08/06/2026
উইন্ডোজ বা চ্যাটজিপিটি-র চেয়েও কোটি গুণ জটিল সফটওয়্যার নিয়ে আপনি প্রতিদিন ঘুরে বেড়াচ্ছেন, অথচ আপনি তা জানেনই না!
আমরা যখন কোনো ল্যাপটপ বা স্মার্টফোন কিনি, তখন সেটির ভেতরে একটা ‘অপারেটিং সিস্টেম’ বা সফটওয়্যার দেওয়া থাকে। সেই সফটওয়্যারের ভেতর হাজার হাজার লাইনের কোডিং করা থাকে, যা ঠিক করে দেয় ফোনটি কীভাবে চলবে, স্ক্রিনের রঙ কেমন হবে কিংবা ব্যাকগ্রাউন্ডে কী কাজ হবে।
কিন্তু আপনি কি জানেন, মানুষের তৈরি করা সবচেয়ে আধুনিক সুপার কম্পিউটারের চেয়েও কোটি গুণ জটিল আর নিখুঁত একটা সফটওয়্যার নিয়ে আপনি প্রতিদিন চব্বিশ ঘণ্টা ঘুরে বেড়াচ্ছেন, অথচ আপনি তা টেরও পাচ্ছেন না?
বিজ্ঞান একে বলে ডিএনএ (DNA)। এটি মূলত আমাদের জীবনের ব্লুপ্রিন্ট বা মাস্টার কোড।
আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষে (Cell) এই ডিএনএ লুকিয়ে আছে। আপনি দেখতে কেমন হবেন, আপনার চোখের মণির রঙ কালো নাকি ব্রাউন হবে, আপনার উচ্চতা কতটুকু হবে, এমনকি আপনার গলার আওয়াজ কেমন শোনাবে—তার সমস্ত তথ্য এই ডিএনএ-র ভেতর কোড করে লিখে রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞানের ভাষায়, ডিএনএ-র এই কোডগুলো লেখা হয় মাত্র ৪টি অক্ষরের বিন্যাসে— A, T, C, এবং G। আপাতদৃষ্টিতে মাত্র ৪টি অক্ষর মনে হলেও এর ভেতরের ডেটা বা তথ্যের পরিমাণ শুনলে আপনার চোখ কপালে উঠবে!
একজন সাধারণ মানুষের মাত্র একটি কোষের ভেতরের ডিএনএ-তে প্রায় ৩ বিলিয়ন (৩০০ কোটি) অক্ষরের তথ্য জমা থাকে। বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেছেন, আপনার মাত্র একটি কোষের এই অবিশ্বাস্য তথ্যগুলো যদি সাধারণ কাগজের বইয়ে টাইপ করা শুরু করা হয়, তবে হাজার পৃষ্ঠার প্রায় ৩,০০০টি মোটা বই লেগে যাবে!
এখন একটু ভাবুন, আপনার পুরো শরীরে এমন কোষের সংখ্যা কত? প্রায় ৩০ থেকে ৩৭ ট্রিলিয়ন! আপনার শরীরের সমস্ত কোষের ডিএনএ-কে যদি এক লাইনে জোড়া দেওয়া যায়, তবে সেই সুতোটি পৃথিবী থেকে সূর্য পর্যন্ত একবার নয়, বহুবার যাতায়াত করতে পারবে। অথচ এই বিশাল লাইব্রেরিটি এক অলৌকিক কারিশমায় এত ক্ষুদ্র আকারে প্যাক করা আছে, যা খালি চোখে দেখাই যায় না!
কোনো এলোমেলো দুর্ঘটনা বা অন্ধ বিবর্তন কি কখনো ৩ বিলিয়ন অক্ষরের এমন নিখুঁত কোনো গাইডবুক বা সফটওয়্যার কোড নিজে নিজে লিখে ফেলতে পারে? যেখানে মানুষের তৈরি করা চ্যাটজিপিটি বা উইন্ডোজের মতো সফটওয়্যার বানাতে পৃথিবীর সেরা প্রোগ্রামারদের বছরের পর বছর মাথা খাটাতে হয়, সেখানে আপনার ভেতরের এই জীবন্ত সফটওয়্যারটি কার কোডিং?
মহাবিশ্বের এই পরম বিস্ময় আর গভীর বিজ্ঞান আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়—জ্ঞানার্জনের কোনো বিকল্প নেই। সৃষ্টির রহস্যকে জানতে হলে, নিজেকে চিনতে হলে আগে পড়তে হবে, জানতে হবে।
মহাবিশ্বের এমন সব অবিশ্বাস্য বিজ্ঞান, প্রকৃতির জটিল মেকানিজম এবং বুদ্ধিবৃত্তিক রহস্যের মুখোমুখি হতে চান?
জানার দিগন্তকে আরও প্রসারিত করতে এবং সৃষ্টির গভীরতম কোডগুলো উন্মোচন করতে আমাদের বিশেষ আয়োজন ‘পড়ো’ সিরিজ। বিজ্ঞান ও যুক্তির আলোয় চোখ মেলে চারপাশকে নতুন করে আবিষ্কার করতে— এই সিরিজটি আপনাকে হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
পড়ো সিরিজটি অর্ডার করতে ইনবক্স করুন অথবা কমেন্টে দেওয়া লিংক থেকে আমাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করুন।
সমকালীন প্রকাশন
সুন্দর জীবনের জন্য