14/03/2026
রিভিউ ফল বাতিলের ঘটনায় হাইকোর্টের রুল — শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা
২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর জারি করা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১২ শতাধিক শিক্ষানবিশ আইনজীবীর রিভিউ ফলাফল বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ।
একই সঙ্গে, সংশ্লিষ্ট শিক্ষানবিশদের বিষয়ে কেন ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে না—তাও জানতে চাওয়া হয়েছে রুলে। এ বিষয়ে জবাব দিতে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলসহ সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) হাইকোর্ট বিভাগের মাননীয় বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও মাননীয় বিচারপতি মো. জিয়াউল হক–এর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই রুল জারির আদেশ দেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, আদালতের এই আদেশ ১২ শতাধিক শিক্ষানবিশ আইনজীবীর জন্য একটি ইতিবাচক সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করতে পারে।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন সাবেক বিচারক ও সিনিয়র আইনজীবী ফয়সল মাহমুদ ফয়েজী, সিনিয়র অ্যাডভোকেট সৈয়দ মামুন মাহবুব, ব্যারিস্টার নাসির উদ্দীন অসীম, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার এম. আশরাফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট গাজী তৌহিদুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহফুজুর রহমান মিলন এবং অ্যাডভোকেট আহসান হাবিব। এ সময় সুপ্রিম কোর্টের প্রায় ৫ শতাধিক আইনজীবী শিক্ষানবিশদের পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
ব্যারিস্টার এম. আশরাফুল ইসলাম জানান, ২৫ অক্টোবর ২০২৫ প্রকাশিত লিখিত পরীক্ষার ফলাফলে মোট ৭ হাজার ৯১৭ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। তবে ফল প্রকাশের পর অনেক পরীক্ষার্থী দাবি করেন, তারা ভালো পরীক্ষা দেওয়ার পরও প্রকাশিত ফলাফলে তাদের রোল নম্বর আসেনি। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ অক্টোবর বার কাউন্সিল খাতা রিভিউয়ের জন্য আবেদন আহ্বান করে।
নির্ধারিত বিধি ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ নভেম্বর বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ও এনরোলমেন্ট কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে রিভিউ ফলাফল প্রকাশ করে। এতে ১ হাজার ৯১৪ জন শিক্ষানবিশ আইনজীবী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ঘোষিত হন এবং তারা পরবর্তী ধাপ ভাইভা পরীক্ষায় অংশগ্রহণের আইনসম্মত অধিকার অর্জন করেন।
কিন্তু রিভিউ ফল প্রকাশের কয়েকদিন পর অল্প কিছু আপত্তির ভিত্তিতে ২৩ নভেম্বর নতুন একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুরো রিভিউ ফল বাতিল করে আবার খাতা মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেয় বার কাউন্সিল। পুনর্মূল্যায়নের পর চলতি বছরের ৫ মার্চ নতুন রিভিউ ফলাফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে ১ হাজার ৫৫০ জনকে উত্তীর্ণ দেখানো হয়। ফলে আগের তালিকায় থাকা ১ হাজার ২৯৪ জন শিক্ষানবিশ আইনজীবী বাদ পড়ে যান।
এছাড়া নতুন ফলাফলে বার কাউন্সিলের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ৪৬ বা তার কম নম্বর পাওয়া প্রায় ৯ শতাধিক পরীক্ষার্থীকে পাস দেখানো হয়েছে—যা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
এই পরিস্থিতিতে শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা বার কাউন্সিলের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি জানান। কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত ১ হাজার ২৯৪ জনের পক্ষে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন এবং পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২০ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল প্রথমবারের মতো হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষায় রিভিউ পদ্ধতি চালু করে। ওই প্রক্রিয়ায় লিখিত পরীক্ষায় ৫৭৪ জন আইনজীবী উত্তীর্ণ হন, যাদের অধিকাংশ বর্তমানে উচ্চ আদালতে নিয়মিত প্র্যাকটিস করছেন। সেই সফল অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় পরে আইনজীবী নিবন্ধন পরীক্ষাতেও রিভিউ ব্যবস্থা চালু করা হয়।