26/07/2026
ফটিকছড়ি'তে চলছে হরতাল--
নবগঠিত ৫০১তম প্রশাসনিক উপজেলা ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ এর সদর দপ্তরের স্থায়ী কার্যালয় স্থাপন নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। ভৌগোলিক দিক থেকে যৌক্তিক ও মধ্যবর্তী স্থানে সদর দপ্তর স্থানান্তরের দাবিতে উপজেলার উত্তরাংশের ৩টি ইউনিয়নে শুরু হয়েছে টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ও সড়ক অবরোধ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহণসংশ্লিষ্টরা।
রোববার (২৬ জুলাই) সকাল থেকে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে হরতালের সমর্থনে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, সকাল থেকে নারায়ণহাট, দাঁতমারা, শান্তিরহাট, হেয়াঁকো, চিকনছড়া ও বাগানবাজার এলাকার অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফার্মেসি ও ক্লিনিক খোলা রয়েছে।
হরতালের প্রভাবে ফেনী-খাগড়াছড়ি-ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং পেলাগাজি দিঘী-হেয়াঁকো সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে বাস, ট্রাক, সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন সড়কে আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।
আন্দোলনকারীদের দাবি, সরকার ঘোষিত বর্তমান স্থান পশ্চিম ভূজপুর মৌজাটি উপজেলার একবারে দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। এর ফলে সুদূর সীমান্ত সংলগ্ন বাগানবাজার বা হেয়াঁকো থেকে সাধারণ মানুষকে প্রশাসনিক কাজের জন্য প্রায় ৩০-৪০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হবে, যা চরম ভোগান্তি তৈরি করবে।
তারা সর্ব উত্তরের এই তিন ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াত সুবিধার কথা বিবেচনা করে দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের মধ্যবর্তী কোনো যৌক্তিক স্থানে সদর দপ্তর স্থানান্তরের দাবি জানান।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শাহাদাত হোসাইন বলেন, জালিয়াতির মাধ্যমে কার্যালয় ভুজপুর মৌজায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উপজেলার নাম যখন ফটিকছড়ি উত্তর, তখন অফিসও উত্তরাঞ্চলে হতে হবে। জনগণের যৌক্তিক দাবি মেনে না নিলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।
আরেক আন্দোলনকারী জসিম উদ্দিন বলেন, আমাদের সঙ্গে বৈষম্য করা হয়েছে। মাত্র কয়েক কিলোমিটারের ব্যবধানে দুটি উপজেলা সদর রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। এতে নতুন উপজেলা গঠনের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে দপ্তর স্থানান্তর করতে হবে।
হরতালকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে পুলিশের একাধিক টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, পরিস্থিতি আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে রয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।