Prominent Publication

Prominent Publication Publications of books

দুঃখের আগুনে দীপ্ত এক কবি~~~~~~~~~~~~~~~~~নজরুলের নামের সঙ্গে ‘দুখু মিয়া’ যেন শুধু একটি ডাকনাম নয়, তাঁর শৈশবের কঠিন বাস্...
04/09/2026

দুঃখের আগুনে দীপ্ত এক কবি
~~~~~~~~~~~~~~~~~

নজরুলের নামের সঙ্গে ‘দুখু মিয়া’ যেন শুধু একটি ডাকনাম নয়, তাঁর শৈশবের কঠিন বাস্তবতারও এক প্রতীক। ১৮৯৯ সালে চুরুলিয়ায় জন্ম নেওয়া এই শিশুটি খুব অল্প বয়সেই জীবনের কঠোর মুখোমুখি হয়েছিল। পিতার মৃত্যুর পর পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়েছিল তাঁর কচি কাঁধে। কখনো মসজিদে মুয়াজ্জিনের কাজ, কখনো কবিদলে, কখনো রেলওয়ে গার্ডের খানসামা, আবার কখনো আসানসোলের চা-রুটির দোকানে কাজ করে তাঁকে জীবন চালাতে হয়েছে। অর্থের অভাব তাঁর শিক্ষাজীবনকেও বারবার থামিয়ে দিয়েছিল।

কিন্তু আশ্চর্য এই মানুষটি দারিদ্র্যকে নিজের নিয়তি হতে দেননি। অভাব তাঁর হাতে ভিক্ষার পাত্র দেয়নি, দিয়েছে কলম। ক্ষুধা তাঁকে নত করেনি, বরং তাঁর কণ্ঠে জন্ম দিয়েছে প্রতিবাদ। নিজের জীবনের বঞ্চনা থেকে তিনি চিনেছিলেন শোষিত মানুষের কান্না, নিপীড়িতের আর্তনাদ এবং স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা।

নজরুলের ব্যক্তিজীবনেও এসেছিল গভীর শোক। ১৯২৯ সালে তাঁর চার বছরের পুত্র বুলবুল গুটি বসন্তে মারা যায়। প্রিয় সন্তানের এই অকালমৃত্যু তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করেছিল। বুলবুলের স্মৃতি ও শোক তাঁর সৃষ্টিশীলতার জগতেও ছাপ ফেলেছিল; তাঁর ‘বুলবুল’ গ্রন্থের নামও আজ সেই ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

জীবনের শেষ অধ্যায়ও ছিল নির্মম। ১৯৪২ সালের পর দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে তিনি ধীরে ধীরে বাকশক্তি ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের ক্ষমতা হারান। যে মানুষ একদিন অন্যায়ের বিরুদ্ধে বজ্রকণ্ঠে উচ্চারণ করেছিলেন, জীবনের শেষ দীর্ঘ অধ্যায়ে সেই কণ্ঠই হয়ে গেল নীরব। ১৯৭২ সালে তাঁকে সপরিবারে বাংলাদেশে আনা হয় এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে বরণ করা হয়।

১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে তাঁর জীবনাবসান ঘটে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে সমাহিত করা হয়।

আজ তাঁর নামে প্রতিষ্ঠান আছে, স্মরণসভা হয়, তাঁর কবিতা ও গান নতুন প্রজন্মের কণ্ঠে ফিরে ফিরে আসে। কিন্তু নজরুলকে সত্যিকার অর্থে ভালোবাসা শুধু তাঁর জন্ম ও মৃত্যুদিনে ফুল দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

নজরুলকে ভালোবাসা মানে ক্ষুধার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।
নজরুলকে ভালোবাসা মানে অন্যায়ের সামনে মাথা নত না করা।
নজরুলকে ভালোবাসা মানে ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণির বিভেদ পেরিয়ে মানুষের মর্যাদাকে ভালোবাসা।

দুঃখ তাঁকে ভাঙতে পারেনি।
দারিদ্র্য তাঁকে থামাতে পারেনি।
নীরবতাও তাঁর কণ্ঠকে মুছে দিতে পারেনি।

দুখু মিয়া চলে গেছেন বহু বছর আগে। কিন্তু তাঁর বিদ্রোহী উচ্চারণ আজও বাতাসে ভাসে—
মানুষের মুক্তির আকাঙ্ক্ষায়, সাম্যের স্বপ্নে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো প্রতিটি সাহসী কণ্ঠে।

নজরুল তাই শুধু একজন কবির নাম নয়; তিনি দুঃখকে শক্তিতে, বঞ্চনাকে বিদ্রোহে এবং মানুষকে ভালোবাসাকে মহত্তম কবিতায় রূপ দেওয়ার এক অনন্য ইতিহাস।

© ড. নজরুল ইসলাম খান, অধ্যক্ষ, কবি এবং কথাসাহিত্যিক।

30/08/2026

জীবনের কাছে
~~~~~~~~

জীবনকে আমরা কতবার যে নিজের মতো করে সাজাতে চাই—কখনো মুঠোর ভেতর সুখ, কখনো চোখের কোণে স্বপ্ন, কখনো দুহাত বাড়িয়ে প্রিয় মানুষকে ধরে রাখতে চাই। অথচ জীবন তার নিজস্ব নদীর মতো; সে কারও ইচ্ছেমতো বাঁক নেয় না, কেবল আপন স্রোতে দূরের কোনো অজানা সাগরের দিকে চলে যায়।

কিছু মানুষ আসে বসন্তের বাতাসের মতো, হৃদয়ের বন্ধ জানালা খুলে দিয়ে যায়। কিছু মানুষ চলে যায় শরতের মেঘের মতো—আকাশে তাদের কোনো চিহ্ন থাকে না, অথচ মন জানে, একদিন তারা ছিল।

জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা বোধহয় এই—সবকিছু পাওয়ার নাম জীবন নয়, কিছু হারিয়েও হৃদয়ের আলোটুকু জ্বালিয়ে রাখার নাম জীবন। যে চলে গেছে তাকে অভিমান দিয়ে নয়, স্মৃতি দিয়ে বিদায় দিতে হয়; যে আছে তাকে ভয় দিয়ে নয়, ভালোবাসা দিয়ে কাছে রাখতে হয়।

শেষ পর্যন্ত মানুষ একদিন বুঝতে শেখে, জীবন তাকে যতটা দিয়েছে, তার চেয়ে বেশি কিছু কেড়ে নেয়নি। কারণ হারানোর মধ্যেও সে রেখে গেছে কিছু গান, কিছু মুখ, কিছু বিকেল, কিছু অশ্রু—আর রেখে গেছে এমন এক হৃদয়, যে আজও নিঃশব্দে বলতে পারে—

আমি বেঁচে আছি; তাই আমার আকাশ এখনো নীল, আমার জানালায় এখনো বাতাস আসে, আর দূর কোনো অদৃশ্য বাঁশির সুরে জীবন আমাকে প্রতিদিন নতুন করে ডাকে।

© ডক্টর নজরুল ইসলাম খান

পাতার ভেতর আরেক জীবন~ প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম খান একটি বই খুলে বসা মানে কেবল অক্ষরের সারি অনুসরণ করা নয়; কখনো কখনো তা নিজ...
16/08/2026

পাতার ভেতর আরেক জীবন
~ প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম খান

একটি বই খুলে বসা মানে কেবল অক্ষরের সারি অনুসরণ করা নয়; কখনো কখনো তা নিজের ভেতরের একটি বন্ধ দরজা খুলে দেওয়া। চারপাশের পৃথিবী যখন অতিরিক্ত শব্দে ভারী হয়ে ওঠে, মানুষ যখন নিজের কাছেই নিজের কথা হারিয়ে ফেলে, তখন একটি বই নিঃশব্দে পাশে এসে বসে। সে কোনো উপদেশের আঙুল তোলে না, কোনো তর্কে জড়ায় না; শুধু ধীরে ধীরে আমাদের অন্য মানুষের জীবন, অন্য সময় এবং অন্য এক পৃথিবীর ভেতর নিয়ে যায়।

উমবের্তো একো লিখেছিলেন, “We live for books.” অর্থাৎ, বইয়ের জন্যও আমাদের বেঁচে থাকা আছে। (Umberto Eco, The Name of the Rose)

বই পড়ার উপকার তাই পরীক্ষার নম্বর, চাকরির প্রস্তুতি কিংবা তথ্য জমিয়ে রাখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব আরও গভীরে। প্রতিদিনের জীবনে বই আমাদের যে দশটি মূল্যবান উপহার দিতে পারে, সেগুলো হলো—

১. চিন্তার পরিধি বড় করে

আমরা প্রত্যেকে নিজের অভিজ্ঞতার ছোট্ট একটি ঘরের মধ্যে বাস করি। বই সেই ঘরের জানালা খুলে দেয়। একজন জাপানি লেখকের চোখ দিয়ে জাপানকে দেখা যায়, একজন আফ্রিকান ঔপন্যাসিকের কণ্ঠে অনুভব করা যায় অন্য মহাদেশের ইতিহাস, আবার কয়েকশ বছর আগের কোনো চরিত্রের দুঃখ আজকের নিজের দুঃখের সঙ্গে আশ্চর্যভাবে মিলে যেতে পারে।

এই কারণেই হারুকি মুরাকামির কথাটি গভীর অর্থ বহন করে: “If you only read the books that everyone else is reading, you can only think what everyone else is thinking.” (Haruki Murakami, Norwegian Wood)

বৈচিত্র্যময় পাঠ মানুষকে নিজের পরিচিত চিন্তার সীমানার বাইরে যেতে শেখায়।

২. মনকে এক জায়গায় বসতে শেখায়

আমাদের মন এখন অসংখ্য ক্ষুদ্র উদ্দীপনার মধ্যে ছুটে বেড়ায়। এক মুহূর্তে একটি সংবাদ, পরের মুহূর্তে ছবি, তার পরেই আরেকটি ভিডিও। দীর্ঘ কোনো ভাবনার সঙ্গে থাকার অভ্যাস ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।

একটি ভালো উপন্যাস অবশ্য অন্যরকম শৃঙ্খলা দাবি করে। চরিত্র মনে রাখতে হয়, ঘটনার সূত্র ধরতে হয়, আগের অধ্যায়ের সঙ্গে পরের অধ্যায়ের সম্পর্ক বুঝতে হয়। অর্থাৎ পাঠের সঙ্গে সঙ্গে মনও ধীরে ধীরে স্থির হতে শেখে।

ভার্জিনিয়া উলফ পাঠকের স্বাধীন বিচারবুদ্ধিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন এবং নিজের যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কথা বলেছেন। (Virginia Woolf, How Should One Read a Book?)

৩. স্মৃতির ভাণ্ডারকে সক্রিয় রাখে

একটি গল্প পড়ার সময় আমাদের মস্তিষ্ককে চরিত্র, সম্পর্ক, স্থান, সময় এবং ঘটনাপ্রবাহ একসঙ্গে ধরে রাখতে হয়। ফলে পাঠ শুধু চোখের কাজ থাকে না; স্মরণ, বোঝা এবং সংযোগ স্থাপনেরও একটি মানসিক অনুশীলন হয়ে ওঠে।

গবেষণায় বই পড়াসহ বিভিন্ন বুদ্ধিবৃত্তিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পরবর্তী জীবনে জ্ঞানীয় সক্ষমতা ধরে রাখার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। দীর্ঘমেয়াদি পাঠাভ্যাস cognitive reserve বা জ্ঞানীয় সুরক্ষা-সামর্থ্যের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। (Wilson et al., 2013; Stern & Barulli, 2019)

বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের মতো মনেরও যত্ন প্রয়োজন; বই সেই যত্নের একটি নীরব মাধ্যম।

৪. অন্যের হৃদয়ে প্রবেশের ক্ষমতা বাড়ায়

বাস্তবে আমরা একজন মানুষের জীবন সম্পূর্ণভাবে দেখতে পাই না। তার হাসির পেছনে কী আছে, তার নীরবতার ভেতরে কোন ভয়, কোন অপমান কিংবা কোন আকাঙ্ক্ষা লুকিয়ে আছে, তা সবসময় জানা সম্ভব হয় না।

কথাসাহিত্য সেখানে এক আশ্চর্য দরজা খুলে দেয়। একজন অপরিচিত মানুষের মনের ভেতর বসিয়ে দেয় পাঠককে। ফলে ধীরে ধীরে অন্যের অবস্থান থেকে পৃথিবীকে দেখার অভ্যাস তৈরি হয়।

অ্যালান বেনেট পাঠের এমন মুহূর্তকে বর্ণনা করেছেন, যখন কোনো বইয়ের মধ্যে নিজের একান্ত অনুভূতিকে অন্য কারও ভাষায় খুঁজে পাওয়া যায়; তাঁর ভাষায়, মনে হয় “a hand has come out and taken yours.” (Alan Bennett, The History Boys)

সাহিত্য তখন শুধু গল্প থাকে না; হয়ে ওঠে মানুষের প্রতি মানুষের সেতু।

৫. কল্পনাকে দৃশ্যমান করে

একটি চলচ্চিত্রে পরিচালক আপনার হয়ে দৃশ্য তৈরি করে দেন। বই সেখানে কাজটি আপনার হাতে ছেড়ে দেয়। একটি পুরোনো বাড়ির বর্ণনা পড়লে বাড়িটি আপনার মনের ভেতর তৈরি হয়; কোনো চরিত্রের মুখ পড়লে তার চেহারা আপনি নিজেই নির্মাণ করেন; কোনো নদীর কথা এলে আপনার স্মৃতির নদীগুলোও সেখানে এসে মিশে যেতে পারে।

এই কারণেই বই একই সঙ্গে পাঠকেরও সৃষ্টি।

জর্জ লুইস বোর্হেস বলেছিলেন, তিনি কল্পনা করেছেন স্বর্গ হয়তো “a kind of library.” (Jorge Luis Borges)

কারণ গ্রন্থাগার আসলে কেবল বইয়ের ঘর নয়; অসংখ্য সম্ভাব্য পৃথিবীর সমাবেশ।

৬. ভাষাকে সমৃদ্ধ করে

মানুষ যত বেশি ভালো লেখা পড়ে, তার ভাষার ভেতর তত বেশি রং জমে। নতুন শব্দ আসে, বাক্য নির্মাণের নতুন ভঙ্গি শেখা যায়, একই অনুভূতিকে প্রকাশ করার নানা পথ আবিষ্কৃত হয়।

ভাষা শুধু যোগাযোগের যন্ত্র নয়; ভাষাই চিন্তার একটি প্রধান ঘর। শব্দ যত সমৃদ্ধ হয়, সূক্ষ্ম অনুভূতি ও জটিল ভাব প্রকাশের সামর্থ্যও তত বাড়ে।

আলডাস হাক্সলি লেখাকে এমন এক শক্তি হিসেবে দেখেছিলেন যা পাঠকের ভেতর দিয়ে গভীরে পৌঁছে যায়: “Words can be like X-rays.” (Aldous Huxley, Brave New World)

ভালো বই তাই আমাদের শুধু নতুন শব্দ শেখায় না; কখনো কখনো নিজের অজানা অনুভূতির নামও শিখিয়ে দেয়।

৭. মানসিক ক্লান্তির মধ্যে একটি আশ্রয় তৈরি করে

জীবনের সব সমস্যার সমাধান বই দিতে পারে না। কিন্তু সমস্যার মাঝখানে কিছুটা দূরত্ব তৈরি করতে পারে। দীর্ঘদিনের ক্লান্ত মন যখন একই চিন্তার বৃত্তে ঘুরতে থাকে, একটি গল্প তাকে অন্য এক পথে হাঁটায়।

সোমারসেট মম-এর একটি বিখ্যাত বক্তব্য হলো, পাঠের অভ্যাস জীবনের নানা দুঃখ থেকে আশ্রয় নির্মাণ করতে পারে। (W. Somerset Maugham, Books and You)

এই আশ্রয় বাস্তবতা থেকে পালানো নয়। বরং কিছুক্ষণ অন্য আলোয় দাঁড়িয়ে নিজের বাস্তবতাকে নতুন করে দেখার সুযোগ।

৮. প্রশ্ন করার ক্ষমতা বাড়ায়

ভালো বই সব প্রশ্নের উত্তর দেয় না। বরং অনেক সময় এমন প্রশ্ন রেখে যায়, যার উত্তর পাঠককে নিজেকেই খুঁজতে হয়।

কোনটি ন্যায়? কোনটি অন্যায়? মানুষ কেন বিশ্বাসঘাতকতা করে? ক্ষমা কি সবসময় মহত্ত্ব? স্বাধীনতা কোথায় শেষ হয়, দায়িত্ব কোথা থেকে শুরু হয়?

উমবের্তো একো মনে করতেন, বইকে শুধু বিশ্বাস করার বস্তু হিসেবে নয়, অনুসন্ধানের বিষয় হিসেবেও দেখা উচিত। (Umberto Eco, The Name of the Rose)

যে পাঠক প্রশ্ন করতে শেখে, সে ধীরে ধীরে নিজের জীবনকেও প্রশ্ন করতে শেখে। আর সেখান থেকেই জন্ম নেয় পরিণত চিন্তা।

৯. নিজের সঙ্গে নিজের পরিচয় করিয়ে দেয়

কখনো আমরা অন্য কারও গল্প পড়তে পড়তে হঠাৎ নিজের গল্প আবিষ্কার করি। কোনো চরিত্রের একাকিত্বে নিজের একাকিত্বকে চিনে ফেলি, কোনো বিদায়ের দৃশ্যে নিজের পুরোনো ক্ষত খুলে যায়, কোনো অসমাপ্ত সম্পর্কের মধ্যে নিজের অতীতের ছায়া দেখতে পাই।

সেই মুহূর্তে বই আর বাইরের কোনো বস্তু থাকে না। সেটি হয়ে ওঠে আয়না।

স্টেনদাল বলেছিলেন, “A good book is an event in my life.” (Stendhal, The Red and the Black)

সত্যিই তো, কিছু বই আমরা শেষ করি; কিছু বই আবার আমাদের শেষ হওয়ার পরও ভেতরে চলতে থাকে।

১০. বয়সের সঙ্গে মনের আলো জ্বালিয়ে রাখে

জ্ঞান অর্জনের কোনো অবসরকাল নেই। শরীর একসময় ধীর হয়ে আসে, কিন্তু কৌতূহলকে চাইলে দীর্ঘদিন তরুণ রাখা যায়। নতুন বিষয় শেখা, নতুন লেখকের সঙ্গে পরিচিত হওয়া, অচেনা ইতিহাসের দিকে তাকানো, দর্শন কিংবা বিজ্ঞানের কোনো কঠিন ধারণা বোঝার চেষ্টা করা—এসবই মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে।

গবেষণায় জীবনব্যাপী বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পৃক্ততার সঙ্গে জ্ঞানীয় অবক্ষয় ধীর হওয়ার সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে বই পড়াকে কোনো রোগের নিশ্চিত প্রতিরোধ বা চিকিৎসা হিসেবে দেখা ঠিক নয়; বরং এটি একটি স্বাস্থ্যকর মানসিক অভ্যাসের অংশ। (Stern & Barulli, 2019; Wilson et al., 2013)

শেষ পর্যন্ত বই পড়ার সবচেয়ে বড় লাভটি হয়তো কোনো গবেষণাগারে মাপা যায় না।

একটি বই আমাদের এমন একজন মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে পারে, যার সঙ্গে বাস্তব জীবনে কোনোদিন দেখা হবে না। এমন একটি সময়ের দরজা খুলে দিতে পারে, যে সময়ে আমরা জন্মাইনি। এমন একটি অনুভূতির ভাষা দিতে পারে, যেটি এতদিন বুকের মধ্যে ছিল অথচ তার কোনো নাম জানা ছিল না।

জেন অস্টিনের কাছে পাঠের আনন্দের সঙ্গে অন্য অনেক আনন্দের তুলনাই চলে না।

তাই বই পড়া মানে শুধু জ্ঞানী হওয়া নয়।
বই পড়া মানে একটু বেশি মানুষ হওয়া।
আর প্রতিটি ভালো বই শেষ করার পর আমরা আগের মানুষটি পুরোপুরি থাকি না।

কখনো একটু বেশি কৌতূহলী,
কখনো একটু বেশি সহানুভূতিশীল,
কখনো একটু বেশি চিন্তাশীল,
আর কখনো নিঃশব্দে একটু বেশি নিজের হয়ে উঠি।

হয়তো এ কারণেই বইয়ের সবচেয়ে সুন্দর উপকারের কোনো তালিকা হয় না। কারণ একটি ভালো বই আমাদের যে পরিবর্তনটি উপহার দেয়, তার অনেকটাই বই বন্ধ করার পর শুরু হয়।

© লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত।

ড. নজরুল ইসলাম খানেরকাব্যকর্মের মূল্যায়ন~~~~~~~~~~~~ড. নজরুল ইসলাম খান সমকালীন বাংলা কবিতায় এমন একটি স্বতন্ত্র কাব্যভাষা...
11/07/2026

ড. নজরুল ইসলাম খানের
কাব্যকর্মের মূল্যায়ন
~~~~~~~~~~~~

ড. নজরুল ইসলাম খান সমকালীন বাংলা কবিতায় এমন একটি স্বতন্ত্র কাব্যভাষা নির্মাণ করেছেন, যার ভিত্তি মানবিক অনুভূতি, জীবনবোধ এবং গভীর দার্শনিক অন্বেষণ। তাঁর কবিতা কেবল অলংকারনির্ভর নয়; বরং সাধারণ মানবিক অভিজ্ঞতাকে কাব্যিক ব্যঞ্জনায় রূপান্তর করে পাঠকের হৃদয়ে দীর্ঘস্থায়ী অনুরণন সৃষ্টি করে। তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ এবং সাম্প্রতিক কবিতাগুলোতে প্রেম, স্মৃতি, বিচ্ছেদ, আশা, মানবিক মর্যাদা এবং জীবনের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য ধারাবাহিকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।

তাঁর কবিতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো অনুভূতির আন্তরিকতা। তাঁর রচনায় প্রেম কখনোই নিছক রোমান্টিক আবেগে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা আত্মিক উপলব্ধি, স্মৃতির স্থায়িত্ব এবং মানুষের অস্তিত্ববোধের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত হয়ে ওঠে। এই আবেগঘন নির্মাণই তাঁর কবিতাকে পাঠকের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার অংশ করে তোলে।

জীবন, সময়, স্মৃতি এবং ক্ষণস্থায়িত্ব সম্পর্কে দার্শনিক চিন্তা তাঁর কবিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। তিনি মানুষের অন্তর্জগৎ, নীরব বেদনা এবং সময়ের অনিবার্য প্রবাহকে এমনভাবে উপস্থাপন করেন, যা পাঠককে আত্মসমালোচনা ও আত্মঅন্বেষণের দিকে আহ্বান জানায়। ফলে তাঁর কবিতা কেবল পাঠের বিষয় নয়, ভাবনারও বিষয় হয়ে ওঠে।

ভাষা ও শৈলীর ক্ষেত্রে ড. খান সহজ, সংযত এবং সৌন্দর্যমণ্ডিত প্রকাশভঙ্গির প্রতি আস্থাশীল। দুর্বোধ্যতা বা অতিরিক্ত প্রতীকনির্ভরতা এড়িয়ে তিনি এমন একটি কাব্যভাষা নির্মাণ করেছেন, যা একই সঙ্গে নান্দনিক ও পাঠবান্ধব। তাঁর উপমা, রূপক ও চিত্রকল্প স্বাভাবিক প্রবাহে কবিতার সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায়।

প্রকৃতি তাঁর কবিতায় কেবল দৃশ্যপট নয়, অনুভূতির প্রতীক। বৃষ্টি, চাঁদ, ভোর, নদী, ফুল কিংবা ঋতু পরিবর্তনের মতো প্রাকৃতিক উপাদান তাঁর কবিতায় মানুষের অন্তর্লোকের প্রতিফলন হিসেবে উপস্থিত হয়। বাহ্যিক প্রকৃতি ও অন্তর্জগতের এই সৃজনশীল সংযোগ তাঁর কাব্যকে বিশেষ ব্যঞ্জনা দিয়েছে।

তাঁর কবিতার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো মানবতাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি। সহমর্মিতা, মমত্ববোধ, কৃতজ্ঞতা, আশা এবং মানবিক মূল্যবোধ তাঁর কাব্যজগতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁর সাহিত্যিক দৃষ্টিভঙ্গিকে সমৃদ্ধ করেছে, যা তাঁর কবিতায় স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়।

সাহিত্য-সমালোচনার দৃষ্টিতে ড. নজরুল ইসলাম খান গীতিধর্মী বাংলা কবিতার ধারাকে ধারণ করলেও তাতে সমকালীন জীবনবোধ ও ব্যক্তিগত আত্মঅন্বেষণের নতুন মাত্রা সংযোজন করেছেন। তাঁর কবিতা কোনো সংকীর্ণ মতাদর্শে আবদ্ধ নয়; বরং সার্বজনীন মানবিক অনুভূতির প্রকাশ ঘটায়, যা বিভিন্ন প্রজন্মের পাঠকের কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।

* সমালোচনামূলক মূল্যায়ন

শক্তির দিক

- গভীর আবেগ, আন্তরিকতা এবং হৃদয়স্পর্শী কাব্যভাষা।
- দার্শনিক জীবনবোধ ও আত্মঅন্বেষণমূলক চিন্তার সফল প্রকাশ।
- সহজ, প্রাঞ্জল এবং নান্দনিক ভাষার ব্যবহার।
- প্রকৃতি ও মানবমনের সম্পর্ককে প্রতীকীভাবে উপস্থাপনের দক্ষতা।
- মানবিক মূল্যবোধ, সহমর্মিতা এবং আশাবাদের ধারাবাহিক প্রকাশ।

* বিকাশের সম্ভাবনা

- কাব্যরীতির কাঠামোগত বৈচিত্র্য ও আঙ্গিকগত পরীক্ষানিরীক্ষা তাঁর সৃষ্টিকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারে।
- সমকালীন সমাজ, বিশ্ববাস্তবতা এবং নাগরিক অভিজ্ঞতার বিস্তৃত অন্তর্ভুক্তি তাঁর কাব্যের বিষয়বৈচিত্র্য বৃদ্ধি করবে।
- নতুন চিত্রকল্প, প্রতীক এবং আন্তঃপাঠিক (Intertextual) অনুষঙ্গের আরও বিস্তৃত প্রয়োগ তাঁর স্বতন্ত্র কাব্যপরিচিতিকে আরও দৃঢ় করতে পারে।

* সামগ্রিক মূল্যায়ন

ড. নজরুল ইসলাম খানের কাব্যকর্ম অনুভূতি, জীবনদর্শন এবং মানবিক মূল্যবোধের এক সার্থক সমন্বয়। তাঁর কবিতা প্রমাণ করে যে, সাহিত্য একই সঙ্গে নান্দনিক, হৃদয়স্পর্শী এবং চিন্তাসঞ্জাত হতে পারে। সৃজনশীল ধারাবাহিকতা, বিষয়বৈচিত্র্য এবং শিল্পরীতির আরও বিস্তারের মাধ্যমে তিনি সমকালীন বাংলা কবিতায় আরও গুরুত্বপূর্ণ ও স্বতন্ত্র অবস্থান নির্মাণ করতে সক্ষম হবেন।

19/06/2026

আমরা প্রেমে পড়ি মানুষের সৌন্দর্যে, কিন্তু ভালোবাসা টিকে থাকে তার অসম্পূর্ণতাকে গ্রহণ করার ক্ষমতায়।

প্রথমে চোখে পড়ে তার হাসি, তার মেধা, তার কোমলতা, তার উজ্জ্বল দিকগুলো। সেখান থেকেই জন্ম নেয় আকর্ষণ, জন্ম নেয় প্রেম। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ তার সমস্ত রূপ নিয়ে সামনে আসে—অভিমান, দুর্বলতা, ভুল, সীমাবদ্ধতা, অস্থিরতা এবং অপূর্ণতা নিয়ে।

সত্যিকারের ভালোবাসা তখনই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়, যখন আমরা শুধু তার আলো নয়, তার ছায়াকেও আপন করে নিতে শিখি। কারণ নিখুঁত মানুষকে ভালোবাসা সহজ; কঠিন হলো একজন অসম্পূর্ণ মানুষকে তার সকল অসম্পূর্ণতাসহ ভালোবেসে যাওয়া।

~ড. নজরুল ইসলাম খান, অধ্যক্ষ, কবি, প্রাবন্ধিক এবং কথাসাহিত্যিক।

11/05/2026
অবশ মাধুর্য~ নজরুল ইসলাম খানএকদিন হঠাৎ বুঝি—দেহ আর নিঃশব্দে থাকে না,তারও আছে নিজস্ব উচ্চারণ,নিজস্ব অভিমান।সকালের আলো গায়...
05/05/2026

অবশ মাধুর্য
~ নজরুল ইসলাম খান

একদিন হঠাৎ বুঝি—
দেহ আর নিঃশব্দে থাকে না,
তারও আছে নিজস্ব উচ্চারণ,
নিজস্ব অভিমান।

সকালের আলো গায়ে পড়তেই
কোনো এক অদৃশ্য ক্লান্তি
চুপচাপ এসে বসে কাঁধে—
যেন বহুদিনের জমে থাকা কথা
আজ বলবেই বলে ঠিক করেছে।

চলাফেরার ভেতরেও তখন
এক ধরনের হিসাব কাজ করে,
প্রতিটি পদক্ষেপে মাপা হয়
সহনশীলতার সীমা।

মনে হয়—
ভিতরের নীরব অঙ্গগুলো
নিজেদের মতো করে লিখে যাচ্ছে
অদৃশ্য দিনলিপি,
যেখানে প্রতিটি শিরা, প্রতিটি হাড়
নিজস্ব ভাষায় জানাচ্ছে সময়ের কথা।

তবু এই পরিবর্তনের ভেতরেই
একটা অদ্ভুত প্রশান্তি জন্ম নেয়—
যেন ধীর হওয়ার মধ্যেই
লুকিয়ে আছে গভীরতা।

খাবারের স্বাদ বদলে যায়,
কিন্তু তার সঙ্গে সঙ্গে বদলায় উপলব্ধিও—
যা একসময় ছিল শুধু রসনা,
এখন তা হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার প্রজ্ঞা।

নীরব বিকেলে হেঁটে গেলে
হাওয়াও যেন আলাদা করে ছুঁয়ে যায়,
শরীর বুঝতে শেখে—
সব দ্রুততার শেষেই আসে ক্লান্তি,
আর ধীরতার ভেতরেই থাকে দীর্ঘস্থায়িত্ব।

এই সময়টাতে
নিজেকেই নতুন করে চিনতে হয়—
কোনটা প্রয়োজন, কোনটা বাড়তি,
কোনটা আনন্দ, আর কোনটা অভ্যাস।

একদিন আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে
মনে হয়—
এই যে বদলে যাওয়া অবয়ব,
এটাই তো আমার দীর্ঘ যাত্রার মানচিত্র।

কিছু হারানো আছে,
তবু তার চেয়েও বেশি আছে পাওয়া—
বুঝে ওঠার ক্ষমতা,
থেমে থাকার সাহস,
আর নিজের প্রতি এক ধরনের নীরব মমতা।

শেষে এসে ধরা দেয় এক সহজ সত্য—
জীবন আসলে দ্রুততার গল্প নয়,
এটি স্থিরতার গভীর নদী,
যেখানে প্রতিটি ঢেউ
একটি সচেতন সিদ্ধান্তের প্রতিধ্বনি।

© লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত।

বই: সোনালী দুঃখলেখক: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ধরন: রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাসরিভিউয়ার : ড. নজরুল ইসলাম খান ‘সোনালী দুঃখ’—শুধু এ...
22/04/2026

বই: সোনালী দুঃখ
লেখক: সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
ধরন: রোমান্টিক প্রেমের উপন্যাস
রিভিউয়ার : ড. নজরুল ইসলাম খান

‘সোনালী দুঃখ’—শুধু একটি উপন্যাস নয়, এটি আসলে এক দীর্ঘশ্বাসের মতো প্রেমের ইতিহাস। এর ভেতরে লুকিয়ে আছে পাশ্চাত্যের বিখ্যাত রূপকথা Tristan and Isolde-এর ছায়া, তবে সেটিকে লেখক নিজের কল্পনা ও ভাষার মায়াজালে এমনভাবে রূপ দিয়েছেন যে, গল্পটি হয়ে উঠেছে সম্পূর্ণ নতুন, একান্তই ব্যক্তিগত এক অনুভবের জগৎ।

এই উপন্যাসে প্রেম কোনো সরল পথ ধরে হাঁটে না। বরং তা বাঁক নেয়, থামে, আবার এগোয়—আর সেই পথের প্রতিটি মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকে কর্তব্য, সামাজিক বাঁধন এবং অনিবার্য বাস্তবতা। নায়ক ও নায়িকার মধ্যে যে টান তৈরি হয়, তা যেন এক অদৃশ্য শক্তি—অবাস্তব অথচ গভীর, অসম্ভব অথচ অনিবার্য। তারা একে অপরকে ভালোবাসে, কিন্তু সেই ভালোবাসা পূর্ণতার দিকে যায় না; বরং অপূর্ণতার মধ্যেই তার প্রকৃত রূপ খুঁজে পায়।

পুরো কাহিনিজুড়ে এক ধরনের মায়াবী বিষণ্নতা ছড়িয়ে থাকে—যেন আলো আর অন্ধকার পাশাপাশি হাঁটছে। এখানে বিচ্ছেদ মানেই শেষ নয়; বরং বিচ্ছেদের ভেতর দিয়েই প্রেম তার গভীরতম সৌন্দর্য খুঁজে পায়। এই উপন্যাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সব ভালোবাসার পরিণতি মিলন নয়, তবু তার সৌন্দর্য কোনো অংশে কম নয়।

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়-এর লেখার সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর সহজ, স্বচ্ছ ভাষা। তিনি জটিল আবেগকে এমনভাবে প্রকাশ করেন, যেন পাঠক অজান্তেই এক স্বপ্নময় জগতে ঢুকে পড়েন। ‘সোনালী দুঃখ’ নামটিও তেমনই অর্থবহ—এখানে দুঃখ কেবল বেদনা নয়, বরং ভালোবাসার এক উজ্জ্বল, পবিত্র অলঙ্কার।

যারা প্রেমের গল্পে শুধুই সুখ খোঁজেন না, বরং খোঁজেন গভীরতা, বেদনা আর এক ধরনের নীরব তৃপ্তি—তাদের জন্য এই বই নিঃসন্দেহে এক অনন্য পাঠ-অভিজ্ঞতা।

© ডক্টর নজরুল ইসলাম খান

বুক রিভিউ~~~~~~~কাব্যগ্রন্থ : পিছু হটে অভিমানকবি : ড. নজরুল ইসলাম খানপ্রকাশক : প্রমিনেন্ট পাবলিকেশন, ঢাকামুদ্রিত মূল্য :...
08/04/2026

বুক রিভিউ
~~~~~~~

কাব্যগ্রন্থ : পিছু হটে অভিমান
কবি : ড. নজরুল ইসলাম খান
প্রকাশক : প্রমিনেন্ট পাবলিকেশন, ঢাকা
মুদ্রিত মূল্য : ৩০০/= টাকা
যোগাযোগ : ০১৬১১ ২৮৯৭৫৪

“পিছু হটে অভিমান”—শিরোনামেই এক ধরনের নীরব কম্পন আছে। যেন ভালোবাসা, বেদনা আর আত্মমর্যাদার সূক্ষ্ম টানাপড়েন মিলেমিশে এক অদৃশ্য আবহ তৈরি করেছে। এই কাব্যগ্রন্থে প্রবেশ করলেই বোঝা যায়, এটি কেবল কবিতার সংকলন নয়—এ এক ব্যক্তিমানসের দীর্ঘ যাত্রার অন্তরঙ্গ দলিল।

এই বইয়ের কবিতাগুলোতে ভালোবাসা সরল কোনো আবেগ নয়; বরং তা জটিল, বহুস্তরীয় এবং কখনো কখনো পরস্পরবিরোধী। এখানে ভালোবাসা যেমন টানে, তেমনি দূরে ঠেলে দেয়। অভিমান এখানে দুর্বলতার প্রকাশ নয়—বরং এক ধরনের নীরব প্রতিবাদ, এক গভীর আত্মসম্মানের ভাষা। কবি যেন বারবার নিজেকে সরিয়ে নেন, কিন্তু সেই পিছু হটা আসলে ভাঙনের নয়, বরং নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার এক পরিমিত কৌশল।

ভাষার দিক থেকে এই কাব্যগ্রন্থ অত্যন্ত সংযত অথচ অনুভূতিতে ভরপুর। কোথাও অতিরঞ্জন নেই, কৃত্রিমতা নেই; বরং প্রতিটি পংক্তিতে রয়েছে এক ধরনের মৃদু অথচ গভীর অনুরণন। পাঠককে চমকে দেওয়ার চেয়ে ধীরে ধীরে আবিষ্ট করে ফেলার ক্ষমতাই এই বইয়ের বড় শক্তি। শব্দগুলো যেন চিৎকার করে না—নিঃশব্দে পাশে বসে, তারপর হঠাৎ হৃদয়ের ভেতর কোথাও গেঁথে যায়।

এই কাব্যগ্রন্থের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্মৃতির ব্যবহার। অতীত এখানে কেবল স্মরণ নয়, বরং পুনরাবিষ্কার। হারিয়ে যাওয়া মুহূর্তগুলো কবির কলমে নতুন করে জীবন্ত হয়ে ওঠে, তবে তা কোনো নস্টালজিয়ার ভারে নুয়ে পড়ে না। বরং সেখানে থাকে এক ধরনের পরিণত দৃষ্টি—যেখানে বেদনা আছে, কিন্তু ভেঙে পড়া নেই; আছে উপলব্ধি, আছে নীরব গ্রহণ।

“পিছু হটে অভিমান” আসলে সেইসব মানুষের জন্য, যারা ভালোবেসেও চুপ করে থাকে, যারা ভাঙে কিন্তু ভাঙার শব্দ শোনায় না, যারা দূরে সরে গিয়ে নিজের ভেতরেই আশ্রয় খোঁজে। এই কাব্যগ্রন্থ তাদের মনের ভাষা হয়ে ওঠে।

সব মিলিয়ে, এটি এমন এক কাব্যগ্রন্থ যা পড়া শেষ হওয়ার পরও শেষ হয় না। বরং পাঠকের ভেতরে থেকে যায়—একটি দীর্ঘশ্বাস হয়ে, একটি অপূর্ণ বাক্য হয়ে, কিংবা কোনো অদৃশ্য অভিমানের মতো।

☞ রিভিউ লিখেছেন: প্রফেসর ড. নাজনীন আহমেদ

যারা এখনো স্বপ্নটাকে থামিয়ে রেখেছেন—শিক্ষক হওয়ার, নিজেকে গড়ে তোলার, আগামী প্রজন্মের সামনে দাঁড়ানোর—তাদের জন্য সময় এখনো ফ...
05/04/2026

যারা এখনো স্বপ্নটাকে থামিয়ে রেখেছেন—শিক্ষক হওয়ার, নিজেকে গড়ে তোলার, আগামী প্রজন্মের সামনে দাঁড়ানোর—তাদের জন্য সময় এখনো ফুরিয়ে যায়নি।

২০২৬ সালের শেষ প্রহরে এসে, আর একবার দরজা খুলে দিচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন কলেজ।

এ যেন শুধু একটি ভর্তি নয়—একটি পথচলার শুরু।
যেখানে বইয়ের পাতা শুধু পাঠ নয়, হয়ে ওঠে দৃষ্টিভঙ্গি।
যেখানে ক্লাসরুম শুধু দেয়ালঘেরা ঘর নয়, হয়ে ওঠে ভবিষ্যৎ নির্মাণের কর্মশালা।

আপনি যদি এখনও বিএড-এ ভর্তি হতে না পারেন, তবে এটাই আপনার শেষ সুযোগ—

নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করার,
একটি মর্যাদাপূর্ণ পেশার দিকে দৃঢ় পা বাড়ানোর।

📍 ঠিকানা: বাড়ি-৩৯/এ, রোড-৮, ধানমণ্ডি, ঢাকা।

📞 যোগাযোগ:
০১৬৭৮৬২৭৮০৭
০১৬১১২৮৯৭৫৪
০১৬৭৮৬২৭৮০২
০১৭১১২৮৯৭৫৪

সময় অপেক্ষা করে না।

কিন্তু সুযোগ—কখনো কখনো শেষবারের মতো ফিরে আসে।

Address

H 39/a, R 8, Dhanmondi
Dhaka
1205

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Prominent Publication posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Prominent Publication:

Shortcuts

Share

Category