28/03/2026
সংকটের সময়ে উদযাপন—এটা কি অপচয়, নাকি দায়িত্ববোধের নতুন সংজ্ঞা তৈরি করার সুযোগ?
স্বাধীনতা দিবস আমাদের জাতীয় গৌরবের প্রতীক। এই দিনে আনন্দ, শ্রদ্ধা আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা স্বাভাবিক এবং প্রয়োজনীয়। কিন্তু যখন দেশ জ্বালানি সংকটে ভুগছে, যখন সাধারণ মানুষকে বারবার অপচয় কমানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে—তখন উদযাপনের ধরন নিয়েও ভাবা জরুরি হয়ে পড়ে।
একটি ফাইটার বিমান মাত্র এক ঘণ্টা আকাশে উড়লেই প্রায় ১৫,০০০ লিটার জ্বালানি খরচ হয়। আর ২৬ মার্চের মতো বিশেষ দিনে একাধিক বিমান আকাশে উড়ে, তার আগে কয়েকদিন ধরে অনুশীলন ও প্রস্তুতিও চলে। সব মিলিয়ে একটি দিবস উদযাপন ঘিরে প্রায় ১,০০,০০০ লিটার বা তারও বেশি জ্বালানি ব্যবহৃত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বাস্তবতা হলো—এই জ্বালানির পরিমাণ একটি শহরের একটি তেল পাম্পের দৈনিক মজুদের সমান।
অন্যদিকে, একই সময়ে মানুষ তেলের জন্য লাইনে দাঁড়াচ্ছে, বাড়তি দামের চাপ সহ্য করছে। সরকার নিজেই অপচয় কমানোর আহ্বান জানাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে এমন ব্যয়বহুল আয়োজন প্রশ্নের জন্ম দেয়—আমরা কি নিজেরাই আমাদের বলা নিয়ম মানছি?
তাই প্রশ্নটা উদযাপন করা উচিত কি না—এটা নয়। প্রশ্নটা হলো, কীভাবে উদযাপন করা উচিত।
স্বাধীনতার এত বছর পর আমরা এমন একটি অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে শুধু শক্তি প্রদর্শন নয়, দায়িত্ববোধও দেখানো জরুরি। হয়তো আকাশে বিমান না উড়িয়ে, সেই ১ লক্ষ লিটার জ্বালানি সাশ্রয় করে একটি শক্তিশালী বার্তা দেওয়া যেত—যে এই দেশ শুধু সাহসীই নয়, সচেতনও।
এমন একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করা যেত, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিখাবে—দেশপ্রেম মানে শুধু প্রদর্শন নয়, প্রয়োজনের সময়ে সংযমও।
আমরা উদযাপন করবো—অবশ্যই করবো। তবে সেই উদযাপন হোক সময়োপযোগী, বাস্তবতাসচেতন এবং আরও অর্থবহ। এমন উদযাপন, যা শুধু চোখে নয়, বিবেকেও ছাপ ফেলে।