12/10/2025
ভারতীয় ও বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমবিবিএস শিক্ষার মানসিকতা: একটি তুলনামূলক আলোচনা 🇮🇳🇧🇩
শিক্ষাগত পরামর্শদাতা হিসেবে, বিশেষ করে বিদেশে এমবিবিএস পড়াশোনার ক্ষেত্রে, আমি ভারতীয় ও বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি বিশেষ পার্থক্য লক্ষ্য করেছি। ২০১৮ সাল থেকে ভারতীয় ও বাংলাদেশী মেডিকেল প্রত্যাশীদের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতায়, আমি দেখেছি যে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা ডাক্তার হওয়ার জন্য কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ছোটবেলা থেকেই তাদের মনে এই স্বপ্ন লালিত হয় যে তারা ডাক্তার হবে – প্রথমে ভারতে, তারপর বিদেশে। তারা প্রথমে ভারতের সেরা মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য কঠোর পরিশ্রম করে এবং সেখানে সুযোগ না পেলে, তাদের বাজেট ও পছন্দের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দেশে পড়াশোনার সুযোগ খোঁজে। তাদের মূল লক্ষ্য একটাই – এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করা।
অন্যদিকে, বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের মধ্যে এই দৃঢ়সংকল্পের অভাব দেখা যায়। যদিও তারা ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখে, কিন্তু বেশিরভাগই শেষ পর্যন্ত অন্য কোনো বিষয় বেছে নেয়। বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডাক্তার হওয়ার প্রক্রিয়া, কোথায় পড়াশোনা করা উচিত, নিজ দেশে সুযোগ না পেলে কোন দেশ ভালো বিকল্প হতে পারে – এই বিষয়গুলো নিয়ে স্পষ্ট ধারণার অভাব রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে, তাদের বাবা-মা-ও এই বিষয়ে তেমন অবগত নন। শিক্ষার্থীরা ছোটবেলা থেকে ভালো ফল করলেও, তাদের ডাক্তার হওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলার জন্য সঠিক নির্দেশনা বা সমর্থনের অভাব রয়েছে। এই স্পষ্ট ধারণার অভাবই ভারতীয় শিক্ষার্থীদের তুলনায় অনেক বাংলাদেশী শিক্ষার্থীকে পিছিয়ে রাখছে, যদিও আমাদের দেশেও প্রচুর মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছে।
এই পার্থক্য কেবল এমবিবিএস শিক্ষার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং অন্যান্য অনেক শিক্ষাক্ষেত্রেও দেখা যায়। স্পষ্ট ধারণা, সঠিক পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যতের সুস্পষ্ট রূপরেখা না থাকার কারণে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীরা অনেক ক্ষেত্রে ভারতীয় তরুণ-তরুণীদের সাথে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে। আমাদের শিক্ষার্থীদের যে মেধা ও সম্ভাবনা রয়েছে, তা যদি সঠিক নির্দেশনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজে লাগানো যায়, তবে আমরাও বিশ্ব দরবারে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারব।
কিছু মূল পার্থক্য ও উন্নতির ক্ষেত্র:
দৃঢ় সংকল্প: ভারতীয় শিক্ষার্থীরা ডাক্তার হওয়ার বিষয়ে অত্যন্ত দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, যা তাদের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে।
স্পষ্ট ধারণা: বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমবিবিএস পড়াশোনার প্রক্রিয়া ও বিকল্প দেশগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণার অভাব রয়েছে।
অভিভাবকদের ভূমিকা: ভারতীয় অভিভাবকদের মধ্যে সন্তানদের ডাক্তার বানানোর বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ও সমর্থন দেখা যায়, যা অনেক বাংলাদেশী পরিবারে কম।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: সঠিক দিকনির্দেশনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অভাব বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার পথে একটি বড় বাধা।
করণীয়:
শিক্ষার্থীদের এবং অভিভাবকদের এমবিবিএস পড়াশোনার সুযোগ, প্রক্রিয়া এবং বিভিন্ন দেশের সুবিধা-অসুবিধা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো।
ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নকে লালন করা এবং সেই অনুযায়ী মানসিকতা তৈরি করতে সহায়তা করা।
সাশ্রয়ী মূল্যে ভালো মানের শিক্ষা প্রদানকারী দেশগুলোর (যেমন জর্জিয়া) তথ্য সহজলভ্য করা।