27/06/2026
মাদকবিরোধী অভিযান বন্ধ হতেই হাটুরিয়ায় চোর-ছিনতাইকারী ও মাদকসেবীদের মহোৎসব!
মাদকবিরোধী টিমের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে হাটুরিয়ার অপরাধী চক্র। এলাকায় হঠাৎ করেই আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে চুরি, ছিনতাই এবং প্রকাশ্য মাদক সেবনের মতো ঘটনা। এ নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স (শুক্রবার) সকালে মাদকবিরোধী টিমের অন্যতম সংগঠক সজল ভাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে তাদের চলমান অভিযান বন্ধের ঘোষণা দেন। আর এই ঘোষণার পর পরই যেন ‘আলাদিনের চেরাগ’ পেয়ে যায় এলাকার মাদক ব্যবসায়ী ও অপরাধীরা।
সকালের ঘোষণা, বিকেলেই মহোৎসব
সকালে অভিযান বন্ধের ঘোষণা আসার পর, বিকেল হতেই হাটুরিয়ার চিত্র সম্পূর্ণ বদলে যায়। মাহিন্দার হুড়া থেকে শুরু করে হাটুরিয়া বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ওপেন বা প্রকাশ্যেই ইয়াবা সেবন করতে দেখা গেছে অনেককে। যা সাধারণ পথচারী ও সচেতন মহলকে গভীরভাবে ব্যথিত ও শঙ্কিত করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
"সকালে দেখলাম ফেসবুকে পোস্ট করে অভিযান বন্ধ করা হলো, আর বিকেল থেকে রাত হতেই এলাকায় মাদক বিক্রি এবং সেবন কয়েক গুণ বেড়ে গেল। মনে হচ্ছে যেন তারা এই সুযোগেরই অপেক্ষায় ছিল।"
ঘরে ঘরে মুরগি চুরি, বিপন্ন জননিরাপত্তা
মাদকের এই ভয়াবহ বিস্তারের সরাসরি প্রভাব পড়েছে এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা শান্তিতে। মাদকসেবীদের টাকার জোগাড় করতে গিয়ে এলাকায় ছোটখাটো চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মানুষের ঘরের মুরগি পর্যন্ত চুরি হওয়া শুরু হয়ে গেছে। এতে করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সচেতন মহলের দাবি
এলাকার সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, মাদকবিরোধী টিমের কাজ বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অপরাধীদের এই ধরনের তৎপরতা প্রমাণ করে যে এলাকায় মাদকের শিকড় কতটা গভীরে।
হাটুরিয়ার সাধারণ মানুষের একটাই দাবি— অনতিবিলম্বে প্রশাসন এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ যেন এই বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেন। মাদক ও চোরের হাত থেকে হাটুরিয়াকে রক্ষা করতে আবারও জোরালো অভিযানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।