16/09/2026
যে বয়সে স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সে তানিয়া ছিল বাথরুমে বন্দি!
মাত্র ১১ বছরের একটি শিশুর শরীরে এত ক্ষ/*ত কীভাবে তৈরি হতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে সত্যিই বুক কেঁ*পে ওঠে।
খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শুয়ে আছে ছোট্ট তানিয়া। শরীরজুড়ে পো**ড়া ও আ**ঘা*তের চি*হ্ন, মাথায় একাধিক সে**লাই, পি**ঠে গভীর ক্ষ**ত। দীর্ঘদিনের নি**র্যা**তনে পায়ের ক্ষ/তেও প/চ/ন ধরেছে। অপুষ্টিতে এতটাই দু**র্বল হয়ে পড়েছে যে ঠিকমতো দাঁ*ড়াতেও পারছে না। চিকিৎসকদের মতে, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং জরুরি উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।
মাত্র ৯-১০ বছর বয়সে অভাবের সংসারে তাকে গৃহকর্মীর কাজে ঢাকায় পাঠানো হয়েছিল। মা মা*রা গেছেন প্রায় পাঁচ বছর আগে। বাবা বেলাল হোসেন দিনমজুর। সংসারের অভাব আর মেয়েকে একটু ভালো রাখার আশায় প্রতিবেশীর মাধ্যমে ঢাকায় পাঠিয়েছিলেন তানিয়াকে।
কিন্তু সেখানে গিয়ে তার জীবনে নেমে আসে ভ*য়া**বহ অন্ধকার।
তানিয়ার অভিযোগ, ঢাকার মিরপুরের একটি বাড়িতে তাকে রাখা হয়েছিল এবং দিনের বেশিরভাগ সময় বা**থরু**মে আ*টকে রাখা হতো। ঠিকমতো খাবার দেওয়া হতো না। শরীরের বিভিন্ন স্থানে গর**ম খু**ন্তি দিয়ে ছ্যাঁ*/কা দেওয়া হতো এবং নিয়মিত নি*র্যা**5তন করা হতো।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বাড়িতে রাসেল নামের একজন ল্যাপটপ ব্যবসায়ী ও তাঁর স্ত্রী ছোটন থাকতেন বলে শিশুটি জানিয়েছে। তবে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী বলা যায় না—নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসতে হবে।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয়—দেড় বছর ধরে বাবার সঙ্গে মেয়ের কোনো যোগাযোগ ছিল না।
একজন বাবা অভাবের কারণে মেয়েকে অন্যের বাড়িতে কাজে পাঠিয়েছিলেন। হয়তো ভেবেছিলেন, মেয়েটা অন্তত দুবেলা খাবার পাবে, কিছু আয় করবে। কিন্তু আজ সেই মেয়েটিই হাসপাতালের বিছানায় জীবন-মৃ/ত্যু/র সঙ্গে লড়ছে।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সামনে এসেছে—ঘটনাটি ঢাকায় সংঘটিত হয়েছে বলে খাগড়াছড়িতে মামলা গ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। অথচ সংশ্লিষ্ট আইনজীবীর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের যেকোনো স্থানে সংঘটিত অপরাধের ঘটনায় থানায় এজাহার গ্রহণ করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করার সুযোগ রয়েছে।
তাহলে প্রশ্ন একটাই—
তানিয়ার বিচার পেতে আর কত অপেক্ষা করতে হবে?
প্রথমেই তার উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
এরপর অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।
অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
একটি শিশু গৃহকর্মী হওয়ার আগে একজন শিশু।
তারও স্কুলে যাওয়ার অধিকার আছে।
বন্ধুদের সঙ্গে খেলার অধিকার আছে।
নিরাপদে বেড়ে ওঠার অধিকার আছে।
কিন্তু তানিয়ার শৈশব কেটেছে একটি বা**7থরুমের ব-*ন্দিত্ব, ক্ষত আর নি*র্যা*তনের মধ্যে।
আজ তার শরীzরের প্রতিটি ক্ষ**ত যেন আমাদের সমাজের বিবেককে প্রশ্ন করছে—
“গরিবের সন্তান বলে কি তার জীবন, শরীর আর শৈশ্যের কোনো মূল্য নেই?”
তানিয়ার দ্রুত উন্নত চিকিৎসা, নিরাপত্তা এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক।
পোস্টটি শেয়ার করুন। তানিয়ার কণ্ঠ যেন হারিয়ে না যায়।
মেয়েটির নিশ্চিত ও সুন্দর জীবনের কামনা করছি ❤️