Dudok

Dudok News Sharing

14/03/2026

দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) ২০১১ সালে সহকারী পরিচালক পদে যোগ দেয়া ২৪ জন কর্মকর্তা এখনও উপপরিচালক। তারা সবাই পরিচালক পদে পদোন্নতি পাওয়ার জন্য তালিকায় রয়েছেন। কিন্তু, তাদের জ্যেষ্ঠতার তালিকা ক্রম নিয়ে আপত্তি থাকায় কমিশন পদোন্নতি দিতে পারছে না।

গত ডিসেম্বর থেকে সমাধানের কাজ শুরু হলেও এখনও কোনো সমাধান মেলেনি। তবে, মেধা তালিকা অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতার তালিকা তৈরি হলে এ সমস্যা আর থাকে না। কমিশন এখন সেদিকেই এগুচ্ছে। গত ৩ মার্চ পদত্যাগ করা কমিশন সে সিদ্ধান্ত দিয়েও গেছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে। এখন শুধু পদোন্নতির খবরের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে, অসন্তোষ এখনও আছে।

এ ২৪ জন কর্মকর্তার মধ্যে তিনজন নারী আছেন। এই তিনজনই নারী কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন। তারা হলেন মোছা. সেলিনা আক্তার মনি, সুমিত্রা সেন ও ফারজানা ইয়াসমিন। আর মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন দুজন মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও মো. নাজমুল হাসান। জেলা কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন মো. ফয়সাল। বাকি সবাই মেধায় নিয়োগ পাওয়া।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, চাকরিতে যোগদানের সময় তৈরি মেধাতালিকায় এ এস এম সাজ্জাদ হোসেন প্রথম, মো. মাসুদুর রহমান দ্বিতীয় ও মো. মনিরুজ্জামান তৃতীয় ছিলেন। খসড়া জ্যেষ্ঠতার তালিকাতেও তারা প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়তে রয়েছেন। তাদেরকে ইতোমধ্যে পরিচালকের চলতি দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।

তবে, কপাল পুড়েছে চাকরিতে যোগদানের সময় তৈরি মেধাতালিকাতে চতুর্থ হওয়া মো. মশিউর রহমানের। তিনি পরিচালকের চলতি দায়িত্ব পাননি। তাকে খসড়া জ্যেষ্ঠতার তালিকাতে চতুর্থ থেকে ষষ্ঠতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অথচ ১১তম মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমানকে খসড়া জ্যেষ্ঠতার তালিকাতে চতুর্থতে নিয়ে আসা হয়েছে!

মেধাতালিকাতে পঞ্চম হওয়া ফারুক আহমেদকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে অষ্টমে। আর ষষ্ঠ হওয়া কামরুজ্জামানকে নিয়ে আসা হয়েছে পঞ্চমে।

সপ্তম হওয়া আবু হেনা আশিকুর রহমানকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ১৩তে। আর ২২তম ফারজানা ইয়াসমিনকে নিয়ে আসা হয়েছে সপ্তমে। তিনি নারী কোটায় নিয়োগ পান।

অষ্টম হওয়া মো. শাওন মিয়াকে পেছনে ঠেলে ২৪তম করা হয়েছে।

নবম হওয়া মো. জাকারিয়াকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ১১ তে। আর ২০তম মোছাঃ সেলিনা আক্তার মনিকে নিয়ে আসা হয়েছে নবমে। তিনি নারী কোটায় নিয়োগ পান।

তবে, মো. জাহাঙ্গীর আলমের ক্ষেত্রে ঠিক রাখা হয়েছে, তিনি চাকরিতে যোগদানের সময় তৈরি মেধাতালিকাতে দশম ছিলেন, তাকে খসড়া জ্যেষ্ঠতার তালিকাতেও দশমেই রাখা হয়েছে।

১২তম মো. মুহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ১৫তে। ২৩তম মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে নিয়ে আসা হয়েছে ১২ তে। তিনি মুক্তিযোদ্ধ কোটায় নিয়োগ পান।

১৩তম মো. গুলশান আনোয়ারকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ২০তম ক্রমে। ১৪তম মো. হাফিজুল ইসলামকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ১৬তে। ২৪তম মো. নাজমুল হাসানকে নিয়ে আসা হয়েছে ১৪তে। তিনি মুক্তিযোদ্ধ কোটায় নিয়োগ পান।

১৫তম মো. সালাহ উদ্দিনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ২১ নম্বরে। ১৬তম মো. নাজমুচ্ছায়াদাতকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ১৯ নম্বরে। ১৭তম মো. নুর-ই-আলমকে করা হয়েছে ১৮তম। ১৮তম দেবব্রত মন্ডলকে নিয়ে আসা হয়েছে ১৭তে। ১৯তম মো. ফয়সালকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ২২ নম্বরে। তিনি জেলা কোটায় নিয়োগ পান।

২১তম সুমিত্রা সেনকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে ২৩ নম্বরে। তিনি নারী কোটায় নিয়োগ পান।

পদোন্নতির বিষয়ে জানতে দুদক সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম এর মোবাইলফোন নম্বরে কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

তবে, দুদকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা দেশকাল নিউজ ডটকমকে বলেন, "২০১১ ব্যাচের জ্যেষ্ঠতা নিয়ে জটিলতা এবং অভিযোগ বিষয়ে প্রথমে মহাপরিচালক (মানিলন্ডারিং) মোঃ মোকাম্মেল হককে সভাপতি করে একটি কমিটি করা হয়। এই কমিটি সবার গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে না পারায় পরবর্তীতে দুদকের সচিবকে সভাপতি করে এবং সব অনুবিভাগের মহাপরিচালক এবং মোঃ মোকাম্মেল হককে ও মহাপরিচালক প্রশাসনকে সদস্য করে আরেকটি কমিটি করা হয়। এই কমিটির কার্যবিবরণী কমিশন সভায় উপস্থাপন করা হয়। জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণের একটা সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে আলোচনা হয়।সর্বসম্মতিক্রমে কোন নির্দিষ্ট একক সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় চেয়ারম্যান কমিশনার অনুসন্ধানকে দায়িত্ব দেন ১৯ টি লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে শুনানি গ্রহণ করে সুনির্দিষ্ট সমাধান বের করার জন্য। কমিশনার অনুসন্ধান দুইজন মহাপরিচালকের উপস্থিতিতে মোট ৯ জনের (২০১১ ব্যাচের পক্ষের ও বিপক্ষের) শুনানি গ্রহণ করেন। এরপর সংশ্লিষ্ট সব আইন, বিধি, অন্যান্য স্ব-শাসিত প্রতিষ্ঠানের পদ্ধতি এবং ২০১১ ব্যাচের সহকারী পরিচালকদের জন্য অনুসৃত পদ্ধতি পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত কার্যবিবরণী কমিশনে জমা দিলে তা সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়।"

খসড়া জ্যেষ্ঠতার তালিকা

গত ৫ মার্চ দুদক থেকে প্রকাশিত খসড়া জ্যেষ্ঠতার তালিকা অনুযায়ী, পরিচালক পদে পদোন্নতিযোগ্য এ এস এম সাজ্জাদ হোসেন, মাসুদুর রহমান, মনিরুজ্জামান, মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান, কামরুজ্জামান, মশিউর রহমান, ফারজানা ইয়াসমিন, ফারুক আহমেদ, সেলিনা আকতার মনি, জাহাঙ্গীর আলম, জাকারিয়া, মোস্তাফিজুর রহমান, আবু হেনা আশিকুর রহমান, নাজমুল হাসান, মুহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন, হাফিজুল ইসলাম, দেবব্রত মন্ডল, নুর-ই-আলম, নাজমুচ্ছায়াদাত, গুলশান আনোয়ার প্রধান, সালাহ উদ্দিন, মোহাম্মদ ফয়সাল, সুমিত্রা সেন ও শাওন মিয়ার নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ ফয়সাল, সুমিত্রা সেন ও শাওন মিয়া ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এবং বাকিরা ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে উপপরিচালক (ডিডি) পদে পদোন্নতি পান। তাদের অনেকের এ জ্যেষ্ঠতার তালিকা নিয়ে আপত্তি রয়েছে।

তারা প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা (নবম গ্রেড) অর্থাৎ সহকারী পরিচালক (এডি) হিসেবে ২০১১ সালে কমিশনের প্রথম ব্যাচ হিসেবে যোগ দেন। পরিচালক পদে পদোন্নতি পাওয়ার জন্য জ্যেষ্ঠতার তালিকায় এখন তারাই রয়েছেন। এছাড়া ১৯৯১ সালে চাকরিতে যোগ দেওয়া এস এম রাশেদুর রেজা ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে উপপরিচালক পদে পদোন্নতি পান। তিনিও রয়েছেন।

জ্যেষ্ঠতার তালিকা নিয়ে যত আপত্তি

২০১০ সালের ২৯ এপ্রিল উন্মুক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দুদকে সহকারী পরিচালক পদে দরখাস্ত আহবান করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী সহকারী পরিচালকের শূন্য পদের সংখ্যা উল্লেখ ছিল ৪০টি। নিয়োগ সংক্রান্ত লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করে একটি মেধা তালিকা তৈরি করা হয়। ওই মেধা তালিকা থেকে প্রথম পর্যায়ে ২০১১ সালের ২৬ জুন ৩৮ জন সহকারী পরিচালককে যোগদানের নির্দেশ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তারমধ্যে ২০১১ সালের ৭ আগস্ট ২২ জন সহকারী পরিচালক চাকরিতে যোগ দেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪ সেপ্টেম্বর একই মেধা তালিকা থেকে আরও ১১ জন সহকারী পরিচালককে ২৫ থেকে ২৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে যোগদান করার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তারমধ্যে ২৫ সেপ্টেম্বর আরও চারজন সহকারী পরিচালক যোগ দেন। তৃতীয় পর্যায়ে ৯ অক্টোবর একই মেধা তালিকা থেকে আরও সাতজন সহকারী পরিচালককে ২৩ থেকে ৩১ অক্টোবরের মধ্যে যোগদান করার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। তারমধ্যে ২৩ অক্টোবর আরও চারজন, ২৫ অক্টোবর একজন এবং ২৬ অক্টোবর একজনসহ মোট আরও ছয়জন সহকারী পরিচালক যোগ দেন। অর্থাৎ, একই মেধা তালিকা থেকে তিন ধাপে মোট ৩২ জন সহকারী পরিচালক যোগ দেন। তবে, বর্তমানে (২০১১ সালে নিয়োগ ব্যাচ) ২৪ জন কর্মরত রয়েছেন। এই ২৪ জনকে সম্মিলিতভাবে ২০১৫ সালের ১৩ আগস্ট জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী চাকরিতে স্থায়ী করা হয়।

দুদক কর্মকর্তাদের অভিযোগ, নারী, মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা কোটায় যোগদান করাদের অধিকাংশ মেধা তালিকায় পরে অবস্থান করলেও শুধু আগে যোগদান করার কারণে তাদেরকে মেধা তালিকায় থাকাদের আগে জ্যেষ্ঠতা তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে, যা দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) চাকুরী বিধিমালা, ২০০৮ এর সাথে সাংঘর্ষিক।

একই মেধা তালিকা থেকে মোট তিনটি ধাপে ২০১১ সালে বিভিন্ন তারিখে সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগে জন্য জারি নিয়োগ প্রদান সংক্রান্ত সব প্রজ্ঞাপনের শর্তাবলী 'চ'তে উল্লেখ ছিল, দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) চাকুরী বিধিমালা, ২০০৮ এর ১৬(২) বিধি অনুযায়ী জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) চাকুরী বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ১৬(২) এ জ্যেষ্ঠতার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে "একই সময়ে একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত হইলে নিয়োগ ও পদোন্নতির জন্য গঠিত কমিটি কর্তৃক প্রস্তুতকৃত মেধাতালিকা এবং প্রশিক্ষণ শেষে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় মূল্যায়ন পরীক্ষার ভিত্তিতে কমিশন উক্ত কর্মচারীদের পারস্পারকি জ্যেষ্ঠতা নির্ণয় করিবে এবং এইরূপ ক্ষেত্রে মেধাতালিকার নম্বরকে ৬০% এবং প্রশিক্ষণ শেষে অনুষ্ঠিত মূল্যায়ন পরীক্ষার নম্বরকে ৪০% ধরিয়া অর্থাৎ মোট ১০০ নম্বরের উপর চূড়ান্তভাবে মূল্যায়ন করতঃ জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হইবে"। কিন্তু, প্রকাশিত খসড়া জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্র ওই বিধি মানা হয়নি। অর্থাৎ, ওই বিধিতে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে মূলত দুইটি বিষয়ের কথা বলা হয়েছে। প্রথমত, একই সময়ে একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী সরাসরি নিয়োগপ্রাপ্ত হলে নিয়োগ ও পদোন্নতির জন্য গঠিত কমিটির তৈরি মেধাতালিকার নম্বরকে ৬০%; দ্বিতীয়ত, প্রশিক্ষণ শেষে অনুষ্ঠিত মূল্যায়ন পরীক্ষার নম্বরকে ৪০%; অর্থাৎ, মোট ১০০ নম্বরের উপর চূড়ান্তভাবে মূল্যায়ন করে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করতে হবে। কিন্তু, খসড়া জ্যেষ্ঠতা তালিকা প্রণয়নের ক্ষেত্রে ওই দুটি বিষয়ই অগ্রাহ্য করা হয়েছে। কিন্তু, প্রকাশিত খসড়া জ্যেষ্ঠতা তালিকায় যোগদানের তারিখ বিবেচনা করে একই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং একই মেধা তালিকা থেকে ২০১১ সালে সহকারী পরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আলাদা আলাদাভাবে জ্যেষ্ঠতার ক্রম নির্ধারণ করা হয়ছে, যা বিধিসম্মত হয়নি।

২০১১ সালে যোগদান করা সহকারী পরিচালকরা একই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং একই মেধা তালিকা থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত। এছাড়া একইসাথে বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন ও একইসাথে চাকরিতে স্থায়ী হয়েছেন। কিন্তু, জ্যেষ্ঠতা তালিকায় প্রণয়নের ক্ষেত্রে যোগদানের তারিখ বিবেচনা করে আলাদা আলাদাভাবে জ্যেষ্ঠতার ক্রম নির্ধারণ করা হয়ছে, যা প্রচলিত বিধিবিধানের পরিপন্থী।

দ্বিতীয়ত বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণ শেষে অনুষ্ঠিত মূল্যায়ন পরীক্ষার নম্বরের ৪০% গণনা করতে হবে। কিন্তু, প্রকাশিত খসড়া জ্যেষ্ঠতা তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে এ বিষয়টিও অগ্রাহ্য করা হয়েছে। ২০১১ সালে নিয়োগপ্রাপ্ত একই ব্যাচের সব কর্মকর্তাকে একই সাথে একই সময়ে ২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত 'Special Foundation Training Course for the Assistant Directors of Anti-Corruption Commission' শীর্ষক প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়। ওই প্রশিক্ষণে ২৮ জন সহকারী পরিচালক অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে মূল্যায়ন পরীক্ষার ভিত্তিতে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। ওই ফল মার্কশীটসহ বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে দুর্নীতি দমন কমিশন সচিবের কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু, প্রকাশিত খসড়া জ্যেষ্ঠতার তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে ওই প্রশিক্ষণের ফল অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এক্ষেত্রে, কমিশন চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য নেওয়া পরীক্ষার ফল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা বিধিবহির্ভূত। বিধি ১৬(২) এর বর্ণনামতে 'প্রশিক্ষণ শেষে অনুষ্ঠিত মূল্যায়ন পরীক্ষা' হলো প্রকৃতপক্ষে বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ শেষে মূল্যায়ন পরীক্ষা। বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ শেষে মূল্যায়ন পরীক্ষার ভিত্তিতে ফল বিবেচনা না করে চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য নেওয়া পরীক্ষার ফলের ৪০ শতাংশ গণনা করা হয়েছে, যা প্রচলিত বিধির সাথে সাংঘর্ষিক। তাছাড়া, ২০১৭ সালের ৮ মার্চ জারি করা চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত পত্র মূলে গৃহীত পরীক্ষা চাকরি স্থায়ীকরণের জন্য গৃহীত পরীক্ষা হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

অর্থাৎ, দুর্নীতি দমন কমিশন (কর্মচারী) চাকুরী বিধিমালা, ২০০৮ এর বিধি ১৬(২) এ বর্ণিত দুটি বিষয়ই অমান্য করে জ্যেষ্ঠতার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ওই দুটি আইনগত বিষয়ই পরিপালন না করে জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রণয়ন করায় ২০১১ ব্যাচের অনেকেই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। ২০১১ ব্যাচের কর্মকর্তা ছাড়াও ২০১৪ ও ২০১৭ ব্যাচের অনেক কর্মকর্তা একইভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। মেধা তালিকায় অনেকেই পেছনে অবস্থান করলেও কোটার সুবিধা নিয়ে আগে যোগদান করার কারণে তাদেরকে জ্যেষ্ঠতা তালিকায় আগে স্থান দেওয়া হয়েছে, যা বিধিসম্মত হয়নি।

পাঁচ বছর নিজস্ব জনবল থেকে মহাপরিচালক পাবে না দুদক!

দুদকের নিজস্ব জনবলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অর্থাৎ যারা এখন মহাপরিচালক ও পরিচালক পদে রয়েছেন, তারা সবাই ২০২৭ সালের মধ্যে অবসরে চলে যাচ্ছেন। তাদের মধ্যে পরিচালক পদে থাকা কেউ-কেউ মহাপরিচালক পদে পদোন্নতি পেতে পারেন। তারাও অবসরে চলে যাবেন ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই। আর এখন যারা পরিচালক পদে পদোন্নতির যোগ্য হয়েছেন। তারা যদি চলতি মার্চ মাসে অথবা আগামী এপ্রিলে পদোন্নতি পান। তাহলে তাদের মহাপরিচালক পদে পদোন্নতি পেতে পাঁচ বছর পার করতে হবে। অর্থাৎ, ২০৩০ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর নিজস্ব জনবল থেকে মহাপরিচালক পাচ্ছে না দুদক।

২০২৬ সালে অবসরে যাচ্ছেন দুদকের আট পরিচালক ও দুই মহাপরিচালক। তাদের মধ্যে হেলাল উদ্দিন শরীফ ৪ জানুয়ারি ও রফিকুজ্জামান ২৯ জানুয়ারি অবসরে গেছেন। এস এম এম আখতার হামিদ ভূঞা আগামী ৩০ মার্চ, খান মো. মীজানুল ইসলাম ও রেভা হালদার ৯ মে, বেনজীর আহম্মদ ২১ জুন, মোজাহার আলী সরদার ১৫ জুলাই ও মোসাঃ মাহফুজা খাতুন ১১ নভেম্বর। একই বছরের ১৪ মে মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন ও ১৬ জুলাই মহাপরিচালক আব্দুল্লাহ-আল-জাহিদ অবসরে যাবেন।

২০২৭ সালে অবসরে যাবেন সাত পরিচালক ও একজন মহাপরিচালক। তাদের মধ্যে মনজুর আলম ১৪ জুন, মোহাম্মদ মোরশেদ আলম ৩০ জুন, মঞ্জুর মোর্শেদ ৪ সেপ্টেম্বর, মোহাং নূরুল হুদা ৩০ অক্টোবর, এস এম মফিদুল ইসলাম ২৩ ডিসেম্বর, মোহাম্মদ জহিরুল হুদা ২৯ ডিসেম্বর ও বেগম রিজিয়া খাতুন ৩০ ডিসেম্বর অবসরে যাবেন। এছাড়া মহাপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি অবসরে যাবেন। অর্থাৎ, ২০২৭ সালের ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে জ্যেষ্ঠ সব কর্মকর্তা অবসরে চলে যাবেন। তারপর দুদকের নিজস্ব জনবল থেকে মহাপরিচালক কেউ থাকছেন না।

এ পাঁচ বছর প্রেষণে নিয়ে আসা কর্মকর্তারাই দুদক চালাবেন। অর্থাৎ আটজন মহাপরিচালকই থাকবেন দুদকের নিজস্ব জনবলের বাইরের লোক। এছাড়া সচিব পদেও বাইরের লোকই থাকেন।

News Sharing

Address

Dhaka

Telephone

+8801840674737

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Dudok posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Dudok:

Shortcuts

Share