08/05/2025
মিয়ানমারকে করিডোর দিলে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অসুবিধা
সম্প্রতি মিয়ানমারকে করিডোর (ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ) দেওয়ার প্রসঙ্গ আলোচনায় এসেছে। অনেকেই এটাকে সহজ বিষয় ভাবলেও, এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে বেশ কিছু গভীর অসুবিধা। করিডোর দেওয়া মানে শুধু রাস্তা করে দেওয়া নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, কূটনীতি এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য।
১. সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা হুমকি:
করিডোর দিলে বিদেশি যানবাহন নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করবে। এতে দেশের ভূখণ্ডে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—মাদক পাচার, অস্ত্র পরিবহন কিংবা সন্ত্রাসীদের গোপন চলাচলের সম্ভাবনা বাড়ে।
২. রোহিঙ্গা ইস্যুতে চাপ কমে যেতে পারে:
বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমারের ওপর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করে আসছে। করিডোর দিলে সেই চাপ অনেকটাই কমে যেতে পারে, কারণ মিয়ানমার তখন বাংলাদেশের কাছ থেকে একটি বড় সুবিধা পেয়ে যাবে।
৩. অসামঞ্জস্যপূর্ণ বাণিজ্যিক সুবিধা:
যদি করিডোর ব্যবহারের চুক্তি ঠিকমতো না হয়, তাহলে মিয়ানমার হয়তো বেশি লাভবান হবে, আর বাংলাদেশ বাস্তবে তেমন কিছুই পাবে না—শুধু ঝুঁকি আর চাপ।
৪. চীনের প্রভাব বৃদ্ধির আশঙ্কা:
চীন মিয়ানমার হয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করতে চায়। করিডোর দিলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে চীনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বাড়ার সম্ভাবনা থাকে, যা ভবিষ্যতে কৌশলগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
৫. স্থানীয় জনগণের ভোগান্তি:
করিডোর বাস্তবায়নের জন্য রাস্তা বা রেলপথ নির্মাণ করতে গিয়ে অনেক সময় জমি অধিগ্রহণ করা হয়, যার ফলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিবেশের উপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সবকিছু মিলিয়ে বলা যায়, করিডোর দেওয়ার সিদ্ধান্ত খুবই স্পর্শকাতর। দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে, যথাযথ বিশ্লেষণ ও কূটনৈতিক প্রস্তুতি ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়।