Utsa Mahmud

Utsa Mahmud আসসালামু আলাইকুম। স্রোতে গা ভাসিয়ে না; যা সত্য, বলব সেটাই।

আমার কাছে হৃদয়ের এই ইনিংস প্রেরণার-শেখার, উদাহরণ হয়ে থাকার। তিনশো রান, সেটাও আবার সাউথ আফ্রিকার মাটিতে! নিঃসন্দেহেই স্পে...
02/09/2026

আমার কাছে হৃদয়ের এই ইনিংস প্রেরণার-শেখার, উদাহরণ হয়ে থাকার। তিনশো রান, সেটাও আবার সাউথ আফ্রিকার মাটিতে! নিঃসন্দেহেই স্পেশাল, খুব স্পেশাল।

সাউথ আফ্রিকা 'এ' দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের বাংলাদেশ 'এ' দল। ৬, ৯ আর ১২ তারিখ অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচ।
31/08/2026

সাউথ আফ্রিকা 'এ' দলের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের বাংলাদেশ 'এ' দল। ৬, ৯ আর ১২ তারিখ অনুষ্ঠিত হবে তিন ম্যাচ।

ক্রিকেটটা খুব ভালো খেলতাম, পড়াশোনাতেও ভালো ছিলাম। স্বপ্ন দেখতাম ক্রিকেটার হওয়ার, পরিবার চাইত পড়াশোনা করে ডাক্তার-ইঞ্জিনি...
30/08/2026

ক্রিকেটটা খুব ভালো খেলতাম, পড়াশোনাতেও ভালো ছিলাম। স্বপ্ন দেখতাম ক্রিকেটার হওয়ার, পরিবার চাইত পড়াশোনা করে ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার কিছু একটা হই। সারাক্ষণ পড়া আর পড়া, খেলার জন্য কত যে মাইর খেয়েছি! খেলাধূলার গুরুত্বটা ওভাবে বুঝতো না যে কেউ!

ওপার বাংলায় একটা মুভি আছে, 'চলো পাল্টাই'। ছেলে ক্রিকেটার হতে চায়, বাবা পড়াশোনার জন্য চাপ তৈরি করতে থাকে। সন্তানের খেলতে মানা, রেজাল্ট ভালো হওয়া চাই। আমার সাথে মুভির গল্পের দারুণ মিল। আম্মুকে একদিন বসিয়ে মুভিটা দেখালাম। এরপর থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি খেলার এবং নিজের স্বপ্নের পেছনে সন্তানকে ছুটতে দেয়ার গুরুত্ব আমার মাও আরও ভালোভাবে বুঝতে শুরু করলেন। তখন যদি 'প্লে এন্ড স্টাডি, উইন দ্য রেস' বইটা থাকতো, আমি হয়তো সবার আগে আমার পরিবারের মানুষগুলোকে এই বইটাই পড়তে উৎসাহিত করতাম।

এই বইয়ে শিক্ষা এবং খেলাধূলার ভারসাম্য জীবনে কতটা জরুরী সেটাই মূলত ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। যদি ভুল না হয়ে থাকি, ৭৩ জনের সাথে কথা বলে তাদের অভিজ্ঞতা জানার চেষ্টা করেছেন দুই লেখক। যাদের কথাতে ফুটে উঠেছে শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধূলা কিংবা অন্যান্য স্কিলগুলো কতটা প্রয়োজন। এই ৭৩ জনের মধ্যে বিভিন্ন খেলার সাথে সম্পর্কিত মানুষেরা যেমন আছেন, আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিবর্গ, চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, রাজনীতিবিদসহ অনেকেই।

বইটা হাতে নিলেই পড়তে ইচ্ছে করবে। শুরু থেকে শেষ, খুব সুন্দরভাবে সাজানো। তবে যতটা আগ্রহ নিয়ে পড়া শুরু করবেন, শেষ অব্দি ততোটা আগ্রহ ধরে রাখা কিছুটা কঠিন হতে পারে দুটো কারণে। প্রথমত, কিছু বানান এবং বিরামচিহ্নে ভুল। দ্বিতীয়ত, প্রত্যেকের কথাগুলোই প্রায় একইরকম প্যাটার্নেই লেখা। কয়েক পৃষ্ঠা পড়ার পর পরবর্তী পৃষ্ঠাগুলো কেমন হতে পারে, সে ব্যাপারে একটা ধারণা পাওয়া সম্ভব। তখন আপনার শর্টকাট খুঁজতে ইচ্ছে করবে। আমার ধারণা, লেখক যদি প্রত্যেকের ভাবনা বা মতামতগুলো তুলে ধরার পাশাপাশি সামান্য জীবনের গল্প টাইপ কিছু লেখার চেষ্টা করতেন, তাহলে পাঠক সেই কথাগুলোকে নিজের জীবনের সাথে মেলাতে পারতো। পাঠকের মনে হতো, "এ তো আমারই গল্প" কিংবা "আমার গল্পটাও তো এমন হতে পারতো"। বুঝাতে চাচ্ছি, কারোর জীবনের সত্যিকারের গল্পের সাথে যদি ভাবনাগুলো এগোতো আরও সুন্দর হতো ব্যাপারটা! আবার পাঠক যদি তরুণ কেউ হয়ে থাকে, সে নিঃসন্দেহেই তার জীবনে আরও বড় প্রেরণা পেতে পারতো প্রত্যেকের ভাবনা বা দর্শন থেকে। সফল ব্যক্তিদের জীবনের গল্প অনুপ্রেরণা জোগায় অনেক।

একজন লেখকের তার নিজের মতো করে লেখার স্বাধীনতা আছে। সেই জায়গা থেকে বইটা যেভাবে সাজানোর কথা তারা ভেবেছেন, সেভাবেই সাজিয়েছেন। এতটুকু বলতে পারি, তারা যেই বার্তাটা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন, খুব সুন্দরভাবেই তা উপস্থাপনের চেষ্টা করেছেন।

দারুণ সব পরামর্শ আছে পুরো বই জুড়ে। পড়ার পর আমার কাছে মনে হয়েছে, বিশেষ করে অভিভাবকদের অবশ্যই অবশ্যই এই বইটা পড়া উচিত। সেইসাথে তাদেরও অবশ্যই পড়া উচিত যারা আগামী দিনে পরিবার নিয়ে পরিকল্পনা করছেন কিংবা নতুন নতুন সংসার জীবনের শুরু করেছেন। তরুণদের ক্ষেত্রে 'অবশ্যই' কথাটা লিখতে চাই না। কারণ এই যুগে এসে তরুণ কেউ দেড়শোর বেশি পৃষ্ঠা পড়বে, তা আশা করি না। তবে বই পড়ার অভ্যাস থাকলে এই বইটা সংগ্রহে রাখা উচিত।

শাহরিয়ার নাফীস ভাইয়ের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা, তিনি খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয় আমাদের সবার সামনে এনেছেন। রীতিমতো গবেষণাই করেছেন বলা যায়। তার মতো মানুষের কাছে অবশ্য এমন দারুণ কিছুই আশা করা যায়। এই বই পড়ার পর দশটা পরিবারের গল্পেও যদি বদল আসে, সেটাই তো লেখকের স্বার্থকতা।

ইরফানের অধিনায়কত্ব ভালো লেগেছে। মাত্র ১০১ রান করেও শেষ ওভার অব্দি খেলা নিয়ে যাওয়া, জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করা, সহজ ছিল না। স...
30/08/2026

ইরফানের অধিনায়কত্ব ভালো লেগেছে। মাত্র ১০১ রান করেও শেষ ওভার অব্দি খেলা নিয়ে যাওয়া, জয়ের সম্ভাবনা তৈরি করা, সহজ ছিল না। সেটাও সাকলাইনকে ছাড়া!

শামীম পাটোয়ারীকে ক্যাপ্টেন যেভাবে কাজে লাগিয়েছেন সেটার প্রশংসা করতেই হয়। শামীমও দারুণ বোলিং করেছেন। নিজের প্রথম দুই ওভারে দুই সেট ব্যাটারকে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে দলকে ম্যাচে রেখেছেন।

এক পর্যায়ে বিপরীত দলের যখন ৮ ওভারে মাত্র ২১ রান প্রয়োজন, হাতে ৬ উইকেট, তখনও কেউই হয়তো ভাবেনি এই ম্যাচ শেষ ওভার অব্দি যাবে, বিপক্ষ দল ৯ উইকেট হারাবে, এমনকি বাংলাদেশ জিততেও পারে। সবটাই সম্ভব হয়েছে ১৩তম ওভারে এসে রুবেলের টানা দুই উইকেট নেয়ায়। হ্যাটট্রিকের দারুণ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে আম্পায়ার আউট দিলেও কিছু করার ছিল না।

রুবেল নিজের ৪ ওভার শেষ করেছেন ১৫ রানে ৩ উইকেট নিয়ে। নিঃসন্দেহেই দলের সেরা বোলার, এই টুর্নামেন্টেরও। এমনকি টপ এন্ড টি-টোয়েন্টির এবারের আসরের সেরা খেলোয়াড়ও আমি রুবেলকেই মনে করি। এই ম্যাচে বাউন্ডারি লাইনে রুবেল একটা ক্যাচ নিয়েছেন। টুর্নামেন্টের সেরা ক্যাচ হওয়ার দৌঁড়ে থাকার মতো ক্যাচ।

রুবেলের পরের অংশের গল্পের নায়ক রিপন মন্ডল। ১৪ এবং ১৬ নম্বর ওভারে বোলিং করতে এসে এক রানও দেননি, ১২টা বলই ডট করেছেন, সেইসাথে নিয়েছেন একটা উইকেটও। রাকিবুলও ১৫ আর ১৯ নম্বর ওভারে ৩ করে দিয়েছেন ৬ রান, নিয়েছেন ১ উইকেট।

ম্যাচের শেষে শুধু দুটো বলেরই আফসোস আমার। প্রথমটা রুবেল করেছেন, দ্বিতীয়টা আবু হায়দার রনি।

যেই ওভারে রুবেল টানা দুই উইকেট নিলেন, সেই ওভারের পঞ্চম বলে তিনি একটা বাউন্ডারি খেয়েছেন। দুই স্লিপার নিয়ে বোলিং করছিলেন, বলটা ভেতরে না ঢুকিয়ে বাইরে নিয়ে যাচ্ছিলেন এবং সফলও হচ্ছিলেন। কি মনে করে যে অফস্পিন করলেন সেটাও স্টাম্পের বাইরে!

আবু হায়দার রনির ১৮তম ওভারটা ম্যাচের পরিস্থিতি বিবেচনায় শেষদিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ওভার ছিল। স্টাম্পে বল করছিলেন, ডট হচ্ছিলো, কখনও এক। পঞ্চম বলটা তিনিও কি মনে করে বাইরে করলেন কে জানে! থার্ডম্যান অঞ্চলে চার হয়ে গেল!

সবমিলে, টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে সেমিফাইনালেই শেষ হলো বাংলাদেশের জার্নি। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খুব ভালো সুযোগ ছিল, যা হাতছাড়া হলো ব্যাটারদের নিজেদের ভুলেই।


ছবি: NT Cricket

জিসান-আরিফুলের এত সুন্দর শুরুর পরও সেমিফাইনালে ১০১ রানে অলআউট বাংলাদেশ এইচপি, বিশ্বাসই হচ্ছে না। সাব্বির রহমানকে নিয়ে এই...
30/08/2026

জিসান-আরিফুলের এত সুন্দর শুরুর পরও সেমিফাইনালে ১০১ রানে অলআউট বাংলাদেশ এইচপি, বিশ্বাসই হচ্ছে না।

সাব্বির রহমানকে নিয়ে এই টুর্নামেন্টে কিছুই লিখিনি। ইনিংসের গতিপথ দেখে ভাবতে শুরু করেছিলাম আজ যদি কিছু করতে পারেন তাহলে লিখব। সত্যিকারের পরীক্ষাটা তো ছিল আজই। ভাবতে ভাবতেই তিনি আউট। একই কথা প্রযোজ্য শামীম পাটোয়ারীর ক্ষেত্রেও। দুজন শুধু ব্যর্থই হোননি, অভিজ্ঞতার ছিটেফোঁটাও খুঁজে পেলাম না তাদের আজকের ব্যাটিংয়ে। নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ দুই উইকেট জাস্ট গিফট করে এসেছেন।

ম্যাচের একদম প্রথম বলেই জীবন পেয়েছেন হাবিবুর রহমান সোহান। সুযোগটাকে কাজে লাগানো উচিত ছিল। রাকিবুল এসে কি করতে চাইলেন আমার মাথাতেই ঢুকলো না, ভেবেছিলাম ইনিংসটা টানবেন। অপ্রয়োজনীয় এক শট খেলে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরলেন! সাকলাইনের ইনজুরিতে পরাটা দুর্ভাগ্য, নাহলে আরও কিছু রান যোগ হতে পারতো।

ইরফান শুক্কুরের আউটটা ইনিংসের গতিপথ বদলে দিয়েছে একদম। ব্যাটে-বলে কোনো সংযোগ নেই, উইকেটকিপার এমনকি স্লিপে দাঁড়ানো ফিল্ডারও আবেদনই করেননি আউটের, তবুও আম্পায়ার আঙ্গুল তুলেছেন। ঐ এক উইকেট বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছে। আগের বলেই জিসান আউট হওয়ার পর একটা জুটির দরকার ছিল, যেটা ইরফান এনে দিতে পারতেন সাব্বিরকে সাথে নিয়ে।

প্রথম ৪ ওভারে ৪৬ করা দল ১৭.১ ওভারে অলআউট ১০১ রানেই! খুবই হতাশার, খুব খুব হতাশার।

স্কোরকার্ড: সোহান- ৩(৫), জিসান- ৩০(২০), আরিফুল ১৯(১০), সাব্বির- ৫(৮), ইরফান- ০(১), শামীম পাটোয়ারী- ৮(৭), রাকিবুল- ০(৩), সাকলাইন- ১০(১৬), রনি- ১২(১৮), রিপন- ৬(১০), রুবেল- ৪* (৫)

ছবি: NT Cricket

মাত্র ১০ বলের একটা ইনিংস, ১৯ রান। কাভারের উপর দিয়ে ছক্কা মেরে যেই ইনিংসের শুরু, ডি ভিলিয়ার্সকে মনে করানো শটে বাউন্ডারি ল...
30/08/2026

মাত্র ১০ বলের একটা ইনিংস, ১৯ রান। কাভারের উপর দিয়ে ছক্কা মেরে যেই ইনিংসের শুরু, ডি ভিলিয়ার্সকে মনে করানো শটে বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ দিয়ে শেষ। মাঝে দারুণ এক টাইমিংয়ে মিড অফের উপর দিয়ে চার, ফুল লেংথের বলে জায়গা করে নিয়ে কাট, বাউন্সারে উইকেটকিপারকে দর্শক বানিয়ে বাউন্ডারি আদায় করে নেয়া!

আরিফুল যেদিন ৫৪ বলে ৬৬ করলেন, সেই ইনিংসের প্রশংসা করেছিলাম। নিজের কঠিন সময়টাকে পেছনে ফেলার জন্য একটা বড় রানের দরকার ছিল। আরিফুল ৫০+ বল খেলায় খুশি হয়েছিলাম কারণ প্রিমিয়ার লিগে দেখেছি লম্বা সময় ব্যাটিং করার জন্য কতটা লড়াই তিনি করেছেন নিজের সাথে। কিছু সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন, সবসময় ভাবতাম একটা বড় ইনিংস বদলে দেবে সব। আলহামদুলিল্লাহ তেমনটাই হয়েছে, হচ্ছে। ঐ ৬৬ রানের ইনিংসটা খেলার পরপরই আরিফুল নিউজিল্যান্ড 'এ' দলের বিপক্ষে করলেন ৭১ রান। গত ম্যাচেও দারুণ খেলছিলেন, আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তে আউট না হলে আরও একটা বড় রান পেলেও পেতে পারতেন।

৫৪ বলে ৬৬ করার পর আরিফুলকে নিয়ে যা লিখেছিলাম, তা পড়ে অনেকেই সমালোচনা করেছেন, আমার ক্রিকেটীয় মেধা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। খারাপ লাগেনি, আপনারাও ভুল ছিলেন না, আবার আমিও আমার জায়গায় ঠিক ছিলাম। পুরো লেখা জুড়ে একটা কথাই বোঝাতে চেয়েছি- আরিফুলের মতো ব্যাটসম্যানরা একটা বড় ইনিংস খেললে ঘুড়ে দাড়াতে শুরু করে, একবার কঠিন সময়টাকে পেছনে ফেলতে পারলে অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠে। লিখেছিলাম- টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট শেষে হয়তো নতুন এক আরিফুলকে দেখব! টুর্নামেন্ট শেষ হয়নি, আমি অলরেডি দারুণ আত্মবিশ্বাসী এক আরিফুলকে দেখতে শুরু করেছি, এই দলটার মধ্যে একমাত্র যাকে চাইলে পরের সিরিজেই ডেব্যু করানো যায়। যদিও আমি তা চাই না, আমি সবসময়ই অন্তত এক দুই মৌসুম পারফর্ম করে কারোর জাতীয় দলে আসার পক্ষে।

৫৪ বলে ৬৬ রানের দিনে আরিফুলকে নিয়ে অনেক বড় কিছু কথা লিখেছি, আশা রেখেছি, প্রশংসা করেছি। কথাগুলো যেই ইনিংসের পর বলেছিলাম সেই সময়টা হয়তো ঠিক ছিল না। কিন্তু কেউ কিছু করে ফেলার পর তো কতকিছুই বলা যায়, কতজনই পাশে থাকে! খারাপ সময়টায় ভালো কিছু বলতে পারা, ভালো আশা রাখাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় আমার কাছে।

আরিফুলের জন্য অনেক দোয়া, শুভকামনা।

ছবি: NT Cricket

ঠাকুরগাঁওয়ে ছিলাম, বিকালে খেলছিলাম। হঠাৎ ইনবক্সে একটা ইনভিটেশন কার্ড পেলাম। এমন একজন ব্যক্তিগতভাবে মেসেজটা পাঠিয়েছেন, খু...
29/08/2026

ঠাকুরগাঁওয়ে ছিলাম, বিকালে খেলছিলাম। হঠাৎ ইনবক্সে একটা ইনভিটেশন কার্ড পেলাম। এমন একজন ব্যক্তিগতভাবে মেসেজটা পাঠিয়েছেন, খুব সম্ভবত ক্রিকেট জগতে তার চাইতে বেশি শ্রদ্ধা আমি আর কাউকে করি না। এই শ্রদ্ধা তিনি তার কর্ম এবং সততা দিয়েই অর্জন করেছেন।

রাতেই বাসে উঠলাম, সকাল নয়টার আগে আগে পৌঁছে গেলাম ঢাকায়। একদিনের সফর, আবার ফিরব গ্রামে। সাড়ে বারোটায় শাহরিয়ার নাফীস ভাই এবং তার বন্ধু আতিফ ওয়াফিকের লেখা বইয়ের উন্মোচনে গেলাম। নামের মধ্যেই লুকিয়ে আছে বইয়ের ভেতরের গল্প- "প্লে এন্ড স্টাডি, উইন দ্য রেস"।

বইটা কিনলাম, পড়ব। পড়ার পর আরও একটা লেখা লিখব ইনশাআল্লাহ, যেই লেখাজুড়ে থাকবে কেন এই বইটা পড়া উচিত। আপাতত শুধু এতটুকুই বলি- খেলাধূলার পাশাপাশি পড়াশোনাটা ঠিক কতখানি জরুরী, তা অনেকের জীবনের বাস্তব গল্প দিয়েই উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে এই বইয়ে।

(রকমারি.কম'সহ অনলাইন ভিত্তিক প্রায় সর্বত্রই পাওয়া যাবে এই বই। বইয়ের মূল্য ৪৯০ থেকে ৫০০ টাকা।)

রুবেলকে নিয়ে শেষ লেখাটায় একটা লাইন লিখেছিলাম- "ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের জন্য বোধহয় আগামী দিনে বড় এক চ্যালেঞ্জের নাম হতে যা...
28/08/2026

রুবেলকে নিয়ে শেষ লেখাটায় একটা লাইন লিখেছিলাম- "ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের জন্য বোধহয় আগামী দিনে বড় এক চ্যালেঞ্জের নাম হতে যাচ্ছেন মোহাম্মদ রুবেল।"

অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে এখন অব্দি ডানহাতি ব্যাটারদের বিপরীতে তার যা সাফল্য, তা অবিশ্বাস্য। অবিশ্বাস্য বলছি একারণে যে, অতীতে আমি বাংলাদেশের কাউকে দেশের বাইরের কোনো টুর্নামেন্টে দুই দিকেই এভাবে স্পিন করাতে দেখিনি, দেখিনি ব্যাটারদের ভাবনার সাথে এত ভালোভাবে খেলতে। একটা কথা বলতেই হয়, "রুবেলের মস্তিষ্কটা কিছুটা আলাদা।"

আমার সাথে কেউ কেউ দ্বিমতও হতে পারেন। তবে আমার বিশ্বাস, রুবেলের এখন অব্দি এত ভালো করার পেছনে বড় ভূমিকা আছে অধিনায়ক ইরফান শুক্কুরেরও। ইরফানের জায়গায় অন্য কেউ থাকলেও হয়তো রুবেল ভালো করতেন, তাকে ভালো কিছুর চেষ্টা করতেই হতো। কিন্তু ইরফান থাকায় কাজটা সহজ হয়ে যাবার কথা অনেক। ক্রিকেটে ইরফানের প্রতি রুবেলের যে পরিমাণ আস্থা-ভরসা, আমার মনে হয় না আর কারোর প্রতি এতটা আছে। ইরফান খুব ভালো জানেন রুবেলের থেকে সেরাটা ঠিক কিভাবে আদায় করে নিতে হয়।

একটা কথা মনে পড়ছে গত এনসিএলের আরো আগের। ইরফান আমায় বলেছিলেন, "এনসিএলে একটা স্পিনারকে দেখতে পাবেন এবার আমাদের চট্টগ্রাম দলে ভাই, আপনার ভালো লাগবে ওকে।" ইরফানের কথায় আমার অনেক ভরসা, তার ক্রিকেটীয় মেধা অনেক উঁচুমানের। ইরফান যখন কারোর কথা বলেছেন, সে নিশ্চিতভাবেই দারুণ কেউই হবে এই ব্যাপারে আমার কোনো সংশয় ছিল না। আমি এরপর শুধুমাত্র রুবেলকে দেখার জন্য চট্টগ্রাম দলের অনুশীলন দেখতে গিয়েছিলাম রাজশাহীতে।

দেখে ভালো লাগছে, ইরফানের আস্থার প্রতিদান পারফর্ম করেই দিয়ে যাচ্ছেন মোহাম্মদ রুবেল।

অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলের নয়ন বাবুর আমার কথা মনে আছে কি না কে জানে! যখন তাকে নিয়ে কনটেন্ট বানাই, তখন তার বয়স মাত্র ১২। আমার...
27/08/2026

অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলের নয়ন বাবুর আমার কথা মনে আছে কি না কে জানে! যখন তাকে নিয়ে কনটেন্ট বানাই, তখন তার বয়স মাত্র ১২। আমার করা কনটেন্টটাই ছিল তার জীবনের প্রথম। বিশ্বাস রাখি, আরও হাজার হাজার গল্প তাকে নিয়ে লেখা হবে আগামী দিনে।

সবার গল্পেই হিরো থাকে, নয়নের গল্পের হিরো তার বাবা। বাবার চাওয়াতেই মাত্র পাঁচ বছর বয়সে ক্রিকেট অনুশীলনের শুরু। পরিবারের সাপোর্টটা ছোট থেকেই পেয়েছেন, এলাকার মানুষরাও খুব অল্প বয়স থেকেই নয়নকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতেন। নয়ন প্রচেষ্টা ক্রিকেট একাডেমির আবু সামাদ মিঠুকে কোচ হিসেবে পেয়েছেন একদম শুরু থেকে, এই মিঠুর হাত ধরেই উঠে এসেছে লিটন দাসের মতো ক্রিকেটারও।

যতদূর মনে পরে, নয়ন দিনাজপুর বড় মাঠে অনুশীলন করতে আসতেন ১৩-১৪ কিলোমিটার দূর থেকে। সকালে আসতেন, বিকাল শেষে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরতেন। কঠোর পরিশ্রম তো আছেই, একইসাথে নয়নের ছিল ন্যাচারাল কিছু ট্যালেন্ট। তাই তার নামটা অনূর্ধ্ব-১৭ দলে দেখে অবাক হইনি, ভবিষ্যতে জাতীয় দলেও যখন দেখব অবাক হবো না।

নয়নকে নিয়ে একটা অজানা গল্প শেয়ার করি। ২০২২ সালে আমি যখন নয়নের কনটেন্টটা করি, সেই কনটেন্টের ক্যাপশন ও থাম্বনেইলে লিখেছিলাম- বড় হয়ে জাতীয় দলের অধিনায়ক হতে চান নয়ন। ছেলেটার মেধা নিয়ে সন্দেহ ছিল না, একদিন বড় জায়গায় পৌঁছাবেনই ইনশাআল্লাহ, তাকে প্রথম দেখেই এই বিশ্বাসটা পেয়েছিলাম। সেই বিশ্বাস থেকেই ক্যাপশন থাম্বনেইলে অধিনায়কের প্রসঙ্গটা রেখেছিলাম। আরও একটা কারণ আছে, ঐ অল্প বয়সেই নয়ন খুব কনফিডেন্টের সাথে ক্যামেরার সামনে বলেছিলেন, "বড় হয়ে জাতীয় দলের অধিনায়ক হতে চাই।"

কনটেন্ট অনএয়ারের পর প্রশংসা পাব ভেবেছিলাম, কিন্তু অফিস থেকে জুটল ধমক-গালি। আমার বিবেক-ভাবনা-সামর্থ্য সবকিছু নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলো! একটা ১২ বছরের বাচ্চা বড় হয়ে অধিনায়ক হতে চাইতেই পারেন, আমি সেটা কোন সেন্সে ক্যাপশন থাম্বনেইলে রেখেছি এটাই ছিল প্রশ্ন।

আমি শুরু থেকেই কিছুটা ঘারত্যাড়া স্বভাবের। নিজে যা ঠিক মনে করি, পুরো দুনিয়া ভুল বললেও আমার কাছে সেটাই ঠিক। কথা শোনার পরও নয়নের কনটেন্টের ক্যাপশন আর থাম্বনেইল কোনোটাই আমি আজ অব্দি চেঞ্জ করিনি। আমি আজও বিশ্বাস করি, এই ছেলে একদিন জাতীয় দলকে ঠিকই নেতৃত্ব দেবে ইনশাআল্লাহ।

নতুন নাম খোঁজার নেশা বহুদিনের, ডমেস্টিকে পরে আছি অনেক বছর। এই জায়গাগুলোতে লাইমলাইট নেই তেমন, আগ্রহ কম; স্পন্সর খুঁজলেও হয়তো পাব না। কষ্টেই কাটে সময়, আমি আবার ইদানীং যা করি তা একদম ব্যক্তিগত খরচে। এত অপ্রাপ্তি এবং কষ্টের ভিড়ে নয়নদের মতো প্রতিভাদের যখন দেখি সাফল্য পেতে, তখন গিয়ে মনে হয় এই অর্জন তো আমারও! আমার বিশ্বাস, মনের এই শান্তি আমি লাখ লাখ টাকাতেও পেতাম না, পাব না।

নয়ন খুব ভালো করুক। অনেক শুভকামনা...

সিফাতকে অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলের স্কোয়াডে দেখে ভালো লাগলো। অনেকেই বলতে পারেন ওর এখানে থাকার পেছনে আমার অবদান সবচেয়ে বেশি। ...
27/08/2026

সিফাতকে অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলের স্কোয়াডে দেখে ভালো লাগলো। অনেকেই বলতে পারেন ওর এখানে থাকার পেছনে আমার অবদান সবচেয়ে বেশি। কিন্তু না, আমার কোনো অবদান নেই। সিফাত অনূর্ধ্ব-১৭ দলে জায়গা পেয়েছে নিজ মেধা আর যোগ্যতায়, সেইসাথে বিসিবির বর্তমান গেম ডেভেলপমেন্টের জন্য।

স্কুল ক্রিকেটে সিফাতকে প্রথম দেখাতেই অবাক হয়েছিলাম, এইটুকু ছেলে অথচ কি গতিতে বোলিং করে! যখন থেকে ক্রিকেট বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ একজন আমায় বলেছেন- আমার লেখা কিংবা আমি কাউকে নিয়ে যখন কথা বলি সেটা সিলেকশনে অনেক সময় কাজে লাগে, তখন থেকে আমি ভিডিও বানানো কমিয়ে দিয়েছি, লিখিও বুঝেশুনে। অনেক সময় পর একটা কনটেন্ট করেছিলাম, সিফাতকে নিয়ে। সেই কনটেন্ট দেখে আমার সাথে সর্বপ্রথম যোগাযোগ করেছিলেন শাহরিয়ার নাফীস ভাই। সিফাতের ডিটেইলস তিনি চেয়েছিলেন যতোদ্রুত সম্ভব। নাফীস ভাইয়ের কথাতেই বুঝে গেছিলাম, এখনকার গেম ডেভেলপমেন্ট দারুণ সব পরিকল্পনা নিয়ে আগাবে, দুর্দান্ত সব কাজ করবে। এই সিফাতের আজকে অনূর্ধ্ব-১৭ দলে থাকা গেম ডেভেলপমেন্টের সেই দারুণ পরিকল্পনারই ফল। যতদূর মনে পরে, সিফাতকে দ্রুততম সময়ে বিসিবিতে ডেকে নেয়া হয়েছিল এবং অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় দলের ক্যাম্পেও পাঠানো হয়েছিল স্কুল ক্রিকেট চলাকালীনই।

সিফাতের দলে থাকা আমায় ভরসা দিয়েছে, বহুদিন যা পাইনি। সিফাতের মতো আরও দারুণ কিছু মেধার গল্প আমি জানি, জেলা-বিভাগীয় পর্যায়ে অনেক ধরণের রাজনীতির কারণে যারা হয়তো নিজেদের সেরাভাবে এগিয়ে নিতে পারেনি কিংবা পারছে না। ইনশাআল্লাহ সেইসব মেধাকেও এবার এক এক করে সামনে আনব। আমার বিশ্বাস, গেম ডেভেলপমেন্ট কিছু নামকে নিয়ে নিশ্চিতভাবেই পরিকল্পনা সাজাবে। হয়তো সেখান থেকেই কয়েক বছর পর আমরাও পাব আগামীর সাকিব-তামিম-মাশরাফীদের।

আমার দায়িত্বটা আরও বেড়ে গেল! আলহামদুলিল্লাহ

Address

Dhaka
1212

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Utsa Mahmud posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share