17/07/2026
The Odyssey (2026): নোলান হোমারের মহাকাব্যকে যেভাবে সিনেমার পর্দায় ফিরিয়ে আনলেন🔥🔥🔥
Movie: The Odyssey (2026)
Rating: RT: 98% | Sajeeb: 9/10
Director: Christopher Nolan
Cast: Matt Damon, Anne Hathaway, Tom Holland, Robert Pattinson, Lupita Nyong'o, Zendaya, Charlize Theron
Release: Theatrical (IMAX), July 17, 2026
ট্রয় যুদ্ধ জেতার পরও ওডিসিউসের আসল যুদ্ধ শুরু হয় বাড়ি ফেরার পথে। দশ বছরের এক যাত্রা, যেখানে সাইক্লপস, জাদুকরী, সাইরেনের গান, আর দেবতাদের ক্রোধ সব একসাথে জড়িয়ে যায় স্ত্রী পেনেলোপি আর ছেলে টেলেমাকাসের কাছে ফেরার এক মরিয়া চেষ্টার সাথে। নোলান এই কাহিনিকে এমনভাবে পর্দায় আনেন যে হোমারের মহাকাব্য পড়ার সময় যে ভয়াবহতা আর মাহাত্ম্য কল্পনা করতাম, সেটা এতদিনে সত্যিকারের ছবিতে দেখতে পেলাম—আর সেই অভিজ্ঞতাটা কথায় বোঝানো কঠিন, সিনেমা হলে বসে অনুভব করার মতো জিনিস।
ম্যাট ড্যামন ওডিসিউসকে মূল কাহিনির চেয়ে একটু বেশি সংযত, স্টয়িক করে ফুটিয়েছেন। এটা কারো কাছে সীমাবদ্ধতা মনে হতে পারে, কিন্তু সিনেমার সামগ্রিক টোনের সাথে এই সংযমটা ভালোভাবেই মিশে যায়। অ্যান হ্যাথাওয়ে পেনেলোপির অপেক্ষা আর দৃঢ়তার মধ্যে যে ভারসাম্য দরকার ছিল, সেটা ধরে রাখেন। কিন্তু আসল চমক স্যামান্থা মর্টনের সার্সি আর শার্লিজ থেরনের ক্যালিপসো—দুজনেই এমনভাবে টানে যে বাড়ি ফেরার তাড়া থাকা সত্ত্বেও ওডিসিউসের বিলম্বটা যৌক্তিক মনে হয়, বরং তার দুর্বলতাটাই মানবিক লাগে। হিমেশ প্যাটেল ইউরিলোকাসের চরিত্রে মূল বইয়ের চেয়ে অনেক বেশি বীরত্বপূর্ণ একটা সংস্করণ উপস্থাপন করেন, যেটা একটা সচেতন পরিবর্তন বলেই মনে হয়। জেনন্ডায়ার এথিনা চরিত্রটা পুরো সিনেমায় খুব কম সময় থাকলেও, প্রতিবার হাজির হওয়াটা একটা আলাদা ওজন বহন করে—এটা কি ওডিসিউসের অপরাধবোধের প্রতীক, নাকি সে নিজেই কিছুটা বিভ্রান্ত, সেই প্রশ্নটা দর্শকের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
টেকনিক্যালি এই সিনেমা এক কথায় অভিজ্ঞতা। পুরোপুরি IMAX ফিল্মে ছয়টা দেশে শুট করা হয়েছে, আর হয়টে ভ্যান হয়টেমার সিনেমাটোগ্রাফি প্রতিটা ফ্রেমকে জীবন্ত করে তোলে—ওপেনহাইমার-এর পর তার আরেকটা অস্কার দাবির মতো কাজ। লুডভিগ গোরানসনের স্কোরও প্রতিটা দৃশ্যের ভার বাড়িয়ে দেয়। তবে একটা জায়গায় সমালোচনার অবকাশ আছে—দেবতাদের সরাসরি দেখানোর বদলে ঝড়-বৃষ্টি বা প্রতীকী উপায়ে বোঝানোটা কিছুটা আক্ষেপ তৈরি করে। মূল কাহিনিতে দেবতাদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি আর মানুষের জগতের সাথে তাদের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কটাই হোমারের যুগকে আলাদা করে তোলে, আর নোলান সেই ঐশ্বরিক আবহটাকে ইচ্ছাকৃতভাবে কমিয়ে দিয়েছেন—ফলে গল্পটা একটু বেশি "মানবিক ড্রামা" হয়ে ওঠে, দেবতাদের মহাকাব্য কম।
মুক্তির আগে থেকেই কাস্টিং নিয়ে অনলাইনে একটা বিতর্ক চলছিল, বিশেষত লুপিতা নিয়ংগোর হেলেন অফ ট্রয় চরিত্রে অভিনয় নিয়ে। এখন সিনেমা মুক্তির পর রিভিউ-বম্বিংয়ের অভিযোগও উঠছে, যদিও প্রফেশনাল ক্রিটিকদের প্রতিক্রিয়া প্রায় সর্বসম্মতভাবে ইতিবাচক—১৪০+ রিভিউয়ের মধ্যে ৯৮% পজিটিভ। এই ধরনের বিতর্ক আসলে সিনেমার আসল মানের সাথে সরাসরি সম্পর্কহীন, বরং এটা এখনকার অনলাইন কালচার-ওয়ারের একটা চেনা প্যাটার্ন, যা আগে হাউস অফ দ্য ড্রাগন বা লিটল মারমেইড-এর সময়ও দেখা গেছে।
সবমিলিয়ে এটা নোলানের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী কাজ—প্রায় তিন ঘণ্টা রানটাইম হলেও প্রতি কয়েক মিনিটে নতুন একটা বড় সিকোয়েন্স আসে, বিরক্তি লাগার সুযোগ কম। দেখার পর মনে হয়, এত বছর ধরে কেন এই গল্পটা এভাবে সিনেমায় আসেনি।
তোমরা কি হোমারের মূল কাহিনির প্রতি বিশ্বস্ততা বেশি চাও, নাকি নোলানের নিজস্ব ব্যাখ্যা?