22/11/2025
⚠️ বাংলাদেশে কেন বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকি তীব্র?
আপনার যা জানা প্রয়োজন।ভূতাত্ত্বিক অবস্থানগত কারণে বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম ভূমিকম্প ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। আমরা মূলত ভারতীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষস্থলের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছি। এই প্লেটগুলোর সঞ্চালনের ফলে বছরের পর বছর ধরে শক্তি জমা হচ্ছে, যা একদিন বড় আকারের ভূমিকম্পে রূপান্তরিত হতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তর এবং আশেপাশে একাধিক সক্রিয় ফাটল (Fault Line) রয়েছে, যার প্রত্যেকটিই উচ্চ মাত্রার ভূমিকম্প সৃষ্টির ক্ষমতা রাখে।দেশের অভ্যন্তর ও আশেপাশের ৪টি প্রধান ফাটলফাটলের নামঅবস্থান ও দৈর্ঘ্যভূমিকম্পের সর্বোচ্চ সম্ভাব্য মাত্রাপ্রধান প্রভাব/ ঐতিহাসিক ঘটনা১. হিমালীয় সাবডাকশন জোনভারতীয় পাত ইউরেশীয় পাতের নিচে গতিশীল (প্রায় ২,২০০ কিমি লম্বা)।৯.২ – ৯.৩সাড়ে ৫ কোটি বছর আগে এই সংঘর্ষের ফেরে হিমালয় পর্বতমালার সৃষ্টি। গতিশীল ভারতীয় পাতের কারণে ইউরেশীয় পাতে জমে থাকা শক্তি আকস্মিকভাবে মুক্ত হতে পারে।২. চট্টগ্রাম-আরাকান ফাটলচট্টগ্রাম উপকূল ও মিয়ানমারের উপকূলে অবস্থিত (৯১২ কিমি লম্বা)।৮.৮ – ৮.৯১৭৬২ সালের মহাবিপর্যয়: এই ফাটল থেকে ৮.৫ – ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল, যার ফলে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে যমুনা নদীর জন্ম হয়। এই ফাটল থেকে ভূমিকম্প হলে চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হবে।৩. দাউকি ফাটলসিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সীমান্তে অবস্থিত (৩৫৫ কিমি লম্বা)।৮.৩ – ৮.৪১৮৯৭ সালের গ্রেট আসাম ভূমিকম্প: এই ফাটল ও ভারতের ওলধাম ফাটল মিলিতভাবে প্রায় ৮.২ – ৮.৩ মাত্রার ভূমিকম্প তৈরি করেছিল, যা ছোট সোনা মসজিদ, বাঘা মসজিদ, কুসুম্বা মসজিদ ও কান্তজিউ মন্দিরসহ অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনার ক্ষতি করে।৪. মধুপুর ফাটলদক্ষিণভাগ সরাসরি ঢাকা শহরের মধ্য দিয়ে গেছে (১১৫ – ১১৮ কিমি লম্বা)।৭.৮ – ৭.৯যদিও দেশের ছোট ফাটলগুলোর একটি, তবে রাজধানী ঢাকার ঠিক নিচে এর অবস্থান হওয়ায় এটি ঢাকা শহরের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক বলে মনে করা হয়।ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও ঝুঁকিভূমিকম্পের ঝুঁকি একটি অনুমান মাত্র নয়, বরং ইতিহাসের বাস্তবতা। ১৭৬২ সালের ভূমিকম্প এবং ১৮৯৭ সালের আসাম ভূমিকম্প প্রমাণ করে যে বাংলাদেশে বড় আকারের ভূমিকম্পের যথেষ্ট ঝুঁকি রয়েছে। ভূতাত্ত্বিকেরা সতর্ক করেন যে কোনো ফাটল থেকে বড় ভূমিকম্প হওয়ার পর, শক্তি আবার পুরোপুরি জমা হতে কয়েকশ বছর সময় লাগে। তবে, যেহেতু শেষ বড় ঘটনাটি অনেক আগে ঘটেছে এবং টেকটোনিক প্লেটগুলো এখনও গতিশীল, তাই বিজ্ঞানীরা মনে করেন এই অঞ্চলে যেকোনো মুহূর্তে বড় একটি ভূমিকম্প হতে পারে।