Ishq E Janshorif

Ishq E Janshorif Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Ishq E Janshorif, Digital creator, Satgaon, Shirajdikhan, Dhaka.

"সুরেশ্বরীয়া তরিকার প্রচার ও প্রসার, সুরেশ্বরী গানের মাধ্যমে আধ্যাত্মিক শিক্ষা ও শান্তির প্রচারণা। তরিকার বিশুদ্ধ পথ অনুসরণ এবং মানবতার কল্যাণে অবদান রাখার লক্ষ্য নিয়ে আমরা একত্রিত।"

বাতেনবিমুখ জাহেরী বিদ্যার অন্তরধারী মানুষ জীবিত থেকেও মৃতকালামেপাকে বলা হয়েছে-وَمَا يَسْتَوِي الْأَعْمَى وَالْبَصِيرُ (۱...
08/08/2026

বাতেনবিমুখ জাহেরী বিদ্যার অন্তরধারী মানুষ জীবিত থেকেও মৃত

কালামেপাকে বলা হয়েছে-

وَمَا يَسْتَوِي الْأَعْمَى وَالْبَصِيرُ (۱۹) وَلَا الظُّلُمَاتُ وَلَا النُّورُ (۲۰) وَلَا الظَّلُ وَلَا الْحَرُورُ (۲۱) وَمَا يَسْتَوِي الْأَحْيَاءُ وَلَا الْأَمْوَاتُ إِنَّ اللَّهَ يُسْمِعُ مَن يَشَاءُ وَمَا أَنتَ بِمُسْمِعُ مَّن فِي الْقُبُورِ (۲۲)

একজন চক্ষুষ্মান ব্যক্তি ও একজন অন্ধ ব্যক্তি কখনো সমান হতে পারে না; না আঁধার ও আলো (সমান হতে পারে); ছায়া ও রোদও (তো সমান) নয়; (একইভাবে) একজন জীবিত (অন্তরধারী) মানুষ ও একজন মৃত (অন্তরধারী) মানুষও সমান নয়; আল্লাহতায়ালা যাকে ইচ্ছা তাকে (জীবিত অন্তরধারীকেই হেদায়েতের বাণী) শোনান, (হে হাবীব) আপনি কখনোই এমন (মৃতপ্রাণ) মানুষদেরকে কিছুই শোনাতে পারবেন না, যারা (দুনিয়ার হায়াতে থেকেও মৃত অন্তরে) কবরের অধিবাসী। ফাতির: ১৯-২২ আয়াত

মুমিনগণ দুনিয়ায় বাস করে দেহগতভাবে এবং মনোগতভাবে বাস করে আখেরাতের ভাবনায় ও মহব্বতে বিভোর থেকে। যেরূপ লাইলী-মজনুর কাহিনীতে মজনু বাস করে লাইলীতে এবং লাইলী বাস করে মজনুতে মনোগতভাবে, কিন্তু তারা দেহগতভাবে বাস করতো এই দুনিয়াতেই। অনন্ত জিন্দীগির পথের পথিকদের চিন্তা-চেতনা ও আরাধনা এমনই অবস্থার হয়ে থাকে।

আবার মুমিনগণ বাহ্যদৃষ্টি দ্বারা দুনিয়ার বস্তুসামগ্রীর জাহেরীরূপ দেখলেও ঈমান ও, ইয়াক্বীনের সমন্বিত অন্তর্দৃষ্টি দ্বারা দুনিয়াসহ আখেরাতের বাতেনীরূপ দেখে থাকেন। আর এরূপ দৃষ্টি-ধারীদের জন্য জাহেরী বিদ্যা বা আমলের দলিল মুখ্য কোনো বিষয় নয়। বাহ্যদৃষ্টি যার ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার জন্য চিকিৎসা বিধান হলো কত কি ঔষধ প্রয়োগসহ চশমা ব্যবহার কিংবা কখনো অপারেশন করা। কিন্তু অন্তর্দৃষ্টি যার ক্ষতিগ্রস্ত হয় তার একমাত্র চিকিৎসা হলো আল্লাহর স্মরণ, হালাল ভক্ষণ ও দ্বীনি ইলম- যার ডাক্তার হলেন ওলীয়ে কামেল পীর-মুর্শীদগণ। দুনিয়ার বড় বড় ওলী-আউলিয়াগণ জাহেরী শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন না, এমন কি নবী-রাসূলগণও কোনো মাদ্রাসা পাশ মুফতী-মাওলানা ছিলেন না। কিন্তু বাতেনী বিদ্যায় তাঁরা জ্ঞানের মহাসাগর। যাদের মর্মে কালামেপাকের এই কথা প্রযোজ্য যে,

وَلَمَّا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَاتَيْنَهُ حُكْمًا وَعِلْمًا ۚ وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ

- অতঃপর সে যখন পূর্ণ যৌবনে উপনীত হলো, তখন আমি তাকে নানারকম জ্ঞান-বিজ্ঞান (হিকমাত) ও সাধারণ জ্ঞান (ইলম) দান করলাম; আর আমি এভাবেই নেক্কার (মুমিন) লোকদেরকে পুরস্কার দিয়ে থাকি।-ইউসুফ: ২২ আয়াত

কাজেই এরূপ মুমিন বান্দাদেরকে আল্লাহর প্রতিনিধি (খলিফা বা পথ প্রদর্শক) জ্ঞানে যথাযথ ভক্তি-তাজিম-সম্মান করতে হয়। কারণ, হাদীস মতে, মুমিন কখনো অপবিত্র হয়না।' এর মানে তারা মহাপবিত্রতম সত্ত্বার ওলী বা বন্ধু বিধায় তারাও পবিত্র হয়ে থাকেন। কারণ, পবিত্র হওয়া ছাড়া পবিত্রতম সত্ত্বার সাথে মিলন বা বন্ধুত্ব গড়া সম্ভব নয়। তাই আল্লাহর ওলী-আউলিয়াদেরকে মূল্যায়ন করতে হবে তাঁদের অন্তর্লব্ধ হিকমাতময় জ্ঞানের ও পবিত্রতার মানদণ্ডে। জাহেরী বিদ্যার বাহাদুরী ও সার্টিফিকেট দ্বারা ওলী নির্ণয় করা যায় না। যে কারণে মাদ্রাসা পাশ করে ওলী হওয়া বা নবী হওয়া শর্তযুক্ত নয়।

হে ভক্তগণ। এরূপ মনোভাবাপন্ন পথের পথিক হওয়া তোমদেরও অবশ্যই কর্তব্য। কারণ, তুমি তরিকতের পথের পথিক; এর মানে তুমি দুনিয়ায় থেকেও দুনিয়ার মায়া মহব্বত থেকে তুমি মুক্ত, ধরি মাছ না ছুঁই পানির মতো। কারণ, তরিকতের ভাষায় তুমি মরার আগেই মৃত। মৃতের আবার দুনিয়ার চিন্তা-ভাবনা কিসের?

তরিকতের অগ্রপথিকরা শয়নকালে মৃত্যুকে বালিশের নীচে রেখে ঘুমাতে যেতেন এবং জাগ্রত হয়েই আবার মৃত্যুকে চোখের সামনে রেখে চলনে-বলনে শামিল হতেন। যেন তারা মৃত্যুকেই বড় বেশী মহব্বত করতেন যে, কত তাড়াতাড়ি তোমার ডাকে সারা দিয়ে আমি আমার অনন্ত সাথী মাশুকে ইলাহীর সান্নিধ্যে চলে যেতে পারি।

এরূপ চিন্তা-চেতনা পথের পথিক তুমি তখনই হতে পারবে যখন তোমার নফসে আম্মারাকে তুমি কতল করতে পারবে বা তার একান্ত সহযোগী ইবলিসকে মুসলমান বানাতে পারবে নফসের কামনা-বাসনাসমূহকে জ্যন্ত কবর দিয়ে। যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি তোমার দুনিয়ার মায়া ছাড়তে না পারবে, দুনিয়াবী চিন্তা-চেতনার কামনা-বাসনাসমূহকে কবর দিতে না পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি আখেরাতের পথে এক পাও অগ্রসর হতে পারবে না।

আর দুনিয়াবিমুখ হওয়ার একমাত্র মূলমন্ত্র হলো আল্লাহওমুখী হওয়া এবং স্বীয় মুর্শীদমুখী হওয়া। যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি তা না হতে পারলে ততক্ষণ পর্যন্ত তোমার দাবীকৃত আল্লাহর স্মরণ এবং মুর্শীদের স্মরণ করা সবই কথার কথা মাত্র। সত্যিকারভাবে মুরিদ আল্লাহ ও স্বীয় মুর্শীদের স্মরণকারী তখনই হতে পারবে যখন তুমি দুনিয়াবী কামনা-বাসনাসমূহকে স্বীয় মুর্শীদের কৃপার উপর ছেড়ে দিতে পারবে। যখন জানবে যে আমার মুর্শীদের ইচ্ছাই আমার ইচ্ছা; আমার মুর্শীদ আমাকে যে হালতে রাখেন তাতেই আমি রাজি-খুশী ও সুখী। এটাই প্রকৃত মুরিদ হওয়ার লক্ষণ, পীরের হাতে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সমর্পণ করার প্রমাণ, যেন তুমি তোমার পীরের ইচ্ছেকর্মের হাতে সমর্পিত এক জিন্দা লাশ। যখন তুমি এ অবস্থায় উপনীত হতে পারবে তখনই তোমার মুর্শীদের ফায়েজ ও নেকদৃষ্টি লাভের তুমি অধিকারী হতে পারবে এবং পারবে আল্লাহর রহমত লাভের উপযোগী হতে।

হযরত মুজাদ্দেদ আলফেসানী পীরকে প্রথম খোদা বলে অভিহিত করেছেন।

এটা আসলে শরিয়তী পর্দাবৃত কথা, এর মূল হাকীকত হলো মুর্শীদই চুড়ান্ত খোদা। তা না হলো প্রথম খোদা, দ্বিতীয় খোদা, তৃতীয় খোদার একটি শেরেকী স্থর ভাবনা এসে যায়। বিষয়টি হচ্ছে মুর্শীদে খোদার পথ ধরেই মুশীদে রাসূল ও মুশীদে মাবুদকে পেতে হয়। তাই মূল মারেফতে প্রত্যেক মুরিদের আপন আপন মুর্শীদই হলেন তার জন্য খোদা। আল্লাহ জাহেরী সত্ত্বায় তাঁর নবী-রাসূল ও নায়েবে রাসূলদের মাঝেই বিরাজিত। (সূরা রূম ৩০ আয়াত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করলেই এর জবাব পাওয়া যাবে।)

অর্থাৎ, 'সুতরাং (হে নবী আপনি!) আপন মুখমন্ডল সোজা রাখুন আল্লাহর ইবাদতের জন্য; একমাত্র তাঁরই হয়ে (তাঁরই স্বভাবধর্মে অটল-অবিচল থেকে)। আল্লাহর স্থাপিত বুনিয়াদ (ফিতরাত বা স্বভাবধর্ম), যার উপর মানুষকে (তিনি) সৃষ্টি করেছেন; আল্লাহর বানানো বস্তুকে (তথা তাঁর স্বভাবধর্মকে) বিকৃত করো না; এটাই (সহজ-সরল-সত্য-সঠিক) সোজা ধর্ম; কিন্তু বহুলোকই (আল্লাহর স্বভাবধর্মের এ বিষয়টি) জানে না।' এর মানে যা আল্লাহর স্বভাবধর্ম তাই মানব ধর্ম এবং আল্লাহর স্বভাব দ্বারাই মানব স্বভাব প্রতিষ্ঠিত বিধায় মানুষ আল্লাহময় হয়ে যায়; এরূপ আল্লাহওয়ালারাই তাঁর ওলীতে পরিণত হয়ে যায়। জাতে জাতে মিল ছাড়া, সম পর্যায়, সম মানের মিল ছাড়া প্রকৃত বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে পারে না বিধায় আল্লাহর সাথে বন্ধুত্ব হওয়া মানে উভয়ই একই সত্ত্বার স্বরূপে বিদ্যমান হয়ে যায়। যে কারণে ওলীদের হাত, পা, কর্ণ, চক্ষু, মুখ ইত্যাদি সবকিছুই আল্লাহর হয়ে যায়- যা হাদীস দ্বারাই প্রমাণিত।

আল্লাহ বলেছেন- নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর নিজ বান্দাগণের মধ্যে হতে যাকে চান তাকেই কেবলমাত্র স্বীয় রহমতের মধ্যে শামিল করে নেন। অর্থাৎ যে বান্দার স্বভাব আল্লাহর স্বভাবময়, যার প্রতি আল্লাহর ওলীগণ সন্তুষ্ট সে বান্দার প্রতিই মূলতঃ আল্লাহপাকও সন্তুষ্ট এবং তাকেই তিনি স্বীয় রহমতের ছায়ায় ঠাঁই দেন। হাদীসে বলা হয়েছে- আউলিয়ায়ি তাহতা কাবায়ি লাইয়ারিফুহুম গাইর- আমার
বন্ধুগণ আমার কাবার আবরণে আবৃত, আমি ব্যতীত অপর কেউ তাঁদেরকে চিনতে পারে না।' কারণ, অন্য হাদীসে বলা হয়েছে- পাঁচটি বস্তুকে পাঁচটি বস্তু দ্বারা ঢেকে রাখা হয়েছে; যার একটি হলো- আল্লাহ তাঁর ওলীদেরকে সাধারণ লোকালয়ে ঢেকে রাখেন, যাদেরক সাধারণেরা চিনতেই পারে না। পক্ষান্তরে রহমত বঞ্চিতরা থাকে তাঁর হেদায়েত থেকে বঞ্চিত, যদিও থাকে তারা দুনিয়াদারদের কাছে ধন্য ধন্য। এমনটাই দুনিয়াতে থেকেও বেহেশত-দোযখে বাস করার নামান্তর।

আমাদের এই দেহেতেই বেহেশত-দোযখ ভাবনা-অনুভূতি বিদ্যমান রয়েছে।

নিজেকে তুমি যখন আল্লাহতে এবং নিজ পীরে ফানা বা সমর্পণ করে দেবে তখন দেখতে শত দুঃখ-কষ্টে থাকলেও তোমার মাঝে বিরাজমান আনন্দ অনুভূতি কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। যেমন তোমার প্রেমাস্পদ তোমার কাছে থাকলে জগতের কোনো দুঃখই দুঃখ বলে মনে হয় না। তেমনি হলো অন্তরে বেহেশত ভাবনা-চিন্তা অনুভূতির বিষয়টি। ঠিক তার বিপরীত হলো অন্তরের দোযখ অনুভূতি। তুমি যত বিত্ত বৈভবেই থাকো কেন, তোমার মাশুকে ইলাহী যদি তোমার মনোজগতে বা অন্তরজগতে না থাকে তখন তোমার অন্তরে শান্তি থাকবে না; তখন তোমাকে করুণ সুরে গাইতে ইচ্ছে করবে- চন্দন পালংকে শুয়ে একা একা কি হবে, জীবনে তোমায় যদি পেলাম না।' এই পেলাম না বলতে দুনিয়াদাররা মনে করে জীবনসঙ্গী পাওয়া, আর তরিকতের পথের পথিকরা মনে করে আল্লাহকে এবং মুর্শীদকে পাওয়ার বেদনা-বিধুর প্রেমগাঁথা কথামালা। কবিও তাই এভাবে বলেছেন-

কোথায় স্বর্গ কোথায় নরক, কে বলে তা বহুদূর মানুষের মাঝেই স্বর্গ-নরক, মানুষেতেই সুরাসুর ॥

তাই মানুষের মাঝে বিরাজমান এই স্বর্গ-নরক অনুভূতির শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হলে তোমাকে কামেল মুর্শীদের হাতে বায়াত হয়ে সেই মর্মে দীক্ষায় দীক্ষিত হওয়া চাই। কারণ, আল্লাহর রহমতে শামিল হতে হলে রহমতপ্রাপ্তদের দলভুক্ত হওয়া চাই। যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর রহমতপ্রাপ্তদের দলভুক্ত না হওয়া যাবে ততক্ষণ পর্যন্ত বান্দার কোনো ইবাদত-বন্দেগীই কবুল হওয়ার যোগ্য হবে না। কামেল পীরের পায়রবী করা ভিন্ন প্রকৃতপক্ষে ইবাদত-বন্দেগী করার তওফিকই নসীব হবে না।

হে ভক্তগণ। বুখারী শরীফে বর্ণিত দুই প্রকার বিদ্যার মর্মবাণী একটু গভীরভাবে চিন্তা করো। কত ভয়ংকর কথা যে, দ্বিতীয় প্রকার মারেফত বিদ্যা প্রকাশ করলে স্বয়ং নবী (সাঃ)-কেই তাঁর এতো মহব্বতের শিষ্য-সাহাবারা গলা কেটে ফেলবেন বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন। তাই মারেফত যথাতথা বলার বিষয় নয়; মারেফতের সম্পর্ক রয়েছে একান্তই আল্লাহর সাথে। যেমন- কেউ যদি প্রশ্ন করে তুমি কি আল্লাহকে দেখেছো? তখন তার উত্তরে হ্যাঁ বা না কিছুই বলার দরকার নেই। কারণ, এর উত্তর জানার বা বুঝার অধিকার রয়েছে একমাত্র আল্লাহওয়ালা ব্যক্তির।

দুনিয়াদার কাফের-মুশরিক-মুনাফিকদের কাছে আল্লাহকে দেখা না দেখার উত্তর দেয়া সমান কথা। যে কারণে, কালামেপাকে রূহ সম্পর্কে এক ইহুদীর প্রশ্নের উত্তরে নবী (সাঃ)-কে আল্লাহপাক বলতে বলেছেন, বলুন, রূহ আল্লাহপাকের আদেশ মাত্র।' তাই রূহের পরিচয় যেমন ইহুদীর কাছে দিয়ে লাভ নেই তেমনি আল্লাহর পরিচয়ও যার তার সামনে দিয়ে লাভ নেই। বড়জোর একান্ত কাছের আল্লাহওয়ালাদের কাছে আকারে-ইঙ্গিতে কিছুটা বলা যেতে পারে, যেমনটা নবী (সাঃ)ও করেছিলেন। হাদীস মতে যে ব্যক্তি 'লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলবে (অন্তরে ধারণ করবে) সে বেহেশতবাসী। 'মান ক্বালা লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ ফাদাখালাল্ জান্নাহ অর্থাৎ, যে ব্যক্তি লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে, সে বেহেশতবাসী হবে।'

অর্থাৎ যে ব্যক্তি জিন্দা দিলে এরূপ হাকীকী কালেমা উচ্চারণ করবে সে-ই বেহেশতবাসী হবে বুঝানো হয়েছে; তাই বলে নির্জীব দিলের মৌখিক কালেমা উচ্চারণকারিগণ নন। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় জীবন বাঁচাতে যেয়ে বহু হিন্দু পাকিস্তানি সৈনিকদের হাতে ধরা পড়ে তাদের কথামতো মুসলমান প্রমাণ দিতে যেয়ে জীবন বাঁচানোর জন্য কালেমা শরীফ পড়েছে, তাই বলে কি তারা মুসলমান হয়ে গেছে? না; অর্থাৎ প্রকৃত মুসলমান হতে হলে চাই মনে-প্রাণে কালেমার আন্তরিক স্বীকৃতি দান। আর যদি আমরা তা করতে না পারি তবে আমরা কিসের মুসলমান, কিসের ঈমানদার হলাম? এরূপ 'মুসলেন্দু' (অর্ধেক মুসলমান অর্ধেক হিন্দু) চরিত্রের ইসলামের অনুসারী আমরা! হায় আফসোস! আমরা ইসলামের পতাকাতলে শামিল হয়েও, মুসলমানের ঘরে জন্ম নিয়েও, শুধু মাত্র কালেমা শরীফের যথার্থ জ্ঞানের অভাবে ও যথার্থ স্বীকৃতি দানের অভাবে আমাদের অনেককেই ঈমানহারা হয়ে মরতে হবে! ইসলামের অনুসারীদেরকে ঈমানের মানদণ্ডে বিচার করতে গেলে ঠক বাছতে গাঁ উজার হয়ে যাওয়ার মতো দশা হবে।

এক হাদীস মতে তিনি (সাঃ) মারেফতের বর্ণনা হযরত ওমর (রাঃ)-র সামনেও প্রকাশ করতে চাননি। অর্থাৎ, হযরত খাজা গরীবে নেওয়াজ তাঁর প্রিয় ভক্ত-আশেক ও খলিফা হযরত খাজা কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাকী রহমতুল্লাহে আলাইহি- কে লিখেছেন যে, 'একদা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম কতিপয় বিশিষ্ট সাহাবিদের কাছে হাকীকতের গভীর তত্ত্ব ও মারেফতের গুঢ় রহস্য বর্ণনা করছিলেন। সে মজলিসে হযরত আলী, হযরত আবু বকর, হযরত ওসমান, ইমাম হাসান, ইমাম হোসাইন, হযরত আবু হুরায়রা, হযরত আনাস, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, হযরত বেলাল প্রমুখ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। হযরত ওমর সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। হাকীকত ও মারেফতের গভীর জ্ঞানগর্ভ আলোচনা চলাকালে হযরত ওমর সেখানে হাজির হলেন। হযরত ওমরকে দেখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলোচনা বন্ধ করে দিলেন। এতে সাহাাবিগণ বিস্মিত হলেন এবং মনে করেছেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হয় তো হযরত ওমরের সামনে হাকীকত ও মারেফতের গভীর তত্ত্ব নিয়ে আলোচনা করতে চান না। তখন হযরত আবু বকর আরজ করলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমাদের কাছে হাকীকতের তত্ত্ব আলোচনা করলেন, কিন্তু ওমরের কাছে এসব গুঢ় রহস্য গোপন রাখলেন- এর প্রকৃত কারণ কী?

উপস্থিত সকল সাহাবিদের প্রতি লক্ষ্য করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি মারেফতের গুপ্তভেদ ওমরের কাছে গোপন করিনি, বরং ব্যাপারটা হচ্ছে এ রকম যে, কোনো দুগ্ধপোষ্য শিশুকে যদি ঘৃত পরিপক্ব হালুয়া ও গোস্ত ইত্যাদি ভারি খাদ্য খাওয়ানো হয় তাহলে নিশ্চয়ই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়বে। আবার শিশু বয়ঃপ্রাপ্ত হলে এসব খাদ্য শরীরের পুষ্টিসাধন করে।পানাহারের কোনো দ্রব্যই তখন আর তার অনিষ্ট করতে পারে না।'কাজেই মারেফতের উপযোগ্যতা বুঝতে হলে এতটুকু ইঙ্গিতই যথেষ্ঠ।

📖মহামুর্শীদ মহানবী (সাঃ)
✍️সাইয়্যেদ শাহ সূফি বেলাল নূরী আল সুরেশ্বরী। 🌹

পবিত্র উরস শরীফে আপনারা সকলেই আমন্ত্রিত।  #সুরেশ্বর_উরস_শরীফ #সুরেশ্বর_পবিত্র_ফাতেহা_শরীফ াওলানা_আব্দুল_হাই_ওরফে_নূরীশাহ...
05/08/2026

পবিত্র উরস শরীফে আপনারা সকলেই আমন্ত্রিত।


#সুরেশ্বর_উরস_শরীফ
#সুরেশ্বর_পবিত্র_ফাতেহা_শরীফ
াওলানা_আব্দুল_হাই_ওরফে_নূরীশাহ্_রহঃ

02/08/2026

স্বার্থের নামাজ ও হাকীকী নামাজ প্রসঙ্গঃ

যারা বেহেশতের আকাঙ্ক্ষী এবং দোযখের ভয়ে ভীতু তারা নামাজে ব্যবসায়ীক ক্রেতা-বিক্রেতার মতো বিশ্বাসী। অর্থাৎ নেক কাজের বিনিময়ে বেহেশত চাই, দোযখের আযাব থেকে বাঁচতে চাই। আল্লাহকে দেখতে পাই বা না পাই, আল্লাহকে চিনা জানা বা আল্লাহ সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা, কোনো কিছু দরকার নাই, প্রয়োজন শুধু বেহেশত লাভ আর দোযখের আযাব থেকে বেঁচে থাকা, শুধুই স্বার্থ আদায়ের আশা। এ ধরণের নামাজীদের প্রসঙ্গে হযরত রাবেয়া বসরী রহমতুল্লাহে আলাইহা বলেন- বড় নিকৃষ্ট এবং হতভাগ্য সেই ব্যক্তি, যে কোনো কিছুর ভয়ে কিংবা কোনো বিনিময় লাভের আশায় স্বীয় মাবুদের ইবাদত করে থাকে।'

কোনো কিছুর ভয়ে বা কোনো কিছুর লোভে আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করা উচিত নয়। যেমন লোকে বলে থাকে, নেক কাজ করলে বেহেশত পাওয়া যাবে। তিনি (রাবেয়া) বলেন, আল্লাহর ইবাদত শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে করা উচিত। বেহেশতের আশায় ইবাদত করা ব্যবসা ছাড়া আর কিছুই নয়। একে ইবাদত বলে গণ্য করা যায় না।

হাকীকী নামাজীগণ হলেন 'দায়েমী সালাতী' এবং তারা নামাজ পড়ে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি হাসিলের জন্য, বেহেশতের লোভে নয় এবং দোযখের ভয়েও নয়। এরা হলো আল্লাহর নৈকট্যশীল বান্দা। তাদের ব্যাপারে কুরআনের বাণী হচ্ছে -

فَأَمَّا إِنْ كَانَ مِنَ الْمُقَرَّبِينَ (۸۸) فَرَوْحٌ وَ رَيْحَانٌ ةٌ وَّ جَنَّتُ نَعِيمٍ (۸۹)

'তারপর যদি (আল্লাহর) নৈকট্যলাভ করে থাকে তবে তার জন্য রয়েছে আরাম- আয়েস, উত্তম রিযিক ও নিয়ামত ভরা জান্নাত- (ওয়াকেয়া : ৮৮-৮৯)।'নিয়ে যাওয়া হবে অর্থাৎ আল্লাহর নৈকট্যশীল বান্দাদেরকেও প্রথমে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হবে কিন্তু তারা জান্নাত পেয়েও বেজার থাকবে, সন্তুষ্ট হবে না, কারন, তাদের চাওয়া হচ্ছে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য, বেহেশত নয়।

হাকাকী নামাজ সম্পর্কে কুতুবুল এরশাদ হযরত বাবা জানশরীফ শাহ সুরেশ্বরী রহমতুল্লাহে আলাইহি 'মাতলাউ'ল উলুম' কিতাবে 'নামাজের বিবরণে' লিখেন -

'নামাজ একটি সর্বাঙ্গীন কল্যাণকর ইবাদতের নাম। নামাজ 'নিয়ামতে সদরে কোবরা' তথা শাহী মালখানার চাবী। যার বহির্ভাগ নবুয়ত এবং মগজ তথা অভ্যন্তর বেলায়েতে পরিপূর্ণ।

তাতে ঐ জিনিস রয়েছে যা সদরে কোবরা তথা শাহী মালখানার বিপরীত অন্য কিছুর প্রতি মুখাপেক্ষী হয় না। অর্থাৎ কোনো জিনিসেরই মুখাপেক্ষী হয় না। এ নামাজ আল্লাহতায়ালার সমস্ত পরিপূর্ণতার।

অর্থাৎ, এ নামাজের মধ্যে একাধারে ইবাদত, আনুকূল্য, নৈকট্য, সৌন্দর্য এবং ভ্রমণাদি রয়েছে। এতে সাধকের সফর কার্যাদি বিভিন্ন অবস্থা, দোয়া, অত্মসম্বোধন, আত্মমুখী হওয়া এবং অন্যের দিকে মনোনিবেশ না করা, কাশফের প্রদীপ থেকে সফর তথা মি'রাজের বিভিন্ন স্তর ও স্থানসমূহকে আলোকোজ্জ্বল করা ইত্যাদি।

অর্থাৎ, আপন অন্তর ও নফসের প্রতি মনোযোগী হওয়ার সাথে চুড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে আল্লাহর প্রতি নিবেদিত হওয়া এবং কা'বা, জমিন এমনকি নবী-অলীদের প্রতিও মনোনিবিষ্ট হওয়ার প্রশিক্ষণ রয়েছে। নামাজের মধ্যে যেসব জিনিসের নাম মুখে উচ্চারণ করতে হয়, তাদের অর্থ-মর্মের প্রতি দৃষ্টি রাখতে হয় ও মনোযোগ দিতে হয়। এমনকি এসবের সাথে উভয় জগতের মধ্যে যে সব বস্তু রয়েছে সব কিছুর নাম জপ করতে হয় এবং ঐগুলোর প্রতি খেয়াল এবং ধ্যান রাখতে হয়। এসব বিষয়ে দৃষ্টি না থাকলে, তাকে নামাজ বলা যায় না, বরং তা খেল-তামাশার শামিল।

আর যার অবস্থা এরূপ নয় তার নামাজ অজ্ঞতা ও বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই নয়। কারণ, দণ্ডায়মান অবস্থায় নামাজির শীর উর্ধ্বলোকে এবং নূরানী দৃষ্টি জমিনে ঝলসাতে থাকে। আর এটাকে সালাতের দর্পণ বলা হয়। এ দর্পণে পূর্ণ সফর প্রতিফলিত ও প্রকাশিত হয়। এটা মহাসফর। এ সফরে একবার নিমজ্জিত হলে কিয়ামত পর্যন্ত তা থেকে উদ্ধার পাওয়া সম্ভব নয়। এ কিয়ামই হলো মহান ওলীদের কিয়াম তথা অবস্থা (হাল)। তাঁরা এক কিয়াম অবস্থায় পুরা জীবন কাটিয়ে দেন। এ এক কিয়ামেই তাঁদের নামাজ সম্পন্ন হয়ে যায় এবং তাঁদের আহওয়াল তথা ভাবান্তরসমূহের মাধ্যমে রুকু-সিজদা প্রকাশ পায়। যেমন- বৃক্ষাদির সেজদা, তাদের ভাবের মাধ্যমে সিজদা সম্পন্ন হয়। রুকু, তথা উপর দিক থেকে মাথা নীচু করা সফর থেকে স্ব-স্থানে প্রত্যাবর্তন করা বুঝায়। অর্থাৎ, এটা এ সফরে পৌঁছানোর মঞ্জিল।

এখানেই এ সফরের ফলাফল এবং উপকারিতা অর্জন হয় এবং 'আহওয়াল' তথা ভাবগত সফরে মস্তক অবনত অবস্থায় যে নিয়ামত এবং বরকত রয়েছে, তাও এখানে সংগ্রহ করতে হয়। যেমন- গাড়ী অথবা জাহাজ থামিয়ে যার যার দেনা-পাওনা দিয়ে অবসর হয়ে যাওয়া। কিন্তু ঐ সময় কুতুবী দর্পণে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখতে হয়। এজন্য আপন পায়ের উভয় বুড়ো আঙ্গুলের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখতে হয়। আর ঐ উভয় আঙ্গুলকে দেহের মধ্যে 'কুতুব' বলা হয়।

এখানে কুতুবী দর্পণে দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখলে আহওয়ালে কুতুবিয়া তথা কুতুবদের ভাব অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হওয়া যায়। এ কারণে গাউস-কুতুবদের দৃষ্টি সদা জমিনে নিবদ্ধ থাকে, যেন পৃথিবী ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায়। উক্ত কারণেই 'চারজন কুতুব' পৃথিবীর চার পাশে সদা দণ্ডায়মান থাকেন। এ চার কুতুবের ফয়েজ দেহের চার কুতুবের উপর প্রতিভাত হয়। অর্থাৎ, হাত ও পায়ের চার বুড়া আঙ্গুলের উপর থাকে, যাকে আরবীতে 'এবহাম' বলে। এ কারণে নামাজে আঙ্গুল জমিনে যুক্ত থাকে এবং খেয়াল রাখতে হবে যেন তা জমিন থেকে বিচ্ছিন্ন না হতে পারে।

মোটকথা, রুকুর ভেতরে নামাজী মুসাফির, গন্তব্যে যাত্রার পর পূর্ণ নিয়ামত গৃহে পৌছে আত্মিক সফরে রত হয়। অর্থাৎ, যে সফরে নফসের মি'রাজ এবং কাশফ- যা প্রভুসত্তার বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত। এখানে 'নাহনু আকরাবু ইলাইহি মিন্ হাবলিল ওয়ারীদ - অর্থাৎ আমরা (নাহনু) তার শাহ রগের থেকেও নিকটে'-এ ঘোষণার মর্মার্থ পুরোপুরি প্রতিভাত হয়।

অর্থাৎ, এ স্তরে নৈকট্যসূত্রে একাত্মতা ঘটে এবং 'ওয়া হওয়া মাআকুম আইনামা কুনতুম থাকেন তিনিও তোমাদেরই সাথে যথায় আছো তোমরা'। অর্থাৎ, আল্লাহ বলেন, তোমরা নামাজের মাধ্যমে যেভাবে এবং যেরূপে ইবাদত করছিলে, তখন আমিও তোমাদের সাথে এবং নিকটেই ছিলাম।এতে প্রমাণিত হয় যে, নিকট থেকে সাথী সত্তা অধিক উত্তম ও দৃঢ়। অর্থাৎ, যা শাহরগ থেকে নিকটতম তাই সাথীত্ব অর্জনের স্থান, যা ক্বলবে মুদাব্বির তথা চক্রাকার অন্তরের একেবারে মাথায় অবস্থিত। অতএব, নামাজে নিজেকে নিকট করা ভূমি সত্তার সাথে স্বয়ং সম্পৃক্ত হওয়া। যার প্রকাশ 'নূরে মাহমুদা', যা দু'ভ্রুর মধ্যস্থল তথা মূল কপাল এবং তা আল্লাহ দর্শনের দর্পণ। এজন্য সিজদায় দৃষ্টি নাকে নিবদ্ধ রাখতে হয়। আর দু'টি সেজদা দু'টি বেলায়েতের ফলশ্রুতি। যেহেতু দ্বিতীয় বেলায়েত প্রথম বেলায়েত থেকে উত্তম। সেহেতু প্রথম সিজদা থেকে দ্বিতীয় সিজদা উত্তম। অর্থাৎ, প্রথম সিজদায় নিকটে এবং দ্বিতীয় সিজদায় (অতি) নিকটতম হওয়া যায়।

দূরত্ব থেকে নৈকট্য আর নৈকট্য থেকে দুরত্বের প্রয়োজন রয়েছে। এজন্যই নৈকট্য লাভের পর সফরে দূরত্ব ঘটায় আর এ উভয়ের মধ্যে যে মঞ্জিল রয়েছে তা একটিই। তাই রুকু একটি হয়েছে।

একটি নৈকট্য ও সাথীত্ব লাভের শুকরিয়া স্বরূপ আর অপরটি হলো আল্লাহর ইবাদতের উদ্দেশ্যে নিবেদিত। এজন্য সেজদা দু'টি হয়েছে।

অতঃপর সিজদার শেষ বৈঠক উভয় দিকের মোশাহেদার ইঙ্গিত, যা বক্ষমধ্যে প্রকাশিত হয়। অর্থাৎ, বক্ষমধ্যে সমগ্র জগতের জ্ঞান রহস্যে বিদ্যমান। এজন্য তাকে 'জগতপাত্র' বলা হয়। সবশেষে সালামের মাধ্যমে অবসর হওয়ার অর্থ হলো অন্যের সাথে সম্পৃক্ত হওয়া। এ অবস্থায় কথা বোধগম্য হয়। অর্থাৎ, ইতিপূর্বে মি'রাজের পথে ছিলো, এখন তা থেকে অবতরণ হলো। এ সালাম কোনো ফেরেশতাকে এবং কোনো লোককেও দেওয়া যেতে পারে।

দু'রাকাত নামাজের অর্থ হলো দু'বার নিয়ামতের ভিতর প্রবেশ করে তৎসহ বের হয়ে আসা আর চার রাকাত নামাজের দু'রাকাত হলো আল্লাহর ইবাদত আর বাকি দু'রাকাত হলো শুকরিয়া।'

এই হচ্ছে নামাজের মূল হাকীকত।

📖সুরেশ্বরীয়া তরিকা।
✍️হযরত সাইয়্যেদ শাহ সূফি বাবা বেলাল নূরি আল-সুরেশ্বরী।🌹

30/07/2026

🌹তরিকায়ে সুরেশ্বরীয়ার ইমামত, লকব ও মূলভিত্তিঃ

বান্দার ইহ ও পরকালের সকল সৌভাগ্য শরিয়ত, তরিকত, হাকীকত ও মারেফত প্রতিপালনের উপর নির্ভরশীল। শরিয়তের সীমানায় বসবাস করতে হলে জ্ঞান অর্জন করা অপরিহার্য তথা ফরজ। এই জ্ঞান দুই প্রকার যথাঃ-জাহেরী এলেম এবং বাতেনী এলেম তথা ক্বলবী এলেম। এই দুই এলেমে পারদর্শী ব্যক্তিগণই সত্যিকারের নায়েবে রাসুল (সাঃ)। তাদের লেখা, কথা, কাজ ও আচরণই অজ্ঞ, অসুস্থ, পাপী-তাপী মানব কুলের জন্য প্রতিষেধক এবং পাথেয়।

হযরত শাহ্ আহমদ আলী ওরফে বাবা জানশরীফ শাহ্ সুরেশ্বরী ক্বিবলা কা'বা (রহঃ) ছিলেন তেমনি একজন মহান ওলী যিনি শরিয়ত, তরিকত, হাকীকত ও মারেফতের উপর পূর্ণ প্রতিষ্ঠিত। আকাশের মত বিশাল এবং মহাসাগরের মত গভীর ছিল যার জ্ঞানের ভাণ্ডার, জন্ম হতে বেছালহক্ব পর্যন্ত যিনি ছিলেন নূরে নূরময়। তাঁর জ্ঞানভাণ্ডার এত বিশাল যে তা ভাষায় প্রকাশ করে শেষ করার মতো নয়; তা লিখার চেষ্টা করা আর কলস দিয়ে সাগর সেঁচার বৃথা বোকামী চেষ্টা করা মাত্র। সমসাময়িককালে তাঁর মত এত উঁচু স্তরের ওলীয়ে কামেল মোকাম্মেল, ওলীয়ে মোকারাবীন ঐ সময়ে তাঁর সমকক্ষ দ্বিতীয়জন কেউ ছিলেন কিনা আল্লাহ্ রাব্বুল আ'লামীনই তা ভালো জানেন।

হযরত সুরেশ্বরী ক্বিবলা কা'বা সম্পর্কে শ্যামপুর দরবার শরীফের পীর ক্বিবলা হযরত শাহ্ সুফী সাইয়্যেদ গোলাম মাওলা হোসাইনী চিশতী (রহঃ) বিরচিত "কোতবে এরশাদ হযরত সুরেশ্বরী ক্বিবলা কা'বার জীবনী" গ্রন্থে লিখেছেন,"হযরত সুরেশ্বরী ক্বিবলা কা'বা ছিলেন হযরত গাউসুল আজম শাহানশাহে বাগদাদী (রহঃ) ও খাজায়ে খাজেগা শাহানশাহে চিশতী আজমেরী (রহঃ) এর রূহানীয়াত কর্তৃক প্রজ্জলিত অনির্বাণ প্রদীপ। হযরত ইবনুল আরাবী (রহঃ) প্রকাশিত তৌহিদের জ্ঞানধারা। হযরত জালালুদ্দীন রুমী (রহঃ), হযরত ফরিদ উদ্দিন (রহঃ), হযরত বু'আলী শাহ্ কলন্দর (রহঃ) ও হযরত শামসে তাবরিজী (রহঃ) এর রুহানী বাঁশরী। ইসলামী তা'ছাউফ সাগরের মহামূল্য রত্নরাজি আহরণকারী ডুবুরী হযরত খিজির (আঃ) এর ছিনার এলমে লুদুন্নী লাভকারী মহান ওলীয়ে কামেল মোকাম্মেল ও মোকারাবীন।

হিজরী ১৪ শতকের মোজাদ্দেদ হযরত সুরেশ্বরী ক্বিবলা (রহঃ) তাঁর ঘটনা-বহুল জীবনে ছিলেন দ্যুতিময় সংস্কারক। তিনি সমাজের অজ্ঞতা, কুসংস্কারাচ্ছন্নতা এবং ধর্মীয় গোঁড়ামীর জিঞ্জির ভেঙ্গে সমাজকে করেছেন মুক্ত, পথহারা মানুষকে দিয়াছেন পথের সন্ধান। অন্ধকারাচ্ছন্ন মনের মাঝে জ্বালাইয়াছেন ইশকে ইলাহীর প্রদ্বীপ।

উল্লেখ্য যে, ইসলামে ধর্মীয় রাজমন্ত্রের মূল বিভাগ চারটি যথাঃ শরিয়ত, তরিকত, হাকিকত এবং মারেফত। এই সবেরই চূড়ান্ত লক্ষ্য একাত্মার জ্ঞান এবং একাত্ম হওয়া। ইহার ব্যবহারিক নাম "তাওহিদি প্রেম।” ইহা অহম্ তথা শয়তানের বিনাসক এবং বাস্তব ও বিমূর্ত উভয় জগতে প্রকৃত শান্তির একমাত্র উপায় ও নিয়ামক।

অপরদিকে উক্ত পদ্ধতি ও প্রতিষ্ঠানগুলিতে আলিম, ফাজিল ও কামিল নামে যাহাই পড়ানো শিখানো হউক না কেন, সবই শরিয়ত বিভাগের অন্তর্ভুক্ত। শরিয়তের বিধানাবলী এবং বাস্তব বিষয়াদি সম্পর্কিত। বাকি তিনটি বিভাগীয় জ্ঞানই মূলতঃ মানসিক বিশুদ্ধায়ন ও আত্মপরিচয় সম্পর্কিত। মানসিক বিশুদ্ধায়ন মানুষকে সার্বজনীন কল্যাণে উদ্বুদ্ধ করে আর আত্মপরিচয় মানুষকে পরমাত্মার তথা আপন উৎসের দিকে ধাবিত করে। ফলে, মানুষ সংকীর্ণতা মুক্ত হয় এবং সমাজ হয় কলহমুক্ত ও শান্তিময়। এজন্য ইসলামের সর্ব বিভাগীয় জ্ঞানে সমৃদ্ধ আল্লাহর মহান ওলীগণ সকল সংকীর্ণতা ও কলহের উর্দ্ধে এবং তাওহিদী প্রেমমাধুর্যে সারাবিশ্ব তাদের কাছে ছন্দময়।

নামে আলেম শরিয়তীদের দাপট ও দৌরাত্ম্যে বাংলার মানুষ ধর্মীয় বিভ্রান্তিতে পড়ে যায় এবং সাম্প্রদায়িকতা ও সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের কারণ দেখা দেয়। পবিত্র ধর্ম নিছক আনুষ্ঠানিকতায় পর্যবসিত হয়।মুসলমানদের মধ্যে সুন্নী-ওহাবী ঝগড়া চরম আকার ধারণ করে। আধ্যাত্মিকতা বিবর্জিত ধর্মানুষ্ঠান নিষ্প্রাণ এবং আকর্ষণহীন হয়ে পড়ে। বস্তুতঃ ধর্ম হয়ে পড়ে একশ্রেণীর মোল্লাদের হালুয়া-রুটির অবলম্বন। মিলাদ, খতম, কবর জিয়ারত, মসজিদের ইমামতি, বিবাহ-তালাকের মাসলা নিয়ে ঝগড়া ইত্যাদিই ইসলামের প্রধান বিষয় হিসেবে পরিগণিত হয়। শুধু তা-ই নয়, একশ্রেণীর মোল্লাহ নামে খ্যাত এই অশিক্ষিত (জ্ঞানে মূর্খ) আলেমের দল মহান ওলী-আল্লাহগণের রওজা, তাঁদের দরবারের কার্যক্রম-উরস, ছে'মা এবং ফাতেহার মত তাওহিদী আধ্যাত্মিক সাধনার অবলম্বনসমূহকে শেরেক বিদাত নাজায়েজ হারাম ইত্যাদি কথার জিকির তুলে ধর্মের নামে বিরোধিতা করতে থাকে।

মাহবুবে ইলাহি হযরত নিজামুদ্দীন আউলিয়া (রহঃ) বলেন, "ওলী আল্লাহ্ কোন কাজের সমালোচনা করা চরম বে-আদবী এবং ওলী আল্লাহগণের সাথে বে-আদবী করলে ঈমান নষ্ট হয়ে যায়।” এই শ্রেণীর মোল্লাগণের কার্য-কারণে বাংলার অবস্থা যখন এরূপ এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষার অভাবে বিভ্রান্ত, উদ্ভ্রান্ত, পথভ্রষ্ট ও বিশ্বমানের ঐক্যের আহ্বান সর্বস্ব ইসলাম তখন নিজেদেরই ঐক্য বিনষ্টের কারণ।

বলা বাহুল্য, আল্লাহর প্রকৃতিই (ছিবগাতাল্লাহ) মানুষের প্রকৃতি। মানুষের এ প্রকৃতিই মানুষের ধর্ম (জ্ঞান)। মানুষের এ প্রকৃতির পরম পরকাষ্ঠা লাভ এবং চরম উৎকর্ষতা অর্জন ধর্মের চূড়ান্ত লক্ষ্য। ধর্মের এ চূড়ান্ত লক্ষ্য কায়েমী স্বার্থ বা অহংস্বার্থের পরিপন্থী। এজন্য কায়েমী স্বার্থ সবসময় প্রকৃত ধর্মের (জ্ঞানের) বিরোধিতার করে থাকে। প্রকৃত ধর্ম বা ধর্মীয় জ্ঞান বিবর্জিত মাদ্রাসা শিক্ষা (ইকরা বিদ্যা) ব্যবস্থা প্রবর্তনের পিছনে এই শত্রুতা প্রধান কারণ। যাহোক, ধর্মকে বিপরীত খাতে অজ্ঞতা ও বিভ্রান্তির পথে পরিচালিত করবার জন্য এসব ওহাবী-খারেজী মাদ্রাসায় পড়া লোকদের একটি ধর্মজীবী শ্রেণী প্রধানতঃ দায়ী। আর তাদের মদদদাতা ছিল দেশি-বিদেশী কায়েমী স্বার্থের পুজারীরা।

উল্লেখ্য যে, ধর্ম যখন স্বাভাবিক বিকাশে বাধাপ্রাপ্ত হয় তখন এর শিকার: সাধারণ মানুষ হয় বিভ্রান্ত ও পথভ্রষ্ঠ ফলে কোন যুগপুরুষ, পথপ্রদর্শক: অবতার অথবা নবী-রাসূলের আগমনের জন্য সাধারণ মানুষ উৎকণ্ঠিত হয়ে উঠে। তখন কংশের কারাগারে হোক বা ফেরাউনের বন্দিশালায় হোক অথবা
মক্কার জাহেলিয়াতে আবদ্ধ সমাজে হোক আর বিকৃত ধর্মীয় ধারণার আঘাতে জর্জরিত ভারতবর্ষেই হোক স্রষ্টা তাঁর বান্দাদের উদ্ধারের জন্য আপন মনোনীতদের প্রেরণ করেন।

ঠিক এমনই যখন বাংলার ধর্মীয় অবস্থা তখনই প্রকৃতির উক্ত চিরায়ত বিধান অনুযায়ী বাংলার তথা বিশ্বমানবের মুক্তি ও কল্যাণের দিশারী তাওহিদী প্রেমের মূর্ত প্রতীক, মা'শুকে মা'বুদ, মাহবুবে আরেফীন, মাঙ্গুদে আশিক্কীন, হিজরী চৌদ্দ শতকের মোজাদ্দেদ, সুরেশ্বরী তরিকার ইমাম, শামছুল ওলামা হযরত মাওলানা শাহ্ আহমদ আলী ওরফে বাবা জানশরীফ শাহ্ সুরেশ্বরী (রহঃ) ধরাধামে আগমন করেন বর্তমান বাংলার আধ্যাত্মিক জগতের তীর্থস্থান তৎকালিন ফরিদপুর বর্তমান শরীয়তপুর জেলার সুরেশ্বর গ্রামে। ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিকূলতার মধ্যে হযরত সুরেশ্বরী বাবা শত বাধা বিপত্তি অত্যাচার জুলুমকে পদদলিত করে তাওহিদী প্রেমের সার্বজনীন বাণী, পরম ধর্মের চরম জ্ঞানের প্রদীপ প্রজ্জলিত করে গেছেন।

📖সুরেশ্বরীয়া তরিকা।
✍️হিজরি পনেরো শতকের মোজাদ্দেদ হযরত সাইয়্যেদ শাহ সূফি বাবা বেলাল নূরি (মাঃ জিঃ আঃ)🌹

শাইখে কামেল পাপ হতে পবিত্র, মহাসাগর তুল্য ও তাদের পাপের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকারঃআল্লাহ্ আশিক ও কামেল ব্যক্তি যখন আল্লাহর...
27/07/2026

শাইখে কামেল পাপ হতে পবিত্র, মহাসাগর তুল্য ও তাদের পাপের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকারঃ

আল্লাহ্ আশিক ও কামেল ব্যক্তি যখন আল্লাহর 'সিফাতে কুদ্‌সী' তথা মহা পবিত্রতা গুণের সঙ্গে মিশে যান তখন বাইরের কোনো আকস্মিকতা ও অন্যায় তাকে প্রভাবিত করতে পারে না। অর্থাৎ পাপ ও অপবিত্রতা দ্বারা তিনি কলুষিত হন না। কেননা পবিত্রতা গুণের এটাই বিশেষত্ব ও বৈশিষ্ট্য। স্বয়ং আল্লাহ্ তায়ালাও এ পবিত্রতা গুণের বদৌলতেই সব কিছু থেকে পবিত্র আছেন। আর এ পবিত্রতা গুণ আল্লাহর অন্যান্য গুণের
তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। এ পবিত্রতা গুণকে আগুনের সাথে তুলনা করা যায়। এতে যতই ইন্ধন নিক্ষেপ করা হোক না কেন সাথে সাথে সবই জ্বলে ভস্ম হয়ে যাবে অথবা এটি একটি সাগরের মতো- যত অপবিত্রতাই এতে নিক্ষিপ্ত হোক, সবই তাতে বিলীন হয়ে যাবে এবং এর সাথে মিশে যাবে। কেয়ামত পর্যন্ত যদি এমনিভাবে নাপাক বস্তু নিক্ষেপ করতে থাকে তাতেও সাগর অপবিত্র হবে না বরং যা কিছু তাতে নিক্ষিপ্ত হবে তা সবই সাগর জলে মিশে সাগরে পরিবর্তিত হবে। হাদিস শরীফে এর প্রমাণ মিলে- "কোনো মোমেন পাপ করে না, যে পাপ করে সে কি মোমেন?" এর সারমর্ম এই যে, প্রকৃত মোমেন তথা আশিক তার মাশুকের পবিত্রতা গুণে একীভূত হয়ে যান। তাই তিনি সর্বদাই পবিত্র। আর তিনি অপবিত্র হলে আল্লাহর পবিত্রতা গুণটির তৎপর্যই বিনষ্ট হয়ে যাবে। (নাউজুবিল্লাহ মিনহা)। এর দ্বারা রেযা, তাসলিম এবং ইরফান বাতিল হয়ে যায় এবং এটা অসম্ভব। কারণ এটা স্বয়ং আল্লাহর সত্তারই বাতিলের শামিল। কেননা 'সিফাতে কুদসিয়া' তথা মহাপবিত্রতা গুণ সকল গুণের উৎস বা মূল। তা থেকে 'সিফাতে হুব্বি' বা মহব্বত উৎসারিত হয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে উভয় গুণই এক। এ বিষয়ের বিশদ বর্ণনা নূরের প্রকৃতি অধ্যায়ে পাওয়া যাবে। বস্তুত 'ফানাফিল্লাহ'র মাধ্যমে আশিক-মাশুক একীভূত হয়ে যান। ফানাফিল্লাহ হলে আশিক-মাশুকের আলাদা অবয়ব বা অস্তিত্ব বহাল থাকে না। তাইতো মাওলানা রুমীর একটি কবিতার ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে হাজী এমদাদ উল্লাহ (রহঃ) বলেন, "তুমি যদি ফানাফিল্লাহ হতে না পার, তাহলে ফানাফিশ শাইখ হও, এতে করে ফানাফিশ্ শাইখ হওয়ার মাধ্যমে ফানাফিল্লাহর গৌরব অর্জন করতে পারবে।”

📖সিররেহক্ব জামেনূর।
✍️হযরত জানশরিফ শাহ সুরেশ্বরী। 🌹

একাত্মতার বর্ণনাহযরত মূসা (আঃ) প্রার্থনা করলেন, হে প্রভু! আমাকে দেখা দাও। অর্থাৎ, পরোয়ারদিগারকে দেখে চাইলেন। উত্তর এল, ত...
25/07/2026

একাত্মতার বর্ণনা

হযরত মূসা (আঃ) প্রার্থনা করলেন, হে প্রভু! আমাকে দেখা দাও। অর্থাৎ, পরোয়ারদিগারকে দেখে চাইলেন। উত্তর এল, তুমি আমাকে দেখতে পারবে না। অর্থাৎ, এ পর্যায়ে বাহ্যিক দৃষ্টি অচল। প্রকাশ্য মূল (আঃ) অর্থাৎ, সৃষ্টি রূপের মূসাকে এ কথা বলা হয়েছে। বাহ্যত সে মাঠে আগুন হযরত মূসা (আঃ)-এর সাে কথা বললেও বাতেনে তাই স্বয়ং আল্লাহ্। এটা ছিল তাঁর জ্যোতি সৌন্দর্যের অগ্নিরূপে প্রকাশ। তুর পাহাড়ে যে জ্যোতির্ময়তার প্রকাশ ঘটেছিল, তা ছিল জালালী। যার কারণে মূলের শ্রেষ্ঠত্বের প্রকাশ ঘটেছে। যার মাধ্যমে সত্তার প্রকাশ সম্পর্কে অবহিত হওয়া যায়। মোটকথা, পাহাড় ভেঙে গেল, তূর মজে গেল এব হযরত মূসা বেহুঁশ হয়ে গেলেন। তা সত্ত্বেও তাঁর অন্তর্দৃষ্টি প্রখর হয়ে যায়। এ কারণেই পাহাড়ও চোখের সুরমায় পরিণত হয়। তাতে চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ে এবং প্রখর হয়। কারণ যখন প্রত্যক্ষ করার শক্তি নূরে প্রখর হয়, তখন কপালে আলোর ঝলক প্রতিভাত হয়। এতে চক্ষু উজ্জ্বল হয়। তাই যখন তুর পাহাড় ঝলসে গেল, তখন তুর সাথীদের আকৃতি-প্রকৃতিতে ঝলক সৃষ্টি হবে না কেন? যখন পাহাড় এবং সাথীদের প্রত্যক্ষণ শক্তির ঔজ্জ্বল্যে অন্ধ দৃষ্টিশক্তি লাভ করল এবং বহু অদেখা বস্তু দেখতে পেল, তখন হযরত মূসা কেন দেখবেন না এবং অবহিত হবেন না মূল সত্তার প্রকাশ সম্পর্কে? প্রকৃতপক্ষে হযরত মূসা (আঃ) ইতোপূর্বে যা দেখেননি তাই দেখেছেন, যা শোনেননি তাই শুনেছেন এবং যা অনুভব করেননি তাই অনুভব করেছেন।

অর্থাৎ, হযরত মূসা (আঃ)-এর বেহুঁশ অবস্থাটিই ছিল তাঁর প্রকৃত সচেতন অবস্থা। এ সময়ে তাঁর প্রত্যক্ষ দর্শন এবং প্রকৃত দিদার লাভ হয়। এটা ছিল তাঁর সরাসরি দর্শন। এ পর্যায়ের সাক্ষাতে পর্দার অস্তিত্ব সম্ভব নয়। বহিদৃষ্টি বা চক্ষু সূক্ষ্মতাকে প্রত্যক্ষ করতে পারে না। যে কোন সূক্ষ্ম বস্তুকে অনুবীক্ষণ দ্বারা প্রত্যক্ষ করতে হয়। অনুরূপভাবে অন্ধকারে কিছু দেখতে হলে আলোর সাহায্যে তা দেখতে হয়। অনুরূপভাবে অদেখা বস্তুকে আরও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টি দিয়ে দেখতে হয়। সে যাই হোক হযরত মূসা (আঃ) প্রকৃত দিদার লাভের পর সারা জীবনেও আর রূপক দর্শন লাভের চেষ্টা করেননি। কারণ প্রত্যক্ষ দিদার-ই আসল দিদার। আর চক্ষুর দেখা হল রূপক দেখা, যদি চক্ষুতে প্রত্যক্ষ করার শক্তি বা নূর তীব্রতর না হয়। হযরত মূসা (আঃ) এরই কেবল দিদারের সৌভাগ্য হয়নি; বরং তাঁর সাথীবৃন্দেরও দিদার লাভ হয়েছিল, যদিও তারা মরে গিয়েছিল। পরম সত্তার পরিপূর্ণ প্রকাশের প্রেক্ষিতে এবং তাঁর মহানত্বের কারণেই তা হয়েছিল।

মোট কথা, হযরত মূসা (আঃ) দিদার চেয়েছিলেন বটে; কিন্তু ইত্তেহাদ তথা একাত্মতা বা প্রকৃত দিদার চাননি। চক্ষুর দেখা হয় মিলনের পূর্বে আর মিলনের পরে হয় একাত্মতা। এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য হল শুরু এবং শেষ। এতে মনে হয় যে, হযরত মূসা (আঃ) ছিলেন প্রাথমিক স্তরের, শেষ স্তরের নয়। যদি তিনি শেষ স্তরের হতেন, তাহলে চক্ষুর দর্শন কামনা করতেন না।

📔মাতলাউ'ল উ'লুম।
✍️হযরত জানশরিফ শাহ সুরেশ্বরী। 🌹

ঈমানের বিশ্লেষণযে জিনিসের প্রতি ঈমান আনা প্রয়োজন, সে জিনিস সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে ঈমান অর্জিত হয় না। ঈমানের দৃষ্টি দ্বা...
19/07/2026

ঈমানের বিশ্লেষণ

যে জিনিসের প্রতি ঈমান আনা প্রয়োজন, সে জিনিস সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে ঈমান অর্জিত হয় না। ঈমানের দৃষ্টি দ্বারা তাকে দেখতে হবে, তার অবস্থা সম্পর্কে অবগত হতে হবে এবং অবহিত হতে হবে উহার রকমারি প্রকাশ সম্পর্কে। জানতে হবে আল্লাহ্ প্রত্যেক বস্তুর সাথে কিরূপে প্রকাশিত হন। এ প্রকাশ বাহ্যিকরূপে হতে পারে আবার অপ্রকাশ্যরূপেও হতে পারে। বস্তুত মৌলসত্তার জ্যোতি থেকে হতে পারে অথবা হতে পারে সে প্রকাশ কর্ম বা অবস্থার বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে। যেভাবেই হোক না কেন, তাকে জানতে না পারলে ঈমান অর্জিত হয় না এবং তার মর্মার্থও বোঝা যায় না।

বস্তু মাত্রই আল্লাহ্ প্রকাশিত হবার আধার। আল্লাহ্ তাতে প্রকাশিত হন। তা উপলব্ধি করতে জ্ঞান বুদ্ধি বিমূঢ় হয়ে যায়। তাহলে এ বিমূঢ়তা থেকে বাঁচার উপায় কী? অথচ সকল বস্তুতে আল্লাহর প্রকাশ জরুরি এবং অবশ্যম্ভাবী। তবে প্রত্যেক বস্তুই আপন আপন গুণাবলিসহ বর্তমান। তা সত্ত্বেও প্রত্যেকটি বস্তু আল্লাহর গুণাবলি সহকারে বিদ্যমান। তিনি যখন ইচ্ছা করেন, যে কোনো বস্তুর মধ্যে প্রকাশিত হন। যখন যে বস্তুর মধ্যে তিনি প্রকাশিত হন, তখন সে বস্তুর রূপ বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তার প্রকাশ সংঘটিত হয়। আল্লাহ্ তা'য়ালা পবিত্র কোরানে বলেন,

هل آتك حديث موسى اذا رأى نارا

(হাল আতাকা হাদীসু মূসা ইয রায়া নারান)

(সূরা: ত্বাহা, আয়াত: ৯-১০)অর্থ: "হে মুহাম্মদ তোমার কাছে কি মূসার সংবাদ পৌছেছে যখন সে আগুন দেখেছিল?”

فقال لاهله امكثوا إني أنست نارا (ফাকালা মূসা লিআহলিহীকুছু ইন্নি আনাসু নারান)

(সূরা: ত্বাহা, আয়াত: ১০)

অর্থ: "তখন মূসা অনুগতদের বললেন যে, তোমরা এখানে দাঁড়াও অবশ্যই আমি আগুন দেখেছি।"

لعلى أتىكم منها بقبس او اجد على النار هدى (লায়াল্লী আতিকুমমিনহা বিক্বাবাছিন আও আজিদু আলান নারি হুদা)

(সূরা: ত্বাহা, আয়াত- ১০)

অর্থ: "সম্ভবত আমি আগুন থেকে পথের সন্ধান পাব"।

فلما اتاها نودي ياموسى اني أنا ربك فاخلع نعليك انك بالوا دا لمقدس طوى (ফালাম্মা আতাহা নূদিয়া ইয়া মূসা ইন্নি আনা রাব্বুকা ফাখলা'আ না'লাইকা ইন্নাকা বিলওয়াদিল মুকাদ্দাসি তুওয়া)

(সূরা: ত্বাহা, আয়াত - ১১-১২)

অর্থ: "অতঃপর যখন আগুনের কাছে এল, আওয়াজ এল, হে মূসা! আমি তোমার প্রভু, তোমার পা থেকে জুতা খোলো, অবশ্যই তুমি পবিত্র ও কল্যাণকর ময়দানে রয়েছ"

وأنا اخترتك فاسمع لما يوحي أننى انا الله لا إله الا أنا فاعبدني (ওয়ানাখতারতুকা ফাছতামিলিমা ইউহা ইন্নানি আনাল্লাহু লাইলাহা ইল্লা আনা ফা' বুদুনি)

(সূরা: ত্বাহা, আয়াত: ১৩-১৪)

অর্থ: "আমি তোমাকে নির্বাচিত করেছি, তোমার প্রতি যে অহি অবতীর্ণ করা হয়, তা তুমি শোনো অবশ্যই আমি তোমার প্রভু, আমি ছাড়া অন্য কোনো প্রভু নেই, তুমি আমার ইবাদত করো।"

আগুন মূসা (আঃ)-কে ডেকে বলল, হে মূসা! আমিই তোমার প্রভু! এখানে 'আগুন' অর্থ তো অন্যকিছু করা যায় না বস্তুত এটা আল্লাহর বহু ধরনের প্রকাশ রীতির একটি। অর্থাৎ প্রত্যেক বস্তুতে এবং রূপে তার সত্তা থেকে প্রকাশিত হয়। সুতরাং যে বা যে বস্তুতে তা প্রকাশিত হয়, তখন তারই আলোকে এবং বৈশিষ্ট্যে মণ্ডিত হয়। আর যার সামনে প্রকাশিত হয়, তার জ্ঞান অনুযায়ী কথা বলে। মানুষের সামনে প্রকাশিত হলে মানুষ স্বীয় যোগ্যতার মাপকাঠিতে তা উপলব্ধি করে আর জীবজন্তু, জলীয়, বায়বীয়, আগ্নেয় বা মৃত্তিকা বস্তুতে প্রকাশিত হলে তারাও নিজ নিজ যোগ্যতা অনুযায়ী সে প্রকাশ সম্পর্কে জানতে পারে। তবে সত্যের প্রকাশ সদা সত্য হয় এবং প্রত্যেক প্রকাশের ফলাফলের প্রভাব চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে উভয় জগৎ হৃষ্টপুষ্ট হয়। তারই ফলশ্রুতিতে কল্যাণ ও অকল্যাণ জগৎময় বিস্তার লাভ করে। কারণ হযরত মূসা (আঃ)-এর সামনে প্রকাশিত আল্লাহর আগ্নেয় রূপ অনেকটা সাদাটে ছিল। লালের মধ্যে এ সাদাটে অবস্থা শুভ লক্ষণ। এ কারণে ঘটনাটি যে স্থানে সংঘটিত হয়, তাকে আল্লাহ্ পবিত্র বলে আখ্যায়িত করেছেন। সময় বিশেষে এ প্রকাশ রঙহীনভাবেও সংঘটিত হয়। তবে এ রঙহীনতা এমন একটি মৌলিক বস্তু যা বহু রঙের সার। বস্তুত সে রঙ সমস্ত রঙের চেয়ে উত্তম। তাতে রঙহীনভাবে আল্লাহর প্রকাশ ঘটে। মোট কথা, আল্লাহর সত্তা কোনো বিশেষ রঙ বা রূপে সীমিত নয়। আল্লাহ্ সমস্ত রঙ-রূপের উৎস যেখানেই যে রূপ দেখা যাক বা অনুভূতহোক না কেন, সবই তার থেকে। যেমন দোয়াতের কালি থেকে সমস্ত অক্ষরের সৃষ্টি, এমন কোনো অক্ষর বা বাক্য নেই যা দোয়াতের কালি থেকে সৃষ্টি হয় না। রাম অথবা রহিম বাক্য অথবা হ্যাঁ-বাচক অথবা না-বাচক সবই দোয়াতের কালি থেকে সৃষ্টি হচ্ছে। তাই কালি এবং কালির জ্ঞান প্রমাণের জন্য অপর দোয়াত এবং প্রকৃত বা মৌলিক কালির প্রয়োজন।

অতএব যেহেতু একটির জন্য অপর একটির প্রয়োজন হয়, সেহেতু যা প্রয়োজন তার অস্তিত্ব অনিবার্যরূপে জরুরি। সে অবশ্যম্ভাবী সত্তা তথা আল্লাহর অস্তিত্ব ছাড়া কোনো অবশ্যম্ভাবী অস্তিত্ব নেই যার বদৌলতে অপর কোনো অস্তিত্বহীন বস্তু অস্তিত্ব লাভ করতে পারে। ওয়াজেব অনিবার্য সত্তা বলতে সে আদি সত্তাকে বোঝায়, যা সকল বৈশিষ্ট্যের ও গুণের আধার। এটা সৃষ্টিগুণ। এ গুণের বদৌলতে সমস্ত সৃষ্টি অস্তিত্ব লাভ করে। এটাকে সৃষ্টি জ্যোতি বলা হয়। এ জন্য হযরত মূসা (আঃ)-এর সঙ্গে প্রকাশ বৈশিষ্ট্য এবং শাব্দিক ভাষায় কথা বলা হয়েছে। বস্তুত তা ছিল একটি শ্বেত রঙের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ। কিন্তু এটা প্রকাশের আধার। এ কারণেই অপ্রত্যক্ষ ক্রিয়া ব্যবহার করে ডাকা হয়েছে। কিন্তু বাহ্যত তা আগুন হলেও বস্তুতপক্ষে তা জাত বা মৌল সত্তা। সকল বস্তুতে আবিষ্ট মৌলসত্তাই বস্তুর অভ্যন্তরীণ সত্তা। আর সকল বস্তুর অভ্যন্তরীণ সত্তা আল্লাহর প্রকাশ সত্তা অর্থাৎ আল্লাহ্ সকল বস্তুর অভ্যন্তরীণ রূপ এবং আল্লাহ্ অভ্যন্তরীণ রূপ সকল বস্তুর প্রকাশরূপ। তবে স্রষ্টার প্রকাশের আধার সৃষ্টি আর সৃষ্টির প্রকাশের উৎস স্রষ্টা। উদাহরণস্বরূপ বীজের মধ্যে লুপ্ত ও সুপ্ত বৃক্ষ বীজের অভ্যন্তরীণ রূপ। আর এখনও ফলন হয়নি এরূপ বৃক্ষের ফল ও বীজ উহার অভ্যন্তরীণ রূপ। তবে যে বস্তুর মাধ্যমে কোন বস্তু জন্মায় তা সে বস্তুর আধার। যেমন ডাল থেকে ফুল বের হয়। এখানে ডাল ফুলের প্রকাশস্থল। এ যা পার্থক্য। অন্যথায় বস্তুতপক্ষে কোনো কিছুই স্বয়ম্ভু সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। তাই তো হযরত ওয়ালী উল্লাহ্ (রঃ) 'কাউলুল জামিল' এ লিখেছেন, চিশতিয়া মাশায়েখগণ বলেন, পীরের ফয়েজ লাভ করার প্রধান শর্ত হল মুহব্বত ও শ্রদ্ধার সাথে নিজের অন্তরকে মুর্শিদের সাথে যুক্ত ও জড়িয়ে রাখা এবং তার চেহারার ধ্যান করা। আমার কথা হল, আল্লাহর প্রকাশস্থল অসংখ্য। তাই কোনো আবেদ বিজ্ঞ বা বোকা হোক, তিনি তার সামনে প্রকাশিত হয়ে স্বীয় মর্যাদা অনুযায়ী তার মাবুদের আসনে অধিষ্ঠিত আছেন। এ কারণে কেবলামুখী হওয়া এবং আরশে অধিষ্ঠানের কথা শরিয়তে বৈধ। রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেন, তোমরা কেউ যখন নামায পড়, তখন সরাসরি নিজের সামনের দিকে থুথু ফেলবে না। কারণ আল্লাহ্ তাঁর ও তাঁর কেবলার মাঝখানে থাকেন। অথচ আল্লাহ্ তা'য়ালা কোনো দিকে বা মধ্যে অবস্থান করা থেকে পবিত্র। তা সত্ত্বেও হাদীসে বলা হয়েছে, আল্লাহ্ কেবলা ও নামাজির মধ্যবর্তী স্থানে বর্তমান। অপর দিকে বাহ্যিক দৃষ্টিবানরা অনুমান করে লিখেছেন যে, আল্লাহর দিকপাশ বা দৈর্ঘ্য-প্রস্থ এবং রঙ রূপ কিছুই নেই। এখন লক্ষ্যণীয়, যখন বলা হয় যে, আল্লাহ্ এক এবং বস্তুত তা একটি জাত বা সত্তা, তখন এক বলার সঙ্গে সঙ্গে এর ছটি দিক তথা চার দিক এবং ঊর্ধ্ব ও অধঃ অবশ্যম্ভাবীরূপে আসে। এ ছয় দিক বাদে 'একের' অস্তিত্ব কল্পনাও করা যায় না। তাহলে এখানে আধার বা আধেয় তথা কোনো স্থানে আল্লাহর অবস্থান বোঝা যায়। এতে আল্লাহর সত্তার থেকে স্থান অধিক বড় বলে প্রমাণিত হয়। হাদীস শরীফের বক্তব্য যে, আল্লাহ্ কা'বা ও মুসল্লির মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এতেও আধার ও আধেয় এবং দৈর্ঘ্য-প্রস্থ থাকা পরিষ্কার প্রমাণিত হয়। তাছাড়াও হাদীসে প্রমাণ আছে যে, আল্লাহ্ আরশ থেকে পৃথিবীতে অবতরণ করেন এবং কিয়ামতে প্রেমিকরা তাঁর দিদার লাভ করবে। বস্তুত হাদীসে আল্লাহ্ তা'য়ালার অবস্থানের কথা উপমা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে যে, আল্লাহর অসীম শোভা সৌন্দর্য চাঁদ থেকেও উজ্জ্বলতর অনুভূত হবে। আর আল্লাহ তা'য়ালা যখন তাঁর প্রেমিকদের সামনে আপন হাঁট প্রকাশ করবেন, তখন তাঁর প্রেমিকরা এর শোভা-সৌন্দর্য দেখে বেহুঁশ হয়ে যাবেন। আল্লাহর এ উপমারূপ তাঁর প্রকাশ বৈশিষ্ট্য ছাড়া আর কী? এ কারণেই সাদৃশ্যতাহেত কিয়ামতের দিন মানব পদাংশ হাঁট তাদের দেখাবেন।

📚মাতলাউল উলুম।
✍️হযরত জানশরিফ শাহ সুরেশ্বরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি। 🌹

Address

Satgaon, Shirajdikhan
Dhaka
1543

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Ishq E Janshorif posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Ishq E Janshorif:

Shortcuts

Share