13/01/2026
"ফ্রিজের ভাত-আলু গরম করলেই ক্যান্সার? আসল সত্যিটা জানি।"
সচেতন হোন, আতঙ্কিত নয়
প্রিয় বন্ধুরা, সামনে অনেক ভাইরাল ভিডিও বা পোস্ট দেখছি যেখানে দাবি করা হচ্ছে, "ফ্রিজে রাখা ভাত বা আলু গরম করে খেলে ক্যান্সার হয়!" এই দাবিটা পুরোপুরি সত্য নয়, তবে পুরোটাই মিথ্যাও নয়। আসুন বিজ্ঞান ও গবেষণার আলোকে সহজভাবে জেনে নেই আসল ঘটনাটা:বিজ্ঞান কী বলে?
ভাতের ক্ষেত্রে:
ঝুঁকি ক্যান্সারে নয়, খাদ্যে বিষক্রিয়া (Food Poisoning)-এ।
ভাত রান্নার পর যদি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘরের তাপমাত্রায় রাখা হয়, তাহলে তাতে Bacillus cereus নামক ব্যাকটেরিয়া বেড়ে যায়। এটি ডায়রিয়া-বমি করতে পারে।
সঠিক পদ্ধতি: রান্নার পর দ্রুত ঠাণ্ডা করে (১ ঘণ্টার মধ্যে) ফ্রিজে রাখুন। পরে গরম করার সময় পুরো ভাতটাই ভালোভাবে গরম (ভাপ ভাপ) করে নিন।
আলুর ক্ষেত্রে (এখানেই ক্যান্সার লিংক আসে):
আলু ফ্রিজে রাখলে এর শ্বেতসার কিছুটা চিনিতে পরিণত হয়। এই আলু যদি পরে অতিরিক্ত উচ্চ তাপে ভাজা বা গ্রিল করা হয় (যেমন ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিপস, খুব বাদামি করে ভাজা), তাহলে অ্যাক্রিলামাইড নামক একটি রাসায়নিক তৈরি হতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (IARC) মতে, অ্যাক্রিলামাইড "সম্ভাব্য ক্যান্সারকারক" (প্রাণীর গবেষণায় প্রমাণিত, মানুষের জন্য প্রমাণ সীমিত)।
সঠিক পদ্ধতি: আলু ফ্রিজে রাখার চেয়ে শুকনো ঠাণ্ডা জায়গায় রাখাই ভালো। ভাজতে হলে হালকা সোনালি রং পর্যন্ত ভাজুন, কালচে/বাদামি পর্যন্ত নয়। সেদ্ধ, ভাপে বা স্টু করলে কোনো সমস্যা নেই।
নিরাপদ থাকার জন করনীয় :
· ভাত: দ্রুত ফ্রিজে রাখুন, গরম করে খান।
· আলু: অতিরিক্ত বাদামি/পোড়া করে ভাজা/রোস্ট করা এড়িয়ে চলুন।
· সাধারণ নিয়ম: যেকোনো খাবার "হালকা সোনালি রাখুন, পুড়িয়ে ফেলবেন না"।
· আতঙ্ক ছড়ানো পোস্ট শেয়ার করার আগে যাচাই করুন।
মনে রাখবেন:
স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে সঠিক সংরক্ষণ ও রান্নার পদ্ধতি জানা জরুরি। কিন্তু কোনো একটি খাবার বা পদ্ধতিকে "ক্যান্সারের একমাত্র কারণ" বানিয়ে আতঙ্ক তৈরি করা বৈজ্ঞানিক নয়। সুষম খাবার খান, বৈচিত্র্য রাখুন, পরিমিতি বোধ বজায় রাখুন।
।ফারজানা রহমান খান
কনসালটেন্ট ডায়েটিশিয়ান
এক্স ফুড এন্ড নিউট্রিশন অফিসার
ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হসপিটাল এন্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট
১২.০১.২৬
সূত্র: WHO/IARC, FDA, UK Food Standards Agency-র গাইডলাইন।