26/08/2026
|| পাঁচতারকা 'ঝাঁ-চকচকে' মোড়কে চরম অব্যবস্থাপনা: এভারকেয়ার হাসপাতালের মুখোশ উন্মোচিত: নার্সদের হট্টগোল ও রোগী ব্যবস্থাপনার নজিরবিহীন গাফিলতি নিয়ে তোলপাড় ||
'"চিকিৎসার নামে চড়া দাম, সেবায় চরম গাফিলতি, কাঠগড়ায় এভার কেয়ার হসপিটাল"
বিশেষ প্রতিনিধি, আমার টেলিভিশন:
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান এভারকেয়ার হাসপাতালের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনা, কর্মী ও চিকিৎসাসেবা সংশ্লিষ্টদের চরম অসহযোগিতামূলক আচরণ এবং লিঙ্গ-সংবেদনশীলতার অভাবের অভিযোগ উঠেছে। বিপুল অর্থ ব্যয় করেও জরুরি প্রয়োজনে দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে নুন্যতম পেশাদারত্ব বা সহানুভূতি মিলছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এক রোগীর স্বজন। সম্প্রতি এক আশঙ্কাজনক রোগীর চিকিৎসার সময় ঘটা তিক্ত অভিজ্ঞতার বিবরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর হাসপাতালটির সেবার মান নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
মধ্যরাতে জরুরি সামগ্রীর জন্য হয়রানি ও গার্ডের আপত্তিকর মন্তব্য:
অভিযোগ থেকে জানা যায়, রাত ১১টার দিকে কেবিন ব্লকে অবস্থানরত এক নারী অ্যাটেনডেন্টের জন্য জরুরি স্যানিটারি ন্যাপকিনের প্রয়োজন হয়। রাতে হাসপাতালের ভেতরে চলাচলের পথ সীমিত থাকায় ডিউটি নার্সিং স্টেশনের মাধ্যমে হাউজ কিপিং দিয়ে নিচ থেকে তা আনিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সরা সরাসরি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
পরবর্তীতে ওষুধ বিক্রয় কেন্দ্রে যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকে ইমার্জেন্সি গেটের কাউন্টারে বিল করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে ইমার্জেন্সির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সম্পূর্ণ নীরব থেকে কোনো রূপ সহযোগিতা করেননি। বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বাইরে সোলমাইদ এলাকা থেকে ন্যাপকিন কিনে ফেরার সময় ভবনের লিফটের নিরাপত্তাকর্মী বাধা দেন এবং হাতে থাকা স্যানিটারি প্যাডের ব্যাগ দেখে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পাঁচতারকা মানের একটি হাসপাতালে জরুরি স্যানিটারি সামগ্রীর কমপ্লিমেন্টারি রিজার্ভ বা ভেন্ডিং মেশিন না থাকা এবং কর্মীদের এমন জেন্ডার-ইনসেনসেটিভ মনোভাবকে হাসপাতালটির সেবার চরম ঘাটতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গুরুতর রোগীদের পাশে উচ্চশব্দ ও নার্সদের সেবায় গাফিলতি:
হাসপাতালটির কেবিন ও ওয়ার্ড ব্লকের দেয়ালে 'নীরবতা বজায় রাখুন' নোটিশ সাঁটানো থাকলেও ডিউটি নার্সদের নিজেদের মধ্যেই উচ্চস্বরে কথা বলতে দেখা গেছে। ব্রেইন, হার্ট ও কিডনি রোগীদের অতি সংবেদনশীল ইউনিটের পাশে কর্মীদের এই হট্টগোলে রোগীদের ঘুম ও বিশ্রাম ব্যাহত হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, ক্যানোলা সেট করা বা নেবুলাইজার দেওয়ার মতো জরুরি প্রয়োজনেও নার্সদের বারবার ডেকে সাড়া পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে সংকটাপন্ন রোগীদের স্বজনদের চরম অসহায়ত্বের মধ্যে পড়তে হচ্ছে।
অভিযোগের উৎস ও 'ফাইভ স্টার' ভাবমূর্তির অন্তরাল:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাংবাদিক ও সংবাদ উপস্থাপক জাফর সাদিক। জানা গেছে, তার ভগ্নিপতি ৭.৫ সেন্টিমিটারের একটি জটিল ব্রেইন টিউমার অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে হাসপাতালটিতে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের মান ও অস্ত্রোপচার কক্ষের আধুনিক সরঞ্জাম প্রশংসনীয় হলেও রোগী ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যার দিক থেকে হাসপাতালটি সাধারণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চেয়েও পিছিয়ে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
রিসিপশনের চাকচিক্য বা বাফেট রেস্তোরাঁ দিয়ে ফাইভ স্টার ভাবমূর্তি তৈরি হলেও প্রকৃত চিকিৎসাসেবা, গ্রাহকসেবা ও অভিযোগ প্রতিকারের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা সেখানে অনুপস্থিত।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:
উত্থাপিত অভিযোগ ও কর্মচারীদের অব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এভারকেয়ার হাসপাতালের ডিউটি ম্যানেজার মো. মাসুম জানান, নির্দিষ্ট ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবগত নন। তবে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারলে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে এবং নার্স বা দায়িত্বপ্রাপ্তদের কোনো গাফিলতি প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।