10/05/2026
মা দিবস এলেই কেন জানি বুকের ভেতর পুরোনো দিনের গন্ধ ভেসে আসে। মনে পড়ে যায় ২০০০ সালের সেই ছোট্ট শৈশব, গ্রামের কাঁচা রাস্তা, ভোরবেলার শিশির, আর মায়ের স্নেহে জড়িয়ে থাকা দিনগুলো। তখন জীবন এত জটিল ছিল না। সুখ মানেই ছিল মায়ের আঁচল, মায়ের হাতের ভাত, আর সন্ধ্যায় হারিকেনের আলোতে মায়ের পাশে বসে গল্প শোনা।
গ্রামের সেই দিনগুলোতে মায়েরা ছিলেন পৃথিবীর সবচেয়ে সরল মানুষ। নিজেদের কষ্টকে কখনো কষ্ট মনে করতেন না। সারাদিন সংসারের কাজ, রান্নাবান্না, গরু-ছাগল দেখা, সন্তানদের দেখাশোনা—সবকিছু সামলে রাতের শেষে যখন সবাই ঘুমিয়ে যেত, তখনও হয়তো মা চুপচাপ বসে ছেঁড়া কাপড় সেলাই করতেন। অথচ কখনো মুখে বিরক্তি ছিল না। ছিল শুধু নিঃস্বার্থ ভালোবাসা।
আমাদের শৈশবের মায়েরা খুব সাধারণ ছিলেন, কিন্তু তাদের ভালোবাসা ছিল অসাধারণ। তারা হয়তো দামি উপহার দিতে পারতেন না, কিন্তু নিজের প্লেটের সেরা খাবারটা সন্তানের সামনে তুলে দিতে পারতেন। নিজের নতুন কাপড়ের ইচ্ছা চাপা দিয়ে সন্তানের ঈদের জামা কিনে হাসতে পারতেন। নিজের শরীর খারাপ হলেও সন্তানের জ্বরের রাতে নির্ঘুম কাটিয়ে দিতে পারতেন।
আজকের এই ব্যস্ত শহুরে জীবনে দাঁড়িয়ে যখন সেই দিনগুলোর কথা ভাবি, তখন বুঝতে পারি—আমাদের শৈশব এত সুন্দর ছিল শুধুমাত্র মায়ের জন্য। গ্রামের উঠোনে বিকেলের রোদ, পুকুরপাড়ের কাশফুল, বৃষ্টিভেজা টিনের শব্দ—সবকিছুর মাঝেই মায়ের ভালোবাসা মিশে ছিল। মা ছিলেন আমাদের ছোট্ট পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়।
সময় বদলেছে, পৃথিবী বদলেছে, মানুষও বদলেছে। কিন্তু মায়ের ভালোবাসা বদলায়নি। এখনো হাজার কষ্টের মাঝেও মা সন্তানের মুখে হাসি দেখতে চান। নিজের দুঃখ গোপন রেখে সন্তানের সুখে বাঁচতে চান। পৃথিবীতে হয়তো অনেক সম্পর্ক স্বার্থের কারণে বদলে যায়, কিন্তু মায়ের ভালোবাসা কখনো হিসেব করে আসে না।
বিশ্ব মা দিবসে পৃথিবীর সব মায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা। যারা নিঃশব্দে নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়ে আমাদের বড় করে তোলেন, তাদের ঋণ কোনোদিন শোধ করা সম্ভব নয়। মা শুধু একজন মানুষ নন, মা মানেই এক টুকরো শান্তি, এক আকাশ মায়া, আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সবচেয়ে সুন্দর নাম।