19/08/2026
একজন নারী বাসচালক ফ্লাইওভারে উঠতে গিয়ে সমস্যায় পড়লেন। সাহায্য নিলেন একজন পুরুষ চালকের।
ব্যস! ঘটনা এতটুকুই।
কিন্তু গল্পটা এখানেই শেষ নয়।কারণ ঘটনাস্থলে থাকা এক রিপোর্টার পুরো বিষয়টি ক্যামেরাবন্দি করেছেন।
এমনকি ওই নারী চালক স্পষ্ট করে বলেছেন,
“ক্লিপটা নিয়েন না। পুরুষ ড্রাইভার যে বসছে, এটা নিয়েন না।”
তারপরও ক্লিপ নেওয়া হয়েছে। শুধু নেওয়াই হয়নি, তিনি যে ক্লিপটি প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেছিলেন, সেই কথোপকথনটাও প্রকাশ করে দেওয়া হয়েছে!
অসাধারণ! একজন নারী নতুন একটি পেশায় কাজ শুরু করেছেন। স্বাভাবিকভাবেই প্রথম দিকে কোনো পরিস্থিতিতে সহায়তা লাগতেই পারে। একজন দক্ষ পুরুষ চালক সাহায্য করেছেন এটা তো সহযোগিতার গল্প হতে পারত।
কিন্তু সেটাকে বানিয়ে দেওয়া হলো, “দেখুন, নারী বাসচালক বিপদে!”
এখানেই প্রশ্নটা সাংবাদিকতার। কেউ যদি স্পষ্টভাবে বলে, “এই অংশটা রেকর্ড করবেন না” তাহলে সেই অনুরোধেরও কি কোনো মূল্য নেই?সবকিছু ক্যামেরায় তুলে ফেলাই সাংবাদিকতা নয়।সবকিছু প্রকাশ করে দেওয়াও সাংবাদিকতার সাফল্য নয়।
কখন কোন দৃশ্য সংবাদ, আর কোন দৃশ্য একজন মানুষের বিব্রতকর মুহূর্ত, এই পার্থক্যটা বোঝাই তো পেশাদারিত্ব।
আজ ওই নারী চালক যদি ভুল করেন, সমালোচনা হতেই পারে।বাস চালাতে গিয়ে সমস্যায় পড়লে প্রশ্ন উঠতেই পারে।কিন্তু একজন মানুষকে তার দুর্বল মুহূর্তে সাহায্য নেওয়ার কারণে জনসমক্ষে হেয় করার মতো কনটেন্ট বানানো এটা কেমন সাংবাদিকতা?
আর সবচেয়ে দুঃখের বিষয়, নারী চালকদের নিয়ে আগে থেকেই যাদের নানা রকম সন্দেহ-বিদ্রূপ আছে, এমন ভিডিও তাদের হাতে আরও মশলা তুলে দেয়।
একজন নারীকে দক্ষ হতে সময় দিন। ভুল শেখার সুযোগ দিন।প্রয়োজনে সাহায্য নেওয়ার অধিকারটুকুও দিন।
কারণ প্রথম দিনেই কেউ নিখুঁত হয় না,পুরুষও না, নারীও না।🙂
#পিংকবাস #মহিলাবাস