Raise Voice for Women

Raise Voice for Women Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from Raise Voice for Women, Digital creator, Dhaka.

আমাদের চারপাশের নারীদের উপর অন্যায়, ইভটিজিং, ধর্ষণের মত ঘটনাগুলো চাপা পড়ে যায়, আওয়াজের অভাবে, তাই নারীদের আড়ালে রেখে অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচনে কাজ করবো ইনশাআল্লাহ, আপনার চারপাশের অত্যাচার, ইভটিজিং, ধর্ষণের মত ঘটনাগুলোর আড়ালে থাকা অমানুষগুলোর মুখোশ খুলে দিন

"আমি ভুল করেছিলাম”—এই তিনটি শব্দ কখনো কখনো পুরো একটা জীবন বদলে দিতে পারে। 💔 এই গল্পটা পড়ার পর হয়তো আপনারও মনে হবে—কাউকে ...
24/08/2026

"আমি ভুল করেছিলাম”—এই তিনটি শব্দ কখনো কখনো পুরো একটা জীবন বদলে দিতে পারে। 💔
এই গল্পটা পড়ার পর হয়তো আপনারও মনে হবে—কাউকে ক্ষমা চাইতে বা ভালোবাসার কথা বলতে দেরি করা উচিত নয়।

"আমি পঁচিশ বছর ধরে কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করি। চিঠি, পার্সেল, কাগজপত্র, নোটিশ, সব পৌঁছে দিই। আগে চিঠি বেশি আসতো। এখন আসে ব্যাংকের কাগজ, চাকরির কাগজ, আদালতের নোটিশ, অনলাইন অর্ডারের বাক্স।

​আমার নাম কামাল। ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, কলাবাগান, হাজারীবাগ, এই এলাকাগুলোতে আমার রুট। প্রতিদিন একটা ব্যাগ কাঁধে নিয়ে ঘুরি। বৃষ্টি হলে ভিজি। রোদ হলে পুড়ি। শীত হলে কাঁপি। কাজটা ভালো লাগে না। তবু ছাড়িনি।

​আমাদের অফিসে একটা নিয়ম আছে। ঠিকানা ভুল হলে তিনবার চেষ্টা করতে হয়। তারপর লেখা হয়-

"প্রাপককে পাওয়া যায়নি।"

​এই তিনটা শব্দ আমি জীবনে অসংখ্যবার লিখেছি। কিন্তু একদিন একটা খামের উপর এই তিনটা শব্দ লিখতে গিয়ে আমার হাত থেমে গিয়েছিল। খামের উপর লেখা ছিল-

প্রেরক: আবদুল হালিম
প্রাপক: রাশেদ হালিম
বাড়ি: ১৭/বি, লালমাটিয়া, ঢাকা।
নিচে ছোট করে লেখা-
জরুরি। ব্যক্তিগত।

অর্থাৎ, আবদুল হালিম নামে এক বয়স্ক বাবা তাঁর ছেলে রাশেদ হালিমের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। কিন্তু মজার বিষয় হলো, প্রেরক ও প্রাপক দুজনেরই ঠিকানা একই দেয়া-
১৭/বি, লালমাটিয়া, ঢাকা। মানে বাবা তাঁর নিজের বাড়ির ঠিকানাতেই ছেলের নামে চিঠি পোস্ট করেছেন!

​আমি ঠিকানায় গিয়ে দেখি, ১৭/বি বলে কোনো বাড়িই নেই।
১৭ আছে।
১৭/এ আছে।
১৭/সি আছে।
কিন্তু ১৭/বি নেই।

পাশের দোকানের লোককে জিজ্ঞেস করলাম। ​লোকটা বললো, "আগে ছিল।"
"এখন?"
"ভেঙে ফ্ল্যাট হইছে।"
"হালিম সাহেব?"
লোকটা কাঁধ ঝাঁকালো, "চিনি না।"

​আমি পাশের চায়ের দোকানে গেলাম। ​চা-ওয়ালা বললো, "আবদুল হালিম নামে একজন ছিল।"
"কোথায় গেছে?"
"মারা গেছে।"
"কবে?"
"অনেক বছর।"

​আমি অফিসে ফিরে খামটা "প্রাপককে পাওয়া যায়নি" লিখে জমা দিতে পারতাম। দিইনি। ​পরদিন আবার গেলাম। ১৭ নম্বর বাড়ির পুরোনো দারোয়ানকে পেলাম। বয়স অনেক। নাম গফুর। আমি খামের নামটা বলতেই লোকটা আমার দিকে তাকিয়ে বললো,

​"আপনি আবদুল হালিম সাহেবের ছেলের লোক?"
"না। কুরিয়ার।''
লোকটা বললো, "আবদুল হালিম সাহেব তো নাই।"
​আমি জিজ্ঞেস করলাম, "তার ছেলে কোথায়?"
"বিদেশে।"
"কোন দেশে?"
"কানাডা।"
"যোগাযোগ নেই?"
"না।"

আমি জিজ্ঞেস করলাম, "কেন?"
লোকটা বললো, "বাপ ছেলের ঝামেলা।"

​এই কথাটা বাংলাদেশের মানুষের খুব প্রিয়। সবকিছুর ব্যাখ্যা এক কথায় হয়ে যায়, "ঝামেলা ছিল।"

​আমি বললাম, "কী ঝামেলা?"
লোকটা বললো, "সেইটা আমি জানি না।"
তারপর একটু থেমে বললো, "তবে শেষের দিকে আবদুল হালিম সাহেব প্রতিদিন বিকেলে গেটের সামনে বসে থাকতেন।"
"কেন?"
"ছেলের জন্য।"
"ছেলে আসতো?"
"না।"

​আমি চুপ করে গেলাম।

​কানাডায় ছেলেটার নাম ছিল রাশেদ হালিম। ফেসবুকে খুঁজলাম। পেলাম না। লিংকডইনে পেলাম একজনকে। নাম মিলে যায়। ঢাকায় জন্ম। কানাডায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। বয়সও মিলে। আমি তার প্রোফাইলের ছবি দেখলাম। একজন হাসিখুশি মানুষ। বউ। দুইটা বাচ্চা। বরফের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছবি। ক্যাপশনে লেখা-

"Home is where your people are."

​আমি অনেকক্ষণ ঐ কথাটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। হোম ইজ হোয়্যার ইয়োর পিপল আর। মানুষ কত সহজে ইংরেজিতে এমন কথা লিখে ফেলে। নিজের ভাষায় বলতে গেলে বুক কাঁপে।

​আমি তাকে মেসেজ পাঠালাম, "আপনার নামে একটা চিঠি এসেছে।"

কোনো উত্তর নেই।

দুই দিন পর উত্তর এলো, "Who are you?"
আমি বললাম, "আমি কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ করি। আপনার বাবা একটা চিঠি পোস্ট করেছে।"
সে লিখলো, "My father died years ago."
আমি বললাম, "চিঠিটা আপনার জন্যই।"

অনেকক্ষণ কোনো উত্তর নেই।
তারপর লিখলো, "Don't contact me again."

​আমি চুপ করে গেলাম। চিঠিটা আমার ড্রয়ারে রয়ে গেল।
তারপর এক সপ্তাহ। দুই সপ্তাহ। এক মাস। আমি চিঠিটা অফিসে জমা দিইনি।

​একদিন সন্ধ্যায় রাশেদের কাছ থেকে মেসেজ এলো, "What does the letter say?"
আমি বললাম, "আমি খুলি নাই।"
সে আবার লিখলো, "Can you send me a picture?"

​আমি খামের ছবি পাঠালাম।
সে অনেকক্ষণ কোনো উত্তর দিলো না।

তারপর লিখলো, "That's my father's handwriting."
আমি বললাম, "আপনি চিঠিটা চান?"
অনেকক্ষণ পর উত্তর এলো, "Yes."
আমি বললাম, "ঠিকানা দেন।"

​সে ঠিকানা দিল। সেদিনই আমি চিঠিটা পাঠিয়ে দিলাম। কাজ শেষ। ভাবলাম, এবার আমার দায়িত্ব শেষ। তিন দিন পর একটা ফোন এলো। বিদেশি নম্বর। আমি ধরলাম। ওপাশ থেকে একটা পুরুষের গলা।

​"আপনি কামাল?"
"জি।"
"আমি রাশেদ।"
"জি।"
"চিঠিটা পেয়েছি।"

​আমি চুপ করে থাকলাম।

​সে বললো, "আপনি কি জানেন, আমার বাবা মারা যাওয়ার আগে শেষবার আমাকে কী বলেছিলেন?"
"না।"
"বলেছিলেন, তুই যদি কোনোদিন ফিরে আসিস, আমার কাছে আসিস না।"

আমি কিছু বললাম না।

সে বললো, "আমি আর ফিরিনি।"

​তারপর দীর্ঘ নীরবতা।

​"চিঠিতে কী ছিল জানেন?"
"না।"

সে হাসলো।

তারপর বললো, "আমার বাবা কখনো কাউকে চিঠি লিখতেন না।"

আমি অবাক হলাম।

বললাম, "কিন্তু এটা তো আপনার বাবার হাতের লেখা।"
"হ্যাঁ।"
"তাহলে?"
"তিনি লিখেছিলেন। কিন্তু পাঠাননি।"

আমি বুঝলাম না।

রাশেদ বললো, "চিঠিটা তিনি নিজের আলমারিতে রেখে গিয়েছিলেন।"
"কীভাবে পোস্ট হলো?"
"তার বাড়ি বিক্রি করার পর নতুন মালিক পুরোনো আলমারির কাগজপত্রের মধ্যে খামটা পেয়েছিলেন। হয়তো ভেবেছেন পোস্ট করা হয়নি, তাই দয়ায় পড়ে ডাকবাক্সে ফেলে দিয়েছেন।"
আমি বললাম, "চিঠিতে কী ছিল?"
রাশেদ কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো, "একটা মাত্র বাক্য।"
"কী?"

"আমি ভুল করেছিলাম।"

আমি বললাম, "এইটুকু?"
"হ্যাঁ।"
"আর কিছু?"
"না।"

আমি বললাম, "তাহলে আপনি কাঁদছেন কেন?"
রাশেদ কান্না থামিয়ে বললো, "আমি ভেবেছিলাম, বাবারা কখনো ভুল করে না।"

​আমি জানি না কেন, কথাটা শুনে আমার নিজের বাবার কথা মনে পড়লো। আমার বাবা ছিলেন রাগী মানুষ। আমি ছোটবেলায় একবার স্কুল থেকে পালিয়ে সিনেমা দেখতে গিয়েছিলাম। বাবা জানতে পেরে আমাকে এমন মেরেছিলেন যে তিনদিন স্কুলে যেতে পারিনি। তারপর আমি ঠিক করেছিলাম, কোনোদিন বাবার সঙ্গে কথা বলবো না।

দুদিন পরই বাবা মারা গেলেন। আমার রাগটা রয়ে গেল। বাবা রইলেন না। মানুষের রাগেরও একটা সমস্যা আছে। যার ওপর রাগ করা হয়, সে না থাকলেও রাগটা থেকে যায়। তারপর একদিন সেই রাগের কোনো ঠিকানা থাকে না।

​রাশেদ বলল, "কামাল ভাই?"
"জি?''
"আপনি কি একটা কাজ করবেন?"
"কী?"
"আমার বাবার কবরটা খুঁজে দিতে পারবেন?"
আমি বললাম, "পারবো।"
"কেন জানি না, আমি যেতে চাই।"
"আসবেন?"
"হ্যাঁ।"

​তিন মাস পর রাশেদ ঢাকায় এলো। আমি তাকে বিমানবন্দর থেকে নিতে যাইনি। কিন্তু সে নিজেই আমাকে ফোন করলে।

​"কামাল ভাই, আমি ঢাকায়।"
"কোথায়?"
"পুরোনো বাসার সামনে।"

​আমি গেলাম। সে গাড়ি থেকে নামলো। আমি প্রথমে চিনতেই পারিনি। ছবির চেয়ে মানুষ বাস্তবে অন্যরকম।

​সে আমাকে দেখে বললো, "আপনিই কামাল?"
"জি।"

​সে হাত বাড়ালো। আমি হাত ধরলাম। তার হাত কাঁপছিল। আমরা একসঙ্গে কবরস্থানে গেলাম। তার বাবার কবর খুঁজে পেলাম। রাশেদ কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। তারপর বসে পড়লো।

কোনো দোয়া পড়লো না। কিছু বললো না। শুধু মাটির উপর হাত রাখলো।

​অনেকক্ষণ পর বললো, "বাবা, আমি এসেছি।"

​আমি একটু দূরে দাঁড়িয়ে ছিলাম।

​সে আবার বললো, "তুমি বলেছিলে, আসিস না।''

চুপ

''আমি আসিনি।''

চুপ

''তুমি ভুল করেছিলে।"

চুপ

"আমিও ভুল করেছিলাম বাবা।"

​আমি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। দূরে সরে গেলাম।
মানুষের কিছু কথার সাক্ষী হওয়া উচিত না। কিছু কথা মৃত মানুষের আর জীবিত মানুষের মাঝেই থাকা ভালো।

​ফেরার সময় রাশেদ আমাকে বললো, "কামাল ভাই, আপনি না থাকলে আমি আসতাম না।"
আমি বললাম, "আমি তো শুধু চিঠি পৌঁছাইছি।"
সে বললো, "না।"
"তাহলে?"
"আপনি আমার কাছে একটা ঠিকানা পৌঁছে দিয়েছেন।"
আমি হেসে বললাম, "কবরের ঠিকানা?"
সে মাথা নাড়লো, "না।"
"তাহলে?"
সে বললো, "বাবার কাছে যাওয়ার ঠিকানা।"

​আমি কিছু বললাম না। অফিসে গিয়ে আমার ছেলেকে ফোন করলাম। সে ধরলো না। আবার করলাম। ধরলো।

​বললো, "কী হয়েছে?"
আমি বললাম, "কিছু না।"
"তাহলে ফোন করছো কেন?"
আমি বললাম, "তুই কেমন আছিস?"
সে বললো, "ভালো।"
আমি বললাম, "তোর সঙ্গে আমার কোনোদিন খুব বেশি রাগারাগি হয়েছে?"
ওপাশে সে হাসলো, "আপনার তো প্রতিদিনই রাগারাগি হয়।"
আমি বললাম, "আমি যদি কোনোদিন ভুল করে থাকি?"

সে চুপ করে গেল।

আমি বললাম, "তাহলে আমাকে বলিস।"
"কেন?"
"যাতে আমি ঠিক করতে পারি।"
সে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললো, "আব্বা, আপনি ঠিক আছেন তো?''
"হ্যাঁ।"
"কিছু খাইছেন?"
"না।"
"খেয়ে ঘুমান।"

​ফোন কেটে গেল।

​আমি অনেকক্ষণ ফোনটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। তারপর ড্রয়ার খুললাম। রাশেদের বাবার চিঠির একটা ফটোকপি সেখানে রেখেছিলাম। মাত্র এক লাইন।

''আমি ভুল করেছিলাম।''

আমি কাগজটা হাতে নিয়ে ভাবলাম, মানুষ পৃথিবীতে কত কিছু লিখে। উপন্যাস। কবিতা। ইতিহাস। আইন। প্রেমপত্র। ক্ষমাপত্র। কিন্তু জীবনের সবচেয়ে কঠিন চিঠিটা সম্ভবত এই তিনটা শব্দের, আমি ভুল করেছিলাম। এই তিনটা শব্দ বলতে একজন বাবার পঁচাত্তর বছর লাগে। একজন ছেলের ত্রিশ বছর। কখনো কখনো পুরো একটা জীবন।

​পরদিন অফিসে গিয়ে টেবিলে এক পুরোনো পার্সেল পড়ে থাকতে দেখলাম। প্রাপক মৃত, প্রেরকের খোঁজ নেই। ফেরত যাওয়ার অপেক্ষায় ধুলো জমছে খামের উপর। আমি কিছুক্ষণ সেটার দিকে তাকিয়ে রইলাম। মনে হলো, পৃথিবীতে কত অভিমান, কত অসম্পূর্ণ কথা এভাবেই কোনো না কোনো টেবিলে ঠিকানাহীন হয়ে জমা পড়ে থাকে।

​অফিসে ভালো লাগলো না। আমি বাড়ি ফিরে এলাম।

আমার ছেলে তখন ঘরে বসে ফোন দেখছিল। আমি তার পাশে গিয়ে বসলাম। সে তাকালো।

আমি বললাম, "তোর সাথে আমার একটা কথা ছিল।"
সে অবাক হয়ে বললো, "কী কথা?"

আমি ড্রয়ার থেকে রাশেদের বাবার চিঠির ফটোকপিটা বের করে তার সামনে রাখলাম।

সে খামটার দিকে, তারপর আমার দিকে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল।
তারপর হঠাৎ উঠে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো।

অনেক বছর পর। খুব অল্প সময়ের জন্য। কিন্তু যথেষ্ট। আমি তার পিঠে হাত রাখলাম। কিছু বললাম না। আমার মনে হলো, সেদিন যদি রাশেদের বাবার চিঠিটা পৌঁছে না দিতাম, তাহলে হয়তো আমার ছেলেকে আমি এই কথাগুলো কোনোদিন বলতাম না।

​আমি এখনও কুরিয়ারে কাজ করি। এখনও ভুল ঠিকানার পার্সেল আসে। এখনো অফিসে তিনটা শব্দ লেখা হয়,

"প্রাপককে পাওয়া যায়নি।"

​কিন্তু আমি আর আগের মতো সহজে লিখতে পারি না। কারণ আমি জানি, কখনো কখনো মানুষ ঠিকানায় থাকে না। অভিমানে থাকে। দূরত্বে থাকে। ভুল বোঝাবুঝিতে থাকে। কখনো বিদেশে থাকে। কখনো কবরের নিচে। আর কখনো, একই বাড়িতে থেকেও একটা দরজার ওপাশে থাকে। তাই কোনো চিঠি হাতে নিয়ে যদি মনে হয়, "লোকটা তো নেই।" আমি একটু অপেক্ষা করি। কারণ ঠিকানাটা ভুল হতে পারে। কিন্তু চিঠিটা নয়। চিঠি সাধারণত ঠিক মানুষটার কাছেই যেতে চায়। শুধু পৌঁছাতে কখনো কখনো একজন কামালের দরকার হয়!
সংগৃহীত

কিছু ধনী পরিবারের সন্তানেরা মারাত্নক একটি সমস্যায় পড়েন। একই সাথে তারা Superiority and Inferiority Complex এ ভোগেন। না পা...
15/08/2026

কিছু ধনী পরিবারের সন্তানেরা মারাত্নক একটি সমস্যায় পড়েন। একই সাথে তারা Superiority and Inferiority Complex এ ভোগেন। না পারে সইতে, না পারে কইতে। না পারে চলতে, না পারে থেমে থাকতে। না পারে চাকরী করতে, না পারে ব্যবসা করতে।

আমার পরিচিত একজন। তার বাপের অনেকগুলো ট্রাক। কোটি টাকার ব্যবসা। সে ভাল সাবজেক্টে গ্রাজুয়েসন করেছে। বাবার বয়স হয়েছে। তাই, বাবা তাকে বলেছে, ব্যবসার হাল ধরতে। তার বাবা, ঘর্মাক্ত শরীর নিয়ে লেবার শ্রেনীর লোকজন, ট্রাকের ড্রাইবার বড়জোড় অন্য ট্রাকের মালিকের সাথে উঠবস করে। ফ্যান লাগানো টিনের ছাউনি অফিসে, কাঠের চেয়ারে বসে কোটি টাকা গুনে। কিন্তু সে যেহেতু ভাল ভার্সিটিতে পড়েছে, ভাল রেজাল্ট করেছে, সে কোনভাবেই বাবার ব্যবসায় বসতে চাচ্ছেনা। তার জন্য এটা একটা প্রেসটিজ ইস্যু। বন্ধুরা কি বলবে!

তাই সে ব্যাংকে চাকরী করে। স্যুট পড়ে যায়, এসি রুমে বসে। ঢাকা শহর থাকে। লাখ টাকা বেতন পায়। সোসাইটি মেইনটেইন করতে, ভাল জায়গায় ৬০ হাজার টাকা এপার্টমেন্ট ভাড়া দেয়। মাসের শেষে কিচ্ছু থাকেনা। দশ বছরে তার সেভিংস ৫ লাখ ও নেই। অথচ তার বাবার মাসিক ইনকাম ১০ লাখের উপরে। এত বছর চাকরী করার পরে , সে ভাবছে কি করলাম? সারাজীবন নিজের টাকায় একটা ফ্ল্যাট ও তো কিনতে পারলাম না।

অনেক সময়, বাবা ই চায়না, ছেলে পারিবারিক ব্যবসায় আসুক। বাবা চায়, বড় চাকরী করুক সন্তান। যাতে মানুষকে বলতে পারে, আমার ছেলে অফিসার। এসব পরিবারে হঠাৎ বাবা মারা গেলে, পারিবারিক ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। কারন বাবা মারা যাবার পরে সন্তানদের ঐ ব্যবসা চালানোর অভিঙ্গতা থাকে না আর।

আর যে সব ধনীর সন্তান পড়াশোনা কম করেছে, আবার বাবার ব্যবসায় বাবা বসতে দিতে চায় না, তারা সারাজীবন বেকার ই থাকে। কারন তারা তো ঢাকায় যেতে পারে না, যেখানে তাকে কেউ চিনেনা। এলাকায় সবাই জানে ধনীর সন্তান। ধনীর সন্তানকে কেউ ছোট চাকরী দিতে চায় না। কারন, তাকে তো শাসন করতে পারবে না , আদেশ দিতে সংকোচ করা লাগবে বা যে কোন সময় চাকরি ছেড়ে দিবে। এসব সন্তানেরা ভেতরে ভেতরে চাপা কষ্টে ভোগে। মনে করে, আমি কোন কাজের না। আমি কিচ্ছু করতে পারবো না।

পৃথিবীতে যত গ্রুপ অব ইন্ড্রাস্টিজ হয়েছে, বেশীরভাগ সেকেন্ড জেনারেসনের হাত ধরে হয়েছে। বাবা ধনী হয়েছে আবুল বিড়ি বিক্রি করে। সন্তানরা পড়াশোনা শেষ করে এসে , সিমেন্ট, সিরাসিক , প্লাস্টিক ইন্ড্রাস্টি করেছে। বাবা, তাদের মাথার উপরে থেকে মেন্টরসীপ দিয়েছে শুধু।

আপনার বাবার যে ৪০ বছর পুরাতন কন্সট্রাকসন লাইসেন্স, এটার অনেক দাম। এ লাইসেন্সকে কাজে শেকড় ধরে, আপনার পড়াশোনাকে কাজে লাগিয়ে আপনি যত বড় কাজ করতে পারবেন, আপনি নিজে শুন্য হতে শুরু করে , তা পারবেন না।

প্রকৃত ধনীরা স্যুটবুট পড়ে পোজপাজ করার ধার ধারেনা। তারা ক্যাজুয়েল ড্রেস পড়ে আর পেছনে স্যুটেড বুটেড চাকর রাখে। এটা বুঝতে পারলেই আপনার মাইন্ডসেট বদলাবে।

Money brings power , authority, position as well as respect.

উপরে ফিটপাট ,ভেতরে সদরঘাট
হয়ে জীবনে কিচ্ছু করতে পারবেন না।

সারাজীবন হাতির পা ধরে বসে থাকলে, হাতি চিনতে পারবেন না। হাতি চালানোর সক্ষমতা অর্জন করবেন যখন ছোট ব্যবসার সবকিছু চালানোর অভিঙ্গতা অর্জন করবেন। ব্যাংকে বসে সারাদিন অন্যের টাকা গুনে , আপনি ধনী হতে পারবেন না।

আমি চায়না এসে যে কষ্ট করেছি, তা দেশে থাকলে কোনদিন করতে পারতাম না। শুধুমাত্র superiority complex এ ভোগার কারনে। আর এভাবে জিরো থেকে শুরু না করলে, ব্যবসা শিখতে পারতাম না। দেশের বন্ধুবান্ধবের অনেকেই তো এখনো মনে করে, আমার বাবায় আমাকে গাড়ি কিনে দিয়েছে। অথচ, আমি অনেক দিন চায়না সেনজেন শহরে ১ টা আপেল + একটা কলা দিয়ে দিন পার করেছি লাঞ্চ এর ৫০ RMB বাঁচানোর জন্য - আসলে পিছনের কষ্ট টা কেউ দেখে না 😥

#ধন #সম্পদ #ব্যবসা #কোটিপতি #বাবার #বাবাছেলে #সন্তান

ইউনূসের সরকারই ভাল ছিল তাইলে
14/08/2026

ইউনূসের সরকারই ভাল ছিল তাইলে

''পুরুষদের সবচেয়ে বড়ো শত্রু একটা গরুর খামার!''কেনো বললাম? তাহলে কাহিনী শুনেন!চিটাগাং এ অগ্রনী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ব্যাংকে...
14/08/2026

''পুরুষদের সবচেয়ে বড়ো শত্রু একটা গরুর খামার!''
কেনো বললাম? তাহলে কাহিনী শুনেন!

চিটাগাং এ অগ্রনী ব্যাংকের ভল্ট থেকে ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা গায়েব করে দিছে! ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা!‌ কম না কিন্তু!
এই টাকা পেলে আপনি কি করতেন? বিদেশ চলে যাইতেন, ঘুরতে যাইতেন কিংবা 'এতো টাকা দিয়া আমি কি করমু' চিন্তা করে পাগলাই যাইতেন!

এই দুইজন কি করছে জানেন? 'ইশরাত এগ্রো ফার্ম' নামে একটা গরুর খামার দিছে! 😂

কেনো দিছে? কারন এইটা 'পুরুষ মানুষের শখ!' ৯৯% ছেলেদের জীবনে 'একটা গরুর খামার এর মালিক হবো 'টাইপের শখ থাকে!

তারা ব্যাংকের টাকা গায়েব করে দিয়ে গরুর খামার দিয়ে নিজেদের শখ পূরণ করছে! ভাবা যায়? 😂

-Umed

আজ চেম্বারে এক মা বাচ্চাকে নিয়ে আসলেন। তিনি বাচ্চার নানা সমস্যার কথা বলছিলেন। কিন্তু চিকিৎসা শেষে যখন তিনি বের হচ্ছিলেন,...
11/08/2026

আজ চেম্বারে এক মা বাচ্চাকে নিয়ে আসলেন। তিনি বাচ্চার নানা সমস্যার কথা বলছিলেন। কিন্তু চিকিৎসা শেষে যখন তিনি বের হচ্ছিলেন, তখন এমন কিছু বললেন যার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।

তিনি বললেন, তার নিজের জীবন শেষ করে দিতে ইচ্ছে করছে—এমনকি তার সন্তানদের নিয়েও খারাপ কিছু করার চিন্তা আসছে। তার একটি সন্তানের প্রতি তীব্র রাগ ও ক্ষোভও কাজ করছে।

বুঝতে একটুও দেরি হয়নি—এটি Postpartum Depression।

আমাদের চারপাশে এমন অসংখ্য মা নীরবে এই যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছেন। কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটলে হয়তো খবর হয়, কিন্তু তার আগে কি আমরা তাদের খোঁজ নিই?

পরিবার বা রাষ্ট্র—মায়েদের এই মানসিক বিপদ থেকে রক্ষা করতে আমাদের উদ্যোগ কতটুকু?

মনে রাখতে হবে—
নতুন মা হলে এই সময়টাতে স্বামীর সবচেয়ে বেশি পাশে থাকা প্রয়োজন। পরিবারের অন্য সদস্যদেরও সমানভাবে সহানুভূতিশীল ও সহযোগিতামূলক হওয়া দরকার।

যদিও আমাদের দেশের অনেকেই এ রুগকে "ঢং" বলে উড়িয়ে দেন।

-ডাঃ মোঃ গিয়াসউদ্দিন টিপু

05/08/2026

প্রথম স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জিয়া
দ্বিতীয় স্বাধীনতার ঘোষক তারেক জিয়া

ইসলামোফ্যাশিজমের ১০ বছরব্যপী কালো অধ্যায় ভেঙে তৃতীয় স্বাধীনতা আসবে জায়মা রহমানের হাত ধরে।

05/08/2026

..আমাদের চির অভাগী আপা
..


Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Raise Voice for Women posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share