10/06/2026
বিয়ের মাত্র ১ বছর পরেই ডাক্তাররা নীতা আম্বানিকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি কখনোই মা হতে পারবেন না। আশির দশকে যখন সমাজের নানারকম বাঁকা কথা বা 'সামা'জিক 'চাপ' ছিল তুঙ্গে, তখন মুকেশ আম্বানি চাইলে অন্য রাস্তা দেখতেই পারতেন। কিন্তু মুকেশ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা নীতাকে এতটাই ভালোবাসতেন যে, সন্তান না হওয়ার কারণে সম্পর্ক ভাঙার কথা তিনি চিন্তাও করেননি।
দীর্ঘ ৮ বছর অপেক্ষার পর তারা বেছে নেন তৎকালীন সময়ের জন্য অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং 'টা'বু' মনে করা আইভিএফ (IVF) প্রযুক্তি। অবশেষে ১৯৯১ সালে তাদের কোল আলো করে আসে যমজ সন্তান ইশা ও আকাশ। মজার ব্যাপার হলো, আকাশ যখন গর্ভে, তখন আমেরিকার ফ্লাইটে মাঝ-আকাশে নীতার প্রসব বেদনা শুরু হয়। পাইলট ছিলেন মুকেশের বন্ধু, তাই পরিস্থিতি সামাল দিতে তিনি দ্রুত প্লেন ল্যান্ড করান। আকাশের এত উঁচুতে ব্যথা শুরু হয়েছিল বলেই সম্ভবত একজনের নাম রাখা হয় ‘আকাশ’।
এর ৫ বছর পর কোনো মেডিকেল সাহায্য ছাড়াই জন্ম নেন তাদের ছোট ছেলে অনন্ত। নীতা নিজেই এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, কঠিন সময়ে মুকেশ তাকে বলেছিলেন, "সন্তান না হলেও আমাদের ভালোবাসা কমবে না, প্রয়োজনে দত্তক নেব। তবুও তোমাকে ছাড়া আমি কিছু ভাবতে পারি না।" আসলে, ছেড়ে যাওয়ার জন্য একটা 'উসি'লা'ই যথেষ্ট, আর পাশে থাকার জন্য হাতটা শক্ত করে ধরাই আসল কথা।
পাঠকদের প্রতি প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন, আজকের দিনেও মানুষের মধ্যে এমন অটুট ভালোবাসা আর বিশ্বাস খুঁজে পাওয়া সম্ভব?