aamar television

aamar television স্বপ্নপূরণে আপনার পাশে। যেখানে আপনার মনের কথাগুলো ঠিকানা খুঁজে পায়—বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ ও বিনোদনে ‘আমার টেলিভিশন’।

Your Voice, Your Mission.

Fulfilling dreams with objective news, insightful talk shows & entertainment.

|| পাঁচতারকা 'ঝাঁ-চকচকে' মোড়কে চরম অব্যবস্থাপনা: এভারকেয়ার হাসপাতালের মুখোশ উন্মোচিত: নার্সদের হট্টগোল ও রোগী ব্যবস্থা...
26/08/2026

|| পাঁচতারকা 'ঝাঁ-চকচকে' মোড়কে চরম অব্যবস্থাপনা: এভারকেয়ার হাসপাতালের মুখোশ উন্মোচিত: নার্সদের হট্টগোল ও রোগী ব্যবস্থাপনার নজিরবিহীন গাফিলতি নিয়ে তোলপাড় ||

​'"চিকিৎসার নামে চড়া দাম, সেবায় চরম গাফিলতি, কাঠগড়ায় এভার কেয়ার হসপিটাল"

​বিশেষ প্রতিনিধি, আমার টেলিভিশন:

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান এভারকেয়ার হাসপাতালের বিরুদ্ধে অব্যবস্থাপনা, কর্মী ও চিকিৎসাসেবা সংশ্লিষ্টদের চরম অসহযোগিতামূলক আচরণ এবং লিঙ্গ-সংবেদনশীলতার অভাবের অভিযোগ উঠেছে। বিপুল অর্থ ব্যয় করেও জরুরি প্রয়োজনে দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে নুন্যতম পেশাদারত্ব বা সহানুভূতি মিলছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এক রোগীর স্বজন। সম্প্রতি এক আশঙ্কাজনক রোগীর চিকিৎসার সময় ঘটা তিক্ত অভিজ্ঞতার বিবরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর হাসপাতালটির সেবার মান নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

​মধ্যরাতে জরুরি সামগ্রীর জন্য হয়রানি ও গার্ডের আপত্তিকর মন্তব্য:

অভিযোগ থেকে জানা যায়, রাত ১১টার দিকে কেবিন ব্লকে অবস্থানরত এক নারী অ্যাটেনডেন্টের জন্য জরুরি স্যানিটারি ন্যাপকিনের প্রয়োজন হয়। রাতে হাসপাতালের ভেতরে চলাচলের পথ সীমিত থাকায় ডিউটি নার্সিং স্টেশনের মাধ্যমে হাউজ কিপিং দিয়ে নিচ থেকে তা আনিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করা হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত নার্সরা সরাসরি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

​পরবর্তীতে ওষুধ বিক্রয় কেন্দ্রে যোগাযোগ করা হলে সেখান থেকে ইমার্জেন্সি গেটের কাউন্টারে বিল করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে ইমার্জেন্সির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সম্পূর্ণ নীরব থেকে কোনো রূপ সহযোগিতা করেননি। বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বাইরে সোলমাইদ এলাকা থেকে ন্যাপকিন কিনে ফেরার সময় ভবনের লিফটের নিরাপত্তাকর্মী বাধা দেন এবং হাতে থাকা স্যানিটারি প্যাডের ব্যাগ দেখে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পাঁচতারকা মানের একটি হাসপাতালে জরুরি স্যানিটারি সামগ্রীর কমপ্লিমেন্টারি রিজার্ভ বা ভেন্ডিং মেশিন না থাকা এবং কর্মীদের এমন জেন্ডার-ইনসেনসেটিভ মনোভাবকে হাসপাতালটির সেবার চরম ঘাটতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

​গুরুতর রোগীদের পাশে উচ্চশব্দ ও নার্সদের সেবায় গাফিলতি:

হাসপাতালটির কেবিন ও ওয়ার্ড ব্লকের দেয়ালে 'নীরবতা বজায় রাখুন' নোটিশ সাঁটানো থাকলেও ডিউটি নার্সদের নিজেদের মধ্যেই উচ্চস্বরে কথা বলতে দেখা গেছে। ব্রেইন, হার্ট ও কিডনি রোগীদের অতি সংবেদনশীল ইউনিটের পাশে কর্মীদের এই হট্টগোলে রোগীদের ঘুম ও বিশ্রাম ব্যাহত হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, ক্যানোলা সেট করা বা নেবুলাইজার দেওয়ার মতো জরুরি প্রয়োজনেও নার্সদের বারবার ডেকে সাড়া পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে সংকটাপন্ন রোগীদের স্বজনদের চরম অসহায়ত্বের মধ্যে পড়তে হচ্ছে।

​অভিযোগের উৎস ও 'ফাইভ স্টার' ভাবমূর্তির অন্তরাল:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাংবাদিক ও সংবাদ উপস্থাপক জাফর সাদিক। জানা গেছে, তার ভগ্নিপতি ৭.৫ সেন্টিমিটারের একটি জটিল ব্রেইন টিউমার অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে হাসপাতালটিতে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের মান ও অস্ত্রোপচার কক্ষের আধুনিক সরঞ্জাম প্রশংসনীয় হলেও রোগী ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যার দিক থেকে হাসপাতালটি সাধারণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চেয়েও পিছিয়ে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

রিসিপশনের চাকচিক্য বা বাফেট রেস্তোরাঁ দিয়ে ফাইভ স্টার ভাবমূর্তি তৈরি হলেও প্রকৃত চিকিৎসাসেবা, গ্রাহকসেবা ও অভিযোগ প্রতিকারের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা সেখানে অনুপস্থিত।

​কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:

উত্থাপিত অভিযোগ ও কর্মচারীদের অব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এভারকেয়ার হাসপাতালের ডিউটি ম্যানেজার মো. মাসুম জানান, নির্দিষ্ট ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে অবগত নন। তবে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারলে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে এবং নার্স বা দায়িত্বপ্রাপ্তদের কোনো গাফিলতি প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​
​ ​
​ ​
​ ​ ​ ​
​ ​
​ ​
​ ​
​ ​
​
​
​
​

|| বিটিভিকে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তরের দূরদর্শী রোডম্যাপ: ডিজি কাজী জেসিনের বার্তায় নতুন আশা, দুর্নীতিমুক্তির লড়াইয়ে পা...
25/08/2026

|| বিটিভিকে আন্তর্জাতিক মানে রূপান্তরের দূরদর্শী রোডম্যাপ: ডিজি কাজী জেসিনের বার্তায় নতুন আশা, দুর্নীতিমুক্তির লড়াইয়ে পাশে থাকার ঘোষণা সংস্কৃতি অঙ্গনের ||

"​প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদূরপ্রসারী রূপকল্পে বিটিভিতে আমূল পরিবর্তনের বাতাস; ২০২৪-এর এপ্রিল থেকে লড়াই চালানো ৩ শীর্ষ সংগঠনের অকাট্য সমর্থন"

​আমার টেলিভিশন ডেস্ক:

​বাংলাদেশ টেলিভিশনকে (বিটিভি) দলীয় প্রচারযন্ত্রের তকমা ও দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণতা থেকে মুক্ত করে একটি বিশ্বাসযোগ্য, আধুনিক ও বিশ্বমানের আস্থার গণমাধ্যমে রূপান্তরের ঐতিহাসিক রূপকল্প ব্যক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ ও বৈপ্লবিক আলোচনার পর নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তায় বিটিভি নিয়ে সরকারের এই বৃহৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন প্রতিষ্ঠানের নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) কাজী জেসিন।

​প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্প ও ডিজি কাজী জেসিনের বার্তা:

ডিজি কাজী জেসিনের ভাষ্য অনুযায়ী, বিগত আওয়ামী শাসনামলে বিটিভিকে যেভাবে একপেশে ফ্যাসিবাদের প্রচারকাজে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং গণঅভ্যুত্থানের পরও যেখানে কোনো দৃশ্যমান পরিবর্তনের সূচনা হয়নি—সেই বিটিভিকে প্রধানমন্ত্রী একটি সম্পূর্ণ ‘ক্রেডিবল’ ও জনআস্থার চ্যানেলে পরিণত করতে চান। মুখের ফাঁপা ‘নয়া বন্দোবস্ত’-এর বুলি না দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নীরবে সেই মৌলিক পরিবর্তনের কাজ শুরু করেছেন। একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ও ভাবমূর্তিসংকটে থাকা পুরোনো প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে গড়ে তোলা অত্যন্ত কঠিন হলেও, তা আনন্দের ও সম্মানের—এই সংকল্প নিয়েই নতুন দূরদর্শী রোডম্যাপ নিয়ে মাঠে নেমেছে বিটিভি প্রশাসন।

​সংস্কৃতি অঙ্গনের উচ্ছ্বাস ও সাধুবাদ:

বিটিভিকে আন্তর্জাতিক মানের মর্যাদাপূর্ণ স্থানে নিয়ে যাওয়ার এই দূরদর্শী ভাবনা এবং নতুন মহাপরিচালক কাজী জেসিনের সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন বিটিভির দুর্নীতি বিরোধী সংস্কার আন্দোলনের সংগঠক ও সচেতন সংস্কৃতিকর্মীরা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও ডিজি কাজী জেসিন দেশের সংস্কৃতি অঙ্গনের মূল স্পন্দন (পালস) সঠিকভাবে অনুধাবন করতে পেরেছেন উল্লেখ করে তাঁদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান আন্দোলনকারীরা।

​২০২৪-এর এপ্রিল থেকে অকাট্য লড়াই: ৩ শীর্ষ সংগঠনের ভূমিকা:

বিটিভির গত ১৫ বছরের শিকড়গেড়ে বসা দুর্নীতি, অনভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অকাট্য তথ্য-প্রমাণ হাতে নিয়ে ২০২৪ সালের এপ্রিল মাস থেকে রাজপথে এবং কলমের শাণিত কালিতে নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম চালিয়ে আসছে ৩টি অগ্রণী সংগঠন—
​বাংলাদেশ সংস্কৃতি ও শিল্প অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ
​বাংলাদেশ সৃজনশীল শিল্প সংস্কৃতি পরিষদ
​বাংলাদেশ গিটার শিল্পী সংস্থা

​দেশের বরেণ্য জ্ঞানী-গুণী শিল্পী, প্রখ্যাত কলাকুশলী ও সাংবাদিক সমাজকে সাথে নিয়ে এই সংগঠনগুলো বিটিভির দুর্নীতির মুখোশ উন্মোচন ও ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে ঐতিহাসিক ভূমিকা রেখে চলেছে।

​সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ‘পাশে থাকার’ দৃঢ় অঙ্গীকার:

সম্প্রতি বিটিভির নতুন মহাপরিচালক কাজী জেসিনের সাথে তাঁর দপ্তরে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম দুই অগ্রজ ব্যক্তিত্ব—বিশিষ্ট যন্ত্রসংগীত শিল্পী পলাশ কুমার সাও এবং সিনিয়র সাংবাদিক ও সংস্কৃতি গবেষক শিল্পী খালিদ খলিল।
​সাক্ষাৎকালে নিজ নিজ সংগঠনের পক্ষ থেকে নতুন ডিজিকে ফুলেল অভিনন্দন জানান তাঁরা। সেই সাথে বিটিভির হারিয়ে যাওয়া অতীত গৌরব ও ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এবং একে একটি আন্তর্জাতিক মানের স্বচ্ছ সম্প্রচার মাধ্যম হিসেবে দাঁড় করাতে যেকোনো প্রাতিষ্ঠানিক, কারিগরি ও নীতিগত সহায়তার আশ্বাস দেন।

বিটিভিকে দুর্নীতিমুক্ত করে আস্থার নতুন প্রতীকে রূপান্তরের এই ঐতিহাসিক লড়াইয়ে দেশের প্রবীণ ও নবীন শিল্পী-সাংবাদিক সমাজ পূর্ণ শক্তিতে মহাপরিচালক কাজী জেসিনের পাশে থাকবে বলে তাঁরা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

গণপূর্তের কায়সার কবিরের বিরুদ্ধে টেন্ডার পদ্ধতি বদল, কমিশন বাণিজ্য ও পদায়ন নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ"৬০টির বেশি টেন্ডার নিয়ে প্...
24/08/2026

গণপূর্তের কায়সার কবিরের বিরুদ্ধে টেন্ডার পদ্ধতি বদল, কমিশন বাণিজ্য ও পদায়ন নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ

"৬০টির বেশি টেন্ডার নিয়ে প্রশ্ন, ই-জিপি নিয়ন্ত্রণ ও পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ; অভিযুক্ত কর্মকর্তার দাবি—‘মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত"

নিজস্ব প্রতিবেদক || আমার টেলিভিশন || ঢাকা:

জুলাই অভ্যুত্থানের পর প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সংস্কারের প্রত্যাশার মধ্যেই গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগকে ঘিরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কায়সার কবির। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে টেন্ডার পদ্ধতি পরিবর্তন, পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়া, কমিশনভিত্তিক আর্থিক লেনদেন, ই-জিপি ব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন-বদলি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ।

তবে এসব অভিযোগের সবকটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে না দেখে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি উঠেছে।

অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের টেন্ডার কার্যক্রমকে ঘিরে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, গণপূর্ত অধিদপ্তরের অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা অনুযায়ী যেসব কাজের ক্ষেত্রে লিমিটেড টেন্ডার মেথড (এলটিএম) অনুসরণের কথা ছিল, সেসব কাজের কিছু ক্ষেত্রে ঢাকা রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে কায়সার কবির ওপেন টেন্ডার মেথড (ওটিএম) ব্যবহার করে দরপত্র আহ্বান করেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, ওটিএম তুলনামূলকভাবে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক হলেও সংশ্লিষ্ট দরপত্রগুলো এমনভাবে পরিচালিত হয়েছে, যাতে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদার সুবিধা পান। এ নিয়ে ৬০টির বেশি টেন্ডার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এসব দরপত্রের প্রাক্কলন, দরদাতা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ, মূল্যায়ন, কার্যাদেশ ও বিল পরিশোধের তথ্য পর্যালোচনা করলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

টেন্ডার পদ্ধতি পরিবর্তনের অভিযোগের পাশাপাশি পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে কমিশনভিত্তিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কাজের ধরন ও মূল্য অনুযায়ী কমিশনের অঙ্ক কয়েক লাখ থেকে কয়েক কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে আসেনি।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঢাকা রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ রাজধানীর বিভিন্ন সরকারি ভবন ও সরকারি বাসভবনের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত কাজের সঙ্গে যুক্ত। ফলে এ বিভাগের টেন্ডার আহ্বান, ঠিকাদার নির্বাচন, কার্যাদেশ প্রদান ও বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে বিপুল সরকারি অর্থ জড়িত। এ কারণে কোনো ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কায়সার কবিরের বিরুদ্ধে ই-জিপি ব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, একাধিক নির্বাহী প্রকৌশলীর ই-জিপি অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং এর মাধ্যমে দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করা হয়েছে। অভিযোগটি সত্য হলে সরকারি ই-প্রকিউরমেন্ট ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও দরপত্রের স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সময়ের ই-জিপি লগইন, আইপি অ্যাড্রেস, ইউজার অ্যাক্টিভিটি ও ডিজিটাল রেকর্ড পরীক্ষা করা হলে বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।

এদিকে কায়সার কবিরের বিরুদ্ধে বদলি ও পদায়ন নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সাব-ডিভিশনে দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের ব্যবস্থা ছিল। নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে ঢাকা রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগে পদায়নের ক্ষেত্রেও বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগেরও স্বাধীন প্রমাণ যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায় নিয়েও নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। সাভার ও জামালপুরে দায়িত্ব পালনের সময় রাজনৈতিক ও ঠিকাদারি মহলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। তবে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে পেশাগত বা সামাজিক যোগাযোগ থাকাই অনিয়মের প্রমাণ নয়—এ বিষয়ে নথিভিত্তিক তদন্ত প্রয়োজন।

রাজনৈতিক যোগাযোগ ব্যবহার করে বদলি-পদায়ন ও প্রশাসনিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। একই সঙ্গে তাঁর সম্পদ ও জীবনযাত্রা ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটি যাচাইয়ের দাবিও উঠেছে। এ ক্ষেত্রে সম্পদ বিবরণী, আয়কর নথি, ব্যাংক লেনদেন ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগের বিষয়ে কায়সার কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এসব অভিযোগকে ‘মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেন। টেন্ডারের আইডিগুলো যাচাই না করে এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক হবে না বলেও তিনি জানান।

সব মিলিয়ে কায়সার কবিরকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের মূল কেন্দ্রে রয়েছে টেন্ডার পদ্ধতি, ঠিকাদার নির্বাচন, কমিশন বাণিজ্য, ই-জিপি ব্যবস্থায় সম্ভাব্য প্রভাব, বদলি-পদায়ন এবং সম্পদ বৃদ্ধির প্রশ্ন। অভিযোগগুলো সত্য হলে তা সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার জন্য গুরুতর বিষয়; আর অভিযোগ মিথ্যা হলে তা একজন সরকারি কর্মকর্তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তাই অভিযোগের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত ব্যাখ্যার পরিবর্তে টেন্ডার নথি, ই-জিপি ডিজিটাল রেকর্ড, কার্যাদেশ, বিল-ভাউচার, পদায়ন-বদলির আদেশ, সম্পদ বিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনের নিরপেক্ষ তদন্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

অভিযোগের বিচার হোক প্রমাণে—প্রভাব, পরিচয় কিংবা গুজবে নয়


















গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র: :আইনি লড়াইয়ে জয়ী প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. নাজিম উদ্দিন, রিজওয়ানা হাসানের বোর্ড অবৈধ- হাইকোর্টের রায়...
16/08/2026

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র: :আইনি লড়াইয়ে জয়ী প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. নাজিম উদ্দিন, রিজওয়ানা হাসানের বোর্ড অবৈধ- হাইকোর্টের রায়

​বিশেষ প্রতিনিধি || আমার টেলিভিশন:

দীর্ঘ আইনি টানাপোড়েন ও প্রশাসনিক জটিলতার অবসান ঘটিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের একক কর্তৃত্ব ও শাসনভার ফিরে পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটির মূল ট্রাস্টি বোর্ড। হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়ে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের নেতৃত্বাধীন পর্ষদকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। আইনি বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ট্রাস্টের মূল গঠনতন্ত্র ও ১৯৭২ সালের ট্রাস্ট দলিলের আইনি বাধ্যবাধকতা পুরোপুরি পর্যালোচনা করায় আদালতের রায় শতভাগ ডা. মো. নাজিম উদ্দিন আহমেদের পক্ষের যুক্তিকেই সমর্থন করেছে।

​মামলার নথি ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর প্রয়াণের পর ১৯৭২ সালের মূল রেজিস্টার্ড ট্রাস্ট দলিলকে পাশ কাটিয়ে ২০০৮ ও ২০১১ সালে কিছু বিতর্কিত ‘সম্পূরক দলিল’ (Supplementary Deeds) তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার দাপট ব্যবহার করে এসব সম্পূরক দলিলের জোরে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, শিরীন পারভীন হক, অধ্যাপক আলতাফুন্নেসা, ডা. আব্দুল কাদের, সন্ধ্যা রায় ও আবুল কালাম আজাদের সমন্বয়ে একটি সমান্তরাল ট্রাস্টি বোর্ড গঠিত হয়। গঠনতন্ত্র বহির্ভূতভাবে ক্ষমতা দখলের এই প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন একমাত্র জীবিত প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. মো. নাজিম উদ্দিন আহমেদ।

​ডা. নাজিম উদ্দিনের আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ৫ জুলাই উচ্চ আদালত তৎকালীন বিতর্কিত ট্রাস্টি বোর্ডের কার্যক্রমের ওপর একটি স্থগিতাদেশ ও অন্তর্বর্তীকালীন রায় দেন। এই আদেশের পরপরই সাভারের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ক্যাম্পাসে নতুন করে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয় এবং প্রশাসনিক স্থবিরতা দেখা দেয়। তবে চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ গত ১১ আগস্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, মূল দলিল পরিবর্তন করে তৈরি করা সম্পূরক দলিলগুলোর কোনো আইনি ভিত্তি নেই। ফলে রিজওয়ানা হাসান পক্ষের অবৈধ পর্ষদ বাতিল হয়ে একমাত্র বৈধ পরিচালনা পর্ষদ হিসেবে স্বীকৃতি পায় ডা. নাজিম উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ৫ সদস্যের বোর্ড।

​উচ্চ আদালতের এই আদেশের ফলে রিজওয়ানা হাসান পক্ষের অন্তর্বর্তীকালীন পর্ষদের গৃহীত সকল সিদ্ধান্ত আইনত বাতিল হয়ে গেছে। একই সাথে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র এবং এর অধীনস্থ সাভার ও ঢাকার হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যাংক হিসাব পরিচালনার ওপর রিজওয়ানা হাসান গ্রুপের যেকোনো ধরণের হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

​আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্ষমতার অপব্যবহার বা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কোনো ট্রাস্টের মূল দলিল লঙ্ঘন করা যায় না—এই রায়ের মাধ্যমে তা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হলো। ডা. মো. নাজিম উদ্দিনের বিজয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টিদের মূল ধারা ফিরে এলো এবং গণস্বাস্থ্যের জনমুখী চিকিৎসাসেবা ও ট্রাস্টের সম্পত্তি আইনি সুরক্ষা পেল।

৭৬৭ থেকে ১০২১—লটারির বদলিতে গণপূর্তে হ-য-ব-র-ল? স্বচ্ছতার লটারি, নাকি প্রশাসনিক ঝুঁকি? গণপূর্তের গণবদলিতে বিস্ফোরক অভিযো...
11/08/2026

৭৬৭ থেকে ১০২১—লটারির বদলিতে গণপূর্তে হ-য-ব-র-ল? স্বচ্ছতার লটারি, নাকি প্রশাসনিক ঝুঁকি? গণপূর্তের গণবদলিতে বিস্ফোরক অভিযোগ

"নীতিমালা উপেক্ষার অভিযোগ | গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ | প্রধান প্রকৌশলীকে ঘিরে নানা অভিযোগ, তদন্তের দাবি"

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরে শুরু হয়েছে লটারির মাধ্যমে গণবদলি ও পদায়ন। কিন্তু অনিয়ম ও তদবিরের অবসানের পরিবর্তে এই প্রক্রিয়াই এখন জন্ম দিয়েছে নতুন কিছু প্রশ্নের। কর্মকর্তাদের অভিযোগ—অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, দায়িত্বের ধরন এবং ব্যক্তিগত ও মানবিক বাস্তবতা বিবেচনা না করে শুধু লটারির ভিত্তিতে পদায়ন করায় প্রশাসনিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, ভিআইপি এলাকা এবং কেপিআই (Key Point Installation)-এর মতো সংবেদনশীল স্থাপনায় দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের একাংশের দাবি, এসব স্থাপনায় কার দায়িত্ব কতটা উপযুক্ত—তা নির্ধারণে শুধু লটারির ফল যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন অভিজ্ঞতা, কারিগরি দক্ষতা, দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা এবং নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিবেচনা।

৭৬৭ জন দিয়ে শুরু, এরপর আরও ২৫৪:

গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুলাই প্রথম পর্যায়ে লটারির মাধ্যমে ৭৬৭ জন সিভিল উপসহকারী প্রকৌশলীকে বদলি ও পদায়ন করা হয়। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৩১৭, চট্টগ্রামে ১৩৩, রাজশাহীতে ৭৩, খুলনায় ৭৪, বরিশালে ৪৪, সিলেটে ৩৩, ময়মনসিংহে ২৯ এবং রংপুরে ৬৪ জন রয়েছেন।

এরপর ৩ আগস্ট ইলেকট্রিক্যাল ও মেকানিক্যাল—ই/এম শাখার ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলীকে একই পদ্ধতিতে বদলি করা হয়। সূত্রের দাবি, গতকাল ১১ আগস্ট সহকারী ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলীদের লটারির মাধ্যমে বদলির পরিকল্পনা ছিল এবং সর্বশেষ এ বিষয়ে তথ্য জানা যায়নি, তবে চলতি মাসের শেষ নাগাদ নির্বাহী প্রকৌশলীদেরও লটারির মাধ্যমে বদলির পরিকল্পনা রয়েছে।

অর্থাৎ, প্রশ্নটি শুধু একটি পর্যায়ের বদলি নিয়ে নয়—গণপূর্ত অধিদপ্তরের পুরো পদায়ন কাঠামোতেই লটারির পদ্ধতি কতটা কার্যকর ও নিরাপদ, সেটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।

নীতিমালা বনাম লটারি—কোনটি প্রাধান্য পাচ্ছে?:

বদলি হওয়া প্রকৌশলীদের একাংশের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের ‘কর্মকর্তাদের বদলি/পদায়ন নীতিমালা ২০২৫’-এর সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তাদের দাবি, নীতিমালায় সাধারণভাবে একই কর্মস্থলে তিন বছর এবং বিশেষ ক্ষেত্রে দুই বছর দায়িত্ব পালনের বিধান থাকলেও এমন অনেক কর্মকর্তাকেও বদলি করা হয়েছে, যারা বর্তমান কর্মস্থলে মাত্র এক মাস থেকে এক বছর দায়িত্ব পালন করেছেন।

এখানেই তৈরি হয়েছে মৌলিক প্রশ্ন— লটারির মাধ্যমে বদলি কি বিদ্যমান নীতিমালার বিকল্প, নাকি নীতিমালার অধীনেই লটারি পরিচালিত হওয়ার কথা? এ প্রশ্নের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা চান ক্ষুব্ধ প্রকৌশলীদের অনেকে।

মানবিক বিবেচনার জায়গা কোথায়?

শুধু চাকরির মেয়াদ নয়, বদলির ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিস্থিতিও যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

ক্যানসারে আক্রান্ত স্বজনের চিকিৎসা, চাকরিজীবী স্বামী-স্ত্রীকে কাছাকাছি রাখার প্রয়োজনীয়তা কিংবা অন্যান্য গুরুতর পারিবারিক বাস্তবতা—এসব বিষয় লটারির যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় কতটা বিবেচনায় এসেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কর্মকর্তারা।

তাদের বক্তব্য, স্বচ্ছতা মানে শুধু লটারির মাধ্যমে নাম নির্ধারণ নয়; স্বচ্ছতা মানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি স্তরে যুক্তিসংগত ও যাচাইযোগ্য মানদণ্ড থাকা।

কেপিআই ও ভিআইপি স্থাপনায় পদায়ন- উঠছে নিরাপত্তার প্রশ্ন:

লটারিভিত্তিক পদায়ন নিয়ে সবচেয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে কেপিআই ও ভিআইপি এলাকার দায়িত্ব বণ্টনকে কেন্দ্র করে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, লটারির ফলাফলে ২০১৯ ও ২০২২ ব্যাচের কয়েকজন তুলনামূলক তরুণ ও অনভিজ্ঞ ডিপ্লোমা প্রকৌশলীকে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এমনকি কার্য সহকারী বা ড্রাফটসম্যান পদ থেকে পদোন্নতি পাওয়া কয়েকজন উপসহকারী প্রকৌশলীকেও গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সেকশনে পদায়ন করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের অভিযোগ অনুযায়ী, একজন পদোন্নতিপ্রাপ্ত নারী প্রকৌশলীকে গুলশানের ভিআইপি সেকশনে এবং গোপালগঞ্জের বাসিন্দা উপসহকারী প্রকৌশলী নিমিতোষ ওঝাকে গুলশানে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এসব পদায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রকৃত অভিজ্ঞতা, কারিগরি দক্ষতা ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে—তা স্পষ্ট নয়।

জ্যেষ্ঠ প্রকৌশলীদের একাংশের আশঙ্কা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণে ইস্টিমেট প্রস্তুত, কারিগরি মূল্যায়ন, জরুরি মেরামত এবং দায়িত্বের গোপনীয়তা—সবকিছুতেই অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ। ফলে শুধুমাত্র লটারির ভিত্তিতে দায়িত্ব নির্ধারণ করলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও কারিগরি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

‘চেইন অব কমান্ড’ নিয়েও শঙ্কা:

গণপূর্ত অধিদপ্তরের একাংশের মতে, আকস্মিক ও ব্যাপক লটারিভিত্তিক বদলির কারণে দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক চেইন অব কমান্ডও ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে দূরবর্তী এলাকায় আকস্মিক বদলি, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে কর্মস্থল পরিবর্তন এবং পদায়নের মানদণ্ড সম্পর্কে স্পষ্টতার অভাবে কর্মকর্তাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

প্রশ্ন উঠছে— লটারির মাধ্যমে বদলি হলে তার আগে কি ন্যূনতম যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, কর্মস্থলের গুরুত্ব এবং নিরাপত্তা-ঝুঁকির একটি পৃথক মূল্যায়ন করা হয়েছে?

গণ বদলি নিয়ে প্রধান প্রকৌশলী প্রশ্নের মুখে- বিভিন্ন অভিযোগ এখন তার সামনে:

লটারিভিত্তিক বদলি নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই গণপূর্ত অধিদপ্তরের চলতি দায়িত্বে থাকা প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীকে ঘিরে বিভিন্ন অভিযোগও সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ তাঁর বিরুদ্ধে পোস্টিং বাণিজ্য, কথিত সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, আত্মীয়দের ঠিকাদারি কাজ পাইয়ে দেওয়া, গোপন স্থানে অফিস পরিচালনা, রাজনৈতিক যোগাযোগ, দ্বৈত নাগরিকত্ব এবং দেশে-বিদেশে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মতো অভিযোগ তুলেছেন।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোকে সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ নেই; বরং অভিযোগগুলোর বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তই হতে পারে সত্য উদঘাটনের উপযুক্ত পথ।

প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরীর বক্তব্য জানতে তাঁর মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাঁর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

লটারি কি সত্যিই সমাধান, নাকি নতুন ঝুঁকি?:

গণপূর্ত অধিদপ্তরে বদলি-পদায়নে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সেই স্বচ্ছতা যদি এমন একটি পদ্ধতিতে বাস্তবায়িত হয়, যেখানে যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, দায়িত্বের সংবেদনশীলতা ও মানবিক বাস্তবতা যথাযথভাবে বিবেচিত না হয়, তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়।

বিশেষ করে কেপিআই ও ভিআইপি স্থাপনার মতো সংবেদনশীল জায়গায় পদায়নের ক্ষেত্রে লটারির পাশাপাশি পৃথক কারিগরি ও নিরাপত্তা যাচাই করা হয়েছে কি না—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, বিতর্কিত পদায়নগুলো দ্রুত পুনর্বিবেচনা করা হোক। একই সঙ্গে ২০২৫ সালের বদলি-পদায়ন নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, লটারির মানদণ্ড কী ছিল এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে কী ধরনের যোগ্যতা যাচাই করা হয়েছে—এসব বিষয়ে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন।

কারণ স্বচ্ছতার নামে লটারি নয়—প্রকৃত স্বচ্ছতা হলো এমন একটি বদলি ও পদায়ন ব্যবস্থা, যেখানে সিদ্ধান্ত হবে নীতিমালা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, দায়িত্বের গুরুত্ব এবং জনস্বার্থের ভিত্তিতে।

আর গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানে সেই প্রশ্নের উত্তর শুধু কর্মকর্তাদের জন্য নয়—রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও জনস্বার্থের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

11/08/2026

দুপুরের খাবারের ভাউচারে কোটি টাকার ‘হ্যান্ড ক্যাশ’! বিআরটিসি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মহাঅ্যাকশন প্ল্যান"​প্রতিদি...
10/08/2026

দুপুরের খাবারের ভাউচারে কোটি টাকার ‘হ্যান্ড ক্যাশ’! বিআরটিসি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মহাঅ্যাকশন প্ল্যান

"​প্রতিদিন ১০-১১ লাখ টাকার অবৈধ আদায়, বাজেটের নামে হরিলুট ও স্বজনপ্রীতি; স্বাধীন তদন্তের দাবিতে তোলপাড় পরিবহন খাত"

​বিশেষ প্রতিবেদক | আমার টেলিভিশন ও আমার পত্রিকা:

​বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)—রাষ্ট্রীয় এই সেবা সংস্থাটি এখন দুর্নীতি ও অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে বলে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, সংস্থাটির বর্তমান চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব আব্দুল লতিফ মোল্লার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ডিপো, ওয়ার্কশপ এবং ট্রেনিং ইনস্টিটিউট কেন্দ্রিক গড়ে উঠেছে এক সুবিশাল অবৈধ অর্থ আদায়ের সিন্ডিকেট। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১১ লাখ টাকা পকেটে পুরতে ব্যবহার করা হচ্ছে অভিনব সব কৌশল—যার মধ্যে অন্যতম হলো প্রধান কার্যালয়ের ‘দুপুরের খাবারের ভাউচার’।

​খাবারের ভাউচারের আড়ালে ক্যাশ টাকা লেনদেনের অভিনব কৌশল:

​অনুসন্ধানে দেখা যায়, বিআরটিসির প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মতিঝিল বাস ডিপোর ভেতরে প্রতিদিন সকালে দুপুরের খাবার রান্না করা হয়। আপাতদৃষ্টিতে এটি সাধারণ বিষয় মনে হলেও, এর পেছনে রয়েছে অর্থ আত্মসাতের এক গোপন কৌশল।

​ভুয়া ভাউচার: খাবার খরচের দোহাই দিয়ে মতিঝিল ডিপোর তহবিল থেকে প্রতি মাসে ২ লাখ ২৫ হাজার টাকার ভাউচার তোলা হচ্ছে।

​সন্দেহ ও অভিযোগ: সাধারণ কর্মচারীদের অভিযোগ, ডিপো থেকে নেওয়া ‘হ্যান্ড ক্যাশ’ বা সরাসরি নগদ অর্থের লেনদেন আড়াল করতেই প্রতিদিন খাবারের এই নাটক সাজানো হয়। ভাউচারের টাকার বড় অংশই বাস্তব খরচের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ।

​ডিপো, ওয়ার্কশপ ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউট: যেখান থেকে আসে শতকোটি টাকা:

​বিআরটিসির বিভিন্ন খাত থেকে নির্ধারিত হারে নিয়মিত অবৈধ অর্থ আদায়ের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির মাঠপর্যায়ের দপ্তরগুলো থেকে যেভাবে অর্থ আদায় করা হচ্ছে:
​২৪টি বাস ডিপো: ডিপোভেদে প্রতিদিন গাড়িপ্রতি ১ হাজার টাকা এবং কাউন্টার থেকে গড়ে ৪৫ হাজার টাকা করে মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এই ২৪টি বাস ডিপো থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং মাসে প্রায় ৩ কোটি ২৪ লাখ টাকা অবৈধভাবে পকেটে যাচ্ছে।

​তেজগাঁও ও চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপো: তেজগাঁও ট্রাক ডিপো থেকে প্রতি মাসে ১১ লাখ টাকা এবং চট্টগ্রাম ট্রাক ডিপো থেকে প্রতি মাসে ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায় করা হয়।
​ওয়ার্কশপ ও কারখানা: সিডব্লিউএস ও আইসিডব্লিউএস কারখানা থেকে প্রতি মাসে আদায়ের পরিমাণ ১০ লাখ টাকা।

​ট্রেনিং ইনস্টিটিউট: দেশের ৯টি ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে সম্মিলিতভাবে প্রতি মাসে আদায় করা হচ্ছে ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

​এককালীন ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকার ধাক্কা:

বিআরটিসিতে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই চেয়ারম্যান ২৪টি ডিপো থেকে এককালীন ১১ থেকে ১৬ লাখ টাকা করে মোট ৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা নগদ তুলে নেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা দাবি করেছেন। এর সরাসরি প্রভাবে চালক ও কর্মচারীদের বেতন পেতে দীর্ঘ বিলম্বের সৃষ্টি হয়, যা তাঁদের পরিবারগুলোকে চরম দুর্ভোগে ফেলে দেয়।

​বাজেট বাড়িয়ে টাকা আত্মসাৎ ও রাজনৈতিক প্রভাব
​প্রশাসনিক ও সংস্কার খাতের বাজেটেও ব্যাপকভাবে কারচুপির প্রমাণ মিলেছে:

​অফিস সংস্কারের টাকা লোপাট: অফিস কক্ষ সংস্কারের নামে ৫৬ লাখ টাকার বাজেট ধরে সেখান থেকে প্রায় ৪০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠে এসেছে।
​বাণিজ্য মেলার বাজেট বৃদ্ধি: আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার পরিচালন ব্যয় যেখানে পূর্বে ছিল ১৫ লাখ টাকা, তা এক লাফ বাড়িয়ে ৫৭ লাখ ৫৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।
​রাজনৈতিক পরিচয় গোপন: কর্মচারীদের একাংশের দাবি, পূর্ববর্তী আমলাতান্ত্রিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে এবং রাজনৈতিক পরিচয় গোপন ও রদবদল করে তিনি পদোন্নতি বাগিয়ে নিয়েছেন এবং সব অভিযোগ সত্ত্বেও চেয়ারে বহাল আছেন।

​টিআইবি ও দুদকের অবস্থান:

​বিআরটিসির মতো জরুরি সেবামূলক সংস্থায় এমন অনিয়মের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্টজনেরা।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ​"সরকারি পদে থেকে অবৈধভাবে অর্থ উত্তোলন অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। দুর্নীতির এই সুবিশাল নেটওয়ার্কের প্রকৃত চিত্র বের করতে হলে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) অবিলম্বে একটি সমন্বিত ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান চালাতে হবে।"

​অন্যদিকে, দুদক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বিআরটিসির অনিয়ম ও ভুয়া ভাউচারের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ও কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। প্রমাণ মিললেই আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

​জনস্বার্থে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি:

​একটি রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা যখন লোকসানের মুখ দেখে, তখন এর শীর্ষ কর্তাদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার ‘হ্যান্ড ক্যাশ’ নেওয়ার অভিযোগ সাধারণ কর্মচারী ও চালকদের ক্ষুব্ধ করে তুলেছে। বিআরটিসির সর্বস্তরের কর্মচারীদের এখন একটাই দাবি—স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনতে এই অভিযোগগুলোর একটি উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠন করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।


​
​
​
​
​
​
​
​
​
​
​
​
​
​

 ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​ ​
10/08/2026


​
​
​
​
​
​
​
​
​
​
​
​
​
​

৬৯ দিনে ৬ দেশ! ব্যয় সংকোচনের মধ্যেই যুগ্মসচিবের বিদেশ সফর ঘিরে প্রশ্ন"সরকারি অনুমোদনেই সফর, দাবি কর্মকর্তার; তবে প্রশ্ন—...
08/08/2026

৬৯ দিনে ৬ দেশ! ব্যয় সংকোচনের মধ্যেই যুগ্মসচিবের বিদেশ সফর ঘিরে প্রশ্ন

"সরকারি অনুমোদনেই সফর, দাবি কর্মকর্তার; তবে প্রশ্ন—ছয় দেশের সফরে রাষ্ট্রের মোট ব্যয় কত, কী অর্জন হয়েছে এবং কোন সফরগুলো সত্যিই অপরিহার্য ছিল?"

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার || আমার টেলিভিশন:

দেশে যখন সরকারি ব্যয় সংকোচন এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করার কথা বলা হচ্ছে, তখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক যুগ্মসচিবের অল্প সময়ের ব্যবধানে ছয়টি দেশে বিদেশ সফরের অনুমোদন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি বিভিন্ন আদেশ বা জিওতে মে থেকে জুলাইয়ের মধ্যে ভারত, চীন, অস্ট্রিয়া, তুরস্ক, মালদ্বীপ ও থাইল্যান্ড সফরের তথ্য সামনে আসার পর প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।

অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২৪তম ব্যাচের কর্মকর্তা রেবেকা খান। তিনি বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখা ও সীমান্ত শাখার দায়িত্বে রয়েছেন। সরকারি নথিতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বৈঠক, প্রশিক্ষণ, সীমান্ত নিরাপত্তা, মানবপাচার প্রতিরোধ, আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য তার বিদেশ সফরের অনুমোদন দেওয়া হয়।

তবে অনুসন্ধানের প্রশ্নটি সফরের বৈধতা নিয়ে সরাসরি নয়; বরং রাষ্ট্রীয় প্রয়োজন, সরকারি ব্যয় এবং সফরের ফলাফল—এই তিনটি বিষয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য কতটা ছিল, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সরকারি নথি অনুযায়ী, চীনে বিজিবি প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে একটি আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের কথা ছিল। ভারত সফরের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত সমন্বয়সংক্রান্ত মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নেওয়া। অস্ট্রিয়ায় জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর—UNODC আয়োজিত মানবপাচার প্রতিরোধসংক্রান্ত বৈঠকে অংশগ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। তুরস্কে বুদাপেস্ট প্রক্রিয়ার আওতায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয় সভা, মালদ্বীপে ডিজিটাল আলামত সংগ্রহ ও পারস্পরিক আইনি সহায়তা বিষয়ে আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ এবং থাইল্যান্ডে বিমসটেকের মানবপাচারবিষয়ক সাব-গ্রুপের বৈঠকে অংশগ্রহণের তথ্যও সরকারি আদেশে এসেছে।

সফরগুলোর বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এগুলোর সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ দমনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জড়িত। ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন থেকে যায়—বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এসব সফরের প্রতিটি কি সমানভাবে অপরিহার্য ছিল?

সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন সময়ে সরকারি কর্মকর্তাদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ সফর নিয়ন্ত্রণ এবং রাষ্ট্রীয় ব্যয় কমানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে মিতব্যয়িতা ও অগ্রাধিকার নির্ধারণকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ অবস্থায় অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক বিদেশ সফরের তথ্য সামনে এলে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন উঠতে পারে—রাষ্ট্রীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় সফর আর প্রশাসনিকভাবে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব এমন সফরের সীমারেখা কোথায়?
তবে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে শুধু জিওর সংখ্যা গুনলে চলবে না। দেখতে হবে কোন কোন সফর বাস্তবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, কোনগুলো বাতিল হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সফরে কারা অংশ নিয়েছেন এবং প্রতিটি সফরে রাষ্ট্রের মোট কত টাকা ব্যয় হয়েছে। কারণ অনুমোদন পাওয়া প্রতিটি সফর বাস্তবে সম্পন্ন হয়েছে—এমনটি ধরে নেওয়া সঠিক হবে না।
রেবেকা খানও বিষয়টি নিয়ে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, সব সফরই যথাযথ সরকারি অনুমোদন নিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনেই করা হয়েছে। প্রকাশিত ছয়টি জিওর মধ্যে দুটি পরবর্তীতে বাতিল করে অন্য কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি জানিয়েছেন। তার দাবি, তিনি মূলত বিজিবির সঙ্গে ভারত সফর এবং বিমসটেকের বৈঠকে অংশ নিতে থাইল্যান্ড সফর করেছেন। থাইল্যান্ডের বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে আনুষ্ঠানিক উপস্থাপনাও করেছেন বলে জানান তিনি।
তার এই বক্তব্য অনুসন্ধানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি তথ্য সামনে আনে। অর্থাৎ, প্রকাশিত সব জিওকে সরাসরি তার বাস্তব বিদেশ সফর হিসেবে গণনা করা যাবে না। তাই চূড়ান্ত হিসাবের আগে সংশ্লিষ্ট সব জিও, বাতিলাদেশ, সংশোধিত আদেশ, প্রতিনিধি দলের তালিকা এবং ভ্রমণসংক্রান্ত সরকারি ব্যয়ের নথি যাচাই করা জরুরি।
এখানেই মূল অনুসন্ধানের জায়গা।

রাষ্ট্রীয় অর্থে একজন কর্মকর্তা বিদেশে গেলে তার সফরের উদ্দেশ্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ সেই সফরের আর্থিক ব্যয় এবং অর্জিত ফলাফল। একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করে দেশে ফিরে কী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে, কোনো সমঝোতা বা সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে কি না, প্রশিক্ষণ থেকে প্রশাসনিকভাবে কী সুফল পাওয়া গেছে কিংবা সীমান্ত ও মানবপাচার প্রতিরোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তরও জনগণের জানার অধিকার রয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে প্রচলিত প্রশাসনিক ও আর্থিক বিধিবিধান অনুসরণ করা হয়েছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। যথাযথ অনুমোদন, সরকারি আদেশ, ব্যয়ের অনুমোদন এবং প্রযোজ্য আর্থিক বিধি অনুসরণ করা হয়ে থাকলে শুধু বিদেশ সফরের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে সেটিকে অনিয়ম বলা যায় না। আবার কোনো সফর অনুমোদিত হলেই তার প্রয়োজনীয়তা বা ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না—এমনটিও নয়। কারণ প্রশাসনিক অনুমোদন এবং জনস্বার্থে ব্যয়ের যৌক্তিকতা—দুটি আলাদা বিষয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোনে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ফলে সফরগুলোর মোট ব্যয়, সরকারি মূল্যায়ন এবং সফর-পরবর্তী প্রতিবেদনের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।

এ অবস্থায় সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর নিয়ে আরও একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এসেছে—সফর শেষে কি বাধ্যতামূলকভাবে ফলাফলভিত্তিক প্রতিবেদন প্রকাশ করা উচিত?

বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, জাতীয় নিরাপত্তা বা কূটনৈতিকভাবে সংবেদনশীল তথ্য বাদ দিয়ে বিদেশ সফরের উদ্দেশ্য, সরকারি ব্যয়, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত সফর-পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বাড়তে পারে। এতে একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় সরকারি সফর এবং অপ্রয়োজনীয় সফরের মধ্যে পার্থক্য করাও সহজ হবে।

বিশেষ করে ব্যয় সংকোচনের সময় বিদেশ সফরের ক্ষেত্রে একটি প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে—একজন কর্মকর্তা যে কাজে বিদেশ যাচ্ছেন, সেটি কি অন্য কোনো কর্মকর্তা, বিদ্যমান প্রতিনিধি দল কিংবা ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল? যদি সম্ভব না হয়, তাহলে কেন সম্ভব ছিল না—তারও প্রশাসনিক ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন।
তবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, মানবপাচার এবং আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলার মতো বিষয়ে বাংলাদেশের সরাসরি অংশগ্রহণকে কেবল ব্যয় সংকোচনের যুক্তিতে বন্ধ করে দেওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়। বরং প্রয়োজন হলো অপরিহার্য সফরকে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয়কে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা।
এই ঘটনায়ও তাই চূড়ান্ত প্রশ্ন হওয়া উচিত নয়—একজন যুগ্মসচিব কেন এতগুলো বিদেশ সফরের সঙ্গে যুক্ত হলেন। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত—কোন সফর বাস্তবে হয়েছে, কেন হয়েছে, কত টাকা খরচ হয়েছে এবং সেই অর্থ ব্যয়ের বিনিময়ে রাষ্ট্র কী পেয়েছে।

কারণ সরকারি বিদেশ সফর নিজেই কোনো অপরাধ নয়। কিন্তু রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি অপরিহার্য। জনগণের অর্থে পরিচালিত প্রতিটি সফরের যৌক্তিকতা এবং ফলাফল যদি যথাযথভাবে নথিভুক্ত ও প্রকাশ করা হয়, তাহলে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক যেমন কমবে, তেমনি প্রয়োজনীয় সরকারি সফরও অযথা প্রশ্নের মুখে পড়বে না।

সুতরাং এই ছয় দেশের সফর নিয়ে বিতর্কের সবচেয়ে কার্যকর সমাধানও একটাই—সফরগুলোর সরকারি ব্যয়, অনুমোদন, বাস্তব অংশগ্রহণ এবং সফর-পরবর্তী অর্জনের পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা।

তাহলেই পরিষ্কার হবে—৬৯ দিনে ছয় দেশের এই সফরগুলো রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনের অপরিহার্য অংশ ছিল, নাকি সরকারি ব্যয় সংকোচনের নীতির আলোকে এর কিছু অংশ আরও সাশ্রয়ীভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব ছিল।

Address

House 34, Block G, Banasree, Rampura
Dhaka
1219

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when aamar television posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share