26/03/2026
ফেরিতে মন্ত্রী এমপি ডিসি এসপিরাও উঠে।
কোনদিন শুনছেন?কোন ঝামেলা হইসে?
আমরা যে রাস্তায় চলাফেরা করি, এই সেইম রাস্তা দিয়েই মন্ত্রী এমপিরাও চলাফেরা করে।
কোনদিন শুনছেন? যে ঈদে বাড়ি যাওয়ার সময় কোন মন্ত্রী বা এমপির বৌ বাচ্চা এক্সিডেন্ট করসে?
শুনেন নাই।
কারণ ওদের টেক কেয়ার করা হয়। এই সিস্টেম, এই ফেরি, এই সেইম রাস্তাতেই ওদের টেক কেয়াত করা হয়, যাতে ফুলের টোকাটাও না লাগে।
আর আমাদের?
আল্লাহর রাস্তায় হাওলা করে দেয়।
ফলাফল? এই যে, প্রতি ঈদে ৩০০ জন করে মানুষ নাই হয়ে যায়।
৩০০ টা পরিবার পথে বসে।
এই ৫৪ বছরে ক্ষমতাবানদের কয়জন মরেছে রাস্তায়?
আর সাধারণ মানুষ কয়জন মরেছে?
তাহলে?
যদি ভাগ্যই হবে, তাহলে ভাগ্য খালি ওদের ভালো? আর আমাদেরই খারাপ?
নাকি খোদা এত নিষ্ঠুর যে খালি খুজে খুজে সাধারণ মানুষকেই এক্সিডেন্ট এ ফালায়।
অসাধারণ রাজনৈতিক নেতাদের ফালায় না?
না, এইগুলা খোদার তরফ থেকে আসা গজব না। গজব হইলে ভূমিকম্প, বা সাইক্লোনের মতই হইত।
ধনী গরীব সবাইকে ভাসাইয়া নিয়া যাইত।
এইটা পরিষ্কার খুন।
এইটা হত্যা।
৫০ জন মানুষ পানির নিচে ডুইবা গেছে, ২ ঘন্টা পরেও উদ্ধার অভিযান শুরু করতে পারেনি।
এইটা খুন না?
পুরো ঈদ গেল, এতগুলো এক্সিডেন্ট হইলো, একটা সচিব, একটা মন্ত্রীকে জবাবদিহি করতে হইলো না।
এত সস্তা আমাদের জীবন?
মানে ২০০-৩০০ লোক সাতদিনে এক্সিডেন্ট করে মইরা যাবে, সেই মন্ত্রীকে, সচিবকে কিছুই বলা হবে না।
অথচ মাত্র একটা মন্ত্রীর ছেলে বা মেয়ে যদি মরত?
সমস্যা আমাদের কপালে না।
সমস্যা আমাদের পরিচয়ে।
আমাদের লাশের দাম আর ওদের লাশের দাম সেইম না বলেই, আমাদের লাশ শতক পেরিয়ে হাজারে গেলেও ওদের কিছুই যায় আসবে না।
হাউকাউ হবে।
লেখালেখি হবে।
এক লাখ বা পঞ্চাশ হাজার টাকার ভিক্ষা দেবে।
বাট ফেরির ম্যানেজমেন্টে আগের লোকগুলোই থাকবে।
অথর্ব, মাথামোটা, দলদাস কিছু প্রাণী।
আবারও কোন একদিন আরেকটা বাস পড়ে যাবে।
আবার পুরো প্রসেসটা রিপিট হবে।
অথচ একজন মন্ত্রী, সচিব তো দূরের কথা, ফেরি ঘাটের একজন অথর্বকেও সরানো হবে না।
কারণ আমরা জনতা। মরলে কী যায় আসে?
শুধু পরেরবার যখন মন্ত্রী, এমপি বা সচিব ফেরি ঘাটে আসবে, ১০ গুণ নিরাপত্তা বাড়াইয়া দেওয়া হবে।
জনতা মরে সাফ হয়ে যাক।
ক্ষমতার গায়ে যেন একটুও আঁচড় না লাগে।
এই ২০০-৩০০ মইরা গেল রাস্তায়।
একজন ক্ষমতাবান মানুষকে এর দায় নিতে হইসে?