20/05/2022
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণঃ
বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী "শেখ হাসিনা" আপনি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে কথা বলার সময় প্রায়ই এবং বেশিরভাগ ই বলে থাকেন যে, আপনি দেশের উন্নয়ন আর জনগণের ভালো'র জন্য দেশে আসছেন এবং কাজ করে যাচ্ছেন কিন্তু আমি বলি না, আপনি দেশের ও জনগণের জন্য আসেননি আর কাজও করছেন না। আপনি কাজ করছেন আপনার পরিবার ও আপনার বাবাকে বিশ্বে পরিচিত করার জন্য। আপনার বাবা একজন ভালো মানুষ, ভালো নেতা ছিলেন, ওনার নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নাই কিন্তু আপনার বাবা একা ই যুদ্ধ করেননি এবং দেশ স্বাধীন করেননি। আপনার বাবার কথা অনুযায়ী ৩০ লক্ষ নারী পুরুষ যুদ্ধে শহীদ হয়েছে। তৎকালীন সময়ে দেশে ৭ কোটি মানুষ ছিল, ৩০ লক্ষ শহীদগণ বাদ গেলে ৬ কোটি ৭০ কক্ষ মানুষ থাকে, সেখান থেকে যদি ২ কোটি নারী-শিশু বাদ দেই তাহলে অবশিষ্ট থাকে ৪ কোটি ৭০ লক্ষ মানুষ, যারা সবাই মুক্তিযোদ্ধা। এদের কতজনকে আপনি স্বীকৃতি দিয়েছেন, কতজনকে চিকিৎসা দিয়েছেন, কতজনের দুঃখকে ভাগ করে নিজের দুঃখ করেছেন, কতজন শহীদ পরিবারের সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত হতে সহযোগিতা করেছেন? আমার জানা মতে এবং জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়, স্বাধীনতা ভবণ ইত্যাদি জায়গায় গিয়ে দেখা গেছে যে, এখনো অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা আছেন যাদের কোন স্বীকৃতি নাই, এইসব জায়গায় যাদের কোন মূল্য নাই এবং অনেকে ই চিকিৎসা ও স্বীকৃতিবিহীন থেকে দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন তাদের মধ্যে আমার বাবা (আবু তাহের মিয়া) ছিলেন অন্যতম একজন, যিনি দীর্ঘদিন অসুস্থ থেকে বুক ভরা কষ্ট আর যন্ত্রণা নিয়ে গত ১৮-০৫-২০২২ ইং রোজ বুধবার রাত ১০ঃ৩০ মিনিটে দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন। গত ৩ বছর যাবত এবং মৃত্যুর আগে গত ৬ মাসে বাবার স্বীকৃতির জন্য বঙ্গভবন, গণভবন, আপনার কার্যালয় মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়, স্থানীয় এমপি, ইউএনও, জেলা প্রশাসক এবং অনলাইনে ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়া সহ বিভিন্ন মহলে বাবার ছবিসহ কাগজ পত্র জমা দিয়েছি সাথে পোস্ট করেছি কিন্তু কোন সাড়া পাইনি। এবার (মাননীয় প্রধানমন্ত্রী) আপনি বলুন যে, আপনি কোন দেশের উন্নয়ন করছেন আর কোন জনগণের জন্য কাজ করছেন? যাদের রক্ত ও জীবনের বিনিময়ে আজকের এই স্বাধীন দেশ, স্বাধীন পতাকা, স্বাধীন সার্বভৌম, তারা ই চলে যাচ্ছে চিকিৎসা ও স্বীকৃতিবিহীন। তাহলে কারা সেই জনগণ যাদের জন্য আপনি কাজ করছেন, দেশে আসছেন? আমি এর উত্তর ও সমাধান আশা করছি।
এম সহিদ উদ্দিন এ্যানি
মানবাধিকার কর্মী
পিতা সদ্য মৃতঃ আবু তাহের মিয়া(মুক্তিযোদ্ধা)
গ্রামঃ চর উভূতী চকবাজার
থানাঃ সদর
জেলাঃ লক্ষীপুর-৩৭০০
বাংলাদেশ।