POYEL

POYEL আমার ব্যক্তিত্ব একটু ভিন্ন।
আমার জীবন বৃত্তান্ত খুবই পুরনো।
আমি হলাম প্রেমের শহর সেই শহরের দরজা রূপা। I AM A GOOD FRIEND FOR ALL. I MADE MYSELF.

I DON'T FOLLOW OTHERS. I'M A SIMPLE & STRAIGHT MAN. I HATE HYPOCRISY & DISHONESTY. IF YOU THINK I'M NOT ELIGIBLE FOR YOU THEN PLEASE JUST GO AWAY.

20/09/2025

SURAH AN NISA || সূরা আন নিসা || MADANI || মাদানী || PART- 08 || পর্ব- ০৮ || POYEL ||

আয়াত-৫৭ঃ যারা (আমার) আয়াতসমূহ বিশ্বাস করেছে এবং ভালো কাজ করেছে, তাদের অচিরেই আমি এমন এক জান্নাতে প্রবেশ করাবো, যার পাদদেশ দিয়ে ঝর্নাধারা প্রবাহিত হবে, সেখানে তারা (থাকবে) অনন্তকাল, তাদের জন্যে থাকবে পূতপবিত্র (সঙ্গী) ও সঙ্গিনীরা (সর্বোপরি) আমি তাদের এক চির স্নিগ্ধ ছায়ায় প্রবেশ করিয়ে দেবো।

আয়াত-৫৮ঃ (হে ঈমানদার ব্যক্তিরা।) আল্লাহ পাক তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, তোমরা আমানতসমূহ তাদের (যথার্থ) মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেবে, আর যখন মানুষের মাঝে (কোনো কিছুর) ব্যাপারে তোমরা বিচার ফয়সালা করো তখন তা ন্যায় ও ইনসাফের ভিত্তিতে করবে; মহান আল্লাহ তোমাদের যা কিছু উপদেশ দেন তা সত্যিই সুন্দর। আল্লাহ পাক সবকিছু দেখেন এবং শোনেন।

আয়াত-৫৯ঃ হে ঈমানদার মানুষেরা। তোমরা মহান আল্লাহর আনুগত্য করো, আনুগত্য করো (তাঁর) রাসূলের এবং সেসব লোকদের, যারা তোমাদের মাঝে দায়িত্বপ্রাপ্ত, অতঃপর কোনো ব্যাপারে তোমরা যদি একে অন্যের সাথে মতবিরোধ করো, তাহলে সে বিষয়টি (ফয়সালার জন্যে) আল্লাহ পাক ও তাঁর রাসূলের দিকে ফিরিয়ে নিয়ে যাও, যদি তোমরা (সত্যিকার অর্থে) মহান আল্লাহর ওপর এবং শেষ বিচার দিনের ওপর ঈমান এনে থাকো। (তাহলে) এ পদ্ধতিই হবে (তোমাদের বিরোধ মীমাংসার) সর্বোৎকৃষ্ট উপায় এবং বিরোধপূর্ণ বিষয়সমূহের ব্যাখ্যার দিক থেকেও (এটি) হচ্ছে উত্তম পন্থা।

আয়াত-৬০ঃ (হে নবী!) আপনি কি তাদের (অবস্থা) দেখেননি যারা মনে করে, তারা সে বিষয়ের ওপর ঈমান এনেছে যা আপনার নিকট পাঠানো হয়েছে এবং সে (কিতাবের) ওপরও ঈমান এনেছে, যা আপনার আগে অবতীর্ণ করা হয়েছে, কিন্তু (ফয়সালার সময় আমার কিতাবের বদলে) এরা মিথ্যা মাবুদদের কাছ থেকেই ফয়সালা পেতে চায়, অথচ এদের নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো তারা এসব (মিথ্যা মাবুদদের) অস্বীকার করবে; (আসল কথা হচ্ছে) শয়তান এদের সত্য থেকে অনেক দূরে সরিয়ে নিয়ে যেতে চায়।

আয়াত-৬১ঃ এদের যখন বলা হয়, আল্লাহ পাক তাঁর রাসূলের ওপর যা কিছু অবতীর্ণ করেছেন তোমরা তার দিকে (ফিরে) এসো, তখন তুমি এই মুনাফিকদের দেখবে, এরা তোমার নিকট থেকে (একে একে) মুখ ফিরিয়ে দূরে সরে যাচ্ছে।

আয়াত-৬২ঃ অতঃপর তাদের কৃতকর্মের জন্যে যখন তাদের ওপর কোনো বিপদ-মসিবত এসে পড়ে, তখন এদের অবস্থাটা কি হয়? তারা তখন সবাই তোমার কাছে (ছুটে) আসে এবং মহান আল্লাহর নামের কসম করে তোমাকে বলে, আমরা তো কল্যাণ সম্প্রীতি ব্যতীত আর কিছুই চাইনি।

আয়াত-৬৩ঃ এদের মনের ভেতরে কি (অভিসন্ধি লুকিয়ে) আছে তা আল্লাহ পাক ভালো করেই জানেন, তাই আপনি এদের এড়িয়ে চলুন, আপনি এদের ভালো উপদেশ দিন এমন সব কথায়, যা তাদের (অন্তর) ছুঁয়ে যায়।

আয়াত-৬৪ঃ (আপনি আরো বলুন,) আমি যখনই কোনো (জনপদে) কোনো রাসূল পাঠিয়েছি, তাকে এ জন্যেই পাঠিয়েছি যে, মহান আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী তার (শর্তহীন) আনুগত্য করা হবে; যখনি তারা নিজেদের ওপর কোনো অত্যাচার করবে, তখনি তারা তোমার নিকট (ছুটে) আসবে এবং নিজেদের কৃতকর্মের জন্যে আল্লাহ পাকের নিকট মাফ চাইবে, আল্লাহর রাসূলও (তাদের জন্যে) মাফ চাইবে, এমতাবস্থায় তারা অবশ্যই মহান আল্লাহকে পরম ক্ষমাশীল ও অতীব দয়ালু হিসেবে (দেখতে) পাবে!

19/09/2025

SURAH AN NISA || সূরা আন নিসা || MADANI || মাদানী || PART- 07 || পর্ব- ০৭ || POYEL ||

আয়াত-৪৯ঃ (হে নবী।) আপনি কি তাদের অবস্থা দেখেননি যারা নিজেদের খুব পবিত্র মনে করে, অথচ আল্লাহ পাক যাকে ইচ্ছা তাকেই পবিত্র করেন এবং (সেদিন) তাদের ওপর এক বিন্দু পরিমাণও অত্যাচার করা হবে না।

আয়াত-৫০ঃ (এদের প্রতি) তাকিয়ে দেখো কিভাবে এরা আল্লাহ পাকের ওপর মিথ্যা আরোপ করছে, প্রকাশ্য পাপ হিসেবে এটাই তো (এদের জন্যে) যথেষ্ট।

আয়াত-৫১ঃ আপনি কি তাদের (অবস্থা) দেখেননি, যাদেরকে (মহান আল্লাহর) কিতাবের কিছু অংশ দান করা হয়েছিলো, (তারা আস্তে আস্তে) নানা ধরনের ভিত্তিহীন অমূলক যাদুমন্ত্র জাতীয় জিনিস ও (বহুতরো) মিথ্যা মা'বুদের ওপর ঈমান আনতে শুরু করলো এবং এ কাফেরদের সম্পর্কে তারা বলতে লাগলো, ঈমানদারদের তুলনায় এরাই তো সঠিক পথের ওপর রয়েছে।

আয়াত-৫২ঃ এরাই হচ্ছে সেই (হতভাগ্য) মানুষগুলো, যাদের ওপর আল্লাহ পাক লা'নত করেছেন, আর আল্লাহ পাক যার ওপর লা'নত পাঠান তার জন্যে তুমি কখনো কোনো সাহায্যকারী পাবে না।

আয়াত-৫৩ঃ কিন্তু (এরা কি মনে করে যে), তাদের ভাগে রাজত্ব (ও প্রাচুর্য সংক্রান্ত কিছু বরাদ্দ করা) আছে? (যদি সত্যি সত্যিই তেমন কিছু এদের দেয়া হতো) তাহলে এরা তো খেজুর পাতার একটি ঝিল্লিও কাউকে দিতে চাইতো না।

আয়াত-৫৪ঃ কিংবা এরা কি অন্যান্য মানব সন্তানদের ব্যাপারে হিংসা (বিদ্বেষ) পোষণ করে, যাদের মহান আল্লাহ নিজস্ব ভাণ্ডার থেকে (জ্ঞান, কৌশল ও রাজনৈতিক ক্ষমতা) দান করেছেন, (অথচ) আমি তো ইবরাহীমের বংশধরদেরও (আমার) গ্রন্থ (ও সেই গ্রন্থলব্ধ) জ্ঞান-বিজ্ঞান দান করেছিলাম, (এর সঙ্গে) আমি তাদের (এক বিশাল পরিমাণ) রাজত্বও দান করেছিলাম।

আয়াত-৫৫ঃ তারপর তাদের মধ্যে সামান্য কিছু লোকই তার ওপর ঈমান এনেছে, আবার কেউ কেউ তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে; এদের (পুড়িয়ে দেয়ার) জন্যে দোযখই যথেষ্ট।

আয়াত-৫৬ঃ যারা আমার আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে তাদের আমি অচিরেই জাহান্নামের আগুনে পুড়িয়ে দেবো, অতঃপর (পুড়ে যখন) তাদের দেহের চামড়া গলে যাবে তখন আমি তার পরিবর্তে নতুন চামড়া বানিয়ে দেবো, যাতে করে তারা আযাব ভোগ করতে পারে, অবশ্যই আল্লাহ পাক মহাপরাক্রমশালী, বিজ্ঞ কুশলী।

18/09/2025

SURAH AN NISA || সূরা আন নিসা || MADANI || মাদানী || PART- 06 || পর্ব- ০৬ || POYEL ||

আয়াত-৪১ঃ সেদিন (তাদের অবস্থাটা) কেমন হবে যখন আমি প্রত্যেক উম্মতের (কাজে) সাক্ষী (হিসেবে তাদের নবীকে) এনে উপস্থিত করবো এবং (হে মুহাম্মদ।) এদের সবার কাছে সাক্ষী হিসেবে আমি (সেদিন) তোমাকে নিয়ে আসবো।

আয়াত-৪২ঃ সেদিন যারা মহান আল্লাহকে অস্বীকার করেছে এবং (তাঁর) রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করেছে, তারা কামনা করবে, মাটি যদি তাদের নিজেদের সাথে মিশে একাকার হয়ে যেতো। (কারণ সেদিন) কোনো মানুষ কোনো কথাই (মহাবিচারক) আল্লাহ পাকের নিকট থেকে গোপন করতে পারবে না।

আয়াত-৪৩ঃ হে ঈমানদাররা। তোমরা কখনো নেশাগ্রস্ত অবস্থায় নামাযের কাছে যেও না, যতক্ষণ পর্যন্ত (তোমরা এতোটুকু নিশ্চিত না হবে যে, তোমরা যা কিছু বলছো তা তোমরা (ঠিক ঠিক) জানতে (ও বুঝতে) পারছো, (আবার) অপবিত্র অবস্থায়ও (নামাযের কাছে যেও) না, যতক্ষণ না তোমরা (পুরোপুরিভাবে) গোসল সেরে নেবে, তবে পথচারী অবস্থায় থাকলে তা অন্য কথা, (আর) যদি তোমরা অসুস্থ হয়ে পড়ো কিংবা প্রবাসে থাকো, কিংবা তোমাদের কেউ যদি পায়খানা থেকে (ফিরে) আসো অথবা তোমরা যদি (দৈহিক মিলনের সাথে) নারী স্পর্শ করো (তাহলে পানি দিয়ে নিজেদের পরিষ্কার করে নেবে), আর যদি (এসব অবস্থায়) পানি না-ই পাও, তাহলে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করে নেবে (এবং তার পদ্ধতি হচ্ছে), তা দিয়ে তোমাদের মুখমণ্ডল ও তোমাদের হাত মাসেহ করে নেবে, অবশ্যই আল্লাহ পাক পাপ মার্জনাকারী, পরম ক্ষমাশীল।

আয়াত-৪৪ঃ (হে নবী!) আপনি কি তাদের (অবস্থা) দেখেননি, যাদের (আসমানী) গ্রন্থের (সামান্য) একটা অংশ দেয়া হয়েছিলো, কিন্তু তারা গোমরাহীর পথই কিনে নিচ্ছে, তারা তো চায় তোমরা যেন পথভ্রষ্ট হয়ে যাও।

আয়াত-৪৫ঃ তোমাদের দুশমনদের আল্লাহ পাক ভালো করেই জানেন; অভিভাবক হিসেবে (যেমন) মহান আল্লাহ যথেষ্ট, তেমনি সাহায্যকারী হিসেবেও আল্লাহ পাকই যথেষ্ট।

আয়াত-৪৬ঃ ইহুদী জাতির মধ্যে কিছু লোক এমন আছে যারা (রাসূলের) কথাগুলো মূল (অর্থের) স্থান থেকে সরিয়ে (বিকৃত করে) দেয় এবং তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং (সঙ্গে সঙ্গে) অমান্যও করলাম, (আবার বলে) আমাদের কথা শুনুন, (আসলে ইসলামী) জীবন বিধানে অপবাদ দানের উদ্দেশ্যে নিজেদের জিহ্বাকে কুঞ্চিত করে এরা বলে (হে নবী!) আপনি শুনুন (সাথে সাথেই বলে), আপনার শ্রবণশক্তি রহিত হয়ে যাক, (কিন্তু এসব কথা না বলে) তারা যদি বলতো (হে নবী!) আমরা (আপনার কথা) শুনলাম এবং (তা) মেনে নিলাম এবং আপনি আমাদের কথা শুনুন, আমাদের প্রতি লক্ষ্য করুন, তাহলে এ বিষয়টা তাদের জন্যে কতোই না ভালো হতো, তাই হতো (বরং) তাদের জন্যে সঙ্গত, কিন্তু সত্য অস্বীকার করার জন্যে তাদের ওপর আল্লাহ পাক লা'নত দিয়েছেন, অতঃপর (তাদের) সামান্য কিছু লোকই মাত্র ঈমান এনে থাকে।

আয়াত-৪৭ঃ হে মানুষেরা। যাদের কিতাব দেয়া হয়েছে, তোমরা সেই গ্রন্থের ওপর ঈমান আনো, যা আমি (মুহাম্মদের ওপর) অবতীর্ণ করেছি (এ হচ্ছে এমন এক কিতাব), যা তোমাদের কাছে মজুদ (পূর্ববর্তী) কিতাবের সত্যতা স্বীকার করে, (ঈমান আনো) সে সময় আসার পূর্বে, যখন আমি (পাপিষ্ঠদের) চেহারাসমূহ বিকৃত করে তাকে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে দেবো, অথবা (ইহুদীদের পবিত্র দিন) শনিবারের অবমাননাকারীদের প্রতি আমি যেভাবে লা'নত নাযিল করেছি (তেমনি কোনো বড়ো বিপর্যয় আসার আগেই ঈমান আনো), আর আল্লাহ পাকের হুকুম, সে তো অবধারিত।

আয়াত-৪৮ঃ নিঃসন্দেহে মহান আল্লাহ কখনো (সে পাপ) ক্ষমা করবেন না (যেখানে) তাঁর সাথে কাউকে শরীক করা হয়, এ ছাড়া অন্য সব পাপ তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে অংশীদার বানালো সে সত্যিই (আল্লাহর ওপর) মিথ্যা আরোপ করলো এবং একটা মহাপাপে (নিজেকে) জড়ালো।

17/09/2025

SURAH AN NISA || সূরা আন নিসা || MADANI || মাদানী || PART- 05 || পর্ব- ০৫ || POYEL ||

আয়াত-৩৩ঃ পিতামাতা ও আত্মীয়-স্বজনের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে আমি সবার জন্যেই অভিভাবক বানিয়ে রেখেছি; যাদের সঙ্গে তোমাদের কোনো চুক্তি কিংবা অঙ্গীকার রয়েছে তাদের পাওনা (পুরোপুরিই) আদায় করে দেবে, আল্লাহ পাক অবশ্যই প্রতিটি বিষয়ের ওপর সাক্ষী হয়ে আছেন।

আয়াত-৩৪ঃ পুরুষরা হচ্ছে নারীদের (কাজকর্মের) ওপর প্রহরী, কেননা, আল্লাহ পাক এদের একজনকে আরেকজনের ওপর (কিছু বিশেষ) সম্মান প্রদান করেছেন, (পুরুষের এই সম্মানের) একটি (বিশেষ) কারণ হচ্ছে, (প্রধানত) তারাই (দাম্পত্য জীবনের জন্যে) নিজেদের অর্থ সম্পদ ব্যয় করে; অতএব সতী-সাধ্বী নারী হবে (একান্ত) অনুগত, (পুরুষদের) অনুপস্থিতিতে তারা (স্বয়ং) আল্লাহর তত্ত্বাবধানে (থেকে) নিজেদের (ইজ্জত-আবরু ও অন্যান্য) সব অদেখা কিছুর রক্ষণাবেক্ষণ করবে; আর যখন কোনো নারীর অবাধ্যতার (ঔদ্ধত্যের) ব্যাপারে তোমরা আশঙ্কা করো, তখন তোমরা তাদের (ভালো কথার) উপদেশ দাও, (তা কার্যকর না হলে) তাদের সঙ্গে একই বিছানায় থাকা ছেড়ে দাও, (তাতেও যদি তারা সংশোধিত না হয় তাহলে চূড়ান্ত ব্যবস্থা হিসেবে) তাদের (মৃদু) প্রহার করো, তবে যদি তারা (এমনিই) অনুগত হয়ে যায়, তাহলে তাদের (খামাখা কষ্ট দেয়ার) ওপর অজুহাত খুঁজে বেড়িয়ো না; অবশ্যই আল্লাহ পাক সর্বশ্রেষ্ঠ ও সবার চাইতে মহান।

আয়াত-৩৫ঃ আর যদি তাদের (স্বামী-স্ত্রী এ) দু'জনের মাঝে বিচ্ছেদের আশঙ্কা দেখা দেয়, তাহলে তার পক্ষ থেকে একজন সালিস এবং তার (স্ত্রীর) পক্ষ থেকে একজন সালিস নিযুক্ত করো, (আসলে) উভয়ে যদি নিজেদের নিষ্পত্তি চায়, তাহলে আল্লাহ পাক তাদের (পুনরায় মীমাংসায় পৌছার) তাওফীক দেবেন, মহান আল্লাহ নিশ্চয়ই সম্যক জ্ঞানী, সর্ববিষয়ে জ্ঞাত।

আয়াত-৩৬ঃ তোমরা এক আল্লাহ পাকের ইবাদত করো, কোনো কিছুকেই তাঁর সঙ্গে অংশীদার বানিয়ো না এবং পিতামাতার সাথে ভালো ব্যবহার করো, (আরো) যারা (তোমাদের) ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, এতীম, মিসকীন, আত্মীয় প্রতিবেশী, অনাত্মীয় প্রতিবেশী, (তোমার) পথচারী সঙ্গী ও তোমার অধিকারভুক্ত (দাস দাসী, তাদের সবার সঙ্গেও ভালো ব্যবহার করো), অবশ্যই আল্লাহ পাক এমন মানুষকে কখনো পছন্দ করেন না, যে অহঙ্কারী ও দাম্ভিক।

আয়াত-৩৭ঃ (আল্লাহ পাক এমন ধরনের লোকদেরও ভালোবাসেন না) যারা নিজেরা (যেমন) কার্পণ্য করে, (তেমনি) অন্যদেরও কার্পণ্য করার আদেশ করে, (তাছাড়া) মহান আল্লাহ তাদের যা কিছু (ধন-সম্পদের) অনুগ্রহ দান করেছেন তারা তা লুকিয়ে রাখে; আমি কাফেরদের জন্যে এক লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছি।

আয়াত-৩৮ঃ (আল্লাহ পাক তাদেরও পছন্দ করেন না) যারা লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে নিজেদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে, তারা আল্লাহ পাক এবং শেষ বিচারের দিনকেও বিশ্বাস করে না; (আর) শয়তান যদি কোনো ব্যক্তির সঙ্গী হয় তাহলে (বুঝতে হবে) সে বড়োই খারাপ সঙ্গী (পেলো)।

আয়াত-৩৯ঃ কি (দুর্যোগ) তাদের ওপর দিয়ে বয়ে যেতো যদি তারা (শয়তানকে সাথী বানানোর বদলে) আল্লাহ পাকের ওপর ঈমান আনতো এবং ঈমান আনতো আখেরাত দিবসের ওপর, সর্বোপরি মহান আল্লাহ তাদের যা কিছু দান করেছেন তা থেকে তারা ব্যয় করতো; (বস্তুত) আল্লাহ পাক তাদের কাজকর্ম সম্পর্কে ভালোভাবেই জ্ঞাত রয়েছেন।

আয়াত-৪০ঃ আল্লাহ পাক কারো ওপর এক বিন্দু পরিমাণও অত্যাচার করেন না, (বরং তিনি তো এতো দয়ালু যে.) নেকীর কাজ যদি একটি হয় তাহলে তিনি তার পরিমাণ দ্বিগুণ করে দেন এবং (এর সাথে) তিনি নিজ থেকেও বড় কিছু পুরস্কার যোগ করেন।

16/09/2025

SURAH AN NISA || সূরা আন নিসা || MADANI || মাদানী || PART- 04 || পর্ব- ০৪ || POYEL ||

আয়াত-২৫ঃ আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তির স্বাধীন ও সম্ভ্রান্ত কোনো ঈমানদার নারীকে বিয়ে করার (আর্থিক ও সামাজিক) সামর্থ্য না থাকে, তাহলে সে যেন তোমাদের অধিকারভুক্ত কোনো ঈমানদার নারীকে বিয়ে করে নেয়; তোমাদের ঈমান সম্পর্কে তো আল্লাহ পাক সম্যক অবগত আছেন; (ঈমানের মাপকাঠিতে) তোমরা তো একই রকম, অতঃপর তোমরা তাদের (অধিকারভুক্তদের) অভিভাবকদের অনুমতি নিয়ে বিয়ে করো এবং ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক তাদের যথার্থ মোহরানা দিয়ে দাও (এর উদ্দেশ্য হচ্ছে,) তারা যেন বিয়ের দুর্গে সুরক্ষিত হয়ে যায়- (স্বেচ্ছাচারিণী হয়ে) পরপুরুষকে আনন্দ দানের কাজে নিয়োজিত না থাকে, এরপর যখন তাদের বিয়ের দুর্গে অবস্থান করে দেয়া হলো, তখন যদি তারা পাপাচারে লিপ্ত হয়, (তখন) তাদের ওপর আরোপিত শাস্তির পরিমাণ কিন্তু (বিয়ের) দুর্গে অবস্থানকারিণী স্বাধীন (সম্ভ্রান্ত) নারীদের ওপর (আরোপিত শাস্তির) অর্ধেক; তোমাদের মধ্যে যাদের পাপাচারে লিপ্ত হবার আশঙ্কা থাকবে, (শুধু) তাদের জন্যেই এ (বিধান)-টুকু (দেয়া হয়েছে); কিন্তু তোমরা যদি ধৈর্যধারণ করতে পারো, অবশ্যই তা তোমাদের জন্যে কল্যাণকর এবং আল্লাহ তা'আলা একান্ত ক্ষমাপরায়ণ ও পরম দয়ালু।

আয়াত-২৬ঃ মহান আল্লাহ (তাঁর বাণীসমূহ) তোমাদের কাছে খুলে খুলে বলে দিতে চান এবং তিনি তোমাদের- তোমাদের পূর্ববর্তী (পুণ্যবান) মানুষদের সঙ্গে পরিচালিত করতে চান, আর (এর মাধ্যমে) আল্লাহ পাক তোমাদের মাফ (অনুগ্রহ) করতে চান, আল্লাহ পাক সর্বজ্ঞ, কুশলী। আয়াত-২৭ঃ আল্লাহ তা'আলা তোমাদের ওপর ক্ষমাপরবশ হতে চান, (অন্যদিকে) যারা নিজে দের (পাশবিক) লালসার অনুসরণ করে, তারা চায়, তোমরা সে ক্ষমার পথ থেকে বহুদূরে (নিক্ষি প্ত হয়ে গোমরাহ) থেকে যাও।

আয়াত-২৮ঃ মহান আল্লাহ তোমাদের ওপর থেকে বিধি নিষেধের বোঝা লঘু করে (তোমাদের জীবন সহজ করে) দিতে চান, (কারণ) মানুষকে দুর্বল করে সৃষ্টি করা হয়েছে।

আয়াত-২৯ঃ হে মানুষ! তোমরা যারা ঈমান এনেছো, (কখনো) তোমরা একে অন্যের ধন-সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না, (হ্যাঁ), ব্যবসা-বাণিজ্য যা করবে তা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতেই করবে এবং কখনো (স্বার্থের কারণে) একে অপরকে হত্যা করো না, অবশ্যই আল্লাহ পাক তোমাদের প্রতি মেহেরবান।

আয়াত-৩০ঃ যে কেউই বাড়াবাড়ি ও অত্যাচার করতে গিয়ে এ (হত্যার) কাজ করে, অচিরেই আমি তাকে আগুনে পুড়িয়ে দেবো, (আর) মহান আল্লাহর পক্ষে এ কাজ একেবারেই সহজ (মোটেই কঠিন কিছু নয়)।

আয়াত-৩১ঃ যদি তোমরা সে সমস্ত বড় বড় পাপ থেকে বেঁচে থাকো, যা থেকে তোমাদের নিষেধ করা হয়েছে, তাহলে তোমাদের (ছোটোখাটো) পাপ আমি (এমনিই) তোমাদের (হিসাব) থেকে মুছে দেবো এবং অত্যন্ত সম্মানজনক স্থানে আমি তোমাদের প্রবেশ করাবো।

আয়াত-৩২ঃ মহান আল্লাহ তোমাদের একজনের ওপর আরেকজনকে যা (কিছু বেশী) দান করেছেন, তোমরা (তা পাওয়ার) লালসা করো না, যা কিছু পুরুষরা উপার্জন করলো তা তাদেরই অংশ হবে; আবার নারীরা যা কিছু অর্জন করলো তাও (হবে) তাদেরই অংশ; তোমরা আল্লাহ পাকের নিকট থেকে তাঁর দয়া (পাওয়ার জন্যে) প্রার্থনা করো; অবশ্যই আল্লাহ পাক প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে সম্যক জ্ঞাত রয়েছেন।

15/09/2025

SURAH AN NISA || সূরা আন নিসা || MADANI || মাদানী || PART- 03 || পর্ব- ০৩ || POYEL ||

আয়াত-১৭ঃ আল্লাহ পাকের ওপর শুধু তাদের তাওবাই (কবুলযোগ্য) হবে, যারা ভুলবশত পাপের কাজ করে, অতঃপর (জানামাত্রই) তারা দ্রুত (তা থেকে) ফিরে আসে, (মূলত) এরাই হচ্ছে সেসব লোক, যাদের ওপর মহান আল্লাহ দয়াপরবশ হন; আর আল্লাহ পাকই হচ্ছেন সকল বিষয়ে জ্ঞানী, কুশলী।

আয়াত-১৮ঃ আর তাদের জন্যে তাওবা (করার কোনো অবকাশই) নেই, যারা (আজীবন) শুধু পাপ কাজই করে, এভাবেই (পাপ কাজ করতে করতে) একদিন তাদের কারো (দুয়ারে) যখন মৃত্যু এসে উপস্থিত হয়, তখন সে বলে (হে আল্লাহ!), আমি এখন তাওবা করলাম, (আসলে) তাদের জন্যেও (কোনো তাওবা) নয় যারা কাফের অবস্থায় ইহলীলা সাংগ করলো; এরা হচ্ছে সেসব লোক, যাদের জন্যে আমি কঠিন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা করে রেখেছি।

আয়াত-১৯ঃ হে মানুষ। তোমরা যারা ঈমান এনেছো তোমাদের জন্যে কখনো জোর করে বিধবা নারীদের উত্তরাধিকারের পণ্য বানানো হালাল নয়, (বিয়ের সময় মোহর হিসেবে) যা তোমরা তাদের দিয়েছো তার কোনো অংশ তাদের কাছ থেকে নিয়ে নেয়ার জন্যে তোমরা তাদের আটক করে রেখো না, যতোক্ষণ পর্যন্ত তারা প্রকাশ্য কোনো ব্যভিচারের কাজে লিপ্ত না হয়, তাদের সাথে সভাবে জীবন যাপন করো, এমনকি তোমরা যদি তাদের পছন্দ নাও করো, এমনও তো হতে পারে, যা কিছু তোমরা পছন্দ করো না তার মধ্যেই মহান আল্লাহ তোমাদের জন্যে অফুরন্ত কল্যাণ নিহিত রেখে দিয়েছেন।

আয়াত-২০ঃ আর যদি তোমরা এক স্ত্রীকে আরেকজন স্ত্রী দ্বারা বদল করার সংকল্প করেই নাও, তাহলে (মোহর হিসেবে) বিপুল পরিমাণ সোনাদানা দিলেও তার কোনো অংশ তোমরা তার নিকট থেকে ফেরত নিয়ো না; তোমরা কি (তাদের ওপর মিথ্যা) অপবাদ দিয়ে ও সুস্পষ্ট পাপাচার করে তা ফেরত নিতে চাচ্ছো?

আয়াত-২১ঃ তোমরা (মোহরানার) সে অংশটুকু ফেরত নেবেই বা কি করে? অথচ (বিভিন্নভাবে) তোমরা তো একে অন্যের স্বাদ গ্রহণ করেছো, (তাছাড়া এর মাধ্যমে) তারা তোমাদের নিকট থেকে (বিয়ে বন্ধনের) পাকাপাকি একটা প্রতিশ্রুতিও আদায় করে নিয়েছিলো (যা তোমরা ভেংগে দিয়েছো)। আয়াত-২২ঃ নারীদের মধ্য থেকে যাদের তোমাদের পিতা (পিতামহ)-রা বিয়ে করেছে তাদের তোমরা কখনো বিয়ে করো না, (হ্যাঁ, এ নির্দেশ আসার) আগে যা হয়ে গেছে তা তো হয়েই গেছে, এটি (আসলেই) ছিলো এক অশ্লীল (নির্লজ্জ) কাজ এবং খুবই ঘৃণ্য ও নিকৃষ্ট আচরণ।

আয়াত-২৩ঃ (বিয়ের জন্যে) তোমাদের ওপর হারাম করে দেয়া হয়েছে তোমাদের মা, তোমাদের মেয়ে, তোমাদের বোন, তোমাদের ফুফু, তোমাদের খালা, ভাইদের মেয়ে, বোনদের মেয়ে, (আরো অবৈধ করা হয়েছে) সেসব মা, যারা তোমাদের বুকের দুধ খাইয়েছে, তোমাদের দুধ (খাওয়ার সাথী) বোন, তোমাদের স্ত্রীদের মা, তোমাদের স্ত্রীদের মাঝে যাদের সঙ্গে তোমরা সহবাস করেছো তাদের আগের স্বামীর ঔরসজাত মেয়েরা, যারা তোমাদের অভিভাবকত্বে রয়েছে, (অবশ্য) যদি তাদের সাথে তোমাদের (শুধু বিয়ে হয়ে থাকে কিন্তু) তোমরা কখনো তাদের সাথে সহবাস করোনি, তাহলে (তাদের আগের স্বামীর মেয়েদের বিয়ে করায়) তোমাদের জন্যে কোনো দোষ নেই, (তোমাদের জন্যে) তোমাদের নিজেদের ঔরসজাত ছেলেদের স্ত্রীদের অবৈধ করা হয়েছে; (উপরন্তু বিয়ের জন্যে) তোমাদের ওপর দুই বোনকে একত্র করাও (হারাম করা হয়েছে), তবে যা কিছু (এর) আগে সংঘটিত হয়ে গেছে (তা তো হয়েই গেছে, সে ব্যাপারে) অবশ্যই মহান আল্লাহ বড়োই ক্ষমাশীল ও একান্ত দয়াবান।

আয়াত-২৪ঃ নারীদের মাঝে বিয়ের দুর্গে অবস্থানকারীদেরও (তোমাদের জন্যে অবৈধ করা হয়েছে), তবে যেসব নারী (যুদ্ধবন্দী হয়ে) তোমাদের অধিকারে এসে পড়েছে তারা ছাড়া, এ হচ্ছে (বিয়ের ব্যাপারে) তোমাদের ওপর আল্লাহ পাকের বিধান, এর বাইরে যে সব (নারী) রয়েছে, তাদের তোমাদের জন্যে (এ শর্তে) বৈধ করা হয়েছে যে, তোমরা (বিয়ের জন্যে) একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ (মোহর) বিনিময় আদায় করে দেবে এবং তোমরা (বিয়ের) সংরক্ষিত দুর্গে অবস্থান করবে, তোমরা অবাধ যৌনস্পৃহা পূরণে (নিয়োজিত) হবে না; অতঃপর তাদের মধ্যে যাদের তোমরা এর মাধ্যমে উপভোগ করবে, তাদের (মোহরের) বিনিময় ফরয হিসেবে আদায় করে দাও, (অবশ্য একবার) এ মোহর নির্ধারিত হয়ে যাওয়ার পর যে (পরিমাণের) ওপর তোমরা উভয়ে একমত হও, তাতে কোনো দোষের কিছু নেই, নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক সর্বজ্ঞ, কুশলী।

14/09/2025

SURAH AN NISA || সূরা আন নিসা || MADANI || মাদানী || PART- 02 || পর্ব- ০২ || POYEL ||

আয়াত-৯ঃ (এতীমদের ব্যাপারে) মানুষের (এটুকু) ভয় করা উচিত, যদি তারা নিজেরা (মৃত্যুর সময় এমনি) দুর্বল সন্তানদের পেছনে রেখে চলে আসতো, তাহলে (তাদের ব্যাপারে) তারা (এভাবেই) ভীত শঙ্কিত থাকতো, তাই তাদের (ব্যাপারে) মহান আল্লাহকে ভয় করে চলা এবং এদের সাথে (হামেশাই) ন্যায়-ইনসাফের কথাবার্তা বলা উচিত।

আয়াত-১০ঃ যারা অন্যায়ভাবে এতীমদের ধন-সম্পদ ভোগ করে, তারা যেন আগুন দিয়েই নিজে দের পেট ভর্তি করে, অচিরেই এ লোকগুলো জাহান্নামের আগুনে জ্বলতে থাকবে।

আয়াত-১১ঃ আল্লাহ পাক (তোমাদের উত্তরাধিকারে) সন্তানদের সম্পর্কে (এ মর্মে) তোমাদের জন্যে বিধান জারি করছেন যে, এক ছেলের অংশ হবে দুই কন্যা সন্তানের সমান, কিন্তু (উত্তরাধিকারী) কন্যারা যদি দুয়ের বেশী হয় তাহলে তাদের জন্যে (থাকবে) রেখে যাওয়া সম্পত্তির দুই তৃতীয়াংশ, আর (সে) কন্যা সন্তান যদি একজন হয়, তাহলে তার (অংশ) হবে (পরিত্যক্ত সম্পত্তির) অর্ধেক, মৃত ব্যক্তির সন্তান থাকলে তার পিতামাতা প্রত্যেকের জন্যে থাকবে (সে সম্পদের) ছয় ভাগের এক ভাগ, (অন্য দিকে) মৃত ব্যক্তির যদি কোনো সন্তান না থাকে এবং পিতামাতাই যদি হয় (তার একমাত্র) উত্তরাধিকারী, তাহলে তার মায়ের (অংশ) হবে তিন ভাগের এক ভাগ, যদি মৃত ব্যক্তির কোনো ভাই বোন (বেঁচে) থাকে তাহলে তার মায়ের (অংশ) হবে ছয় ভাগের এক ভাগ, (মৃত্যুর) আগে সে যে ওসিয়ত করে গেছে এবং তার (রেখে যাওয়া) ঋণ পরিশোধ করে দেয়ার পরই (কিন্তু এ সব ভাগ-বাটোয়ারা করতে হবে); তোমরা জানো না তোমাদের পিতামাতা ও তোমাদের সন্তান-সন্ততির মধ্যে কে তোমাদের জন্যে উপকারের দিক থেকে বেশী নিকটবর্তী; (অতএব) এ হচ্ছে আল্লাহর বিধান, অবশ্যই আল্লাহ পাক সকল কিছু সম্পর্কে জ্ঞাত এবং তিনিই হচ্ছেন বিজ্ঞ, পরম কুশলী।

আয়াত-১২ঃ তোমাদের স্ত্রীদের রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে তোমাদের অংশ হচ্ছে অর্ধেক, যদি তাদের কোনো সন্তানাদি না থাকে, আর যদি তাদের সন্তান থাকে তাহলে (সে সম্পত্তিতে) তোমাদের অংশ হবে চার ভাগের এক ভাগ, তারা যে ওসিয়ত করে গেছে কিংবা (তাদের) ঋণ পরিশোধ করার পরই (কিন্তু তোমরা এ অংশ পাবে); তোমাদের স্ত্রীদের জন্যে (থাকবে) তোমাদের রেখে যাওয়া সম্পত্তির এক চতুর্থাংশ, যদি তোমাদের কোনো সন্তান না থাকে, যদি তোমাদের সন্তান থাকে, তাহলে তারা পাবে রেখে যাওয়া সম্পদের আট ভাগের এক ভাগ, (মৃত্যুর আগে) তোমরা যা ওসিয়ত করে যাবে অথবা যে ঋণ তোমরা রেখে যাবে তা পরিশোধ করে দেয়ার পরই (এ অংশ তারা পাবে), যদি কোনো পুরুষ কিংবা নারী এমন হয় যে, তার কোনো সন্তানও নেই, পিতা মাতাও নেই, (শুধু) আছে তার এক ভাই ও এক বোন, তবে তাদের সবার জন্যে থাকবে ছয় ভাগের এক ভাগ, (ভাই বোন মিলে) তারা যদি এর চাইতে বেশী হয় তবে (মৃত ব্যক্তির রেখে যাওয়া সম্পদের) এক-তৃতীয়াংশে তারা সবাই (সমান) অংশীদার হবে, অবশ্য (এ সম্পত্তির ওপর) মৃত ব্যক্তির যা অসিয়ত করা আছে কিংবা কোনো ঋণ (পরিশোধ)-এর পরই (এ ভাগাভাগি করা যাবে), তবে (মনে রাখতে হবে.) কখনো উত্তরাধিকারীদের অধিকার পাওয়ার পথে তা যেন ক্ষতিকর হয়ে না দাঁড়ায়, কারণ এ হচ্ছে মহান আল্লাহর নির্দেশ; আর আল্লাহ পাক সর্বজ্ঞানী ও পরম ধৈর্যশীল।

আয়াত-১৩ঃ এগুলো হচ্ছে আল্লাহ পাকের সীমারেখা; যে ব্যক্তি (এর ভেতরে থেকে) তাঁর ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করবে, আল্লাহ পাক তাকে এমন এক জান্নাতে প্রবেশ করাবেন যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত হবে, সেখানে সে যুগ যুগ ধরে অবস্থান করবে; (মূলত) এ হবে এক মহাসাফল্য। আয়াত-১৪ঃ (অপরদিকে) যে ব্যক্তি আল্লাহ পাক ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করবে এবং তাঁর (নির্ধারিত) সীমারেখা লংঘন করবে, আল্লাহ পাক তাকে (জ্বলন্ত) আগুনে প্রবেশ করাবেন, সেখানে সে যুগ যুগ ধরে থাকবে, তার জন্যে (রয়েছে) অপমানকর শাস্তি।

আয়াত-১৫ঃ তোমাদের নারীদের মধ্যে যারা (ব্যভিচারের) দুষ্কর্ম নিয়ে আসবে তাদের (বিচারের) ওপর তোমরা নিজেদের মধ্যে থেকে চার জন সাক্ষী যোগাড় করবে, এরপর সে চার জন লোক যদি (ইতিবাচক) সাক্ষ্য প্রদান করে তাহলে সে নারীদের তোমরা ঘরের ভেতর অবরুদ্ধ করে রাখবে, যতোদিন না মৃত্যু এসে তাদের সমাপ্তি ঘটিয়ে দেয়, কিংবা আল্লাহ পাক তাদের জন্যে অন্য কোনো ব্যবস্থা না করেন।

আয়াত-১৬ঃ আর তোমাদের মধ্যে যে দু'জন (নর-নারী) এ (ব্যভিচারের) কাজ করবে, তাদের দু'জনকেই তোমরা শাস্তি দেবে, (হ্যাঁ) তারা যদি তাওবা করে এবং নিজেদের সংশোধন করে নেয়, তাহলে তাদের (শাস্তি দেয়া) থেকে তোমরা সরে দাঁড়াও, অবশ্যই মহান আল্লাহ তাওবা কবুলকারী এবং পরম দয়ালু।

13/09/2025

SURAH AN NISA || সূরা আন নিসা || MADANI || মাদানী || PART- 01 || পর্ব- ০১ || POYEL ||

আয়াত-১ঃ হে মানুষ! তোমরা তোমাদের প্রভুকে ভয় করো, যিনি তোমাদের একটি (মাত্র) ব্যক্তিসত্ত্বা থেকে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি তা থেকে (তার) জুড়ি পয়দা করেছেন, (এরপর) তিনি তাদের (এ আদি জুড়ি) থেকে অসংখ্য নর-নারী (দুনিয়ায় চারদিকে) ছড়িয়ে দিয়েছেন (হে মানুষ)।, তোমরা ভয় করো আল্লাহ পাককে, যাঁর (পবিত্র) নামে তোমরা একে অপরের কাছে অধিকার (ও পাওনা) দাবী করো এবং সম্মান করো গর্ভ (-ধারিণী মা)-কে, নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক তোমাদের ওপর তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখে চলেছেন।

আয়াত-২ঃ এতীমদের ধন-সম্পদ তাদের কাছে দিয়ে দাও, (তাদের) ভালো জিনিসের সাথে (নিজেদের) খারাপ জিনিসের বদল করো না, তাদের সম্পদসমূহ কখনো নিজেদের সম্পদের সাথে মিলিয়ে ভক্ষণ করে নিয়ো না, এটা একটা জঘন্য পাপ।

আয়াত-৩ঃ আর যদি তোমাদের এ আশঙ্কা থাকে যে, তোমরা এতীম (মহিলা)-দের মাঝে ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তাহলে (অন্য) নারীদের মাঝে থেকে তোমাদের যাদের ভালো লাগে তাদের দুজন, তিনজন কিংবা চার জনকে বিয়ে করে নাও, কিন্তু যদি তোমাদের এই ভয় হয় যে. তোমরা (একের অধিক হলে তাদের মাঝে) ন্যায়বিচার করতে পারবে না, তাহলে (তোমাদের জন্যে) একজনই (যথেষ্ট), কিংবা যে তোমাদের অধিকারভুক্ত; (তাদেরই যথেষ্ট মনে করে নাও। মনে রেখো, সব ধরনের) সীমালঙ্ঘন থেকে বেঁচে থাকার জন্যে এটাই হচ্ছে (উত্তম ও) সহজতর (পন্থা)।

আয়াত-৪ঃ নারীদের তাদের মোহরানার অংক খুশী মনে তাদের দিয়ে দাও; অতঃপর তারা যদি নিজেদের মনের খুশীতে এর কিছু অংশ তোমাদের (ছেড়ে) দেয়, তাহলে তোমরা তা খুশী মনে ভোগ করতে পারো।

আয়াত-৫ঃ আল্লাহ পাক তোমাদের যে সম্পদকে (দুনিয়ায়) তোমাদের প্রতিষ্ঠা লাভের উপকরণ হিসেবে বানিয়ে দিয়েছেন, তা এই নির্বোধ লোকদের হাতে ছেড়ে দিয়ো না, (অবশ্যই এ থেকে) তাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করবে, তাদের পোশাক সরবরাহ করবে, (সর্বোপরি) তাদের সাথে উত্তম কথা বলবে।

আয়াত-৬ঃ এতীমদের প্রতি লক্ষ্য রাখতে থাকবে যতক্ষণ না তারা বিয়ের বয়স পর্যন্ত পৌঁছে, অতঃপর যদি তোমরা তাদের মধ্যে (সম্পদ পরিচালনার) যোগ্যতা অনুভব করতে পারো, তাহলে তাদের ধন-সম্পদ তাদের হাতেই তুলে দেবে এবং তাদের বড় হবার পূর্বেই (তাড়াহুড়ো করে) তা ভক্ষণ করে ফেলো না, (এতীমদের পৃষ্ঠপোষক) যদি সম্পদশালী হয় তাহলে সে যেন (এ বাড়াবাড়ি থেকে) বেঁচে থাকে (তবে হ্যাঁ,) যদি সে (পৃষ্ঠপোষক) গরীব হয় তাহলে (সমাজের) প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী সে যেন তা থেকে (নিজের পারিশ্রমিক) গ্রহণ করে, যখন তোমরা তাদের ধন-সম্পদ তাদের ফিরিয়ে দেবে, তখন তাদের ওপর সাক্ষী রেখো, (যদিও) হিসাব গ্রহণের জন্যে আল্লাহ পাকই যথেষ্ট!

আয়াত-৭ঃ তাদের পিতামাতা ও আত্মীয়-স্বজনদের রেখে যাওয়া ধন-সম্পদে পুরুষদের (যেমন) নির্দিষ্ট অংশ রয়েছে, (একইভাবে) নারীদের জন্যেও (সে সম্পদে) নির্দিষ্ট অংশ রয়েছে, যা তাদের পিতা-মাতা ও আত্মীয় স্বজনরা রেখে গেছে, (পরিমাণ) কম হোক কিংবা বেশী; (উভয়ের জন্যে এর) অংশ নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে।

আয়াত-৮ঃ (মৃত ব্যক্তির সম্পদ) বণ্টনের সময় যখন (তার) আপনজন, এতীম ও মিসকীনরা (সেখানে) এসে উপস্থিত হয়, তখন তা থেকে তাদেরও কিছু দেবে এবং তাদের সাথে সুন্দরভাবে কথা বলবে।

12/09/2025

SURAH AL IMRAN || সূরা আল ইমরান || MADANI || মাদানী || PART- 20 || পর্ব- ২০ || POYEL ||

আয়াত-১৯১ঃ (এ জ্ঞানবান লোক হলো তারা) যারা দাঁড়িয়ে, বসে এবং শুয়ে সর্বাবস্থায় আল্লাহ পাককে মনে করে এবং আসমানসমূহ ও যমীনের এ সৃষ্টি (নৈপুণ্য) সম্পর্কে চিন্তা গবেষণা করে (এবং স্বতস্ফূর্তভাবে তারা বলে ওঠে), হে আমাদের রব, (সৃষ্টি জগত)-এর কোনো কিছুই তুমি অযথা বানিয়ে রাখোনি, তোমার সত্তা অনেক পবিত্র, অতএব তুমি আমাদের জাহান্নামের কঠিন আযাব থেকে নিষ্কৃতি দাও।

আয়াত-১৯২ঃ হে আমাদের প্রভু যাকেই তুমি জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করাবে, নিশ্চয়ই তাকে তুমি অপমানিত করবে, (আর সে অপমানের দিনে) যালেমদের জন্যে কোনো রকম সাহায্যকারীই থাকবে না।

আয়াত-১৯৩৪ হে আমাদের প্রভু, আমরা শুনতে পেয়েছি একজন আহ্বানকারী (নবী মানুষদের) ঈমানের দিকে ডাকছে (সে বলছিলো, হে মানুষরা।) তোমরা তোমাদের প্রভু আল্লাহর ওপর ঈমান আনো, (হে প্রভু, সেই আহ্বানকারীর কথায়) অতঃপর আমরা ঈমান এনেছি, হে আমাদের প্রভু! তুমি আমাদের পাপসমূহ মাফ করে দাও, (হিসাবের খাতা থেকে) আমাদের দোষত্রুটি ও পাপসমূহ মুছে দাও, (সর্বশেষে তোমার) নেক লোকদের সাথে তুমি আমাদের মৃত্যু দাও।

আয়াত-১৯৪ঃ হে আমাদের রব! তুমি তোমার নবী-রাসূলদের মাধ্যমে যেসব (পুরস্কারের) ওয়াদা দিয়েছো তা আমাদের দান করো এবং কেয়ামতের দিন তুমি আমাদের অপমানিত করো না; নিশ্চয়ই তুমি কখনো ওয়াদার খেলাপ করো না।

আয়াত-১৯৫ঃ অতএব, তাদের রব (এ বলে) তাদের আহ্বানে সাড়া দিলেন যে, আমি নর-নারী নির্বিশেষে তোমাদের কোনো কাজ কখনো বিনষ্ট করবো না, (আমি সবার কাজের বিনিময়ই দেবো) এবং তোমরা তো একে অপরেরই অংশ, অতএব (তোমাদের মাঝে) যারা (নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে) হিজরত করেছে এবং যারা নিজেদের জন্মভূমি থেকে বিতাড়িত হয়েছে, আমারই পথে যারা নির্যাতিত হয়েছে, (মোটকথা) যারা (আমার জন্যে) লড়াই করেছে এবং (আমারই জন্যে) জীবন দিয়েছে, আমি তাদের গুনাহসমূহ মাফ করে দেবো, নিশ্চয়ই আমি এদের (এমন) জান্নাতে প্রবেশ করাবো, যার তলদেশ দিয়ে ঝর্ণাধারা বইতে থাকবে, াকবে, এ হচ্ছে (তাদের জন্যে)

আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে পুরস্কার, আর উত্তম পুরস্কার তো আল্লাহ পাকের কাছেই রয়েছে। আয়াত-১৯৬৪ (হে মুহাম্মদ।) জনপদসমূহে যারা আল্লাহ পাককে অস্বীকার করেছে, তাদের (দাি ক) পদচারণা যেন কোনোক্রমেই তোমাকে বিভ্রান্ত করতে না পারে।

আয়াত-১৯৭ঃ (কেননা, এসব কিছু হলো) সামান্য (কয়দিনের) সামগ্রী মাত্র, অতঃপর তাদের (সবারই অনন্ত) আবাস (হবে) দোযখ; আর দোযখ হচ্ছে নিকৃষ্টতম আবাসস্থল।

আয়াত-১৯৮ঃ তবে যারা নিজেদের প্রভুকে ভয় করে চলে, তাদের জন্যে নির্দিষ্ট হয়ে আছে (সুরম্য) উদ্যানমালা, যার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হবে ঝর্ণাধারা, সেখানে তারা অনন্তকাল থাকবে, এ হবে আল্লাহ পাকের পক্ষ থেকে (তাদের জন্যে) আতিথেয়তা, আর আল্লাহ পাকের কাছে যা (পুরস্কার সংরক্ষিত) আছে, তা অবশ্যই নেককার লোকদের জন্যে অতি উত্তম জিনিস!

আয়াত-১৯৯ঃ (ইতঃপূর্বে) আমি যাদের নিকট কিতাব পাঠিয়েছি, সেসব কিতাবধারী লোকদের মধ্যে এমন লোক অবশ্যই আছে, যারা মহান আল্লাহকে বিশ্বাস করে, তোমাদের এ কিতাবের ওপর তারা (যেমনি) বিশ্বাস করে (তেমনি) তারা বিশ্বাস করে তাদের ওপর প্রেরিত কিতাবের ওপরও, এরা মহান আল্লাহর জন্যে ভীত সন্ত্রস্ত ও বিনয়ী বান্দা, এরা আল্লাহ পাকের আয়াতকে (স্বার্থের বিনিময়ে) স্বল্প মূল্যে বিক্রি করে না, এরাই হল সেসব ব্যক্তি, যাদের জন্যে তাদের প্রভুর কাছ থেকে অগাধ পুরষ্কার রয়েছে, নিঃসন্দেহে আল্লাহ পাক হচ্ছেন দ্রুত হিসাব সম্পন্নকারী।

আয়াত-২০০ঃ হে মু'মিনগণ! তোমরা ধৈর্যধারণ করো, (ধৈর্যের এ কাজে) একে অন্যের সাথে প্রতিযোগিতা করো, (শত্রুর মোকাবেলায়) সুদৃঢ় থেকো, একমাত্র মহান আল্লাহকেই ভয় করো, (এভাবেই) আশা করা যায় তোমরা সফলকাম হতে পারবে।

11/09/2025

SURAH AL IMRAN || সূরা আল ইমরান || MADANI || মাদানী || PART- 19 || পর্ব- ১৯ || POYEL ||

আয়াত-১৮১ঃ আল্লাহ পাক সেই (ইহুদী) লোকদের কথা (ভালো করেই) শুনেছেন, যখন তারা (বিদ্রূপ করে) বলেছিলো (হ্যাঁ), আল্লাহ পাক অবশ্যই গরীব, আর আমরা হচ্ছি ধনী, তারা যা কিছু বলে তা আমি (তাদের হিসেবের খাতায়) লিখে রাখবো, (আমি আরো লিখে রাখবো) অন্যায়ভাবে তাদের নবীদের হত্যার বিষয়টিও, (সেদিন) আমি তাদের বলবো, এবার এ জাহান্নামের স্বাদ উপভোগ করো।

আয়াত-১৮২ঃ এ (আযাব) হচ্ছে তোমাদের নিজেদেরই হাতের কামাই, যা তোমরা (আগেই এখানে) পাঠিয়েছো, আল্লাহ পাক কখনো তাঁর নিজ বান্দাদের প্রতি অবিচারক নন।

আয়াত-১৮৩ঃ যারা বলে, (স্বয়ং) আল্লাহ পাকই তো আমাদের আদেশ দিয়েছেন যেন আমরা কোনো রাসূলের ওপর ঈমান না আনি, যতোক্ষণ না সে আমাদের কাছে এমন একটা কোরবানী এনে উপস্থিত করবে, যাকে (গায়ব থেকে এক) আগুন এসে খেয়ে ফেলবে; (হে মুহাম্মদ।) আপনি তাদের বলুন, হ্যাঁ আমার আগেও তোমাদের কাছে অনেক নবী রাসূল এসেছে, তারা সবাই উজ্জ্বল নিদর্শন নিয়েই এসেছিলো, তোমরা (আজ) যে কথা বলছো তা সহকারেই তো তারা এসেছিলো, তা সত্ত্বেও তোমরা তাদের হত্যা করলে কেন? আজ যদি তোমরা এতোই সত্যবাদী হও (তাহলে কেন এসব আচরণ করলে?)

আয়াত-১৮৪ঃ (হে মুহাম্মদ।) এরা যদি আপনাকে অস্বীকার করে (তাহলে এ নিয়ে আপনি উদ্বিগ্ন হবেন না, কারণ), আপনার আগেও এমন অনেক নবী রাসূল (নবুওয়াতের) সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণ ও মহান আল্লাহর নিকট থেকে অবতীর্ণ করা হেদায়াতের দীপ্তিমান গ্রন্থমালা নিয়ে এসেছিলো, তাদেরও (এমনিভাবেই) অস্বীকার করা হয়েছিলো।

আয়াত-১৮৫ঃ প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ ভোগ করবে; (অতঃপর) তোমাদের (জীবনভর) কামাইর প্রতি ফল কেয়ামতের দিন আদায় করে দেয়া হবে, যাকে (জাহান্নামের) আগুন থেকে বাঁচিয়ে দেয়া হবে এবং জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে; সেই হবে সফল ব্যক্তি। (মনে রেখো।) এই পার্থিব জীবন কিছু বাহ্যিক ছলনার মাল সামানা ব্যতীত আর কিছুই নয়।

আয়াত-১৮৬ঃ (হে ঈমানদার ব্যক্তিরা।) নিশ্চয়ই জান মালের (ক্ষতির) মাধ্যমে তোমাদের পরীক্ষা নেয়া হবে। (এ পরীক্ষা দিতে গিয়ে) তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তী সম্প্রদায়-যাদের কাছে মহান আল্লাহর কিতাব অবতীর্ণ হয়েছিলো এবং যারা আল্লাহর সাথে অন্যদের শরীক করেছে, তাদের (উভয়ের) কাছ থেকে অনেক (কষ্টদায়ক) কথাবার্তা শুনবে; এ অবস্থায় তোমরা যদি ধৈর্যধারণ করো এবং আল্লাহকে ভয় করে চলো, তবে তা হবে অত্যন্ত বড়ো ধরনের এক সাহসিকতার ব্যাপার।

আয়াত-১৮৭ঃ (স্মরণ করো।) যখন আল্লাহ পাক এ কিতাবধারী ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছিলেন, (তিনি তাদের বলেছিলেন) তোমরা একে মানুষদের কাছে বর্ণনা করবে এবং একে তোমরা গোপন করবে না, কিন্তু তারা এ ওয়াদা নিজেদের পেছনে ফেলে রাখলো এবং অতি অল্প মূল্যে তা বিক্রি করে দিলো; বড়োই নিকৃষ্ট ছিলো (যেভাবে) তারা সে বেচাকেনার কাজটি করলো।

আয়াত-১৮৮ঃ এমন সব লোকদের সম্পর্কে তুমি কখনো ভেবো না যারা নিজেরা যা করে তাতে আনন্দ প্রকাশ করে, আবার নিজেরা যা কখনো করেনি তার জন্যেও প্রশংসিত হতে ভালোবাসে, তুমি কখনো ভেবো না যে, এরা (বুঝি) আল্লাহর আযাব থেকে অব্যাহতি পেয়ে গেছে, (প্রকৃতপক্ষে) এদের জন্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে পীড়াদায়ক শাস্তির ব্যবস্থা নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে।

আয়াত-১৮৯ঃ আসমানসমূহ ও যমীনের সার্বভৌমত্ব এককভাবে আল্লাহর জন্যে; আল্লাহ পাকই সবকিছুর ওপর একক ক্ষমতাবান।

আয়াত-১৯০ঃ নিঃসন্দেহে আসমানসমূহ ও যমীনের (নিখুঁত) সৃষ্টি এবং দিবা রাত্রির আবর্তনের মধ্যে জ্ঞানবান লোকদের জন্যে অনেক নিদর্শন রয়েছে।

Everyday at 08:00 P.M.ইউটিউবে চোখ রাখুন শুদ্ধ বাংলায় আল কুরআন শুনতে। 🩷YouTube Link:
10/09/2025

Everyday at 08:00 P.M.

ইউটিউবে চোখ রাখুন শুদ্ধ বাংলায় আল কুরআন শুনতে। 🩷

YouTube Link:

AL QURAN RECITATION IN PURE BENGALI || শুদ্ধ বাংলায় আল কুরআন তিলাওয়াত ||

10/09/2025

SURAH AL IMRAN || সূরা আল ইমরান || MADANI || মাদানী || PART- 18 || পর্ব- ১৮ || POYEL ||

আয়াত-১৭১ঃ এ (ভাগ্যবান) মানুষেরা আল্লাহর পক্ষ থেকে অফুরন্ত নেয়ামত ও অনুগ্রহে উৎফুল্ল আনন্দিত হয়, (কারণ) মহান আল্লাহ ঈমানদার বান্দাদের পাওনা কখনো বিনষ্ট করেন না।

আয়াত-১৭২ঃ (ওহুদের এতো বড়ো) আঘাত আসার পরও যারা (আবার) আল্লাহ পাক ও তাঁর রাসূলের ডাকে সাড়া দিয়েছে এবং তাদের মধ্যে আরো যারা নেক কাজ করেছে, (সর্বোপরি) সর্বদা যারা মহান আল্লাহকে ভয় করে চলেছে, এদের সবার জন্যে রয়েছে মহাপুরস্কার।

আয়াত-১৭৩ঃ যাদেরকে মানুষেরা বললো, তোমাদের বিরুদ্ধে (কাফেরদের) এক বিশাল বাহিনী একত্র হয়েছে, অতএব তোমরা তাদের ভয় করো, (এ বিষয়টাই যারা যথার্থ ঈমানদার) তাদের ঈমানকে আরো বাড়িয়ে দিলো, তারা বললো, মহান আল্লাহই আমাদের জন্যে যথেষ্ট এবং তিনিই হলেন উত্তম কর্মবিধায়ক।

আয়াত-১৭৪ঃ অতঃপর আল্লাহ পাকের নেয়ামত ও অনুগ্রহ নিয়ে এরা (এমনভাবে) ফিরে এলো যে, কোনো প্রকার অনিষ্টই তাদের স্পর্শ করতে পারলো না, এরা আল্লাহর সন্তুষ্টির পথই অনুসরণ করলো; (বস্তুত) আল্লাহ পাক মহা অনুগ্রহশীল।

আয়াত-১৭৫ঃ এই হচ্ছে তোমাদের (প্ররোচনাদানকারী) শয়তান, তারা (শত্রুপক্ষের অতিরঞ্জিত শক্তির কথা বলে) তাদের আপনজনদের ভয় দেখাচ্ছিলো, তোমরা কোনো অবস্থায়ই তাদের (এ হুমকিকে) ভয় করবে না, বরং আমাকেই ভয় করো, যদি তোমরা (সত্যিকার অর্থে) ঈমানদার হও! আয়াত-১৭৬ঃ (হে নবী,) যারা দ্রুতগতিতে কুফরীর পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তাদের কর্মকাণ্ড যেন তোমাকে চিন্তান্বিত না করে, তারা কখনো মহান আল্লাহর বিন্দুমাত্র কোনো ক্ষতি সাধন করতে পারবে না; (মূলত) আল্লাহ পাক এদের জন্যে আখিরাতে (পুরষ্কারের) কোনো অংশই রাখতে চান না, তাদের জন্যে অবশ্যই কঠিন আযাব রয়েছে।

আয়াত-১৭৭ঃ যারা ঈমানের বদলে কুফরী খরিদ করে নিয়েছে, তারা মহান আল্লাহর (কোনোই) ক্ষতি করতে পারবে না, এদের জন্যে মর্মান্তিক শাস্তির বিধান রয়েছে।

আয়াত-১৭৮ঃ কাফেররা যেন এটা কখনো মনে না করে, আমি যে তাদের ঢিল দিয়ে রেখেছি এটা তাদের জন্যে কল্যাণকর হবে, (আসলে) আমি তো তাদের অবকাশ দিচ্ছি যেন তারা তাদের পাপ (এর বোঝা) আরো বাড়িয়ে নিতে পারে, আর (তোমাদের মধ্যে) তাদের জন্যেই (প্রস্তুত) রয়েছে লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি।

আয়াত-১৭৯ঃ আল্লাহ পাক কখনো তাঁর ঈমানদার বান্দাদের-তোমরা বর্তমানে যে (ভালো-মন্দে মিশানো) অবস্থার ওপর আছো এর ওপর ছেড়ে দিতে চান না, যতোক্ষণ না তিনি সৎলোকদের অসৎ লোকদের থেকে পৃথক করে দেবেন; (একইভাবে) এটা আল্লাহ পাকের কাজ নয় যে, তিনি তোমাদের অদৃশ্য জগতের (খোঁজ খবরের ওপর) কিছু অবহিত করবেন, তবে আল্লাহ পাক তাঁর রাসূলদের মাঝ থেকে যাকে চান তাকে (বিশেষ কোনো কাজের জন্যে) বাছাই করে নেন, অতঃপর তোমরা মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসূলদের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করো, তোমরা যদি আল্লাহর ওপর যথাযথভাবে ঈমান আনো এবং নিজেরা সতর্ক হয়ে চলতে পারো, তাহলে তোমাদের জন্যে মহা পুরস্কার রয়েছে।

আয়াত-১৮০ঃ আল্লাহ পাক নিজের দয়া দিয়ে তাদের যে প্রাচুর্য দিয়েছেন যারা তা মহান আল্লাহর পথে ব্যয় করতে কার্পণ্য করে- তারা যেন কখনো এটা মনে না করে, এটা তাদের জন্যে কোনো কল্যাণকর কিছু হবে না, এ কৃপণতা (আসলে) তাদের জন্যে খুবই অকল্যাণকর। কার্পণ্য করে তারা যা জমা করেছে, অচিরেই রোজ কেয়ামতে তা দিয়ে তাদের গলায় বেড়ি পরিয়ে দেয়া হবে, আসমানসমূহ ও যমীনের উত্তরাধিকার তো আল্লাহ পাকের জন্যেই, আর তোমাদের প্রতিটি কার্যকলাপ সম্পর্কে আল্লাহ পাক বিশেষভাবে অবগত রয়েছেন।

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when POYEL posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

I THINK

I AM A GOOD FRIEND FOR ALL.I MADE MYSELF.I DON'T FOLLOW OTHERS.I'M A SUPERSTAR IN REAL LIFE.I'M A SIMPLE & STRAIGHT BOY.HATE HYPOCRISY & DISHONESTY.IF YOU THINK I'M NOT ELIGIBLE FOR YOU PLEASE JUST GO AWAY.