12/09/2026
শিশুর ছোটবেলায় পর্যাপ্ত পানি খাওয়ানো মানেই প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি গুনে গুনে খাওয়ানো নয়। বরং নিয়মিত অল্প অল্প করে পানি পান করার অভ্যাস তৈরি করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণভাবে প্রিস্কুল বয়সী শিশুদের দিনে প্রায় ৪–৫ কাপ পানি প্রয়োজন হতে পারে, তবে এই প্রয়োজন শিশুভেদে বদলে যায়। গরমের দিনে, বেশি খেলাধুলা করলে, অনেক ঘামলে, জ্বর বা সর্দি-কাশি হলে কিংবা বেশি লবণযুক্ত খাবার খেলে শরীরে পানির চাহিদা বেড়ে যেতে পারে। তাই শুধু একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা ধরে না থেকে শিশুর বয়স, দৈনন্দিন কাজকর্ম, আবহাওয়া ও শরীরের অবস্থার দিকে খেয়াল রাখা ভালো।
শিশুর তৃষ্ণা সবসময় স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া, প্রস্রাব গাঢ় হলুদ হওয়া, শরীর নিস্তেজ বা দুর্বল লাগা, খিটখিটে মেজাজ কিংবা বড় শিশুদের ক্ষেত্রে মাথাব্যথা পানির ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে ছোট শিশুদের শরীর থেকে পানি দ্রুত কমে যেতে পারে, তাই তারা নিজেরা পানি চাইবে এমন অপেক্ষা না করে মাঝে মাঝে পানি দেওয়ার অভ্যাস করা ভালো। খেলাধুলার পর পানি দেওয়া, শিশুর নাগালের মধ্যে ছোট পানির বোতল রাখা এবং প্রতিদিনের রুটিনে ছোট ছোট ‘পানির বিরতি’ রাখা, খুব সহজ কিছু উপায়। পাশাপাশি বাবা-মা নিজেরাও নিয়মিত পানি পান করলে শিশুরা সেটা দেখে স্বাভাবিকভাবেই অভ্যাসটি শিখতে পারে।
পানি খাওয়ানোর অভ্যাস তৈরি করতে প্রতিবার মনে করিয়ে দেওয়া বা জোর করার প্রয়োজন নেই। বরং পরিবারের সবাই মিলে দিনে কয়েকবার স্বাভাবিকভাবে ‘পানির বিরতি’ নিতে পারেন। যেমন, সবাই একটু থামল, কয়েক ঢোক পানি খেল, তারপর আবার নিজের কাজে ফিরে গেল। এতে পানি পান করা শিশুর কাছে আলাদা কোনো কাজ মনে হবে না, বরং প্রতিদিনের জীবনের স্বাভাবিক অংশ হয়ে উঠবে। প্রতিটি ফোঁটা পানি মেপে রাখার চেয়ে নিয়মিত পানি সহজে পাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া, শান্তভাবে উৎসাহ দেওয়া এবং শিশুর প্রয়োজনের দিকে খেয়াল রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অল্প অল্প করে নিয়মিত পানি পান করার এই ছোট অভ্যাসটাই শিশুর সুস্থতার জন্য বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
সুকুন কিডস
ফুলের মতো মন…