
15/05/2025
সান্ডা প্রাণীটি আসলে **কাঁটা লেজযুক্ত টিকটিকি** (Spiny-tailed Lizard) নামে পরিচিত। এর সম্পর্কে কিছু তথ্য নিচে দেওয়া হলো:
**বৈশিষ্ট্য:**
* সান্ডা টিকটিকি অ্যাগামিডি (Agamidae) গোত্রের অন্তর্ভুক্ত। এর বৈজ্ঞানিক নাম ইউরোমাস্টিক্স (Uromastyx)।
* এদের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো মোটা ও শক্তিশালী লেজ, যা কাঁটার মতো খাঁজযুক্ত। এই লেজ তারা আত্মরক্ষার জন্য ব্যবহার করে।
* দেখতে অনেকটা গুইসাপের মতো হলেও এদের শরীর তুলনামূলকভাবে ছোট ও মোটা হয়।
* প্রাপ্তবয়স্ক সান্ডার গড় দৈর্ঘ্য ২৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার (১০ থেকে ১২ ইঞ্চি) পর্যন্ত হতে পারে।
* এদের মাথা চওড়া এবং চারটি পা রয়েছে।
* ঠান্ডায় এদের গায়ের রঙ গাঢ় হয়, যাতে সূর্যের তাপ বেশি শোষণ করতে পারে এবং গরমে শরীরের রঙ হালকা হয়।
**আবাসস্থল:**
* সান্ডা মূলত আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের (পশ্চিম এশিয়া) মরুভূমি অঞ্চলে বসবাস করে।
* এরা সাধারণত শুষ্ক ও আধা-শুষ্ক পাথুরে অঞ্চলে থাকতে পছন্দ করে, যেখানে তারা নিরাপদ আশ্রয়স্থল এবং সহজে উদ্ভিদজাত খাদ্য খুঁজে পায়।
**খাদ্য:**
* সান্ডা প্রজাতির টিকটিকি মূলত তৃণভোজী। এরা গাছপালা, ফুল ও বীজ খেয়ে জীবনধারণ করে।
* তবে প্রয়োজনে এরা পোকামাকড় এবং অন্যান্য ছোট প্রাণীও খেয়ে থাকে।
**অন্যান্য তথ্য:**
* আরবিতে এদের "দব্ব" (ضبّ) বলা হয়।
* দিনের বেশিরভাগ সময় এরা রোদ পোহায় এবং রাতের বেলা অথবা বিপদের সময় ভূগর্ভস্থ গর্ত বা কক্ষে আশ্রয় নেয়।
* তাপমাত্রা ও ঋতুভেদে এদের রঙ বদলাতে পারে।
* মরুভূমির বেদুইন বা স্থানীয় গোষ্ঠীর মানুষ এদের ধরে এবং কেউ কেউ এদের মাংস খায়।
* সান্ডা তেলের প্রচলন রয়েছে, যা আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় এবং যৌন শক্তি বৃদ্ধির উপাদান হিসেবে ব্যবহারের কথা বলা হয়, যদিও এর বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত।
* ইসলামে সান্ডা খাওয়া নিয়ে বিভিন্ন মতামত রয়েছে। হানাফি মাজহাবে এটি মাকরূহ তাহরিমি (না খাওয়াই উত্তম) হিসেবে বিবেচিত, কারণ এটি অরুচিকর প্রাণী হিসেবে গণ্য হয়। তবে শাফেয়ি, মালিকি ও হাম্বলি মাজহাবের আলেমদের মতে এটি হালাল।