17/07/2026
দিদিয়ের দেশম জিতলেন?
নাকি ফরাসীকে হারালেন?
আমাদের দেশে এক ধরণের ক্রিকেট দর্শক আছেন, যারা ভারত বনাম বাংলাদেশ ম্যাচে লিটন দাস সৌম্য সরকারের সেঞ্চুরি কামনা করেন। কিন্তু সেই একই ম্যাচে বিজয়ী দল হিসেবে ভারতকে কামনা করেন। তেমনি ভারতেও মুহাম্মদ শামীকে ম্যাচ উইনার হিসেবে দলে নেন বটে, তবে নূন্যতম কাছাকাছি মানের কাউকে পেয়ে গেলে এক নিমিষে ছুঁড়ে ফেলেন।
ক্রিড়াঙ্গনে বর্ণবৈষম্য সবচেয়ে প্রকট আকারে দেখা যায়। এরপরই শিল্প ও চাকরির বাজারে। আমেরিকায় প্রতিদিন বাদামি চামড়া পাকড়াও অভিযান চলে। অথচ শক্তিমত্তার কাজে সেই বাদামি চামড়াদের দিয়েই শিরোপা উদ্ধার করে।
বক্সার মোহাম্মদ আলী সেরেনা উইলিয়াম ভেনাস উইলিয়াম স্প্রিন্টার শা ক্যারি টাইগার উডস যার জ্বলন্ত প্রমাণ। অথচ আমেরিকার সড়কে বাদামী চামড়ার মানুষের শ্বাসনালীতে শেতাঙ্গ পুলিশের বুটের পাড়া দিয়ে রাখা দৃশ্য এখনও চোখে ভাসে। মৃত্যুর আগে বলেছিল, I cant breathing! শুধু কালো হওয়াও অপরাধ!
আমরা আধুনিক বিশ্ব কিংবা উন্নত বিশ্ব বলতে ইউরোপের ঝকঝকে সভ্যতার ছবি কল্পনা করি। অথচ ইউরোপিয়ানরা জাত চোর, একথা ভুলে যায় কোন এক অজানা কারণে। ইউরোপের অধিকাংশ দেশ এশিয়া আফ্রিকা এমনকি নিজ মহাদেশের অনেক দেশকে শাসন করেছে শুধু শোষণের জন্য। বর্বরতা ছিল শোষণের হাতিয়ার। যাহোক, সেই ইউরোপের স্টেডিয়ামে যখন বাদামি চামড়ার কেউ ভাল খেলে, তখন প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় থেকে শুরু করে দর্শক পর্যন্ত বর্ণবাদী আচরণ করে। আমি দ্রিদ্রিয়ের দ্রগবার কান্না দেখেছি। বালোতেল্লি পল পগবা কিংবা ভিনিসিয়াসকেও অঝরে কাঁদতে দেখেছি, শুধু কালো হওয়ার অপরাধে।
ইউরোপীয়দের ভিতরে লালসা আর হিংসা অনেকেই বুঝতে পারে না। দামী সাদা শার্টের নিচে এরা বর্ণবাদ পুষে রাখে চব্বিশ ঘন্টা। তার জ্বলন্ত উদাহরণ, ফুটবল মাঠে অধিনায়কের হাতে No Racism আর্ম ব্যান্ড, ব্যানারেও একই লেখা থাকে কেন? সেটা তো এশিয়া আফ্রিকার মাঠ নয়!
ফরাসী কোচ দিদিয়ে দেশম একজন ধবল চামড়ার নাক উঁচু কোচ। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে করিম বেনজেমাকে দলে রাখে নাই কোচের একগুঁয়েমি স্বভাবের জন্য। কেননা সে ছিল মুসলিম। অথচ করিম বেনজেমা ২২ সালের ব্যালন ডি অর বিজয়ী। পুরো বিশ্ব অবাক! পৃথিবীর বর্ষসেরা খেলোয়াড়কে দেশম দলে রাখে নাই! তাকে না নেওয়ার অজুহাত ছিল , ফিটনেস ঘাটতি। প্রকৃতির প্রতিশোধ, রানারআপ হয়ে ফরাসীদের বিদায়।
এবারের বিশ্বকাপে গতকালের ফ্রান্স বনাম স্পেন ম্যাচে শুরুর পাঁচমিনিট পরই বুঝতে পারলাম, আজ ফরাসীরা টিকিটাকির চিপায় পড়েছে। পড়েছে মানে জন্মের মতো পড়ছে। মাঝ মাঠের বুক চিরে ক্যারাম খেলতে শুরু করেছিল স্পেন। অথচ কোচ দেশম তখনও মনে করে নাই এই জায়গায় এনগোলা কন্তে পারফেক্ট হতে পারে। তিনি চেরকি চুয়ামিনি বারকোলাসহ একেএকে আরও সবাইকে নাচিয়েছে। শুধু নিরীহ কন্তেকে তিনি ব্যবহার করেন নাই।
বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকার পরও একটি ম্যাচে একমিনিটও না খেলা প্লেয়ারের নাম হয়তো এনগলে কন্তে। প্রকৃতির কি নিদারুণ প্রতিশোধ। মাঝমাঠে ফরাসী খেলোয়াড়েরা নিজেরাই দর্শক, আর স্পেন যেন যাদুকর। অথচ দিদিয়ের দেশম চাইলেই এনগোলে কন্তেকে দিয়ে পরীক্ষা করতে পারতেন! কে জিতল অবশেষে?