25/08/2026
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঢাকা পেপার্স-এ প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট মনোলগে রুহামা পাবলিকেশন-এর বিরুদ্ধে প্রকাশিত অসত্য, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর বক্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
গত ১০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঢাকা পেপার্স-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন এবং একই বিষয়ে সোয়েব মাহমুদ নামে এক ব্যক্তির বক্তব্য/মনোলগ ভিডিও আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। উক্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট কনটেন্টে আমাদের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান “রুহামা পাবলিকেশন”-কে উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ ও নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে প্রতীয়মান করার হীন চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযোগের সঙ্গে আমাদের প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমরা এসব মনগড়া অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।
প্রতিবেদনে রুহামা পাবলিকেশন একসময় একটি সংগঠনের কথিত “দাওয়াহ শাখার অংশ” ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কোনো প্রকাশনা থেকে কোনো লেখকের বই প্রকাশ বা বিক্রি হওয়ার কারণে সেই প্রকাশনাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট লেখকের মতাদর্শ, সংগঠন বা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হিসেবে চিত্রিত করা যুক্তি, ন্যায়বোধ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার নীতির সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একইভাবে, কোনো বইয়ের লেখক বা তাঁর মতাদর্শের পরিচয়কে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এমনভাবে উপস্থাপন করা, যাতে পাঠকের মনে সন্ত্রাসবাদ বা অপরাধমূলক সম্পৃক্ততার ধারণা সৃষ্টি হয়, তা অত্যন্ত আপত্তিকর, বিভ্রান্তিকর এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আরও দুঃখজনক বিষয় হলো, আমাদের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের আগে আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি এবং আমাদের বক্তব্য জানারও কোনো চেষ্টা করা হয়নি। অথচ দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অন্যতম মৌলিক নীতি হলো, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের পূর্বে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা এবং অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রমাণ যাচাই করা। এই ন্যূনতম পেশাগত দায়িত্ব পালন না করে একপেশে একটি মনগড়া প্রতিবেদন উপস্থাপন করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপেশাদারিত্বের পরিচায়ক।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে ধর্মীয় পরিচয় ও মতাদর্শের ভিত্তিতে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে “জঙ্গি” বা “উগ্রবাদী” হিসেবে চিহ্নিত করার বিতর্কিত প্রবণতা আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। সেই প্রেক্ষাপটে রুহামা পাবলিকেশন সম্পর্কে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ধর্মীয় প্রকাশনা কার্যক্রমের সঙ্গে উগ্রবাদ বা সন্ত্রাসবাদের সম্পর্ক স্থাপনের যে অপচেষ্টা করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার এবং আমাদের প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন করার জন্য করা হয়েছে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
শুধু তাই নয়, ঐতিহ্যবাহী একটি ইসলামী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আমরা একটি শক্তিশালী ধর্মীয় ও সামাজিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে ধর্মীয় জ্ঞানচর্চা এবং বিতরণের কাজে নিয়োজিত রয়েছি। দেশ-বিদেশের লক্ষ লক্ষ বাংলাভাষী পাঠক জ্ঞানচর্চার এই যাত্রায় আমাদের সঙ্গে আছেন। এছাড়া দেশের হাজার হাজার আলেম-ওলামা, মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকগণ নিয়মিত আমাদের বইগুলো সংগ্রহ, সংরক্ষণের পাশাপাশি নিয়মিত পড়ছেন এবং রিভিউ লিখছেন। এ যাবৎ আমাদের কোনো বইয়ের বিষয়ে তাঁদের এমন কোনো রিভিউ/আলোচনা কখনো আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়নি; যা দেশ, জাতি বা ধর্মীয় শিক্ষার পরিপন্থী হতে পারে।
এজন্য আমরা মনে করি, একটি ধর্মীয় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে এভাবে নিজস্ব মনগড়া, সীমাবদ্ধ ও একপেশে চিন্তা থেকে বিতর্কিত করার হীন চেষ্টা দ্বারা আমাদের প্রতিষ্ঠানের ক্ষতির পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ পাঠকের আস্থা-বিশ্বাস ও ধর্মীয় জ্ঞানচর্চার একটি বিশুদ্ধ মাধ্যমকে বিতর্কিত, অবজ্ঞা ও খাটো করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। ধর্মীয় জ্ঞান বিতরণের অন্যতম আঁতুড়ঘর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা শুধু তারাই করতে পারে, যারা ধর্মীয় জ্ঞানের প্রচার-প্রসারে বাধা সৃষ্টি করে শাশ্বত সত্যের বাণী এবং নৈতিক জ্ঞানচর্চার পথকে রুদ্ধ করে সমাজে বিভ্রান্তি ও অপশিক্ষার সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিতে চায়।
বাংলাদেশে ইসলামী জ্ঞান, ধর্মীয় শিক্ষা, কুরআন-হাদিস, সীরাত, আকিদা, ফিকহ ও ইসলামী সাহিত্য প্রকাশ ও প্রচার একটি স্বাভাবিক ও বৈধ প্রকাশনা কার্যক্রম। রুহামা পাবলিকেশনের কার্যক্রমও ইসলামী সাহিত্য ও বিশুদ্ধ জ্ঞানভিত্তিক গ্রন্থ প্রকাশ এবং পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। এই বৈধ কার্যক্রমকে সুনির্দিষ্ট ভিত্তি ছাড়া উগ্রবাদ, সন্ত্রাসবাদ বা নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে একাকার করে উপস্থাপন করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।
ইসলামী চিন্তা বা ধর্মীয় সাহিত্যকে সমালোচনা করা এক বিষয়; আর সেটিকে সন্ত্রাসবাদ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে একীভূত করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার স্বার্থেই এই মৌলিক পার্থক্যটি বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
এ ধরনের প্রতিবেদন ইতোমধ্যে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত সুনাম, সামাজিক মর্যাদা, পেশাগত পরিচয় এবং রুহামা পাবলিকেশনের বৈধ ব্যবসায়িক স্বার্থের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অতএব, আমাদের প্রতিষ্ঠান রুহামা পাবলিকেশনের বিরুদ্ধে প্রচারিত এসব অসত্য, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং উক্ত প্রতিবেদন/কনটেন্ট দ্রুত প্রত্যাহার করে ঢাকা পেপার্স দুঃখপ্রকাশ করবে বলে আশা করছি।
অন্যথায়, আমাদের সুনাম, পেশাগত মর্যাদা এবং রুহামা পাবলিকেশনের বৈধ স্বার্থ সুরক্ষার জন্য প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা বাধ্য হবো। এই প্রতিবাদপত্রের মাধ্যমে আমাদের বিদ্যমান বা ভবিষ্যৎ কোনো আইনগত অধিকার, দাবি বা প্রতিকার কোনোভাবেই পরিত্যাগ করা হচ্ছে না।
বার্তা প্রেরক,
রফিকুল ইসলাম
প্রকাশক
রুহামা পাবলিকেশন