানে শাওন ধীর স্বরে বলল,
— আর ভাত লাগবে?
আরিব তার দিকে তাকাল।
— না, ধন্যবাদ।
শাওন হালকা হাসল।
সেই হাসিটা খুব ছোট ছিল।
কিন্তু অদ্ভুতভাবে আরিবের মনে রয়ে গেল।
সন্ধ্যার পর সবাই ছাদে আড্ডা দিচ্ছিল।
আরিব একটু একা থাকার জন্য নিচে নেমে এল।
বাড়ির পেছনের বাগানে গিয়ে দাঁড়াল।
আকাশে আধখানা চাঁদ।
চারপাশে নীরবতা।
হঠাৎ পেছন থেকে একটা কণ্ঠ ভেসে এল।
— একাই দাঁড়িয়ে আছেন?
আরিব ঘুরে তাকাল।
শাওন।
সে ধীরে ধীরে সামনে এগিয়ে এলো।
— হ্যাঁ। একটু শান্তিতে থাকার চেষ্টা করছি।
শাওন মৃদু হেসে বলল,
— এই বাড়িতে শান্তি পাওয়া কঠিন।
আরিবও হেসে ফেলল।
প্রথমবারের মতো দুজনের মধ্যে স্বাভাবিক কথা হলো।
খুব সাধারণ কিছু কথা।
পড়াশোনা, চাকরি, শহর, পছন্দ অপছন্দ।
তবুও কথাগুলো যেন অদ্ভুতভাবে ভালো লাগছিল।
কিছুক্ষণ পর শাওন বলল,
— আপনাকে দেখে আমার অন্যরকম মনে হয়।
আরিব ভ্রু কুঁচকাল।
— অন্যরকম মানে?
শাওন কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর বলল,
— জানি না। ব্যাখ্যা করতে পারব না।
বলে সে হেঁটে চলে গেল।
আরিব স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।
তার মনে হলো, ছেলেটা যেন কোনো কথা বলতে চেয়েও বলেনি।
রাত বাড়তে লাগল।
সবাই একে একে ঘুমিয়ে পড়েছে।
মেঘলাও ঘুমিয়ে গেছে।
কিন্তু আরিবের চোখে ঘুম নেই।
বারবার তার মনে পড়ছে শাওনের কথাগুলো।
"আপনাকে দেখে আমার অন্যরকম মনে হয়।"
কেন যেন কথাটা মাথা থেকে সরছে না।
রাত প্রায় দুইটা।
হঠাৎ তার ফোনে একটি মেসেজ আসল।
স্ক্রিনে ভেসে উঠল—
"জামাইবাবু, আপনি কি ঘুমিয়ে পড়েছেন?"
প্রেরক—
শাওন।
আর ঠিক তখনই—
টক...
টক...
টক...
আরিবের রুমের দরজায় তিনবার টোকা পড়ল।
তার বুকের ভেতরটা কেঁপে উঠল।
এত রাতে কে এসেছে?
আর দরজার ওপাশে কি সত্যিই শাওন দাঁড়িয়ে আছে?

চলবে...?

24/06/2026

প্রাইভেট স্যার থেকে বফ

পর্ব – ৫ :

লেখক: কাব্য
________________________________________________

"আজ প্রথমবার আমার নিজের অনুভূতিগুলোকে আর ভুল মনে হচ্ছে না।"

কলমটা নামিয়ে সে জানালার দিকে তাকাল।

আকাশে তখন আধখানা চাঁদ।

আর তার মনে হচ্ছিল, হয়তো কিছু গল্পের শুরু হয় খাতার ভাঁজে লুকিয়ে থাকা কয়েকটা না বলা অনুভূতি দিয়ে।

পরদিন সকালটা অন্য দিনের মতোই শুরু হলেও ইরফানের ভেতরে কেমন যেন একটা অস্থিরতা কাজ করছিল। গতকালের ঘটনাটা বারবার মাথায় ঘুরছিল। আদ্রিত স্যার কি সত্যিই কাগজটা পড়েছিলেন? যদি পড়ে থাকেন তাহলে কী ভাবছেন?

স্কুলে বসেও তার মন ঠিকমতো পড়াশোনায় বসল না।

আরাফাত কয়েকবার জিজ্ঞেস করল কী হয়েছে, কিন্তু সে প্রতিবারই এড়িয়ে গেল।

বিকেলের অপেক্ষা যেন আজ শেষই হচ্ছিল না।

অবশেষে যখন প্রাইভেটে যাওয়ার সময় হলো, তখন সে প্রায় দৌড়ে স্যারের বাসার দিকে রওনা দিল।

কিন্তু সেখানে গিয়ে একটা দৃশ্য দেখে তার মনটা হঠাৎ খারাপ হয়ে গেল।

একটা মেয়ে ছাত্রীর খাতা নিয়ে আদ্রিত স্যার খুব মনোযোগ দিয়ে কিছু বুঝিয়ে দিচ্ছেন। মেয়েটাও বারবার প্রশ্ন করছে আর স্যার ধৈর্য ধরে উত্তর দিচ্ছেন।

দৃশ্যটা স্বাভাবিক ছিল।

খুবই স্বাভাবিক।

একজন শিক্ষক তার ছাত্রকে পড়াচ্ছেন।

তবুও কেন জানি ইরফানের বুকের ভেতর কেমন একটা খোঁচা লাগল।

সে চুপচাপ নিজের জায়গায় গিয়ে বসে পড়ল।

আজ স্যারের দিকে তাকাতেও ইচ্ছে করছিল না।

ক্লাস শুরু হলো।

আদ্রিত স্যার বোর্ডে অঙ্ক করাচ্ছিলেন।

মাঝখানে একবার ইরফানকে একটা প্রশ্ন করলেন।

সাধারণত সে সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেয়। কিন্তু আজ সে খেয়ালই করেনি।

— ইরফান?

চমকে উঠে সে দাঁড়াল।

— জি স্যার?

— আমি কী জিজ্ঞেস করেছি শুনেছ?

— না স্যার।

পুরো ক্লাস তার দিকে তাকিয়ে রইল।

আদ্রিত স্যার কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বললেন,

— শরীর খারাপ?

— না।

— তাহলে মনোযোগ দাও।

ইরফান শুধু মাথা নাড়ল।

ক্লাসের বাকি সময়টুকু তার খুব খারাপ কাটল।

নিজের ওপরই রাগ হচ্ছিল।

কেন এমন হচ্ছে?

কেন অন্য কাউকে স্যারের সাথে কথা বলতে দেখলে তার ভালো লাগে না?

সে তো জানে আদ্রিত স্যার শুধু তার নন। তিনি সবার শিক্ষক।

তাহলে এই খারাপ লাগাটা কোথা থেকে আসে?

ক্লাস শেষ হওয়ার পর সবাই ধীরে ধীরে বেরিয়ে গেল।

আজ ইরফানেরও ইচ্ছে করছিল না থেকে যেতে।

সে ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বের হতে যাবে, এমন সময় পেছন থেকে ডাক এল।

— ইরফান।

সে থেমে গেল।

— জি স্যার?

— একটু দাঁড়াও।

আদ্রিত স্যার টেবিলের ওপর রাখা কলমটা নামিয়ে তার দিকে তাকালেন।

— আজ কী হয়েছে?

— কিছু না।

— কিছু না হলে তোমাকে এমন দেখাচ্ছে কেন?

ইরফান চুপ করে রইল।

— তুমি কি কোনো কারণে আমার ওপর রাগ করেছ?

প্রশ্নটা শুনে সে অবাক হয়ে গেল।

আদ্রিত স্যার এমনটা কীভাবে বুঝলেন?

— না স্যার।

— মিথ্যা বলতে পারো না তুমি।

কথাটা শুনে ইরফানের মাথা নিচু হয়ে গেল।

কয়েক মুহূর্ত নীরবতা।

তারপর স্যার হালকা গলায় বললেন,

— দেখো, কোনো সমস্যা থাকলে বলতে পারো।

আমি শুধু শিক্ষক না, বন্ধু হিসেবেও শুনতে পারি।

কথাগুলো শুনে বুকের ভেতরটা কেমন করে উঠল।

অনেক কিছু বলতে ইচ্ছে করছিল।

কিন্তু কোনটা বলবে?

যে সে অকারণে হিংসে করে?

যে অন্য কাউকে কাছে দেখলে তার খারাপ লাগে?

যে প্রতিদিন শুধু একজন মানুষের জন্য অপেক্ষা করে?

না, এসব বলা সম্ভব না।

সে শুধু বলল,

— আসলে একটু মন খারাপ ছিল।

— কারণ?

— জানি না।

আদ্রিত স্যার মৃদু হেসে বললেন,

— কখনো কখনো কারণ ছাড়াও মন খারাপ হয়।

তবে বেশি সময় ধরে সেটা ধরে রাখা উচিত না।

ইরফান মাথা নাড়ল।

বাড়ি ফেরার সময় তার মনে হচ্ছিল, আজ সে নিজেকেই চিনতে পারছে না।

রাতে ডায়েরি খুলে অনেকক্ষণ কলম হাতে বসে রইল।

তারপর লিখল—

"আজ বুঝলাম মানুষের সবচেয়ে বড় যুদ্ধটা নিজের সাথে হয়। আমি জানি স্যার কারও সাথে কথা বললে আমার খারাপ লাগার কোনো অধিকার নেই। তবুও খারাপ লাগে। আমি জানি উনি সবার শিক্ষক। তবুও মনে হয় উনি শুধু আমার সাথে কথা বলুক।"

লেখার পর সে অনেকক্ষণ পাতাটার দিকে তাকিয়ে রইল।

তারপর নিচে আরেকটা লাইন লিখল—

"হয়তো এটাই হিংসে। আর হিংসেটা জন্ম নেয় তখনই, যখন কাউকে নিজের চেয়ে একটু বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করি।"

চলবে...

24/06/2026

সব ভালোবাসাই সুন্দর, কিন্তু সব ভালোবাসা পুণ্যতা পেলে মানুষ ভালবাসায় কদরটা বুঝতো কোথায়?
কাব্য😊❤️‍🩹

#ভালোবাসা
#সমপ্রেম #সমপ্রেমেরকাব্য ゚

22/06/2026

📖🖤 Coming Soon…
“সম্পর্কটা ছিল শালিকার…
কিন্তু অনুভূতিটা ধীরে ধীরে ভালোবাসায় বদলে গেল…🙂🔪”
রাগ, জেলাসি, কেয়ার আর নিষিদ্ধ এক সম্পর্কের গল্প…
যেখানে প্রতিটা হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে ভয়ংকর রহস্য! 😈
🔥 আসছে নতুন ডার্ক রোমান্টিক গল্প —
া_শালিকা 🙂🔪
✍️ লেখক: কাব্য
দেখতে হলে চোখ রাখুন আমার পেজ Sompremer Kabbo - বে

22/06/2026

প্রাইভেট স্যার থেকে বফ

পর্ব – ৪ :

লেখক: কাব্য
_______________________________________________
দিনগুলো কেমন যেন দ্রুত কেটে যাচ্ছিল। ইরফান নিজেও বুঝতে পারছিল না কখন আদ্রিত স্যারের প্রাইভেট তার দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে রাত পর্যন্ত তার মাথায় কোথাও না কোথাও স্যারের কথা ঘুরপাক খেত। স্কুলে বসে পড়া শুনলেও হঠাৎ করে মনে পড়ে যেত আগের দিনের কোনো কথা। কখনো স্যারের হাসি, কখনো কোনো উপদেশ, আবার কখনো অঙ্ক বোঝানোর সময় তার ধৈর্য।

একদিন ক্লাস চলছিল। সবাই খাতায় অঙ্ক করছিল। আদ্রিত স্যার একে একে সবার খাতা দেখছিলেন।

হঠাৎ তিনি ইরফানের খাতার সামনে এসে দাঁড়ালেন।

— কী ব্যাপার? আজ এত ভুল কেন?

ইরফান চমকে উঠল।

সে খেয়ালই করেনি যে একই অঙ্কে তিনবার ভুল করেছে।

আদ্রিত স্যার তার দিকে তাকিয়ে বললেন,

— মনোযোগ কোথায়?

— জানি না স্যার।

— জানো না মানে?

ইরফান মাথা নিচু করে ফেলল।

সে কি বলবে? তার মন যে অঙ্কে নয়, অন্য কোথাও আটকে আছে।

স্যার আর কিছু বললেন না। শুধু খাতাটা নিজের দিকে টেনে নিয়ে ভুলগুলো দেখিয়ে দিলেন।

— দেখো, তাড়াহুড়ো করলে এমনই হবে।

— জি স্যার।

সেদিন ক্লাস শেষে সবাই চলে গেলেও ইরফান কিছুক্ষণ বসে রইল।

আদ্রিত স্যার তখন টেবিলের ওপর কিছু কাগজ গুছাচ্ছিলেন।

হঠাৎ তিনি বললেন,

— তোমাকে আজকাল খুব চুপচাপ লাগে।

— না তো।

— আমি কিন্তু ছাত্রদের অনেক কিছু বুঝতে পারি।

ইরফান মৃদু হেসে বলল,

— সব বুঝতে পারেন?

— বেশিরভাগ।

কথাটা শুনে তার বুকের ভেতর কেমন যেন ধক করে উঠল।

যদি সত্যিই সব বুঝে ফেলেন?

যদি বুঝে ফেলেন কেন সে প্রতিদিন এত তাড়াতাড়ি চলে আসে?

কেন ক্লাস শেষে যেতে ইচ্ছে করে না?

কেন সারাদিন শুধু একজন মানুষের কথাই মনে পড়ে?

সেদিন বাসায় ফিরে ইরফান নিজের পড়ার টেবিলে বসে রইল অনেকক্ষণ।

পড়ার বই খোলা ছিল ঠিকই, কিন্তু চোখ ছিল জানালার বাইরে।

শেষ পর্যন্ত সে ডায়েরিটা বের করল।

ডায়েরির পাতাগুলোতে গত কয়েক মাসে অনেক কিছু লেখা হয়েছে। এমন কিছু কথা, যা সে কাউকে বলতে পারে না।

নতুন একটা পাতা খুলে লিখতে শুরু করল।

"আজ স্যার বললেন আমি নাকি চুপচাপ হয়ে গেছি। উনি যদি জানতেন আমার নীরবতার কারণটা কী। কিছু কিছু অনুভূতি আছে, যেগুলো কাউকে বলা যায় না। শুধু নিজের ভেতরে লুকিয়ে রাখতে হয়।"

লেখা শেষ করে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইল।

তারপর পাতাটা ভাঁজ করে ডায়েরি বন্ধ করে দিল।

পরদিন প্রাইভেটে যাওয়ার পর একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটল।

ক্লাস শুরু হওয়ার আগে আদ্রিত স্যার সবার খাতা দেখছিলেন।

হঠাৎ ইরফানের খাতা থেকে একটা ছোট কাগজ মেঝেতে পড়ে গেল।

ইরফানের মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।

কারণ কাগজটায় সে আগের রাতে কিছু কথা লিখেছিল।

যদিও সেখানে কোনো নাম ছিল না, তবুও কথাগুলো পড়লে যে কেউ বুঝে যাবে এটা কারও প্রতি বিশেষ অনুভূতির কথা।

আদ্রিত স্যার কাগজটা তুলে নিলেন।

ইরফানের বুকের ভেতর ধুকপুক শুরু হয়ে গেল।

স্যার একবার কাগজটার দিকে তাকালেন।

তারপর মুচকি হেসে সেটা খাতার ভেতরে রেখে দিলেন।

আর কিছু বললেন না।

ক্লাসের পুরো সময় ইরফান স্বাভাবিক থাকতে পারল না।

তার শুধু মনে হচ্ছিল স্যার কি পড়েছেন?

পড়ে থাকলে কী ভাবছেন?

ক্লাস শেষ হওয়ার পর সবাই চলে গেল।

ইরফানও বের হতে যাচ্ছিল।

হঠাৎ আদ্রিত স্যার ডাকলেন।

— ইরফান।

— জি স্যার?

— একটা কথা বলব?

— বলুন।

স্যার কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন।

তারপর বললেন,

— জীবনে কখনো নিজের অনুভূতিগুলোকে ঘৃণা করবে না।

ইরফান অবাক হয়ে তাকাল।

— জি?

— মানুষ যা অনুভব করে, সেটা তার দোষ নয়। তবে সেই অনুভূতিকে কীভাবে সামলাবে, সেটাই আসল বিষয়।

কথাগুলো বলে তিনি আবার নিজের কাজে মন দিলেন।

কিন্তু ইরফান স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

কেন যেন মনে হলো কথাগুলো শুধু সাধারণ উপদেশ ছিল না।

মনে হলো এর ভেতরে অন্য কোনো অর্থও লুকিয়ে আছে।

সেদিন বাড়ি ফেরার পুরো রাস্তা জুড়ে সে শুধু ওই কথাগুলোই ভাবল।

"জীবনে কখনো নিজের অনুভূতিগুলোকে ঘৃণা করবে না।"

রাতে ডায়েরি খুলে সে আবার লিখল।

"আজ একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে। জানি না স্যার কাগজটা পড়েছেন কিনা। যদি পড়ে থাকেন তাহলে হয়তো আমার কিছু কথা বুঝে গেছেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, আজ প্রথমবার আমার নিজের অনুভূতিগুলোকে আর ভুল মনে হচ্ছে না।"

কলমটা নামিয়ে সে জানালার দিকে তাকাল।

আকাশে তখন আধখানা চাঁদ।

হালকা বাতাসে পর্দা নড়ছে।

আর তার মনে হচ্ছিল, হয়তো কিছু গল্পের শুরু হয় শব্দ দিয়ে না।

হয়তো কিছু গল্প শুরু হয় খাতার ভাঁজে লুকিয়ে থাকা কয়েকটা না বলা অনুভূতি দিয়ে।

চলবে...

22/06/2026

❤️‍🩹😊

#ভালোবাসা
#সমপ্রেম #সমপ্রেমেরকাব্য ゚

Address

যাত্রাবাড়ী Dhaka
Dhaka
১৩৬২

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sompremer Kabbo posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share

Category