18/10/2025
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নেতা হিসেবে জনাব সেলিমের বর্তমান ভূমিকা নিয়ে শিক্ষক সমাজ ও সচেতন মহলে যে প্রশ্ন ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা গভীর আলোচনার দাবি রাখে। শিক্ষকরা যখন নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে নামেন, তখন সমাজের সকল স্তরের মানুষের সমর্থন প্রত্যাশিত। এই সময়ে, একজন প্রবীণ শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষাবিদসুলভ প্রজ্ঞা, নিরপেক্ষতা ও শিক্ষকের মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে দৃঢ় অবস্থান আশা করা হয়।
শিক্ষকদের আন্দোলন কোনো সাধারণ ঘটনা নয়; এটি মূলত শিক্ষার মানোন্নয়ন, পেশাগত মর্যাদা রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি। এমন একটি জনগুরুত্বপূর্ণ ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট আন্দোলনকে যদি ব্যক্তিগত স্বার্থ বা দলীয় রাজনীতির সংকীর্ণ খাতে টেনে নেওয়া হয়, তবে তা আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যকে ক্ষুণ্ণ করে এবং জনসমর্থনকে দুর্বল করে দেয়।
অবসরের পর একজন প্রবীণ ব্যক্তির উচিত শিক্ষাবিদ হিসেবে তার অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান সমাজের কল্যাণে ব্যবহার করা। কিন্তু, যখন কোনো অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নেতা একটি ন্যায্য আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নেন বা এটিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবে চিত্রিত করেন, তখন তার উদ্দেশ্য ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্ন জাগে: শিক্ষকের অধিকারের চেয়ে কোন ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থ এখানে বড় হয়ে উঠল?
একটি শিক্ষক আন্দোলনকে যখন রাজনৈতিক রং দিয়ে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়, তখন তা আন্দোলনের বৈধতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে না, বরং শিক্ষক সমাজের ঐক্য ও সংহতিকেও চ্যালেঞ্জ জানায়। পাবলিক সেন্টিমেন্ট বা জনমত হলো যেকোনো ন্যায্য আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শক্তি। যদি আন্দোলনের নেতৃত্ব বা সমর্থন নিয়ে কোনো ব্যক্তি এমনভাবে কাজ করেন যা এই জনমতকে বিভক্ত করে বা ক্ষুব্ধ করে, তবে তার পরিণতি কেবল আন্দোলনের ব্যর্থতাই নয়, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের ওপরও এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে জনসমর্থন অর্জনের প্রধান ভিত্তি হলো সাধারণ মানুষের ন্যায্য দাবি ও আকাঙ্খার প্রতি সংবেদনশীলতা প্রদর্শন। শিক্ষক সমাজের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশের প্রতি বৈরী মনোভাবাপন্ন কাউকে দলে প্রশ্রয় দেওয়া বা তার বিতর্কিত কার্যকলাপকে সমর্থন দেওয়া রাজনৈতিক দূরদর্শিতার পরিচয় বহন করে না। বরং, এতে ভোটের রাজনীতিতে দলটি জনবিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে। বিশেষ করে, ছাত্র সংসদ নির্বাচন (ডাকসু, জাকসু, রাকসু ইত্যাদি) এবং অন্যান্য জাতীয় নির্বাচনে তরুণ ও শিক্ষাসচেতন ভোটারদের উপর এর প্রভাব অনস্বীকার্য।
শিক্ষক সমাজের ন্যায্য অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার যেকোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে বর্জনীয়। জনাব সেলিমের মতো প্রবীণ নেতাদের কাছে প্রত্যাশা ছিল, তারা নিজেদের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়ে শিক্ষক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী ও জনমুখী করবেন, কিন্তু বর্তমান ভূমিকা শিক্ষক সমাজকে হতাশ করেছে।
এই প্রেক্ষাপটে, সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল বিএনপির হাইকমান্ড, বিশেষ করে তারেক রহমান-এর উচিত অবিলম্বে জনস্বার্থবিরোধী ও বিভেদ সৃষ্টিকারী কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া। জনসমর্থন ও নৈতিক অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে এই ধরণের কর্মকাণ্ড থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বিরত রাখা এবং প্রয়োজনে বহিষ্কার করাই হবে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও জনসেবার প্রতি অঙ্গীকারের যথার্থ প্রমাণ। শিক্ষক সমাজ অত্যন্ত সচেতন এবং তারা তাদের অধিকারের প্রশ্নে কোনো প্রকার লেজুড়বৃত্তিকে প্রশ্রয় দেবে না।
-ধন্যবাদ।
®️ হাশেম মাস্টার