02/06/2026
আসসালামু আলাইকুম।
আমার দেড় বছরের সংসার। আমার স্ত্রী অত্যন্ত সুন্দরী, পরহেজগার ও সংসারী মানুষ। তিনি নন-মাহরামদের সামনে যান না। এমনকি আমার আপন ছোট ভাই একই বাসায় থেকেও গত দেড় বছরে তাকে দেখেনি।
বিয়ের প্রস্তাবটি আসে আমার আম্মুর মাধ্যমে। আম্মু একটি তালিমে যেতেন, সেখানকার এক আন্টির মাধ্যমে মেয়েটির কথা জানতে পারি। মেয়েটির সম্পর্কে যা শুনেছিলাম, তাতে বিয়ে না করার মতো কোনো কারণ খুঁজে পাইনি। তিনি মাদ্রাসায় একটি পর্যায় পর্যন্ত পড়াশোনা করে পরে জেনারেল লাইনে কলেজ পর্যন্ত পড়েছেন এবং বর্তমানে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছেন।
তাদের পুরো পরিবারই দ্বীনদার ও পর্দাশীল। যেদিন দেখতে যাই, ছেলেদের মধ্যে শুধু আমিই আলাদা কক্ষে তাকে দেখতে পাই। তার মা উপস্থিত ছিলেন, তবে তাকেও আমি বিয়ের আগে দেখিনি। পরিবারের এমন ধর্মীয় ও পর্দাশীল পরিবেশ দেখে আমরা সবাই মুগ্ধ হই। আমারও তাকে পছন্দ হয় এবং শেষ পর্যন্ত বিয়ে সম্পন্ন হয়।
যেহেতু তারা এতটাই দ্বীনদার ছিল, তাই বিয়ের আগে তার কোনো সম্পর্ক ছিল কি না—এ প্রশ্নটাও আমার কাছে অবান্তর মনে হয়েছিল।
কিন্তু আজ দেড় বছর পর হঠাৎ একটি সূত্রে আমি তার অতীত সম্পর্কে জানতে পারি। জানতে পারি, স্কুলজীবনে তার একটি সম্পর্ক ছিল, যা পরে শারীরিক সম্পর্ক পর্যন্ত গড়ায়। প্রথমে আমি বিষয়টি বিশ্বাস করতে চাইনি। তবে বাসর রাতেই কিছু বিষয়ে আমার সামান্য সন্দেহ হয়েছিল। কিন্তু এমন একজন মেয়েকে এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা শোভনীয় মনে হয়নি বলে কখনো জিজ্ঞাসা করিনি।
পরবর্তীতে আমি সরাসরি আমার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসা করি। তিনি কোনো কিছু গোপন করেননি। তিনি স্বীকার করেন যে তার একটি সম্পর্ক ছিল এবং দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ভয়াবহভাবে প্রতারিত ও ব্যবহৃত হয়েছেন। তিনি জানান, সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ব্ল্যাকমেইল ও শোষণ করেছে। সেই সময় তিনি ভয়, চাপ ও অসহায় অবস্থার মধ্যে ছিলেন।
এসব কথা শোনার পর আমার পৃথিবী যেন ভেঙে পড়ে। আমি তাকে অনেক কঠিন কথা বলেছি, আমাকে প্রতারিত করার অভিযোগও করেছি। তখন তিনি শান্তভাবে বলেন,
“আপনি কখনো আমার অতীত সম্পর্কে জানতে চাননি। জানতে চাইলে আমি মিথ্যা বলতাম না, সত্যটাই বলতাম।”
আমি তখন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তাকে আর রাখব না। কিন্তু তার বর্তমান চরিত্র, ব্যবহার ও দায়িত্ববোধের কারণে সেই সিদ্ধান্তে অটল থাকতে পারছি না।
তিনি বলেছেন, আমি যদি তাকে ছেড়ে দিতে চাই, তাহলে তিনি বাধা দেবেন না। তবে তিনি আমাকে অনুরোধ করেছেন যেন তাকে ক্ষমা করি এবং সবার সামনে তার সম্মান নষ্ট না করি।
ঈদের পর আমরা কিছুদিন তার বাবার বাড়িতে থাকার পরিকল্পনা করেছিলাম এবং সন্তান নেওয়ার বিষয়েও ভাবছিলাম। ঈদের পরদিন সকালে তিনি নিজে থেকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন, যদিও তিনি সাধারণত এসব বিষয়ে খুব লাজুক। কিন্তু আমি তাকে ফিরিয়ে দিই। পরে তাকে তার বাবার বাড়িতে রেখে আমি চলে আসি।
এখনও আমি বিষয়টি কাউকে জানাইনি।
গত দেড় বছরে তিনি একজন আদর্শ স্ত্রীর মতোই আচরণ করেছেন। সংসারের প্রতি দায়িত্বশীল, সত্যবাদী ও ধর্মপরায়ণ। ছোটখাটো বিষয়েও তিনি মিথ্যা বলেন না। এসব কারণেই আমি তাকে গভীরভাবে সম্মান ও স্নেহ করতাম।
কিন্তু তার অতীত জানার পর সেই সম্মান আর আগের মতো অনুভব করতে পারছি না। তাকে দেখলেই অতীতের কথা মনে পড়ে। মনে হয় বুকের ভেতরটা ভেঙে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। তিনি নিজেও বলেছেন, হয়তো আর কোনোদিন আমার চোখের দিকে তাকিয়ে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারবেন না। তবে তিনি চান না যে অন্য কারও সামনে তাকে এই অপমানের মুখোমুখি হতে হোক।
এখন তার সঙ্গে থাকলেও মানসিক শান্তি পাই না। সারাক্ষণ অতীতের ঘটনাগুলো মাথায় ঘোরে। আবার তার বর্তমান চরিত্র ও আচরণ বিবেচনা করলে তাকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারছি না।
তিনি এখন সন্তান নিতে চান। কিন্তু আমি এমন এক অবস্থায় আছি যেখানে ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নিয়েও এগোতে পারছি না, আবার স্বাভাবিক সংসার জীবনেও ফিরতে পারছি না।
এ অবস্থায় আপনাদের কাছে আন্তরিক পরামর্শ চাই—আমি এখন কী করব?
এই সংস্করণটি পোস্ট, গ্রুপে মতামত চাওয়া বা প্রকাশের জন্য উপযোগী করে সাজানো হয়েছে।