30/09/2025
ছোটবেলায় যখন মন মেজাজ খারাপ থাকতো, বাবা-মা কিছু বলতে এলেই কেমন ছ্যাৎ করে উঠতাম!
তারা যদি বলতো, আচ্ছা, যা হয়েছে হয়েছে, এসে অন্তত খেয়ে যা?
মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে ঝাঁঝালো গলায় বলতাম, যাও তো এখন! ভাল লাগছেনা খেতে! জোর করছ কেন?
অথচ ঠিক ঐ সময় যদি পাশের বাসার আন্টি এসে মাথায় হাত বুলিয়ে একই ভাবে বলতেন যে, আচ্ছা মা, যা হয়েছে হয়েছে, উঠে একবার খেয়ে নাও।
আমরা কি কখনওই পাশের বাসার আন্টির সাথে ছ্যাৎ ছ্যাৎ করে উঠি? উহু।
মুড খারাপের গুষ্টি গিলে হাসি মুখে বলি, আচ্ছা আন্টি, খেয়ে নিচ্ছি। :)
অথবা না করলেও ভদ্রভাবে মিষ্টি গলায় না বলি।
একান্ত আপন সম্পর্কগুলোরও ভীষণ কুৎসিত কিছু দিক আছে। যত সম্পর্ক আপন হয়, তত আমাদের একে অন্যের প্রতি টলারেন্স কমতে থাকে। একে অন্যকে সহ্য করার ক্ষমতা কমতে থাকে।
আমরা হয়ে উঠি একে অন্যের মন-মেজাজ খারাপের সময়ের পাঞ্চিং ব্যাগ।
প্রেমের শুরুতে যেমন একে অন্যের সাথে মানিয়ে চলার মত হাই লেভেলের টলারেন্স আমাদের থাকে, সেই সম্পর্কই প্রেম থেকে বিয়ে পর্যন্ত গড়ালে, এবং আরও কিছু বছর একসাথে কাটানোর পরে দেখা যায় যে একে অন্যের সামান্যতম ব্যপার নিয়েও মেজাজ গরম হয়ে যায়।
তাই না?
একে অন্যের কাছে আমরা একদম আমাদের আনফিল্টারড Raw ভার্সন টা হয়ে উঠি যেখানে আমাদের আগলি সাইড গুলোও আমরা আর ম্যানেজ করার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করিনা।
ছোট বেলায় মেজাজ খারাপ হলে সেটা প্রকাশ করার মাধ্যম ছিল একমাত্র বাবা মা।
তাই ছ্যাৎ ছ্যাৎটাও আমরা শুধু বাপ মায়ের সামনেই করতাম।
বড় হওয়ার পর সেই জায়গাটায় চলে আসে আমাদের পার্টনার। কথায় কথায় মনের সমস্ত বার্ডেন আমরা আমাদের পার্টনারের উপর without any consideration ঢেলে দিতেই থাকি। অথচ একবারও চিন্তা করিনা, আমার মিষ্টি কথা, আমার টলারেন্স, আমার সমঝদার অ্যাটিচিউড সবচেয়ে বেশি ডিজার্ভ করে আমার আপনজনেরা।
আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ যারা।
আপন সম্পর্কগুলোকে মানুষ বিভিন্ন ভাবে টেকেন ফর গ্র্যান্টেড করে নিতে পারে। তার মধ্যে এইটা হচ্ছে একটা।
আরেহ, ও তো নিজের মানুষ, কিছু মনে করবেনা, ঠিক হয়ে যাবে- এরকম ভেবে আমরা কতরকম কুৎসিত আচরণ করি আমাদের বাবা মায়ের সাথে, আমাদের পার্টনারের সাথে, আমাদের সন্তানের সাথে।
হ্যা, এই বন্ডিং গুলো কখনও ভেঙে হয়তো যায়না, কিন্তু প্রকট মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়।
কারণ কুৎসিত কোন আচরণই কোন সম্পর্কের সুন্দর দিক হতে পারেনা।
ঐ যে বলেনা, তুমি তো আমার নিজের মানুষ, তোমার উপর রাগ দেখাবো না তো কার উপর দেখাবো?
সরি টু সে, এটা কোন ভালবাসার বহিঃর্প্রকাশ না।
বরং আপনার কুৎসিত আচরণ কে ভ্যালিডেট করার একটা এক্সকিউজ।
যে আপনার আপন মানুষ, তার সর্বোচ্চ টলারেন্স হওয়া উচিৎ আপনার জন্য।
কোন কুৎসিত আচরণ আপন সম্পর্ক নির্ধারণ করার মাপকাঠি নয়। বরং দিনে দিনে এটা সম্পর্ককে শুধুমাত্র বিষিয়ে তোলে।
হঠাত করে একদিন দেখবেন আপনার সন্তান আপনার সাথে আর কোন কথা শেয়ার করেনা। একদিন দেখবেন আপনার পার্টনারের সাথে আপনি আর সিংক করতে পারছেন না। আপনার বন্ধুরা ক্লোজ মিট আপগুলোতে আপনাকে আর ডাকেনা।
আপনি ভাববেন, আমি তো সরল সোজা ভাল মনের মানুষ, আমার সাথেই এমন কেন হল?
অথচ ভাল মনের মানুষ হলেও আপনার কুৎসিত আচরণ গুলো যদি ম্যানেজ করতে না পারেন তবে সেই ভাল মন আসলে খুব বেশি কাজে আসেনা।
মনে রাখবেন, মানুষ তার সাথেই থাকতে চায় যার সাথে সে কম্ফোর্টেবল। ভাল মনের সাথে ভাল আচরণও জরুরি। অনেক জরুরি।
©অনিমা চৌধুরী