03/05/2026
রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ড্রোন শট নিয়ে অনেকেই বিরক্ত প্রকাশ করছেন। কিন্তু এটা একটা এলার্ম, এখনি সময় হয়ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়ত শেষ করার।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উপর দিয়ে কেউ যদি একটি ড্রোন উড়িয়ে দেয় — তাহলে কী হবে? কোন আইনে ধরা পড়বে? কোন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেবে? শাস্তিই বা কী? এই তিনটি প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর বাংলাদেশে আজও নেই। এটুকুই বলে দেয়, ড্রোন প্রশাসনে আমরা ঠিক কোথায় দাঁড়িয়ে আছি। আর এটাও কি অপরাধ??
গত বছর ইন্টেরিম সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ তৈয়ব স্যার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্বে থাকাকালীন ফয়েজ আহমেদ স্যারের নেতৃত্বে একটি উদ্যোগ শুরু হয়েছিল। সুস্মিত ভাই, রেজা ভাইসহ আমরা আরও কয়েকজন মিলে বাংলাদেশে একটি জাতীয় ড্রোন নীতির রূপরেখা তৈরির গবেষণা শুরু করেছিলাম। সেই কাজে যুক্ত থেকেই প্রথম বুঝেছিলাম — বিষয়টা কতটা জটিল, কতটা জরুরি এবং কতটা উপেক্ষিত।
সেই উদ্যোগ পরিপূর্ণভাবে আলোর মুখ দেখেনি। বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু আকাশে ড্রোন থামেনি — বরং বেড়েছে। আর নীতির শূন্যতাটুকু একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে।
তিনটি বিপদ, একটাই উত্তর
🚨 জাতীয় নিরাপত্তা সতর্কতা
রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্র: সক্রিয় পারমাণবিক স্থাপনার উপর অননুমোদিত ড্রোন মানে একসাথে আইনি, নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক ঝুঁকি। কোনো নাগরিক না জেনেও ড্রোন উড়িয়ে গুরুতর অপরাধী হয়ে যেতে পারেন — কারণ সীমাটা কোথায়, তা কেউ জানে না।
সীমান্ত ও বিমানবন্দর: দেশের সীমান্তে অযাচিতভাবে ড্রোন উড়ছে, এয়ারপোর্টের আশেপাশেও ড্রোনের উপস্থিতি রিপোর্ট হয়েছে। একটি সক্রিয় রানওয়ের কাছে একটি ড্রোনই বিমান দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। জাতীয় নিরাপত্তা শতভাগ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
তথ্যই এখন পরমানূ: এটি বন্দুকের যুগ নয়, এটি তথ্যের যুগ। ড্রোনে তোলা একটি ছবি, একটি ভিডিও, একটি সংবেদনশীল অবকাঠামোর aerial ম্যাপিং — ভুল হাতে পড়লে যেকোনো প্রচলিত অস্ত্রের চেয়ে বেশি ক্ষতিকর। এই বাস্তবতা আমাদের নীতিনির্ধারকরা এখনও পুরোপুরি অনুধাবন করেননি।
বিশ্ব কোথায় আর আমরা কোথায়?
ভারত ২০২১ সালেই সুনির্দিষ্ট Drone Rules প্রণয়ন করেছে — নো-ফ্লাই জোন, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন, অপারেটর লাইসেন্স সব স্পষ্ট। ইউরোপীয় ইউনিয়নে EASA-এর বিধিমালা ড্রোনকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে নিয়ন্ত্রণ করে। যুক্তরাষ্ট্রে FAA-এর Remote ID বাধ্যতামূলক — আকাশে থাকা প্রতিটি ড্রোন সনাক্তযোগ্য। আর বাংলাদেশে? আছে CAAB-এর কিছু সার্কুলার, কিন্তু সমন্বিত কোনো জাতীয় নীতি নেই। সব পড়ে আছে ধূসর এলাকায়।
প্রযুক্তি এগিয়ে গেছে।
নীতি থেমে আছে।
আকাশটাও এখন শাসন করতে হবে।
CAAB, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ICT বিভাগকে একসাথে বসে একটি সমন্বিত জাতীয় ড্রোন নীতি ও তা বাস্তবায়নে কঠোর হওয়া— যেখানে নো-ফ্লাই জোন সুস্পষ্ট, ড্রোন নিবন্ধন বাধ্যতামূলক, অপারেটর লাইসেন্সিং কার্যকর এবং লঙ্ঘনে শাস্তি সুনির্দিষ্ট। নীতি প্রণয়নে নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের মতামত নেওয়া জরুরি।
ফয়েজ স্যার, সুস্মিত ভাই, রেজা ভাইরা যে কাজটা শুরু করেছিলেন — সেটার গুরুত্ব এতদ্রুত সামনে আসবে ভাবিনি, তবে কাজটা শেষ করা দরকার।।
রূপপুর সেই কথাটাই আবার মনে করিয়ে দিল।