30/08/2026
ক্রিকেটটা খুব ভালো খেলতাম, পড়াশোনাতেও ভালো ছিলাম। স্বপ্ন দেখতাম ক্রিকেটার হওয়ার, পরিবার চাইত পড়াশোনা করে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার কিছু একটা হই। সারাক্ষণ পড়া আর পড়া, খেলার জন্য কত যে মাইর খেয়েছি! খেলাধূলার গুরুত্বটা ওভাবে বুঝতো না যে কেউ!
ওপার বাংলায় একটা মুভি আছে, 'চলো পাল্টাই'। ছেলে ক্রিকেটার হতে চায়, বাবা পড়াশোনার জন্য চাপ তৈরি করতে থাকে। সন্তানের খেলতে মানা, রেজাল্ট ভালো হওয়া চাই। আমার সাথে মুভির গল্পের দারুণ মিল। আম্মুকে একদিন বসিয়ে মুভিটা দেখালাম। এরপর থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলার এবং নিজের স্বপ্নের পেছনে সন্তানকে ছুটতে দেয়ার গুরুত্ব আমার মাও আরও ভালোভাবে বুঝতে শুরু করলেন। তখন যদি 'প্লে এন্ড স্টাডি, উইন দ্য রেস' বইটা থাকতো, আমি হয়তো সবার আগে আমার পরিবারের মানুষগুলোকে এই বইটাই পড়তে উৎসাহিত করতাম।
এই বইয়ে শিক্ষা এবং খেলাধূলার ভারসাম্য জীবনে কতটা জরুরী সেটাই মূলত ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। যদি ভুল না হয়ে থাকি, ৭৩ জনের সাথে কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা জানার চেষ্টা করেছেন দুই লেখক। যাদের কথাতে ফুটে উঠেছে শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধূলা কিংবা অন্যান্য স্কিলগুলো কতটা প্রয়োজন। এই ৭৩ জনের মধ্যে বিভিন্ন খেলার সাথে সম্পর্কিত মানুষেরা যেমন আছেন, আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিবর্গ, চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদসহ অনেকেই।
বইটা হাতে নিলেই পড়তে ইচ্ছে করবে। শুরু থেকে শেষ, খুব সুন্দরভাবে সাজানো। তবে যতটা আগ্রহ নিয়ে পড়া শুরু করবেন, শেষ অব্দি ততোটা আগ্রহ ধরে রাখা কিছুটা কঠিন হতে পারে দুটো কারণে। প্রথমত, কিছু বানান এবং বিরামচিহ্নে ভুল। দ্বিতীয়ত, প্রত্যেকের কথাগুলোই প্রায় একইরকম প্যাটার্নেই লেখা। কয়েক পৃষ্ঠা পড়ার পর পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো কেমন হতে পারে, সে ব্যাপারে একটা ধারণা পাওয়া সম্ভব। তখন আপনার শর্টকাট খুঁজতে ইচ্ছে করবে। আমার ধারণা, লেখক যদি প্রত্যেকের ভাবনা বা মতামতগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি সামান্য জীবনের গল্প টাইপ কিছু লেখার চেষ্টা করতেন, তাহলে পাঠক সেই কথাগুলোকে নিজের জীবনের সাথে মেলাতে পারতো। পাঠকের মনে হতো, "এ তো আমারই গল্প" কিংবা "আমার গল্পটাও তো এমন হতে পারতো"। বুঝাতে চাচ্ছি, কারোর জীবনের সত্যিকারের গল্পের সাথে যদি ভাবনাগুলো এগোতো আরও সুন্দর হতো ব্যাপারটা! আবার পাঠক যদি তরুণ কেউ হয়ে থাকে, সে নিঃসন্দেহেই তার জীবনে আরও বড় প্রেরণা পেতে পারতো প্রত্যেকের ভাবনা বা দর্শন থেকে। সফল ব্যক্তিদের জীবনের গল্প অনুপ্রেরণা জোগায় অনেক।
একজন লেখকের তার নিজের মতো করে লেখার স্বাধীনতা আছে। সেই জায়গা থেকে বইটা যেভাবে সাজানোর কথা তারা ভেবেছেন, সেভাবেই সাজিয়েছেন। এতটুকু বলতে পারি, তারা যেই বার্তাটা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন, খুব সুন্দরভাবেই তা উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন।
দারুণ সব পরামর্শ আছে পুরো বই জুড়ে। পড়ার পর আমার কাছে মনে হয়েছে, বিশেষ করে অভিভাবকদের অবশ্যই অবশ্যই এই বইটা পড়া উচিত। সেইসাথে তাদেরও অবশ্যই পড়া উচিত যারা আগামী দিনে পরিবার নিয়ে পরিকল্পনা করছেন কিংবা নতুন নতুন সংসার জীবনের শুরু করেছেন। তরুণদের ক্ষেত্রে 'অবশ্যই' কথাটা লিখতে চাই না। কারণ এই যুগে এসে তরুণ কেউ দেড়শোর বেশি পৃষ্ঠা পড়বে, তা আশা করি না। তবে বই পড়ার অভ্যাস থাকলে এই বইটা সংগ্রহে রাখা উচিত।
শাহরিয়ার নাফীস ভাইয়ের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা, তিনি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় আমাদের সবার সামনে এনেছেন। রীতিমতো গবেষণাই করেছেন বলা যায়। তার মতো মানুষের কাছে অবশ্য এমন দারুণ কিছুই আশা করা যায়। এই বই পড়ার পর দশটা পরিবারের গল্পেও যদি বদল আসে, সেটাই তো লেখকের স্বার্থকতা।