20/09/2025
SURAH AN NISA || সূরা আন নিসা || MADANI || মাদানী || PART- 08 || পর্ব- ০৮ || POYEL ||
আয়াত-৫৭ঃ যারা (আমার) আয়াতসমূহ বিশ্বাস করেছে এবং ভালো কাজ করেছে, তাদের অচিরেই আমি এমন এক জান্নাতে প্রবেশ করাবো, যার পাদদেশ দিয়ে ঝর্নাধারা প্রবাহিত হবে, সেখানে তারা (থাকবে) অনন্তকাল, তাদের জন্যে থাকবে পূতপবিত্র (সঙ্গী) ও সঙ্গিনীরা (সর্বোপরি) আমি তাদের এক চির স্নিগ্ধ ছায়ায় প্রবেশ করিয়ে দেবো।
আয়াত-৫৮ঃ (হে ঈমানদার ব্যক্তিরা।) আল্লাহ পাক তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা আমানতসমূহ তাদের (যথার্থ) মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেবে, আর যখন মানুষের মাঝে (কোনো কিছুর) ব্যাপারে তোমরা বিচার ফয়সালা করো তখন তা ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে করবে; মহান আল্লাহ তোমাদের যা কিছু উপদেশ দেন তা সত্যিই সুন্দর। আল্লাহ পাক সবকিছু দেখেন এবং শোনেন।
আয়াত-৫৯ঃ হে ঈমানদার মানুষেরা। তোমরা মহান আল্লাহর আনুগত্য করো, আনুগত্য করো (তাঁর) রাসূলের এবং সেসব লোকদের, যারা তোমাদের মাঝে দায়িত্বপ্রাপ্ত, অতঃপর কোনো ব্যাপারে তোমরা যদি একে অন্যের সাথে মতবিরোধ করো, তাহলে সে বিষয়টি (ফয়সালার জন্যে) আল্লাহ পাক ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাও, যদি তোমরা (সত্যিকার অর্থে) মহান আল্লাহর ওপর এবং শেষ বিচার দিনের ওপর ঈমান এনে থাকো। (তাহলে) এ পদ্ধতিই হবে (তোমাদের বিরোধ মীমাংসার) সর্বোৎকৃষ্ট উপায় এবং বিরোধপূর্ণ বিষয়সমূহের ব্যাখ্যার দিক থেকেও (এটি) হচ্ছে উত্তম পন্থা।
আয়াত-৬০ঃ (হে নবী!) আপনি কি তাদের (অবস্থা) দেখেননি যারা মনে করে, তারা সে বিষয়ের ওপর ঈমান এনেছে যা আপনার নিকট পাঠানো হয়েছে এবং সে (কিতাবের) ওপরও ঈমান এনেছে, যা আপনার আগে অবতীর্ণ করা হয়েছে, কিন্তু (ফয়সালার সময় আমার কিতাবের বদলে) এরা মিথ্যা মাবুদদের কাছ থেকেই ফয়সালা পেতে চায়, অথচ এদের নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো তারা এসব (মিথ্যা মাবুদদের) অস্বীকার করবে; (আসল কথা হচ্ছে) শয়তান এদের সত্য থেকে অনেক দূরে সরিয়ে নিয়ে যেতে চায়।
আয়াত-৬১ঃ এদের যখন বলা হয়, আল্লাহ পাক তাঁর রাসূলের ওপর যা কিছু অবতীর্ণ করেছেন তোমরা তার দিকে (ফিরে) এসো, তখন তুমি এই মুনাফিকদের দেখবে, এরা তোমার নিকট থেকে (একে একে) মুখ ফিরিয়ে দূরে সরে যাচ্ছে।
আয়াত-৬২ঃ অতঃপর তাদের কৃতকর্মের জন্যে যখন তাদের ওপর কোনো বিপদ-মসিবত এসে পড়ে, তখন এদের অবস্থাটা কি হয়? তারা তখন সবাই তোমার কাছে (ছুটে) আসে এবং মহান আল্লাহর নামের কসম করে তোমাকে বলে, আমরা তো কল্যাণ সম্প্রীতি ব্যতীত আর কিছুই চাইনি।
আয়াত-৬৩ঃ এদের মনের ভেতরে কি (অভিসন্ধি লুকিয়ে) আছে তা আল্লাহ পাক ভালো করেই জানেন, তাই আপনি এদের এড়িয়ে চলুন, আপনি এদের ভালো উপদেশ দিন এমন সব কথায়, যা তাদের (অন্তর) ছুঁয়ে যায়।
আয়াত-৬৪ঃ (আপনি আরো বলুন,) আমি যখনই কোনো (জনপদে) কোনো রাসূল পাঠিয়েছি, তাকে এ জন্যেই পাঠিয়েছি যে, মহান আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী তার (শর্তহীন) আনুগত্য করা হবে; যখনি তারা নিজেদের ওপর কোনো অত্যাচার করবে, তখনি তারা তোমার নিকট (ছুটে) আসবে এবং নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে আল্লাহ পাকের নিকট মাফ চাইবে, আল্লাহর রাসূলও (তাদের জন্যে) মাফ চাইবে, এমতাবস্থায় তারা অবশ্যই মহান আল্লাহকে পরম ক্ষমাশীল ও অতীব দয়ালু হিসেবে (দেখতে) পাবে!