MTV24

MTV24 জনতার কথা বলে
সব দিকের খবর ,সব সময় ,সবার আগে।
শুধুমাত্র ইনবক্স, সত্য প্রকাশে আপোষহীন

ঢাবি’র সদ্য-সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের বিদায়ী বক্তব্যঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত সকল অংশীজন,  শুভার্থী...
17/03/2026

ঢাবি’র সদ্য-সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের বিদায়ী বক্তব্য

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত সকল অংশীজন, শুভার্থী ও প্রিয় দেশবাসীর প্রতি...

আপনাদের সবাইকে সালাম ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বিনীতভাবে জানাচ্ছি যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পদ থেকে অব্যাহতির জন্য আমার আবেদন সরকারের অনুমোদন পেয়েছে। আমি আজ আমার মূল পদ- তথা উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগে অধ্যাপনায় ফিরে যাচ্ছি। আমি মনে করেছি, আমার দায়িত্ব এখন শেষ হয়েছে। একটি আপৎকালীন সময়ে দেশ ও জাতির স্বার্থে ছাত্রদের অনুরোধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব নিয়েছিলাম। তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম কার্যত বন্ধ ছিল, প্রশাসনিক কাঠামো অকার্যকর হয়ে পড়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে প্রথম লক্ষ্য ছিল একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থিতিশীলতায় ফেরানো। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে উদয়াস্ত কাজ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি করা সম্ভব হয়েছে। এখন আর সেই আপৎকালীন নাজুক পরিস্থিতি নেই। উপাচার্য হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর আমার কাছে এটি ছিল ‘উদ্ধারকারী মিশন’ (Salvage Operation)। আমি কখনোই এটিকে ‘চাকরি’ মনে করিনি। আমার নিয়োগপত্রেও ‘সাময়িক’ নিয়োগের কথাটি লেখা ছিল। চেষ্টা করেছি, সবাইকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অচল অবস্থা থেকে একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে নিয়ে আসার। এখন বিভিন্ন মাপকাঠিতে বিশ্ববিদ্যালয় মোটামুটি ভালো অবস্থায় আছে। এখনো সীমাবদ্ধতা আছে, তবে সার্বিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্পষ্ট। আপৎকালীন পরিস্থিতি আমরা উত্তরণ করতে পেরেছি।
উপাচার্যের দায়িত্বটি আমার কাছে ছিল একটি ‘আমানত’। দায়িত্বকালে আমাদের বেশ কিছু অর্জন রয়েছে, কিছু ব্যর্থতাও আছে। উল্লেখযোগ্য অর্জনগুলোর কয়েকটি- বিনীতভাবে আপনাদের জানাচ্ছি :

স্মরণকালের সর্ববৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প :
প্রায় ২,৮৪১ কোটি টাকার ‘অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প’ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে স্মরণকালের সর্ববৃহৎ প্রকল্প। এই প্রকল্পের অধীনে ৬টি একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ২৬০০ ছাত্রীর জন্য ৪টি আবাসিক হল নির্মাণ, ৫১০০ ছাত্রের জন্য ৫টি আবাসিক হল নির্মাণ, ৫টি ছাত্র হলের জন্য এবং ৪টি ছাত্রী হলের জন্য হাউজ টিউটর আবাসন সুবিধা তৈরি, শিক্ষক ও অফিসারদের জন্য ২টি আবাসিক ভবন নির্মাণ, ৫টি অন্যান্য ভবন (প্রশাসনিক ভবনসহ) নির্মাণ, ৪টি জলাধার সংস্কার এবং সৌন্দর্যবর্ধন, বিদ্যমান সার্ভিস লাইন মেরামত/সংস্কার, ১টি খেলার মাঠ উন্নয়ন, ২টি পাবলিক টয়লেট নির্মাণ এবং ড্রেনেজ সিস্টেম ও ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট করা হবে। এছাড়া চীন সরকারের অর্থায়নে ২৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ছাত্রীদের জন্য পৃথক আরেকটি হল নির্মাণ করা হচ্ছে।

র‌্যাঙ্কিং ও গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি:
ক) টাইমস হায়ার এডুকেশন র‌্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গতবারের তুলনায় ২০০ ধাপ এগিয়ে ৮০০-১০০০ অবস্থানের মধ্যে রয়েছে। এছাড়া, কিউএস বিষয়ভিত্তিক টেকসই (Sustainability) র‌্যাঙ্কিংয়ে অংশগ্রহণ করে বিশ্বসেরা টেকসই বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায়ও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষ স্থান অধিকার করেছে। তৃতীয়বারের মতো বিশ্বসেরা ১০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৬৩৪তম স্থান লাভ করেছে।

খ) যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিশ্বখ্যাত শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডস (QS) প্রকাশিত ২০২৬ সালের ‘QS World University Rankings 2026’ তালিকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বের সেরা ৬০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। এবারের র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৫৮৪তম, যা বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে।

গ) কিউএস বিষয়ভিত্তিক বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্থান পেয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি বিভাগ। ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ক্যাটাগরিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গতবছরের তুলনায় এবছর ১০০ ধাপ এগিয়ে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ৪০১ থেকে ৪৫০ এর মধ্যে, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ ৫৫১ থেকে ৬০০ এর মধ্যে, ইঞ্জিনিয়ারিং-ইলেক্ট্রিক্যাল এবং ইলেক্ট্রনিক বিভাগ ৫০১ থেকে ৫৫০ এর মধ্যে, ইঞ্জিনিয়ারিং-মেকানিক্যাল, এরোনেটিক্যাল বিভাগ ৫০১ থেকে ৫৭৫ এর মধ্যে অবস্থান করছে।
সোশ্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট ক্যাটাগরিতে গত বছরের তুলনায় ৫০ ধাপ এগিয়ে বর্তমানে সারাবিশ্বে ৪০১ থেকে ৪৫০ এর মধ্যে অবস্থান করছে। এই ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত একাউন্টিং অ্যান্ড ফিন্যান্সে বিভাগ ২৫১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে, বিজনেস অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ ৪০১ থেকে ৪৫০ এর মধ্যে, ইকোনমিক অ্যান্ড ইকোনমেট্রিক্স বিভাগ ৩৫১ থেকে ৪০০ এর মধ্যে, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ ৩০১ থেকে ৩৭৫ এর মধ্যে অবস্থান করছে।
লাইফ সায়েন্স অ্যান্ড মেডিসিন ক্যাটাগরিতে মেডিসিন বিভাগ ৬৫১ থেকে ৭০০ এর মধ্যে অবস্থান করছে। ন্যাচারাল সায়েন্স ক্যাটাগরিতে ফিজিক্স অ্যান্ড এস্ট্রানোমি বিভাগ ৫৫১ থেকে ৬০০ এর মধ্যে অবস্থান করছে।
আর্টস অ্যান্ড হিউমেনিটিস ক্যাটাগরিতে ৫০১ থেকে ৫৫০ এর মধ্যে অবস্থান করছে।

ঘ) দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশিত টাইমস হায়ার এডুকেশন ইন্টারডিসিপ্লিনারি সায়েন্স র‌্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের ৯৪টি দেশের ৯১১টি বিশ্ববিদ্যালয়কে পেছনে ফেলে ৫২তম এবং দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ঙ) বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বৈজ্ঞানিক গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশের সংখ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষস্থান অধিকার করে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্কোপাস ডাটাবেজের তথ্য বিশ্লেষণ করে ‘সায়েন্টিফিক বাংলাদেশ’ ম্যাগাজিন এই তথ্য প্রকাশ করে।

চ) কিউএস এশিয়া ইউনিভার্সিটি র‌্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে শীর্ষ স্থান অধিকার করেছে এবং এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অবস্থান ছিল ১১২তম।

ছ) অসাধারণ গবেষণাকর্মের জন্য প্রথমবারের মতো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৫ জন শিক্ষক ও গবেষক বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন। এই তালিকা যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও নেদারল্যান্ডসভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এলসেভিয়ার প্রকাশ করেছে। এসব অর্জন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও একাডেমিক উৎকর্ষতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিকে আরও সুদৃঢ় করেছে।

নিয়োগে স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ
নিয়োগে স্বচ্ছতা, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতি চালু করার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো সিন্ডিকেট কর্তৃক অনুমোদিত সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম (এসএমটি) গঠনের মাধ্যমে উপাচার্যের একচ্ছত্র ক্ষমতা হ্রাস করা হয়। স্বচ্ছতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে উপাচার্যের ক্ষমতা ব্যবহারের পরিবর্তে সার্চ কমিটির মাধ্যমে উচ্চতর গবেষণাকেন্দ্র সমূহে পরিচালক নিয়োগ করা হয়। স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে গত ১৭ মাসে ৬৯ জন লেকচারার নিয়োগ করা হয়েছে। ২টি নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিযোগ আসার পর সিন্ডিকেট কর্তৃক পূর্ণাঙ্গ রিভিউ করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ডাকসু নির্বাচন
ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে।

জন ও ছাত্র কল্যাণমূলক কর্মসূচি :
ক) আবাসিক হলে গণরুম প্রথা বিলুপ্তিকরণ
আবাসিক হলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত গণরুম প্রথার কারণে শিক্ষার্থীদের মানবেতর পরিস্থিতিতে বসবাস করতে হতো; মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থী এবং প্রভাবশালী ছাত্রনেতা-নেত্রীদের অবৈধ সিট দখলের ফলে অনেক সময় একটি কক্ষেই ৩০-৪০ জন শিক্ষার্থীকে গাদাগাদি করে থাকতে বাধ্য করা হতো। আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর দীর্ঘদিনের গণরুম প্রথা বাতিল করে মেধা ও প্রকৃত প্রয়োজনের ভিত্তিতে আসন বণ্টনের নীতিমালা চালু করি, যা অতীতে কোন সময় হয়নি। ফলে হলগুলোর আবাসন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা, ন্যায়সঙ্গতা ও স্বচ্ছতা প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো প্রথম বর্ষের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা আবাসনের সুযোগ পাচ্ছে।
এছাড়া, হলগুলোতে সুপেয় পানির ব্যবস্থা, খাবারের মানোন্নয়ন, সহ-শিক্ষামূলক কার্যক্রম গ্রহণসহ বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জীবনমান উন্নয়নে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

খ) শিক্ষার্থীদের কল্যাণে নিয়মিত বাজেটের বাইরে ব্যয়
আবাসিক হলসমূহে প্রায় ৫.৫ কোটি টাকার আসবাবপত্র ও প্রায় ১.৫ কোটি টাকার ফ্যান সরবরাহ করা হয়েছে।
সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের সংস্কার কাজের জন্য প্রায় ৫.২৫ কোটি টাকা, ভূমিকম্প পরবর্তী বিভিন্ন হলের সংস্কার কাজে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

গ) বিশেষ আপৎকালীন আর্থিক সহায়তা

হলে আবাসিক সিট পাওয়ার সকল শর্ত পূরণ করা সত্ত্বেও যেসব ছাত্রীকে আসন বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, তাদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব অর্থায়নে বিশেষ আপৎকালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ন্যায্যতা ও প্রকৃত প্রয়োজনের ভিত্তিতে ৫টি ছাত্রী হলের অসচ্ছল ও প্রান্তিক ছাত্রীদের প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা হারে এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

ঘ) ট্রান্সক্রিপ্ট, মার্কশীট ও সার্টিফিকেট সেবায় শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ

শিক্ষার্থীদের ট্রান্সক্রিপ্ট, মার্কশীট ও সার্টিফিকেট সংক্রান্ত সেবার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ট্রান্সক্রিপ্টের অনলাইন আবেদন পদ্ধতি কার্যকর রয়েছে এবং আবেদন ও উত্তোলনের ধাপসমূহ ওয়েবসাইটে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

ঙ) অনলাইনে ভর্তি ফি প্রদান
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রথমবর্ষ আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও হলের জামানতসহ বিভিন্ন ফি অনলাইনে বা নিজ নিজ অফিসে জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। এর ফলে ব্যাংকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ফি জমা দেওয়ার ভোগান্তি দূর হয়েছে এবং ভর্তি প্রক্রিয়া আরও সহজ ও শিক্ষার্থীবান্ধব হয়েছে।

চ) ক্যাম্পাসে শাটল পরিবহণ সার্ভিস চালুকরণ

শিক্ষার্থীদের অভ্যন্তরীণ চলাচল সহজ ও সুবিধাজনক করার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো তিনটি নির্ধারিত রুটে ক্যাম্পাসে শাটল পরিবহণ সার্ভিস চালু করা হয়েছে।

ছ) অনলাইনে রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট তালিকাভুক্তিকরণ

রেজিস্টার্ড গ্র্যাজুয়েট তালিকাভুক্তি ম্যানুয়েল পদ্ধতি থেকে সম্পূর্ণ অনলাইনে রূপান্তর করার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ, প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড ও ফি পরিশোধ সম্পন্ন হবে।

জ) মেডিকেল সেন্টারের আধুনিকায়নে পদক্ষেপ
শহিদ বুদ্ধিজীবী ডা. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন ও জরুরি চিকিৎসা সেবা জোরদারে প্রায় ২ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স, এক্স-রে ও ইসিজি যন্ত্রপাতি সংযোজনের পাশাপাশি ইমার্জেন্সি ইউনিট স্থাপন করা হয়েছে।

ঝ) কেন্দ্রীয় মসজিদ সংস্কার

তুরস্কের সর্ববৃহৎ বেসরকারি সাহায্য সংস্থা IDDEF-এর অর্থায়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আধুনিক এই মসজিদ কমপ্লেক্সে ইবাদতের পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগসহ সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকবে। সর্ববৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায়ও মসজিদ পুনর্নির্মাণের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত আছে। প্রায় ৪০ বছর পর বেসরকারি উদ্যোক্তা সহায়তায় মসজিদের ব্যাপক সংস্কার করা হয়েছে।

অন্তর্ভুক্তিমূলক নানা উদ্যোগ

ক) সর্বোচ্চ পূজামন্ডপ
অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবে এবছর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একযোগে সর্বাধিক ৭৬টি পূজামন্ডপে সরস্বতী পূজা উদযাপন করা হয়, যা গিনেজ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এ অন্তর্ভুক্তির বিবেচনাধীন রয়েছে।

খ) আনন্দ শোভাযাত্রা
সকল শ্রেণি ও নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে বৃহত্তম ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ বের করা হয়।

গ) ঈদ শোভাযাত্রা
ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে গতবছর সকলকে নিয়ে সর্বজনীন ‘ঈদ শোভাযাত্রা’ বের করা হয়।

ঘ) চৈত্র সংক্রান্তির বিশেষ ছুটি
চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে বিশেষ ছুটি অনুমোদন করা হয়েছে। এছাড়া, নৃ-গোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে আগামী ১২-১৬ এপ্রিল উৎসব চলাকালীন পরীক্ষা গ্রহণ না করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের চেয়ারম্যন/ইনস্টিটিউটের পরিচালককে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ঙ) বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বিশেষ সুবিধা

বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার উত্তরপত্র আলাদা প্যাকেটে রেখে সরাসরি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে প্রেরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

‘সাত কলেজ’ পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান

সরকার ও বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সমন্বয় করে ‘সাত কলেজ’ বিষয়ে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যার সমাধান করা হয়। ‘সাত কলেজের’ সব প্রশাসনিক, একাডেমিক ও আর্থিক দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে নতুন নীতিমালা

স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের লক্ষ্যে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

জুলাই বিপ্লব সংক্রান্ত পদক্ষেপ সমূহ

বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কর্নার’, ডাকসু ভবনে ‘জুলাই স্মৃতি সংগ্রহশালা’ এবং নবনির্মিত ‘জুলাই শহিদ স্মৃতি ভবন’ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহিদ ও আহতদের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং শ্রদ্ধা নিবেদনের স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। সংগ্রহশালায় শহিদদের ব্যবহৃত সামগ্রী, ডকুমেন্টারি নির্মাণ, গ্রাফিতি সংরক্ষণ, স্মরণিকা প্রকাশ, জুলাই যোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়ন ও স্মৃতিস্তম্ভ স্থাপনের মতো উদ্যোগ চলমান রয়েছে।
জুলাই আন্দোলনে আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ‘জুলাই শহিদ স্মৃতি ভবন’-এ বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পরিবেশ সংরক্ষণে বিশেষ ভূমিকার জন্য স্বীকৃতি অর্জন

পরিবেশ সংরক্ষণে অনুকরণীয় ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশেষ সম্মাননা অর্জন করেছে। আতশবাজি, পটকা ও ফানুস নিষিদ্ধ করে বায়ু, শব্দ ও রাসায়নিক দূষণ হ্রাস, অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমানো, পাখি ও বন্যপ্রাণী রক্ষা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদানের জন্য সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে এই স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

শিক্ষাগত উৎকর্ষতা ও শিল্প-সংযোগ

ক) শিক্ষা ও গবেষণার আধুনিকায়ন, শিল্প-সংযোগ শক্তিশালীকরণ এবং শিক্ষার্থীদের বাজারমুখি দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ পদক্ষেপ হিসেবে ‘Industry Collaboration and Employment Committee (ICEC)’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

খ) শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার দক্ষতায় বিশেষ সার্টিফিকেট কোর্স চালু
করা হয়েছে।

গ) জব ফেয়ার আয়োজন করা হচ্ছে।

ঘ) পাইলট ভিত্তিক রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ চালু করা হয়েছে।

আরও কিছু বিশেষ কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে:

ক) গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার জন্য ডেমোক্রেসি ল্যাব স্থাপন

খ) ২৭টি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কিং ভিত্তিক গবেষণা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ

গ) ইউনেস্কো চেয়ার স্থাপন

ঘ) কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে ২৯টি আন্তর্জাতিক মানের ই-রিসোর্স সাবস্ক্রাইব

ঙ) ট্রাস্ট ফান্ড প্রতিষ্ঠার হার ২০০ শতাংশ বৃদ্ধি

চ) যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন এবং বুলিং ও র্যাগিং প্রতিরোধে পদক্ষেপ

ছ) ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার

বিশেষ কিছু উদ্যোগ:
প্রায় ১৫০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্ধের মাধ্যমে ভূমিকম্প পরবর্তী আবাসিক হলসমূহের অবকাঠামোগত সংস্কার কাজ সম্পূর্ণ করা হয়।

নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সমাজভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও অপরাপর অংশীজনের সহযোগিতায় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রচেষ্টা চালানো হয়।

নতুন প্রশাসনের সামনে চ্যালেঞ্জ:
আমি যেভাবে দেখি- নতুন প্রশাসনের সামনে ইমিডিয়েট চ্যালেঞ্জ হলো ৩টি। তা হলো:
১. ২ হাজার ৮শ’ ৪১ কোটি টাকার অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পে সম্ভাব্য রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ কমিয়ে পেশাগত দক্ষতার সাথে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা।
২. বিকেন্দ্রীকরণ-সহ প্রশাসনিক এবং আর্থিক যে সংস্কার কার্যক্রম, যা কিছু উপরে উল্লেখ করেছি তা চালু রাখা ও সংহত করা।
৩. রাজনৈতিক বিবেচনায় আবাসিক হলে দখলদারিত্ব এবং গণরুম প্রথা চালুর মতো নিবর্তনমূলক সম্ভাব্য প্রবণতা মোকাবিলা করা, ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতির প্রকৃতি বিষয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে মতৈক্যের ভিত্তিতে ‘সামাজিক চুক্তি’ তৈরির যে উদ্যোগ আমরা গ্রহণ করেছিলাম, কাজও শুরু করেছিলাম- তবে তা শেষ করতে পারিনি- তা চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা, ছাত্র সংসদ নির্বাচনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাপর নির্বাচন ভিত্তিক গণতান্ত্রিক ফোরামসমূহ পরিপূর্ণভাবে কার্যকর করা এবং সরকারি ও সরকার দলীয় নির্ভরতা কমিয়ে সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী করা।

আবারও আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলছি, আমার কোনো দলীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই। বিনীতভাবে অনুরোধ করছি, কোনো সময়ে আমার কোনো দলীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পেলে আমাকে জানান। আমি কোনো ছাত্র সংগঠনকে সুবিধা দেই নি, অসুবিধাও করিনি। অসত্য বয়ানকারী ও চরিত্রহননকারীদের প্রতি আমার কোনো ক্ষোভ নেই। এ’বিষয়গুলোর মূল্যায়ন আমি দেশবাসীর উপরই ছেড়ে দিতে চাই এবং এক্ষেত্রে আমি মহান আল্লাহর সাহায্য কামনা করি।

পরিশেষে বলতে চাই, অনেকদিন কঠোর পরিশ্রম করেছি। এখন আমার কিছু বিশ্রাম প্রয়োজন। আমার কাজগুলো যারা সহজ করেছেন- বিশেষ করে সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম, ডিনবৃন্দ, প্রভোস্টবৃন্দ, বিভাগের চেয়ারম্যান/ইনস্টিটিউটের পরিচালকবৃন্দ, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং সর্বোপরি প্রাণপ্রিয় শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং সুযোগ্য ছাত্র প্রতিনিধিবৃন্দ- তাঁদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, একজন যোগ্য উত্তরসূরি আমার ভাই ও বন্ধু অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করতে যাচ্ছি। তাঁর নতুন প্রশাসনের জন্য রইল নিরন্তর শুভকামনা।

আমার অনেক সীমাবদ্ধতা এবং ব্যর্থতা সত্ত্বেও আপনাদের সবার সমর্থনে এবং সংশ্লিষ্ট সহকর্মীদের প্রত্যক্ষ অবদানে ভালো যা কিছু করার তৌফিক আল্লাহ আমাকে দিলেন-তার জন্য আপনাদের সবার প্রতি আবারও কৃতজ্ঞতা। এই দীর্ঘ পোস্টটি পড়ার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ জানাই।

আমি দেশে এবং শিক্ষা সেবাতেই থাকছি- ইনশাআল্লাহ। দেশের ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনে যদি কোন কাজে লাগতে পারি, তার জন্য সব সময় প্রস্তুত আছি। আপনাদের প্রত্যেকের জন্য দোয়া ও শুভ কামনা। ভালো থাকুন।

নিয়াজ আহমদ খান
তারিখ :১৭/৩/২০২৬

পুনশ্চ: ঢাবি প্রশাসনের কার্যক্রম ও অর্জনসমূহ নিয়ে প্রকাশিত বুকলেট এবং এ সংক্রান্ত ইনফোগ্রাফিক কমেন্টে সংযুক্ত করা হলো।

পতিতা, শরাব আর সুলতান মুরাদঅটোমান সাম্রাজ্যের সুলতান তিনি। সুলতান মুরাদ প্রায়শয়ই ছদ্মবেশে তার রাজ্যের লোকেদের অবস্থা পর্...
17/03/2026

পতিতা, শরাব আর সুলতান মুরাদ

অটোমান সাম্রাজ্যের সুলতান তিনি। সুলতান মুরাদ প্রায়শয়ই ছদ্মবেশে তার রাজ্যের লোকেদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে বের হতেন। এক সন্ধ্যায় তিনি নিজে বিশেষ ভালো বোধ করছিলেন না বিধায় নিরাপত্তাবাহিনীর প্রধানকে তলব করলেন তার সঙ্গী হতে। ঘুরতে ঘুরতে তারা এক জনবহুল জায়গায় এসে দেখলেন, এক লোক রাস্তায় পড়ে আছে।

সুলতান লাঠি দিয়ে খোঁচা মেরে বুঝতে পারলেন লোকটি মৃত, অথচ চারপাশে মানুষে গিজগিজ করলেও কারও কোনো ভ্রুক্ষেপ ছিল না বিষয়টি নিয়ে।

সুলতান আশেপাশের লোকজনদের ডাকলেন। তারা এগিয়ে এলো। কিন্তু ছদ্মবেশে থাকায় কেউই চিনতে পারল না নিজেদের শাসককে।

তিনি তাদের জিজ্ঞাসা করলেন, ‘লোকটা মরে পড়ে আছে, তবুও কেউ এগিয়ে আসছে না কেন? লোকটির পরিবারের কেউ নেই?’

‘আরে এ তো একজন ব্যাভিচারী, মদ্যপ কুলাঙ্গার!’ লোকগুলো বলে উঠল।

‘যাই হোক, সে তো আমাদের নবি (সাঃ)-এর উম্মাতেরই একজন, নাকি? এখন আমাকে তার বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যেতে সাহায্য করুন’- সুলতান বললেন। লোকেরা সুলতানের সাথে মৃত লোকটিকে তার বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে আসল, এরপর চলে গেল। সুলতান আর তার সহযোগী সেই প্রধান থেকে গেলেন।

লোকটির স্ত্রী মৃতদেহকে দেখা মাত্র কান্নায় ভেঙে পড়লেন। তিনি বলতে লাগলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ আপনার প্রতি সদয় থাকবেন! ও আল্লাহর বান্দা, হে আমার প্রিয়তম স্বামী, আমি তো দেখেছি আপনি সবসময় কতটা নিষ্ঠাবান ছিলেন!’

সুলতান মহিলাটির কথা শুনে আশ্চর্য হয়ে গেলেন। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, ‘সবার থেকে যা কিছু শুনলাম, এরপরও সে নিষ্ঠাবান কীভাবে হয়? যেখানে দুশ্চরিত্রের জন্য সে এতটাই ঘৃণিত যে ,তার মৃত্যু নিয়েও কারো মাথাব্যথা ছিল না?’

লোকটির স্ত্রী জবাব দিলেন, ‘আমি জানতাম এমনই হবে। তিনি প্রতি রাতে সরাইখানায় যেতেন ও পয়সায় যতটকু সম্ভব হতো, ততটুকু শরাব কিনে ঘরে নিয়ে আসতেন। এনেই সেগুলো নর্দমায় ফেলে দিতেন। তিনি বলতেন, ‘আমি আজ মুসলিমদের অল্পখানি বাঁচিয়ে দিলাম।’ তারপর তিনি কোনো পতিতাকে কিছু টাকা দিয়ে ঘরে নিয়ে আসতেন এবং ভোর পর্যন্ত তাকে কুরআন পাঠ করে শুনাতেন। তিনি বলতেন, ‘আজ আমি এক তরুণীকে এবং ঈমানদার কোনো যুবককে পাপ কাজে জড়িয়ে পড়া থেকে বাঁচালাম।’

লোকেরা তাকে শরাব কিনতে ও পতিতালয়ে যেতে দেখত এবং এই কারণেই তারা তাকে নিয়ে নানা ধরনের কথা বলতে শুরু করে। আমি একদিন তাকে বললাম, ‘আপনি মারা গেলে না কেউ গোসল করানোর থাকবে, না কেউ জানাজা পড়তে আসবে। কবর দেওয়ার জন্যও তো কেউ থাকবে না।’

তিনি হেসে বলেছিলেন, ‘ভয় পেয়ো না, ঈমানদারদের সুলতান আর সকল ধর্মনিষ্ঠ ব্যক্তিরাই আমার জানাজায় উপস্থিত থাকবেন।’

সুলতান এই কথা শুনে আর চোখের পানি ধরে রাখতে পারলেন না। তিনি বললেন, ‘আল্লাহর কসম! তিনি ঠিকই বলেছিলেন। কারণ আমিই সুলতান মুরাদ। আগামীকাল আমরা তাকে গোসল করিয়ে, জানাজা পড়ে সম্মানের সাথে কবর দিয়ে আসব।’

এমনই হলো। স্বয়ং সুলতান মুরাদ, রাজ্যের বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, সকল ধর্মপ্রাণ ও এলাকার জনসাধারণ সবাইই তার জানাজায় অংশগ্রহণ করল।

আমরা যা দেখি আর লোকমুখে যা শুনি, তা থেকেই মানুষকে বিচার করার চেষ্টা করি। অথচ আমরা জানিও না তাদের মনের অন্তস্থলে কী চলে, যার কথা কেবলমাত্র বান্দা আর তার রবই জানেন।

‘হে মুমিনগণ, তোমরা অধিক অনুমান থেকে দূরে থাকো। নিশ্চয়ই কোনো কোনো অনুমান তো পাপ। আর তোমরা গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গীবত করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ তার মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে পছন্দ করবে? তোমরা তো তা অপছন্দই করে থাকো। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ অধিক তাওবা কবুলকারী, অসীম দয়ালু।’ (কুরআন ৪৯ঃ১২)

[কাহিনিটি ইস্তাম্বুলের ইউলিয়া নলিঞ্চি মিমি হতে সংগৃহীত]

16/03/2026

উত্তরা আধুনিক হাসপাতালের তিন তলার বেডে শুয়ে আছি। আমার হাত থেকে ধীরে ধীরে রক্ত যাচ্ছে, ও পজিটিভ।
বাইরে শুনলাম আরও পাঁচজনের লম্বা লাইন, তারা এসে দাঁড়িয়েছে রক্ত দিতে।

রক্ত নেয়া প্রায় শেষের দিকে। এমন সময় এক মহিলা ডাক্তার এসে শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করলেন, “সকালে কিছু খাইছো?”

আমি উত্তর দেয়ার আগেই তিনি ব্যাগ থেকে পাঁচশো টাকার একটা নোট বের করে হাতে ধরিয়ে দিলেন। বললেন, “বাইরে সিপি আছে। কিছু খেয়ে নিও।”

পকেটে রাখা ফোনটা ভাইব্রেট করছিল। ফোন যার, সে তখন মাথায় গুলি নিয়ে ইমারজেন্সিতে শুয়ে আছে। ফোন ধরা সম্ভব না।

সামনের টেবিলে রাখা পানির বোতল থেকে দুই ঢোক পানি খেয়ে দ্রুত নিচে নেমে গেলাম।

কিছুক্ষণ পর আমার রক্তের ব্যাগও নিচে আনা হলো। কিন্তু তখন আর তেমন কোনো তাড়া নেই, রক্তগ্রহীতা আর রক্ত নিচ্ছে না।

আমার বিশ্বাস ছিল সে বাঁচবে।

কারণ রিকশাওয়ালা মামা এক সেকেন্ডও দেরি করে নাই। এক মহাকাব্যিক গতিতে রিকশা চালিয়ে সরাসরি ইমারজেন্সির দরজায় ঢুকিয়ে দিয়েছে।

ক্লাস নাইনে পড়া ছোট্ট জীবনটার হায়াত তখন শেষ।

ডাক্তারের কথা মনে পড়ল। তাই সিপিতে ঢুকে দুইটা চিকেন ললিপপ নিয়ে গোগ্রাসে খেয়ে ফেললাম।
তারপর আবার বিএনএস এর সামনে ফিরে গেলাম।

আজ হঠাৎ আফসোস হচ্ছে! অজানা অচেনা ছেলেটা কে তার বিদায় বেলায় অযথা নাম, ঠিকানা প্রশ্ন করেছি।
আমার প্রশ্ন করা উচিত ছিল, ঠিক কোন আবেগের বসে তুমি এইখানে আসলা? রাষ্ট্র তো আবেগ দিয়ে চলে না।

ধন্যবাদ সালাহউদ্দিন সাহেব, আপনি আমাকে মনে করায় দিসেন। রাষ্ট্র আবেগ দিয়ে চলে না, আবেগের কাফফারা শুধুই তাজা মগজ আর জমাট বাঁধা রক্ত।
Cp

মুরগিবাহী গাড়ি থেকে ১৬০টি মুরগি ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠার পর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাত্...
16/03/2026

মুরগিবাহী গাড়ি থেকে ১৬০টি মুরগি ছিনতাইয়ের অভিযোগ ওঠার পর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মো. শাকিল ফারহান মিয়াকে জেলা ছাত্রদল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর মদাতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিপ্লব সরকারকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে আটক করে আদালতের মাধ্...
16/03/2026

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার ২ নম্বর মদাতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিপ্লব সরকারকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে আটক করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

চেয়ারম্যানকে আটকের পরপরই ভিজিএফ চাল নিয়ে ওই এলাকার সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুলের ৩০ পার্সেন্ট চাওয়া নিয়ে একটি কলরেকর্ড ফাঁস হয়। সেই কল রেকর্ডে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামান সবুজ ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বিধান চন্দ্র রায়ের সঙ্গে মদাতী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বিপ্লবের কথা উঠে আসে।

গত ১২ মার্চ ছড়িয়ে পড়া ওই কল রেকর্ডে সবুজ চেয়ারম্যান বিপ্লবকে বলেন, “এমপি সাহেবের থার্টি পার্সেন্ট আপনি বুঝিয়ে দিয়েছেন?”

এরপর সবুজ রাগান্বিত কণ্ঠে বলেন, “বিনা ভোটের এমপি যখন ছিলো তাদেরকে তো সুন্দরভাবে বুঝাইয়া দিছেন। আমরা কিন্তু বিনা ভোটে হই নাই। আমরা অতীত ভুলি নাই। আমাদের বরাদ্দ নিয়ে আপনি কীভাবে মিটিং করেন? এ হাজার তিনটি টোকেন বুঝিয়ে দেবেন।”

ভিজিএফ চালের বিষয়ে বিএনপি নেতা বিধান চন্দ্র রায়ের সঙ্গেও চেয়ারম্যান বিপ্লবের একই রকম কথা হয়। সেখানেও এমপির ৩০ পার্সেন্ট বুঝিয়ে দিতে বলা হয়।

14/03/2026

গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন তিনি নেতানিয়াহুর সাথে আলাপ করে এরপর যুদ্ধ বন্ধের সিদ্ধান্ত নিবেন।

এরপর ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর বাসভবনে হামলা করেছে ইরান। নেতানিয়াহুর ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ প্রকাশ করলেও গোপন করেন নেতানিয়াহুর মৃত্যুর সংবাদ।

সে যাই হোক তারা গোপন করতেই পারেন। কিন্তু বাস্তবতা কি কি বলছে সেদিক দিয়ে আলোচনা করি।

ট্রাম্প সাহেব গত সপ্তাহের পর আর কখনোই নেতানিয়াহুর নাম মুখে নেন নি। আলাপ করার কথা নেতানিয়াহুর সাথে কিন্তু আলাপ করলেন পুতিনের সাথে।
এরপর আলাপ করলেন পেন্টাগনের সাথে। নেতানিয়াহুর সাথে এখন পর্যন্ত আর আলাপ করেন নাই।

নেতানিয়াহুর মৃত্যুকে আড়াল করতে প্রথম দুদিন নেতানিয়াহুর বরাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হইতে সংবাদ প্রচার করে নেতানিয়াহুর নামে চালালেন।
এরপর আরও চাপা দিতে এ আই নির্মিত একটা ভিডিও প্রকাশ করলেন। সেখানে দেখা যায় নেতানিয়াহুর ছয় আংগুল বিশিষ্ট হাত আর চোখ দুইটা দুই রকম।
বার্তা ছিল সেই পুরোনোটাই। ফিলিস্তিনের বাড়িঘর সব ক্লাস্টার বোমা মেরে নিশ্চিহ্ন করার পর যেসব কথা বলেছিলেন -- সেই কথার কিছু অংশ এবং ইরানের সাথে প্রথম বার যেদিন যুদ্ধ হয়েছিল সেই সময়ের বক্তব্য মিশ্রিত করে একটা ফেইক ভিডিও প্রকাশ করে ধরা দিলেন যে নেতানিয়াহু আর নাই।

আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থার এক সাবেক কর্মকর্তা এইটা ফাঁস করলে তাহাকে গ্রেফতার করেন।

সব মিলিয়ে এটা পরিস্কার যে নেতানিয়াহু আর দুনিয়াতে নাই। এই যুদ্ধ শেষ হলেই এইটা প্রকাশ পাবে।

সে যাই হোক যুদ্ধ আরও জটিল হয়ে যাবে। G7 মানে শক্তিধর সাত ইউরোপের দেশ মিলে এই সংগঠন। তাদের কাজ হলো আমেরিকার সাম্রাজ্যবাদী টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করা। সেখান থেকে ২৫০০ সেনা এবং একটি জাহাজ আসতেছে ইরানকে পরাজিত করতে।

এখন ইরানের কাজ হইল লোকেশন ট্র্যাকিং করা এবং সেখানে হাইপারসনিক মিশাইল কয়েকটা মারা। তাহলেই ইরান জয়ী হবে এবং যুদ্ধ থেমে যাবে।

এই ব্যাপারে রাশিয়া এবং চীন সক্রিয়ভাবে সাহায্য করবে।
উপরে থাকা রাশিয়ার স্যাটেলাইট এবং সমুদ্রে থাকা চীনের স্পাই থ্রিলার জাহাজ দিয়ে।

@বেঞ্জিন

যমুনা টিভি কট
14/03/2026

যমুনা টিভি কট

মির্জা আব্বাস এর ছেলে
14/03/2026

মির্জা আব্বাস এর ছেলে

10/03/2026

১৯৪৮ সালে কার্জন হলে এক ভাষণে জিন্নাহ বলেছেন - "উর্দু, একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।" সবাই "না, না" করে চিৎকার করে উঠেছিল।"

আপনি কাটপিস এইটুকু পড়েছেন। কিন্তু পুরো বক্তব্যটি কি কখনো শুনেছেন? বাকি অংশ গোপন রাখা হয়। বাকি অংশে বলা হয়েছে-

Whether bengali shall be the official language is a matter of the elected representative of the people of this province to decide. I have no doubt that this question shall be decided solely in accordance with the wishes of the inhabitants of this province at the appropriate time.

অর্থাৎ, জনগণের ইচ্ছা অনুযায়ী, স্কুল কলেজে বাংলায় বই পুস্তক পড়া হবে, অফিস আদালতে অফিশিয়াল ভাষা হিসেবে বাংলা চলবে- এই কথাগুলো জিন্নাহ বলে গেছেন। এরপরে আর কোন "না, না" প্রতিবাদ নাই, শুধু হাত তালির আওয়াজ। ইউটিউবে সম্পূর্ণ বক্তৃতা আপলোড করা আছে। Jinnah speech in Dhaka লিখে সার্চ দিলে পেয়ে যাবেন।

পাকিস্তানীরা নাকি জোর করে বাঙালীদের ওপর উর্দু চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল। ওরা নাকি আমাদের মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়।

হাস্যকর অভিযোগ।

পশ্চিম পাকিস্তানে বাস করে পাঞ্জাবী, পশতুন, সিন্ধি, বেলুচি জাতিগোষ্ঠী। তাদের মাতৃভাষা যথাক্রমে পাঞ্জাবী, পশতুন, সিন্ধি, বেলুচি ভাষা। উর্দু তো পশ্চিমের কারও মাতৃভাষা নয়। এমনকি জিন্নাহর নিজের মাতৃভাষাও উর্দু নয়, গুজরাটি। তো যে ভাষা তাদের নিজেদের মাতৃভাষা নয়, সেটা কি করে অন্যের ওপর চাপাবে?

আর মুখের ভাষা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ তো আরও হাস্যকর। ভারতের অফিশিয়াল ভাষা হিন্দি + ইংলিশ। পশ্চিমবঙ্গের বাঙালীরা কি সবাই হিন্দিতে কথা বলতে বাধ্য হয়েছে? পশ্চিমবঙ্গের বাঙালীদের মুখের ভাষা কি কেড়ে নেওয়া হয়েছে? না, তাদের কোন সমস্যা হয় নি। মধ্যযুগে ৭০০ বছর ধরে, মুসলিম শাসন আমলে, সম্পূর্ণ অখন্ড বাংলার দাপ্তরিক ভাষা ছিল ফারসি। তখন কি বাঙালিদের মুখের ভাষা কেড়ে নেয়া হয়েছিল? বাঙালীরা কি ফারসিতে কথা বলতে বাধ্য হয়েছিল? না, তেমন কিচ্ছু হয় নি। মুখের ভাষা কেউ কারোটা কেড়ে নিতে পারে না৷

তাহলে ভাষা আন্দোলনটা হয়েছিল কেন? সাধারণ ছাত্রদের আন্দোলনে উস্কে দিলো কারা? উত্তর খুজতে আরেকটু গভীরে জানুন। ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ২ তারিখ,

ভারত-পাকিস্তান দুইটা দেশই জ্বলছে দাঙ্গার আগুনে, বিশেষ করে ভারতের মুসলমানদের কচুকাটা করা হচ্ছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মুসলমান এক কাপড়ে চলে আসছে। ঢাকা, করাচী, রাজশাহী, পেশোয়ার, চট্রগ্রামসহ পাকিস্তানের সব বড় শহরের স্কুল, কলেজের মাঠে তাবু টানিয়ে থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছিলো এইসব শরণার্থীদের। ঠিক সেই সময়ে, দেশ ভাগ হয়েছে মাত্র ১৮ দিন, কতিপয় কমিউনিস্ট বরাহ শাবক কংগ্রেস নেতাদের টাকা খেয়ে আন্দোলন শুরু করে "রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই"। তারা সংগঠনের নাম দেয় তমুদ্দুন মজলিস। ইসলামি গোছের নাম দেওয়া হয় সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করতে। ফারসি নাম, কিন্তু সংগঠনটি চালাতো মূলত হিন্দুরা। ধীরেন্দ্র নাথ দত্ত, বসন্ত কুমার দাস, মনোরঞ্জন ধর, প্রভাস চন্দ্র লাহিড়ী; এরা ছিল ভাষা আন্দোলনের অর্থের মূল যোগানদাতা। তমুদ্দুনের পত্রিকা সৈনিক বিনা পয়সায় ছাপিয়ে দিতো তাদের প্রেস। এরা সবাই ছিল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের নেতা। তারা সবাই উগ্রভাবে ভারত ভাগের বিরোধিতা করেছিলো।

বাঙ্গালীরা বাঙলার জন্য প্রাণ দেয় ভারতের আসামে ১৯৬১ সালে। অসমীয়া ভাষাকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার প্রতিবাদে সেখানকার বাঙ্গালীরা ১৯ মে হরতালের ডাক দেয়। শান্তিপূর্ণ হরতাল পালনকালে শিলচর রেলওয়ে স্টেশনে পুলিশ ১১ জন আন্দোলনকারীকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। কিন্তু এই ঘটনা আর প্রচার হয় না। ২১ শে ফেব্রুয়ারীর মত এইদিনে প্রতিবছর শহিদ মিনারে ফুল দেয়া হয় না। সুকৌশলে "বাঙালী জাতীয়তাবাদ" চাপিয়ে দেয়া হয়েছে শুধু পূর্ব বঙ্গের মুসলমানদের ওপর।

Historian

10/03/2026

দেশটাতে শেষ ৮ বছরে ৯২১ টি স্যাংশন দেওয়া হলো। এখন মোট স্যাংশনের সংখ্যা - ১৫০০

দেশটায় মুদ্রার ধস নামানো হলো। ২০১৮ সালে ১ ডলার সমান ছিল ৪২ হাজার রিয়াল। বর্তমানে ১ ডলার সমান ১০ লাখ রিয়াল

দেশটার আশেপাশের সব রাষ্ট্রকে তাদের শত্রু বানানো হলো। তাদের সাথে ব্যবসা বাণিজ্য, তেল ক্রয় করা থেকে বিরত থাকার জন্য অন্যান্য দেশকে চাপ প্রয়োগ করা হলো

দেশটার প্রেসিডেন্টকে হ*ত্যা করা হলো, সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতাকে হ*ত্যা করা হলো, সামরিক বাহিনীর প্রধানদের হ*ত্যা করা হলো

দেশটায় গণ-অভ্যুত্থান করানো জন্য, ছাত্র ও সাধারণ জনতাকে উস্কে দেওয়া হলো
মিসাইল মেরে নিরীহ মানুষদের হ*ত্যা করা হচ্ছে

দেশটার আর্থিক কাঠামো যার উপর দাঁড়িয়ে আছে, অর্থাৎ তেলের ডিপোগুলোতে একের পর এক হামলা করা হচ্ছে..

গত ৪৭ বছর ধরে এই দেশটার উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। তারপরেও দেখেন, ই*রান ওদের কাছে মাথা নত করেনি।

কিন্তু আমাদের দিকে তাকান-
আমরা কেউ 'র' এর দালাল,
কেউ অ্যামেরিকার দালালা,
কেউ বা পাকির দালাল,

গত ৫৪ বছরে আমরা দাসত্ব থেকে বের হতে পারলাম না। গোলামি আর দালালি যেন আমাদের রক্তের শিরায় শিরায় গেঁথে গিয়েছে। এই জাতি দালালিতে যেমন সেরা, ফতোয়া দিতেও তেমন সেরা।

ওরা যখন ইরাক ধ্বংস করলো, তখন আমরা ফতোয়া দিলাম- " সাদ্দাম হোসেন স্বৈরাচারী ছিলেন "

যখন লিবিয়া ধ্বংস করলো, তখনও ফতোয়া দিলাম-
"গাদ্দাফী স্বৈরাচারী ছিলেন"

যখন ওরা আফগানিস্তান ধ্বংস করলো, তখন ফতোয়া দিলাম- " সব শালা খারেজি আর জ*ঙ্গি। ধ্বংস হোক

এখন ওরা ইরানকে ধ্বংস করতেছে, আর আমরা ফতোয়া দিচ্ছি - " ইরান শিয়া জাতি। ওরা ইসলামের শত্রু "

কিন্তু একের পর এক, ওরা যে সব মুসলিম রাষ্ট্র ধ্বংস করে দিচ্ছে সে বিষয়ে বাঙ্গু জাতির ভ্রুক্ষেপ নেই। এরপর হয়তো পাকিস্তান। তারপর কে?

বাড়ির পাশে নব্য ই*জরাইলের প্রতিবেশি কোন মুসলিম দেশটা থাকে, একটু মাথা খাটান। এমনি উত্তর পেয়ে যাবেন।

সিরিয়ার বাশার আল আসাদকে যেমন বলা হয়েছিল- " ডাক্তার এরপর তোমার পালা"।

ঠিক তেমনি বলতে বাধ্য হচ্ছি, " বাঙ্গু জাতি এরপর তোমার পালা "

সৌজন্য : Moshiur

কালকের ঘটনার ব্যাখ্যা দিচ্ছি,ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পাভেলকে জিয়া ...
09/03/2026

কালকের ঘটনার ব্যাখ্যা দিচ্ছি,

ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর পাভেলকে জিয়া হল ও ডিপার্টমেন্টের ব্যাচ হতে বয়কট করা হয়েছিলো।

ইদানিং হামলাকারী ছাত্রলীগদের নিয়ে ক্যাম্পাসের আশেপাশে ইফতার করে বেড়াচ্ছে পাভেল।কিছুদিন আগে টিএসসিতেও করেছে। এগুলো সবাই জানে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রলয় গ্যাং কর্তৃক ঢাকা মেডিকেলের ইনটার্ন চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় সে ছিল লিডে এগুলো ২০-২১ সেশনের সবারই জানা।
প্রলয় গ্যাং এর মাধ্যমে মূলত ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও উদ্যানে মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা হতো। ছাত্রলীগের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ গ্রুপ ছিলো প্রলয় গ্যাং।

বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, পাভেল এখন নিয়মিত সন্ত্রাসী ছাত্রলীগের কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ত। প্রলয় গ্যাং এর জুনিয়র গ্রুপকে পুনরায় সংগঠিক করার লক্ষ্যে আবারও সক্রিয় হয়েছে। এছাড়াও ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার
আজিমপুর ও চানখারপুল এলাকায় বহিষ্কৃত লীগররা আশ্রয় নিয়েছে।

ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা ধানমন্ডি ও উত্তরার বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে হল ভিত্তিক ইফতার আয়োজনের মধ্য দিয়ে পুনরায় সংগঠিত হচ্ছে।

জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার দায়ে তাকে হল এবং ডিপার্টমেন্ট থেকে বয়কট করা হয়। হামলার ফুটেজ না থাকায় সে অনেকের অনুরোধে রক্ষা পায়।

ছাত্রলীক সম্পৃক্ততায় পাভেলকে এর আগেও পুলিশ এরেস্ট করেছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে ওর মায়ের কান্নায় পাভেলের মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

বেশ কয়েকদিন যাবৎ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জুনিয়রকে হুমকি দিয়ে যাচ্ছিল পাভেল। এবং ছাত্রলীগের রাজনীতি ফিরবে মর্মে পূর্বের ছাত্রলীগে সম্পৃক্ত ছাত্রদের সংগঠিত করার জন্য ডেকে নিয়ে যেত। আজও বুয়েটে সাবেক লীগের কয়েকজনকে নিয়ে বুয়েটে আসছিলো পাভেল।

তখন তাকে এবিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে রিয়েক্ট করে এবং ছাত্রলীগের অনেককে ফোন দিয়ে ডাকে।
পরবর্তীতে পুলিশ হেফাজতে দেবার উদ্দেশ্যে পাভেলকে ধরা হয়। কিন্তু পাভেল আমাদের উপর আক্রমনাত্নক হয় এটা বুয়েট ক্যান্টিনে জিজ্ঞেস করলেই প্রমাণ পাবেন।

সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো থানায় নেওয়ার সময় তার ফোনে একাধিক ছাত্রলীগ নেতার ফোন আসে যারা বিদেশে অবস্থানরত। যার স্কিন শট পোস্টে দিলাম।
তারা ফোন দিয়ে বলে যেকোনো ভাবে পাভেল কে সেইভ করতে হবে এবং পাভেল যেন তার ফোন কাউকে না দেয় সেজন্য ফোনে নির্দেশনা দেওয়া হয়। তার ফোনে ছাত্রলীগ সংগঠিত করার সব তথ্য আছে। পুলিশ চেক করলে সব তথ্য বেড়িয়ে আসবে।

এরপর আমরা তাকে ধরে থানায় নিয়ে যেতে চাই। রাস্তায় সে আমাদের জুনিয়রদের আক্রমন চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরবর্তীতে ছাত্রলীগকে প্রতিহত করে আমরা থানায় দিয়ে আসি।

পাভেল যে এখন ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগকে সংগঠিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে এটা রাজনৈতিক সচেতন কমবেশি সবাই জানে। অনেক শিক্ষার্থী আমাদেরকে পাভেলের বিষয়ে জানিয়েছে ও শঙ্কা প্রকাশ করেছে।

জুলাইয়ে যে ছাত্রলীগরা আমাদের ভাইবোনের উপর হামলা চালিয়ে রক্তাক্ত করেছে তাদের সাথে কোনো আপোষ নাই।তারা আবার ক্যাম্পাসে সংগঠিত হয়ে আমাদের উপর আবার হামলা করবে তা হতে দেওয়া হবে না।

সন্ত্রাসী ছাত্রলীগকে জেলে দেওয়া যদি অপরাধ হয়, তাহলে আমি এই অপরাধের সর্বোচ শাস্তি মাথা পেতে নিতে প্রস্তুত রয়েছি।

সাইফুল্লাহ saifullah

আমি আমার পাঠকদের ক্রিটিক্যাল থিংকিং করতে শিখাই। নিজের এজামশনকে নিজেকে প্রশ্ন করতে হয়। হাদির হত্যাকারী ধরা পড়ার নিউজ আমি ...
08/03/2026

আমি আমার পাঠকদের ক্রিটিক্যাল থিংকিং করতে শিখাই। নিজের এজামশনকে নিজেকে প্রশ্ন করতে হয়। হাদির হত্যাকারী ধরা পড়ার নিউজ আমি প্রথম দেখেই শেয়ার দেই। হাদির হত্যাকারী ধরা পড়লে তাকে বিচারের আওতায় আনলে তো বাংলাদেশের আবাল বৃদ্ধ বনিতা খুশী হবে। কিন্তু গভীরভাবে চিন্তা করলে আপনি সংবাদগুলোতে বেশ কয়েকটা অসঙ্গতি দেখবেন।

আমি আপনাদের অসঙ্গতি ধরিয়ে দিচ্ছি।

অসঙ্গতি ১

এমনকি ডয়েচে ভেলের সংবাদে বলা হচ্ছে, হাদির হত্যাকারীকে আদালতে তোলা হয়েছে। অথচ শনিবার, রবিবার আদালত বন্ধ থাকে পশ্চিমবঙ্গে।

অসঙ্গতি ২

পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের একটা ওয়েবসাইট আছে। তাদের সব নিউজ প্রেস রিলিজ আসে সেইখানে। সেই সাইটে এই গ্রেফতারের খবর নাই।

অসঙ্গতি ৩

কোলকাতা পুলিশের প্রেস রিলিজ হিসেবে যা প্রচারিত হইছে, সেইটা কোন প্যাডে না, কারো সিগনেচার নাই। এমন একটা কাগজ তো যে কেউ বানাইতে পারে। আমি আপনি সবাই পারি।

অসঙ্গতি ৪

প্রথম নিউজ আসে এ এন আই থেকে, আমি সেটা শেয়ারও দেই। এ এন আই হচ্ছে বিজেপির স্বীকৃত প্রোপাগান্ডা মিডিয়া।

অসঙ্গতি ৫

কোন মিডিয়া কোলকাতা পুলিশের কোন মুখপাত্রের সুত্রে কিছু বলা হয়নি। কোলকাতা পুলিশের কোন দায়িত্বশীল এই মর্মে কথা বলেনি।

অসঙ্গতি ৬

আইএসপিআর ওয়াটস এপে টেক্সট মেসেজে পাঠায় বিবৃতি যে এই গ্রেফতার ডিজিএফআইয়ের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়েছে। আইএসপিআরকে উধ্বৃত করে প্রথম আলো নিউজ করে। পরে সেটা এডিট করে আই এস পিআরের কথা মুছে দেয়। কেন মুছে দেয়? কেনই বা আইএসপিআর এতো আগ বাড়ায়ে কথা বলে। এইটা তো সিভিল ইস্যু। মিলিটারি ইস্যু তো না। কথা বলবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতি দিবে পুলিশ, আর্মি না। প্রথম আলোর এডিট করার আগের আর পরের দুইটা নিউজই কমেন্ট বক্সে দিলাম।

অসঙ্গতি ৭

এনডিটিভি এই সংক্রান্ত তার নিউজের নিজে একটা ডিসক্লেইমার দিয়েছে। তারা বলেছে এইটা একটা সিন্ডিকেটেড নিউজ। (লিংক কমেন্ট বক্সে)

কেন এই ঘটনাকে সিন্ডিকেটেড নিউজ বানাতে হলো?

অসঙ্গতি ৮

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেন এইরকম একটা ব্রেক থ্রুতে বিবৃতি দিলোনা।

অসঙ্গতি ৯

এবিপি লাইভে বলতেছে, কোলকাতা পুলিশ যখন ধরছে তখন তারা জানতো না তারা ফয়সলকে ধরছে। আর আইএসপিআর বলতেছে তাদের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ধরছে কোলকাতা পুলিশ।।

হাদির হত্যাকারীকে ধরে বিচার করা আমাদের একটা জাতীয় প্রায়োরিটি। কিন্তু এই অসঙ্গতি আমার মনে খচখচাইতেছে। আমি আমার মনের খচখচানিটা বললাম। এখন দেখেন যা ভালো বুঝেন।

পিনাকী

https://www.ndtv.com/india-news/2-accused-in-bangladesh-leader-osman-hadis-murder-arrested-by-bengal-police-11187069?fbclid=IwZXh0bgNhZW0CMTEAc3J0YwZhcHBfaWQPMjc1MjU0NjkyNTk4Mjc5AAEeIS8ZuwdYBJTTAbLHKtr_pHvXrzMIbtPuGA4VfN9PpV7J7gq5mPPfAv1W2qM_aem_Ao68qsdhi9KgV9YT9752ow

Address

Ramna
Dhaka
1000

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when MTV24 posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share