18/08/2026
🥰প্রথমেই এই মহান উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই!!
একটা রাতের কথা বলি। বউকে নিয়ে বাসায় ফিরছিলাম, রাত প্রায় একটা, গুলিস্তান এসে থমকে গেলাম। রাস্তায় বাসের দেখা নেই বললেই চলে, যে দু'একটা আসছে তাতেও তিল ধারণের জায়গা নেই। আর মহিলা যাত্রী দেখলেই হেল্পারদের হাত সোজা হয়ে যায়— "উঠতে দেওয়া যাবে না।"
পাশে দাঁড়ানো এক বোন বললেন, ঘণ্টাখানেক ধরে দাঁড়িয়ে আছেন, একটা বাসও তাকে তোলেনি।
আমি স্ত্রীকে নিয়ে দাঁড়িয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে রাজি ছিলাম না। সমস্যা হলো সিএনজিওয়ালারাও তখন সুযোগ বুঝে গেছে। যে ভাড়া স্বাভাবিক সময়ে দেড়শো-দুইশো টাকা, সেটাই চাইছে পাঁচ-ছয়শো। অটোর ভাড়া তিনশো পঞ্চাশে ঠেকেছে। শেষমেশ চল্লিশ টাকার পথ তিনশো পঞ্চাশ টাকায় পার হয়ে বাসায় ফিরেছি।
আরেকদিনের ঘটনা। সন্ধ্যা, গ্যাস সংকট, রাস্তায় বাস নেই, সিএনজি নেই। ফ্লাইওভারের ওপাশে একটা রিকশাও নেই— অথচ প্রায় হাজারখানেক মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে। বাস আসছে টিমটিম করে, একটার পর একটা, তবু চাহিদার তুলনায় কিছুই না। আর সেই ভিড়ের মধ্যেই দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য নারী, শিশু, মা। কাউকে কাউকে দেখলাম পুরুষদের ঠেলে বাসে উঠে পুরুষদের ভিড়ের মধ্যেই কোনোরকমে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন, উপায় নেই বলে।
এভাবে ঠাসাঠাসি ভিড়ে একজন নারী বাসে উঠলে কী ঘটে, তা নতুন করে বলার কিছু নেই। কোন হাত কোথায় গিয়ে ঠেকে, কে কার গা ঘেঁষে দাঁড়ায় "জায়গা নেই" বলে— এই শহরের প্রতিটা মেয়ে, প্রতিটা মা এই অভিজ্ঞতার সাক্ষী। আট বছর ধরে ঢাকার রাস্তায় ঘুরে আমার নিজের অভিজ্ঞতা বলে, রাস্তায় দেখা প্রতি দশজন পুরুষের নয়জনকেই কোনো না কোনো মুহূর্তে সন্দেহের চোখে দেখতে বাধ্য হয়েছি।
তাই আজ যখন "পিংক বাস" চালু হলো, এটা শুধু একটা যানবাহন সেবা না— এটা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলার জায়গা, একটু নিরাপদে দাঁড়ানোর অধিকার। চাই এই উদ্যোগটা সরকার সঠিকভাবে, দায়িত্ব নিয়ে চালিয়ে যাক। নগর পরিবহনের মতো পরিণতি যেন এর না হয়— শুরুতেই উদ্যম হারিয়ে হারিয়ে যাওয়া চলবে না।
আর যারা পিংক বাস নিয়ে হাসাহাসি করছেন, ঠাট্টা করছেন— একটু ভালো করে খেয়াল করুন, এরাই সেই মানুষ, যাদের হাত অন্যের অজান্তে কারো গায়ে লাগে, যারা "ভুলবশত" গা ঘেঁষে দাঁড়ায়, যারা ইভটিজিং করে মজা পায়। এই হাসিই তাদের আসল পরিচয় বলে দেয়।
এই যাত্রা নিরাপদ হোক। এই উদ্যোগ টিকে থাকুক, এগিয়ে যাক।✌️