07/06/2026
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের তখন শেষ সময়। অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে তিনি মসজিদে এসে সালাত আদায় করতে পারতেন না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু নামাজে ইমামতি করতেন। একদিন ফজরের সময় সাহাবিরা সারিবদ্ধ হয়ে জামাতে দাঁড়িয়েছেন। আবু বকর দরদমাখা কন্ঠে তিলাওয়াত করেই যাচ্ছেন, কখনো ফুঁপিয়ে কাঁদছেন। প্রিয় নবি তখন আইশা রাদিয়াল্লাহু আনহা এর ঘরে অবস্থান করছিলেন। ঘরের পর্দাটা কিছুটা আলগা করে তিনি মসজিদের দিকে তাকালেন। সারা জীবন ধরে যে রবের ইবাদাতের দাওয়াত তিনি দিয়ে গেলেন তার ফল তিনি দেখতে পেলেন, তিনি দেখতে পেলেন তার সাথীরা আরশের অধিপতির ইবাদাতে মশগুল হয়ে আছে। এই দৃশ্য এতই সুন্দর আর চক্ষু শীতলকারী ছিল যে, প্রিয় নবি এই অপূর্ব দৃশ্য দেখে মুচকি হাসলেন। সাল্লাল্লাহু আলাইই ওয়া সাল্লাম।
প্রতিদিন মুয়াজ্জিন এক রবের দিকে ডেকেই চলেছে, মসজিদগুলোতে হয়ে যাচ্ছে ইক্বামাত, সালাত। চলে যাচ্ছে এক একটা রুকু, সেজদা। আমাদের অত সময় নেই, আমরা খুব ব্যস্ত। সূরাহ মুদ্দাসিরে জান্নাতি আর জাহান্নামীদের একটা কথোপকথন আছে। জান্নাতীরা জাহান্নামীদের জিজ্ঞেস করবে,
“কিসে আজ তোমাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে এলো!
তারা বলবে, আমরা নামায পড়তাম না।” (সূরাহ মুদ্দাসসির, ৭৪ : ৪২-৪৩)
তোমাদের রবকে একটু সময় দিও। তোমাদের যত দুঃখ-ব্যথা, কষ্টের কথা তাঁর কাছেই বলো। তিনি প্রতিদিন, প্রতিটা মুহূর্ত তোমাদের জন্য অপেক্ষা করেন, কখন তোমরা ইয়া রব বলে ডাক দেবে, কখন তোমরা তার কাছে ক্ষমা চাইবে। তিনিই তো আমাদের রব। রাব্বুল আরশীল আযীম।