28/03/2026
গতকাল স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজে বাংলাদেশের সমরাস্ত্র দেখে অনেকেই হাসাহাসি করছেন, এটা মানতে পারছি না। আমি নিজেই সেই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলাম।
এবার আসুন কিছু বাস্তবতা আলোচনা করি:
সামরিক সক্ষমতা মানেই আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র, আর বিশাল বড় সেনাবাহিনীর বহর; বিষয়টি আসলে এমন নয়। একটি দেশের সামরিক সক্ষমতা বিবেচনায় তার আধুনিক সমরাস্ত্র ও সেনাবাহিনীর আকার অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, একইসাথে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেদেশের জনগণের মধ্যে থাকা দেশপ্রেম, কমিটমেন্ট, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিজ্ঞাবদ্ধের স্প্রিরিট।
এসবকিছুর সমন্বয়েই গড়ে উঠে একটি দেশের সামরিক সক্ষমতা।
আচ্ছা, ১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশের) সমরাস্ত্র বেশি ছিলো নাকি পাকিস্তানের সমরাস্ত্র বেশি ছিলো? তাহলে আমরা বিজয়ী হলাম কিভাবে? শুধু সমরাস্ত্রের জোরে সবকিছু হলে বাংলাদেশ তো স্বাধীন হওয়ার কথা না।
বাংলাদেশের জনগণের দেশপ্রেম আর সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার কমিটমেন্টই বাংলাদেশকে ৭১ সালে বিজয়ী করেছে।
এখন দেখুন ইরানের দিকে, সেখানে আম্রিকা/ই*জ্রিল মিলেও ইরানকে মাথা নত করাতে পারছে না, কারন ইরান আম্রিকার থেকে সমরাস্ত্রের দিক দিয়ে বেশি পাওয়ারফুল এমন নয়। কিন্তু ইরানের জনগণের আছে ১০০% দেশপ্রেম, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কমিটমেন্ট। তারা ময়দানে শহীদ হবে কিন্তু মাথা নত করবে না।
এই স্প্রিরিটই ইরানীদের বিজয়ের দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
তবে হ্যা, আধুনিক এযুগে এসব সমরাস্ত্র দিয়ে অপরাপর দেশগুলোকে টেক্কা দেওয়া সম্ভব না। আমাদের দিনে একবেলা খেয়ে হলেও সমরাস্ত্র বাড়াতে হবে। পারমাণবিক শক্তির দিকে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে, কারন আমাদের তিন দিকেই রয়েছে এক বিশাল দানবীয় শক্তি।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বাংলাদেশের বিগত ৫৫ বছরে কোন সরকারই সমরাস্ত্র বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেয়নি, কারন পাশের দেশের দাদারা অখুশি হবেন বলে।
আগামী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে আমরা আর এসব পুরোনো আমলের সমরাস্ত্র দেখতে চাই না। আমাদের সামনে অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র নিয়ে আসুন। দেশকে ভালোবাসি, বড্ড বেশি ভালোবাসি❣️
ফারুক হাসান
মুখপাত্র
গণঅধিকার পরিষদ