23/07/2026
গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের পথে আর্জেন্টিনাকে ‘আজীবন বহিষ্কারের’ গণস্বাক্ষর।
২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে হেরে গিয়ে আর্জেন্টিনা যখন দাবি করছে তারা অবিচারের শিকার, ঠিক তখনই এক অবিশ্বাস্য মোড় দেখা গেল ফুটবল বিশ্বে। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ফিফাকে বার্তা দিয়ে ‘ট্যাঙ্গো নাচিয়েদের’ বিশ্বকাপ থেকে চিরতরে বের করে দেওয়ার জোরালো দাবি উঠেছে।
ইউরো নিউজের তথ্য অনুযায়ী, ‘লিভ আর্জেন্টিনা’ (আর্জেন্টিনা, চলে যাও) শিরোনামের একটি গণস্বাক্ষর অভিযানে স্বাক্ষর করেছেন ২ কোটি ৩৩ লাখ ১৬ হাজার ১০৮ জন মানুষ।
পিটিশনে ফিফা ও রেফারিদের বিরুদ্ধে ল্যাটিন দলটি এবং অধিনায়ক লিওনেল মেসিকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রশ্ন রাখা হয়, ‘ফলাফল যদি আগেই নির্ধারিত হয়ে থাকে, তবে বাকি বিশ্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মানে কী? আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দিন এবং সবাইকে সমান সুযোগ দিন।’
প্রাথমিকভাবে পিটিশনটির লক্ষ্য ছিল ৫০ লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করা। তবে তা ছাপিয়ে রেকর্ড পরিমাণের কাছাকাছি পৌঁছে যায় এই প্রচার। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের তথ্যমতে, ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পিটিশনের রেকর্ডটি ১৯৯৭ সালের ‘জুবেলাই ২০০০’-এর (২৪ মিলিয়নের বেশি স্বাক্ষর)। মহাদেশীয় ও বৈশ্বিক ফুটবল ভক্তদের এমন ক্ষোভের মুখে সেই বিশ্বরেকর্ডের কাছাকাছি চলে গিয়েছিল এই পিটিশন।
পিটিশনের মূল উদ্যোক্তারা শেষ বার্তায় লেখেন, ‘ফিফা আমাদের কথায় কান দেয়নি, তবে স্পেন তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে। ধন্যবাদ স্পেন।’
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ১০৬ মিনিটে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয় স্পেন। তবে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনার একের পর এক বিতর্কিত পারফরম্যান্স ও রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ তুঙ্গে ওঠে।
ফাইনালে বিতর্ক—স্লোভেনীয় রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ পরিচালিত ফাইনালে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও নিকোলাস তাগলিয়াফিকো কার্ড পাওয়া থেকে বেঁচে যান, অন্যদিকে স্পেনের নিকো উইলিয়ামস ও ফেরান তোরেসের দুটি গোল বাতিল করা হয়।
গ্রুপ পর্বের সহিংস ফাউল—আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে আইসা মান্দির ওপর লিওনেল মেসির বিপজ্জনক ফাউলে অনেক বিশেষজ্ঞই লাল কার্ডের দাবি তুলেছিলেন।
মিশর কোচের তোপ—রাউন্ড অব ১৬-এ মিশরের বিরুদ্ধে ৩-২ ব্যবধানে জয়ের পর তৎকালীন মিশরীয় কোচ হোসাম হাসান অভিযোগ করেন, মাঠ ও মাঠের বাইরের বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্বার্থের কারণেই মেসিদের টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখা হয়েছে।
ফাইনালে এই হারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়টা ট্র্যাজেডিতে রূপ নিলো লিওনেল মেসির। জাতীয় দলকে বিদায় জানানোর দিনে গোল্ডেন বুট ও বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড—দুটিই মিস করেন ইন্টার মায়ামির এই মহাতারকা (২২ গোল করে দুটি অর্জনই নিজের করে নেন কিলিয়ান এমবাপ্পে)।
ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে ১৯৬৬ সালের পর নিজেদের সেরা সাফল্য হিসেবে ব্রোঞ্জ পদক (তৃতীয় স্থান) নিশ্চিত করেছে ইংল্যান্ড।