Raihan Vai

Raihan Vai নিত্য নতুন ভাইরাল কাহিনী পেলে পেজটি ফলো দিয়ে পাশে থাকার অনুরোধ রইলো�

02/08/2026

অনেক মজাদার খাবার😋

 #গল্প প্রতিশোধের প্রেম যখন সত্যিকারের ভালোবাসা হয়ে গেল! #পর্ব ২ #লেখক  #রায়হানপরের দুই দিন অদ্ভুতভাবে কাটলো। বাইরে আমি ...
01/08/2026

#গল্প প্রতিশোধের প্রেম যখন সত্যিকারের ভালোবাসা হয়ে গেল!
#পর্ব ২
#লেখক #রায়হান

পরের দুই দিন অদ্ভুতভাবে কাটলো। বাইরে আমি আগের মতোই ছিলাম। বন্ধুদের সাথে আড্ডা, হাসাহাসি, ঘোরাঘুরি।

কিন্তু ভেতরে ভেতরে একটা অস্বস্তি কাজ করছিল।

রফিক ইসলামের মাথা থেকে বের হওয়া রক্ত আর তার মেয়ের কান্না বারবার মনে পড়ছিল।

তবুও নিজের কাছে সেটা স্বীকার করতে চাইনি।

কারণ আমি আরিয়ান চৌধুরী।

আমি ভুল করি না।

সেদিন কলেজে ঢুকতেই রনি দৌড়ে এলো।

রনিঃ ভাই, একটা খবর আছে।

আমিঃ কী?

রনিঃ খবরটা শুনলে তোর মাথা ঘুরে যাবে।

আমিঃ নাটক বন্ধ করে বল।

রনিঃ রফিক ইসলামের মেয়ে আমাদের কলেজেই ভর্তি হয়েছে।

আমি থমকে গেলাম।

আমিঃ কী বললি?

রনিঃ হ্যাঁ।

আমিঃ কোন ডিপার্টমেন্ট?

রনিঃ বিজনেস স্টাডিজ।

আমি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলাম।

রনিঃ চিন্তা করিস না। চাইলে আজই ওকে দেখে আসি।

আমিঃ দরকার নেই।

রনিঃ কেন?

আমিঃ এমনিই।

রনি অবাক হয়ে গেল।

কারণ সাধারণত কোনো নতুন মেয়ে কলেজে আসলে আমিই আগে দেখতে যেতাম।

কিন্তু এবার কেন জানি ইচ্ছে হলো না।

ঠিক তখন কলেজের গেটের দিকে মানুষের ভিড় দেখতে পেলাম।

সবাই যেন কারো দিকে তাকিয়ে আছে।

আমিও তাকালাম।

একটা সাদা সালোয়ার-কামিজ পরা মেয়ে ধীরে ধীরে কলেজের ভেতরে ঢুকছে।

মাথা নিচু।

মুখে কোনো মেকআপ নেই।

চোখে কোনো অহংকার নেই।

শুধু একটা শান্ত ভাব।

কিন্তু আমি সঙ্গে সঙ্গে চিনে ফেললাম।

এই সেই মেয়ে।

হাসপাতালের সামনে যার চোখে আগুন দেখেছিলাম।

মেহরিন ইসলাম।

আমার বুকের ভেতর কেমন যেন করে উঠলো।

রনি মুচকি হেসে বললো,

রনিঃ বাহ! দেখতে তো অনেক সুন্দর।

আমিঃ চুপ থাক।

রনিঃ আরে সত্যি বলছি।

আমিঃ বলেছি চুপ থাক।

রনি এবার অবাক হয়ে আমার দিকে তাকালো।

এত রেগে যাওয়ার কারণ সে বুঝলো না।

অন্যদিকে মেহরিন ধীরে ধীরে হেঁটে কলেজের ভেতরে ঢুকে গেল।

একবারও আমার দিকে তাকালো না।

যেন আমি অস্তিত্বই নেই।

অদ্ভুতভাবে ব্যাপারটা আমার ভালো লাগলো না।

কারণ এই কলেজে সবাই আমাকে দেখে।

কেউ ভয় পায়।

কেউ সম্মান দেখায়।

কেউ না কেউ প্রতিক্রিয়া দেয়।

কিন্তু এই মেয়েটা...

সে যেন আমাকে দেখেইনি।

ক্লাস শেষ হওয়ার পর আমি একা করিডোর দিয়ে হাঁটছিলাম।

ঠিক তখন সামনে মেহরিনকে দেখতে পেলাম।

সে লাইব্রেরির দিকে যাচ্ছিল।

আমি অজান্তেই তার পথ আটকে দাঁড়ালাম।

মেহরিন মাথা তুলে আমার দিকে তাকালো।

সেই একই চোখ।

সেই একই আগুন।

কিন্তু এবার সে শান্ত।

আমি কয়েক সেকেন্ড কী বলবো বুঝতে পারলাম না।

শেষ পর্যন্ত বললাম,

আমিঃ তোমার বাবার খবর কেমন?

মেহরিন কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইলো।

তারপর বললো,

মেহরিনঃ বেঁচে আছেন।

আমিঃ আমি...

মেহরিনঃ আর কিছু?

আমিঃ না।

মেহরিনঃ তাহলে সরুন।

আমি পথ ছেড়ে দিলাম।

মেহরিন কোনো কথা না বলে হেঁটে চলে গেল।

কিন্তু কয়েক কদম যাওয়ার পর থেমে গেল।

পেছনে না তাকিয়েই বললো,

মেহরিনঃ মানুষ তার কাজের ফল একদিন না একদিন পায়।

তারপর আবার হাঁটতে শুরু করলো।

আমি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম।

কেন জানি তার কথাটা বারবার কানে বাজতে লাগলো।

"মানুষ তার কাজের ফল একদিন না একদিন পায়।"

পরদিন কলেজে গিয়ে দেখলাম মেহরিন মাঠের পাশে একটা বেঞ্চে বসে বই পড়ছে।

আমি কয়েকবার ওর দিকে তাকালাম।

অদ্ভুত একটা ব্যাপার ঘটছে।

জীবনে অনেক মেয়ের সাথে ঘুরেছি।

কিন্তু কোনো মেয়েকে নিয়ে কখনো এত ভাবিনি।

হয়তো কারণ এই মেয়েটা আমাকে পাত্তাই দেয় না।

রনি এসে পাশে দাঁড়ালো।

রনিঃ কী দেখছিস?

আমিঃ কিছু না।

রনিঃ তাহলে পাঁচ মিনিট ধরে ওইদিকে তাকিয়ে আছিস কেন?

আমিঃ চুপ কর।

রনি হেসে উঠলো।

রনিঃ আমার মনে হয় তুই শেষ।

আমিঃ মাথা খারাপ নাকি?

রনিঃ আমি তোকে চিনি।

আমিঃ বেশি চিনিস না।

আমি উঠে সেখান থেকে চলে গেলাম।

অন্যদিকে মেহরিন দূর থেকে সব দেখছিল।

তার ঠোঁটের কোণে হালকা হাসি ফুটলো।

সে জানতো...

আমি ধীরে ধীরে তার দিকে আকৃষ্ট হচ্ছি।

আর এটাই সে চায়।

দুপুরে ক্যান্টিনে বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম।

ঠিক তখন দেখি মেহরিন ভেতরে ঢুকলো।

ক্যান্টিনে অনেক খালি চেয়ার থাকা সত্ত্বেও সে এসে আমার টেবিলের পাশের টেবিলে বসল।

আমি অবাক হয়ে তাকালাম।

কয়েক মিনিট পর সে ইচ্ছে করে একটা বই ফেলে দিল।

বইটা আমার পায়ের কাছে এসে পড়লো।

আমি বইটা তুলে তার দিকে বাড়িয়ে দিলাম।

মেহরিন বইটা নিয়ে বললো,

মেহরিনঃ ধন্যবাদ।

এই প্রথম সে আমার সাথে স্বাভাবিকভাবে কথা বললো।

আমি অবাক হয়ে গেলাম।

আমিঃ তোমার বাবার খবর কেমন?

মেহরিনঃ আগের চেয়ে ভালো।

আমিঃ ভালো।

মেহরিনঃ আপনি কি সত্যি চিন্তা করেন?

আমিঃ মানে?

মেহরিনঃ যাকে হাসপাতালে পাঠিয়েছেন, তার জন্য কি সত্যি খারাপ লাগে?

আমি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলাম।

প্রথমবার মনে হলো উত্তরটা সহজ না।

আমিঃ জানি না।

মেহরিন মাথা নাড়লো।

মেহরিনঃ অন্তত মিথ্যা বলেননি।

এই বলে সে উঠে চলে গেল।

আমি স্থির হয়ে বসে রইলাম।

রনি মুখ হা করে তাকিয়ে আছে।

রনিঃ ভাই, ঘটনা কী?

আমিঃ কীসের ঘটনা?

রনিঃ যে মেয়ে তোর মুখও দেখতে চাইতো না, সে আজ তোর সাথে কথা বললো।

আমিঃ হয়তো স্বাভাবিক হয়েছে।

রনি হেসে বললো,

রনিঃ না ভাই।

আমার অভিজ্ঞতা বলছে, এখানে অন্য কিছু হচ্ছে।

আমি কথাটা গুরুত্ব দিলাম না।

কিন্তু রনির সন্দেহ ভুল ছিল না।

সেদিন রাতে মেহরিন হাসপাতালে বাবার পাশে বসেছিল।

রফিক ইসলাম তখন কিছুটা সুস্থ।

রফিক ইসলাম মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন,

বাবাঃ তুই কী ভাবছিস?

মেহরিনঃ কিছু না।

বাবাঃ প্রতিশোধ নিতে চাইছিস?

মেহরিন চুপ করে রইলো।

বাবাঃ প্রতিশোধ মানুষকে শান্তি দেয় না মা।

মেহরিনঃ কিন্তু কিছু মানুষকে শাস্তি দেওয়া দরকার।

বাবাঃ আল্লাহর ওপর ছেড়ে দে।

মেহরিন বাবার হাত ধরে বললো,

মেহরিনঃ না আব্বু।

মেহরিনঃ ওর মতো মানুষের শাস্তি জেল না।

মেহরিনঃ ওর অহংকার ভাঙতে হবে।

মেহরিনঃ ওকে বুঝতে হবে কষ্ট কী জিনিস।

রফিক ইসলাম দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।

তিনি বুঝতে পারলেন...

তার মেয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।

আর সেই সময়...

আমি নিজের রুমে বসে ছিলাম।

জানালার বাইরে তাকিয়ে বারবার একটা মুখই মনে পড়ছিল।

সাদা সালোয়ার।

শান্ত চোখ।

আর সেই মেয়েটার নাম...

মেহরিন ইসলাম।

আমি জানতাম না...

আমি ধীরে ধীরে এমন এক ফাঁদে পা দিতে যাচ্ছি...

যেখান থেকে বের হতে আমার ছয় বছর লেগে যাবে।

পরদিন কলেজে গিয়ে অদ্ভুত একটা ব্যাপার খেয়াল করলাম।

আমি নিজেই মেহরিনকে খুঁজছি।

ক্লাসে ঢুকে খুঁজছি।

করিডোরে খুঁজছি।

এমনকি ক্যান্টিনেও চোখ চলে যাচ্ছে।

নিজের ওপরই বিরক্ত লাগছিল।

জীবনে কোনো মেয়ের জন্য এমনটা হয়নি।

রনি আমার অবস্থা দেখে মজা পাচ্ছিল।

রনিঃ কী ব্যাপার ভাই?

আমিঃ কী?

রনিঃ কলেজে ভর্তি হতে না হতেই মেয়েটা তোর ঘুম হারাম করে দিল?

আমিঃ বাজে কথা বলিস না।

রনিঃ তাহলে ওকে খুঁজছিস কেন?

আমিঃ খুঁজছি কে বলেছে?

রনিঃ গত বিশ মিনিটে তুই পাঁচবার ক্যান্টিনের দিকে তাকিয়েছিস।

আমি বিরক্ত হয়ে উঠে দাঁড়ালাম।

ঠিক তখনই দেখি মেহরিন ক্যান্টিনে ঢুকছে।

আজও সাদা পোশাক।

মুখে কোনো মেকআপ নেই।

তবুও পুরো ক্যান্টিনের নজর যেন ওর ওপর।

মেহরিন সরাসরি এসে পাশের টেবিলে বসল।

আমি ভান করলাম যেন ওকে দেখিনি।

কয়েক মিনিট পর সে নিজেই কথা বললো।

মেহরিনঃ আজকে কাউকে মারধর করেননি?

আমি অবাক হয়ে তাকালাম।

আমিঃ কী?

মেহরিনঃ ভাবলাম জিজ্ঞেস করি।

আমিঃ তুমি সবসময় এভাবেই কথা বলো?

মেহরিনঃ সত্যি কথা বলতে ভালো লাগে।

আমিঃ তুমি আমাকে খুব খারাপ মানুষ ভাবো, তাই না?

মেহরিনঃ ভাবি না।

আমিঃ তাহলে?

মেহরিনঃ জানি।

কথাটা শুনে আমার মুখ শক্ত হয়ে গেল।

মেহরিন শান্তভাবে জুস খেতে লাগলো।

যেন কিছুই হয়নি।

আমি প্রথমবার বুঝলাম...

এই মেয়েটা অন্যরকম।

কেউ আমার সামনে এভাবে কথা বলার সাহস করে না।

কিন্তু সে করে।

আর আশ্চর্যের ব্যাপার হলো...

আমার রাগও হচ্ছে না।

বরং কথা বলতে ভালো লাগছে।

ক্লাস শেষে কলেজের লাইব্রেরির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম।

হঠাৎ দেখি মেহরিন একা বের হচ্ছে।

আমি সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।

মেহরিনঃ কিছু বলবেন?

আমিঃ বন্ধু হওয়া যায় না?

মেহরিন কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে রইলো।

মেহরিনঃ আপনার অনেক বন্ধু আছে।

আমিঃ সবাই বন্ধু না।

মেহরিনঃ ও।

আমিঃ তাহলে?

মেহরিন হালকা হাসলো।

মেহরিনঃ ভাববো।

এই বলে সে চলে গেল।

আমি দাঁড়িয়ে রইলাম।

মেয়েটার হাসিটা কয়েক সেকেন্ডের জন্য হলেও খুব সুন্দর লাগলো।

কিন্তু আমি জানতাম না...

ওই হাসির পেছনে অন্য একটা গল্প আছে।

সেদিন বিকেলে মেহরিন হাসপাতালে গেল।

রফিক ইসলাম এখন কেবিনে।

আগের চেয়ে অনেকটা সুস্থ।

মেয়েকে দেখেই তিনি হাসলেন।

বাবাঃ কেমন আছিস?

মেহরিনঃ ভালো।

বাবাঃ কলেজ কেমন?

মেহরিন চুপ করে রইলো।

রফিক ইসলাম বুঝে গেলেন।

বাবাঃ আরিয়ানের সাথে কথা হয়েছে?

মেহরিনঃ হয়েছে।

বাবাঃ কী করতে চাইছিস মা?

মেহরিন বাবার হাত ধরে বললো,

মেহরিনঃ ওর অহংকারটাই ওর সবচেয়ে বড় শক্তি।

মেহরিনঃ আমি সেই শক্তিটাই ভেঙে দেবো।

বাবাঃ মানুষকে ধ্বংস করে সুখ পাওয়া যায় না।

মেহরিনঃ আমি ওকে ধ্বংস করতে চাই না।

বাবাঃ তাহলে?

মেহরিনের চোখে কঠিন দৃষ্টি ফুটে উঠলো।

মেহরিনঃ ওকে সেই কষ্টটা অনুভব করাতে চাই, যেটা আমি আর আম্মু অনুভব করেছি।

রফিক ইসলাম আর কিছু বললেন না।

কারণ তিনি জানতেন...

মেয়েটা সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।

অন্যদিকে আমি নিজের রুমে বসে ফোনে স্ক্রল করছিলাম।

হঠাৎ মেহরিনের কথা মনে হলো।

কী করছে এখন?

হাসছে?

নাকি পড়ছে?

আমি নিজেই অবাক হয়ে গেলাম।

কারণ জীবনে প্রথমবার কোনো মেয়েকে নিয়ে এত ভাবছি।

পরের দিন কলেজে পৌঁছেই একটা অদ্ভুত উত্তেজনা অনুভব করলাম।

কারণ আজ মেহরিনকে দেখার ইচ্ছে হচ্ছিল।

নিজের ওপরই বিরক্ত লাগছিল।

আমি আরিয়ান চৌধুরী।

যে মেয়েদের নিয়ে খেলেছে।

যে কখনো কোনো মেয়েকে গুরুত্ব দেয়নি।

সেই আমি একটা মেয়েকে দেখার জন্য অপেক্ষা করছি!

রনি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে হাসতে লাগলো।

রনিঃ অবস্থা খারাপ।

আমিঃ কীসের?

রনিঃ প্রেমের।

আমিঃ মাথা খারাপ নাকি?

রনিঃ কয়েকদিন পর বুঝবি।

আমি আর কথা বাড়ালাম না।

ঠিক তখন মেহরিন কলেজে ঢুকলো।

আজ নীল রঙের সালোয়ার পরেছে।

আমি চোখ সরিয়ে নিলাম।

কিন্তু মন সরাতে পারলাম না।

দুপুরে লাইব্রেরির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলাম।

হঠাৎ দেখি মেহরিন একটা বড় ফাইল হাতে নিয়ে বের হচ্ছে।

হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ ফাইলটা হাত থেকে পড়ে গেল।

অনেকগুলো কাগজ চারদিকে ছড়িয়ে পড়লো।

আমি দ্রুত এগিয়ে গেলাম।

কাগজগুলো তুলতে সাহায্য করলাম।

মেহরিন কয়েক সেকেন্ড আমার দিকে তাকিয়ে রইলো।

মেহরিনঃ ধন্যবাদ।

আমিঃ ওয়েলকাম।

মেহরিনঃ আজকাল বেশ ভদ্র হয়ে গেছেন দেখছি।

আমিঃ আমি কি সবসময় খারাপ?

মেহরিনঃ আপনি উত্তরটা আমার চেয়ে ভালো জানেন।

আমি হেসে ফেললাম।

অদ্ভুত ব্যাপার।

তার কথায় রাগ না হয়ে বরং ভালো লাগছে।

সব কাগজ গুছিয়ে দেওয়ার পর আমরা পাশাপাশি হাঁটতে লাগলাম।

কয়েক মুহূর্ত নীরবতা।

তারপর আমি বললাম,

আমিঃ বন্ধু হওয়া নিয়ে ভেবেছো?

মেহরিন একটু হাসলো।

মেহরিনঃ এত জেদ কেন?

আমিঃ কারণ তুমি না বলছো।

মেহরিনঃ সবাই কি আপনার কথা শুনে?

আমিঃ প্রায় সবাই।

মেহরিনঃ আমি না।

আমি হেসে ফেললাম।

আমিঃ সেটা বুঝতে পারছি।

মেহরিন কয়েক সেকেন্ড চুপ করে রইলো।

তারপর বললো,

মেহরিনঃ ঠিক আছে।

আমিঃ কী ঠিক আছে?

মেহরিনঃ বন্ধু হতে পারি।

কথাটা শুনে কেন জানি বুকের ভেতর ভালো লাগার একটা অনুভূতি ছড়িয়ে পড়লো।

আমি হাত বাড়িয়ে দিলাম।

আমিঃ তাহলে ফ্রেন্ডস?

মেহরিন আমার হাতের দিকে তাকালো।

তারপর হাত মিলালো।

মেহরিনঃ ফ্রেন্ডস।

সে জানতো...

এই হাত মেলানোর মধ্য দিয়েই তার পরিকল্পনার প্রথম ধাপ সফল হলো।

আর আমি জানতাম...

আমি একটা নতুন বন্ধুকে পেলাম।

বিকেলে ক্যান্টিনে বসে আমরা গল্প করছিলাম।

প্রথমবার আমি মেহরিনকে হাসতে দেখলাম।

হাসলে তাকে আরও সুন্দর লাগে।

রনি দূর থেকে সব দেখছিল।

সে এসে আমার পাশে বসলো।

রনিঃ পরিচয় করিয়ে দিবি না?

আমি বিরক্ত হয়ে বললাম,

আমিঃ নিজেই পরিচয় দে।

রনি হেসে বললো,

রনিঃ আমি রনি।

মেহরিনঃ আমি মেহরিন।

রনিঃ জানি।

মেহরিন অবাক হলো।

রনিঃ পুরো কলেজ জানে।

মেহরিন হালকা হেসে মাথা নিচু করলো।

সেদিন প্রথমবার আমি অনুভব করলাম...

তার সাথে সময় কাটাতে ভালো লাগে।

অন্যদিকে মেহরিন বাসায় ফিরে নিজের ডায়েরি খুললো।

সেখানে একটা লাইনে লিখলো—

"প্রথম ধাপ সফল।"

তারপর কিছুক্ষণ কলম হাতে চুপ করে বসে রইলো।

তার বাবার হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা মুখটা মনে পড়ে গেল।

মেহরিন দাঁত চেপে ফেললো।

মেহরিনঃ এখনও অনেক পথ বাকি, আরিয়ান।

মেহরিনঃ এখনও তুমি জানো না, আমি কেন তোমার কাছে এসেছি।

আর সেই সময়...

আমি নিজের রুমে বসে মুচকি হাসছিলাম।

কারণ অনেকদিন পর কাউকে বন্ধু বলে ভালো লাগছিল।

বন্ধুত্ব হওয়ার পর থেকে সবকিছু খুব দ্রুত বদলাতে শুরু করলো।

আগে কলেজে আসতাম বন্ধুদের জন্য।

এখন আসতাম মেহরিনকে দেখার জন্য।

আগে ক্লাস ফাঁকি দিতাম।

এখন ক্লাসে বসে থাকতাম, কারণ মেহরিন ক্লাসে থাকতো।

রনি কয়েকদিন ধরে সব লক্ষ্য করছিল।

একদিন ক্যান্টিনে বসে থাকতে থাকতে সে হঠাৎ বললো,

রনিঃ ভাই, একটা কথা বলবো?

আমিঃ বল।

রনিঃ তুই প্রেমে পড়ছিস।

আমিঃ বাজে কথা বলিস না।

রনিঃ আমি সিরিয়াস।

আমিঃ আমি না।

রনিঃ তাহলে মেহরিন অসুস্থ থাকলে তুই কেন তিনবার ফোন করেছিলি?

আমি চুপ করে গেলাম।

রনিঃ উত্তর দে।

আমিঃ বন্ধু হিসেবে খোঁজ নিয়েছি।

রনিঃ হুম।

আমিঃ কী হুম?

রনিঃ আমিও তো তোর বন্ধু। আমি জ্বরে পড়লে তুই খোঁজ নিস না কেন?

আমি ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম।

রনি হো হো করে হেসে উঠলো।

রনিঃ শেষ ভাই। একদম শেষ।

ঠিক তখন মেহরিন ক্যান্টিনে ঢুকলো।

আমার চোখ নিজে থেকেই তার দিকে চলে গেল।

রনি সেটা দেখে আবার হাসতে লাগলো।

মেহরিন এসে আমাদের সামনে বসল।

মেহরিনঃ কী নিয়ে এত হাসাহাসি?

রনিঃ একটা গোপন বিষয়।

মেহরিনঃ আমিও শুনতে চাই।

রনিঃ না, এটা শুধু আমি আর আরিয়ানের মধ্যে।

মেহরিন আমার দিকে তাকালো।

মেহরিনঃ কী গোপন বিষয়?

আমিঃ ওর মাথা খারাপ।

মেহরিন হেসে ফেললো।

সেদিন অনেকক্ষণ আমরা গল্প করলাম।

প্রথমবার আমি নিজের অনেক কথা মেহরিনকে বললাম।

শৈশবের কথা।

স্কুলের কথা।

এমনকি বাবা-মায়ের সাথেও আমার সম্পর্ক ভালো না, সেটাও বললাম।

মেহরিন মন দিয়ে শুনছিল।

মেহরিনঃ তুমি কি কখনো ভেবেছো, তোমার মা-বাবা কষ্ট পান?

আমিঃ তারা আমাকে বুঝে না।

মেহরিনঃ নাকি তুমি তাদের বুঝতে চাও না?

আমি চুপ করে গেলাম।

কারণ উত্তরটা আমার কাছেও পরিষ্কার ছিল না।

বিকেলে কলেজ ছুটির পর আমি মেহরিনকে বাসা পর্যন্ত পৌঁছে দিতে চাইলাম।

মেহরিন প্রথমে না করলো।

তারপর রাজি হয়ে গেল।

গাড়িতে ওঠার পর কয়েক মিনিট কেউ কথা বললাম না।

হঠাৎ মেহরিন বললো,

মেহরিনঃ তুমি কি সবসময় এমন ছিলে?

আমিঃ কেমন?

মেহরিনঃ রাগী।

আমিঃ প্রায়।

মেহরিনঃ কখনো বদলাতে ইচ্ছে করে না?

আমিঃ না।

মেহরিনঃ কেন?

আমিঃ কারণ সবাই আমাকে ভয় পায়।

মেহরিন জানালার বাইরে তাকালো।

মেহরিনঃ ভয় আর সম্মান এক জিনিস না।

আমি কিছু বললাম না।

কিন্তু কথাটা মাথায় গেঁথে গেল।

বাসার সামনে পৌঁছে মেহরিন নামার আগে বললো,

মেহরিনঃ একটা কথা বলি?

আমিঃ বল।

মেহরিনঃ তুমি চাইলে অনেক ভালো মানুষ হতে পারো।

আমিঃ আমি ভালো মানুষ হতে চাই না।

মেহরিন হালকা হাসলো।

মেহরিনঃ একদিন চাইবে।

এই বলে সে চলে গেল।

আমি অনেকক্ষণ গাড়িতে বসে রইলাম।

অন্যদিকে মেহরিন বাসায় ঢুকেই নিজের রুমে গেল।

দরজা বন্ধ করে আয়নার সামনে দাঁড়ালো।

আজ সারাদিন আরিয়ানের সাথে কাটিয়েছে।

অদ্ভুতভাবে তার নিজেরও একটু খারাপ লাগছে।

কারণ সে বুঝতে পারছে...

আরিয়ান পুরোপুরি খারাপ না।

কিন্তু পরের মুহূর্তেই বাবার রক্তাক্ত মুখটা মনে পড়ে গেল।

মেহরিন চোখ বন্ধ করলো।

মেহরিনঃ না।

মেহরিনঃ আমি দুর্বল হতে পারি না।

মেহরিনঃ ওকে তার শাস্তি পেতেই হবে।

চলবে...

রাত প্রায় দুইটা। পুরো শহর ঘুমিয়ে আছে। কিন্তু আমার চোখে ঘুম নেই। বারান্দার রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে দূরের আলো দেখছিলাম।আজ আমার ক...
31/07/2026

রাত প্রায় দুইটা। পুরো শহর ঘুমিয়ে আছে। কিন্তু আমার চোখে ঘুম নেই। বারান্দার রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে দূরের আলো দেখছিলাম।

আজ আমার কাছে টাকা আছে, সম্মান আছে, সাফল্য আছে। কিন্তু শান্তি নেই।

কিছু ক্ষত সময়ের সাথে শুকিয়ে যায়। কিছু ক্ষত মানুষ লুকিয়ে রাখতে শিখে যায়। আর কিছু ক্ষত মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বুকের ভেতর রক্ত ঝরায়।

আমার জীবনেও এমন একটা ক্ষত আছে। একটা নাম, একটা মুখ, একটা প্রতিশোধ, আর একটা ভালোবাসা। যে ভালোবাসা আমাকে মানুষ বানিয়েছে।

হঠাৎ টেবিলের ওপর রাখা পুরোনো ছবিটার দিকে তাকালাম। ছবিতে একটা মেয়ে হাসছে। সাদা সালোয়ার, মায়াবী চোখ, নরম একটা হাসি।

ছবিটা হাতে নিয়ে মৃদু হেসে বললাম,

আমিঃ তুমি জিতে গেছো, মেহরিন। আমাকে ধ্বংস করতে এসে তুমি আমাকে নতুন জীবন দিয়ে গেছো।

আমার চোখের কোণ ভিজে উঠলো। কয়েক সেকেন্ড নীরবতার পর ধীরে ধীরে চোখ বন্ধ করলাম। আর সঙ্গে সঙ্গে মনে পড়ে গেল ছয় বছর আগের সেই দিনটা।

যেদিন আমি ছিলাম শহরের সবচেয়ে বখাটে ছেলে। রাগ ছিল আমার পরিচয়, অহংকার ছিল আমার শক্তি, আর মানুষের চোখের পানি ছিল আমার কাছে তুচ্ছ।

আমি জানতাম না, একদিন আমার একটা ভুল আমার পুরো জীবন বদলে দেবে। আর সেই ভুলের নাম ছিল—মেহরিন ইসলাম।

ছয় বছর আগে...

ঢাকার সবচেয়ে অভিজাত এলাকায় আমাদের বাড়ি। বিশাল তিনতলা বাংলো। সামনে বাগান। গ্যারেজে কয়েকটা দামি গাড়ি।

কিন্তু ওই বাড়ির সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিলাম আমি।

সকাল এগারোটা।

আমার ঘুম ভাঙলো ফোনের রিংটোনে।

চোখ না খুলেই ফোনটা কানে ধরলাম।

রনি ছিল আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু।

রনিঃ কই তুই? সবাই কলেজে চলে আসছে।

আমিঃ সকালে মানুষের ঘুম নষ্ট করতে তোর ভালো লাগে?

রনিঃ সকাল? ভাই, এগারোটা বাজে।

আমিঃ তাহলে তো এখনও সকালই।

রনিঃ তুই আসবি নাকি?

আমিঃ আধা ঘণ্টার মধ্যে আসছি।

ফোন কেটে উঠে বসলাম।

ঠিক তখন মা রুমে ঢুকলেন।

মাঃ এখন উঠেছিস?

আমিঃ হুম।

মাঃ কলেজে যাবি না?

আমিঃ যাবো।

মাঃ এভাবে আর কতদিন চলবে বাবা?

আমিঃ আবার শুরু করো না তো।

মাঃ তোর বাবার এত বড় ব্যবসা। একদিন তোকে সব সামলাতে হবে।

আমিঃ বাবা সামলাক। আমি তো বলিনি ব্যবসা করতে।

মায়ের মুখটা মলিন হয়ে গেল।

কিন্তু তখন এসব দেখার সময় কোথায় আমার?

আমার মাথায় তখন শুধু বন্ধু, আড্ডা আর দাপট।

নিচে নামতেই বাবা ডাইনিং টেবিলে বসে খবরের কাগজ পড়ছিলেন।

আমাকে দেখেই কাগজটা ভাঁজ করলেন।

বাবাঃ আজও দেরি?

আমিঃ হুম।

বাবাঃ কলেজে পড়তে যাস নাকি নাটক করতে যাস?

আমিঃ আবার শুরু হলো।

বাবাঃ আমি সিরিয়াস।

আমিঃ কিন্তু আমি না।

বাবার মুখ শক্ত হয়ে গেল।

বাবাঃ একদিন বুঝবি।

আমিঃ ওই ডায়লগটা অনেক পুরোনো হয়ে গেছে।

আর এক মুহূর্তও না দাঁড়িয়ে বেরিয়ে গেলাম।

পেছনে তাকিয়ে দেখলাম মা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছেন।

আজ বুঝি...

ওই নীরব চোখ দুটোতে কত কষ্ট ছিল।

কিন্তু তখন আমি বুঝিনি।

তখন আমি শুধু নিজের কথাই ভাবতাম।

কলেজে পৌঁছাতেই সবাই আমার দিকে তাকাতে শুরু করলো।

কারণ আমি আরিয়ান চৌধুরী।

কলেজের সবচেয়ে ভয়ংকর ছেলে।

সিনিয়ররা আমাকে এড়িয়ে চলতো।

জুনিয়ররা আমাকে দেখে রাস্তা বদলাতো।

শিক্ষকেরাও অনেক সময় ঝামেলা এড়িয়ে যেতেন।

আর আমি এসব নিয়েই গর্ব করতাম।

গাড়ি থেকে নামতেই রনি আর তার দল এগিয়ে এলো।

রনিঃ আজ নতুন একটা ছেলে ভর্তি হয়েছে।

আমিঃ তারপর?

রনিঃ নাকি খুব বেশি ভাব নেয়।

আমার ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটলো।

আমিঃ তাহলে আজ একটু শিক্ষা দিতে হবে।

রনি হেসে উঠলো।

আর আমি হাঁটতে শুরু করলাম।

কলেজে ঢুকতেই সবাই রাস্তা ছেড়ে দিল। যেন আমি কোনো ছাত্র না, এলাকার কোনো সন্ত্রাসী।

সত্যি বলতে, তখন এসবই আমার ভালো লাগতো।

মানুষ আমাকে সম্মান করে না, ভয় পায়—এটাই ছিল আমার অহংকার।

রনি আর তার বন্ধুরা আমার পেছন পেছন হাঁটছিল।

রনিঃ নতুন ছেলেটা ক্যান্টিনে বসে আছে।

আমিঃ নাম কী?

রনিঃ সিয়াম।

আমিঃ চল।

আমরা সরাসরি ক্যান্টিনে ঢুকে পড়লাম।

এক কোণে একটা ছেলেকে বসে থাকতে দেখলাম। শান্তভাবে নাস্তা খাচ্ছে।

আমি গিয়ে তার সামনে বসলাম।

ছেলেটা অবাক হয়ে আমার দিকে তাকালো।

আমিঃ তুই নতুন?

সিয়ামঃ জি ভাই।

আমিঃ আমাকে চিনিস?

সিয়ামঃ না ভাই।

চারপাশে হঠাৎ সবাই চুপ হয়ে গেল।

আমি মুচকি হেসে বললাম,

আমিঃ এই কলেজে ভর্তি হয়েছিস, আর আমাকে চিনিস না?

সিয়ামঃ দুঃখিত ভাই।

আমিঃ দুঃখিত হলে হবে না। আগে সিনিয়রদের চিনতে শিখ।

সিয়াম কিছু বললো না।

ওর এই চুপ করে থাকা আমার আরো রাগ লাগিয়ে দিল।

আমিঃ দাঁড়া।

সিয়াম উঠে দাঁড়ালো।

আমিঃ আমার জুতা মুছ।

সিয়াম হতবাক হয়ে গেল।

সিয়ামঃ কী বললেন ভাই?

আমিঃ কানে কম শুনিস?

সিয়ামঃ আমি এটা করতে পারবো না।

আমি রেগে গেলাম।

পুরো ক্যান্টিন নিস্তব্ধ।

আমিঃ কী বললি?

সিয়ামঃ আমি কাউকে অসম্মান করিনি। কিন্তু এটাও করবো না।

রনি আমার দিকে তাকালো।

সে বুঝতে পারছে আমি এখন বিস্ফোরিত হবো।

আমি সিয়ামের কলার চেপে ধরলাম।

আমিঃ সাহস কম না তোর।

ঠিক তখন একটা কণ্ঠ ভেসে এলো।

স্যারঃ আরিয়ান!

আমি ঘুরে তাকালাম।

কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল দাঁড়িয়ে আছেন।

বিরক্ত চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছেন।

স্যারঃ আবার শুরু করেছো?

আমিঃ কিছু না স্যার।

স্যারঃ কিছু না?

স্যারঃ পুরো কলেজ জানে তুমি কী করছো।

আমিঃ স্যার, এটা আমাদের ব্যাপার।

স্যারঃ কলেজের ভেতরে যা হবে, সেটা কলেজের ব্যাপার।

আমি বিরক্ত হয়ে সিয়ামকে ছেড়ে দিলাম।

স্যারঃ অফিসে আসো।

আমিঃ পরে আসবো।

স্যারঃ এখনই।

আমিঃ সময় নেই।

স্যার অবাক হয়ে গেলেন।

কারণ কোনো ছাত্র তাকে এভাবে কথা বলে না।

কিন্তু আমি বলতাম।

কারণ আমি জানতাম, কেউ আমার কিছু করতে পারবে না।

আমার বাবার প্রভাব ছিল।

আর সেই প্রভাবের সুযোগ আমি সবসময় নিয়েছি।

কলেজ থেকে বেরিয়ে আমরা একটা রেস্টুরেন্টে গেলাম।

সেখানে গিয়ে দেখি কয়েকটা মেয়ে বসে আছে।

আমাকে দেখেই হাসতে শুরু করলো।

আমি গিয়ে তাদের টেবিলে বসলাম।

রনি মাথা নাড়লো।

কারণ এগুলো ছিল আমার প্রতিদিনের কাজ।

একজন মেয়ে বললো,

মেয়েঃ আজ এত দেরি কেন?

আমিঃ ঘুম ভাঙতে দেরি হয়েছে।

মেয়েঃ কাল কোথায় ছিলে?

আমিঃ মনে নেই।

সবাই হেসে উঠলো।

তখন আমার জীবন এমনই ছিল।

আজ এই মেয়ে।

কাল অন্য কেউ।

কাউকে নিয়ে কোনো অনুভূতি ছিল না।

শুধু সময় কাটানো।

শুধু নিজের আনন্দ।

বিকেলে বাড়ি ফিরতেই দেখি বাবা ড্রইংরুমে বসে আছেন।

আমাকে দেখেই বললেন,

বাবাঃ একটু বসো।

আমিঃ ক্লান্ত।

বাবাঃ বসো।

আমি বিরক্ত হয়ে সোফায় বসলাম।

বাবাঃ আজ কলেজ থেকে ফোন এসেছিল।

আমিঃ তো?

বাবাঃ আর কতদিন এসব চলবে?

আমিঃ আপনার সমস্যা কী?

বাবাঃ সমস্যা তুমি।

আমিঃ তাহলে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিন।

মা রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে এলেন।

মাঃ আরিয়ান!

আমিঃ কী?

মাঃ বাবার সাথে এভাবে কথা বলিস না।

আমিঃ আমি সত্যি কথাই বলছি।

বাবার মুখ শক্ত হয়ে গেল।

বাবাঃ একদিন নিজের ভুল বুঝবি।

আমিঃ ওইদিন আসলে আমাকে জানাবেন।

আমি উঠে নিজের রুমে চলে গেলাম।
পরের কয়েকদিন স্বাভাবিকভাবেই কাটছিল। কলেজ, আড্ডা, বন্ধুদের নিয়ে ঘোরাঘুরি আর মাঝে মাঝে ঝামেলা করা—এটাই ছিল আমার রুটিন।

সেদিন দুপুরে কলেজ ছুটি হওয়ার পর আমি আর রনি গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলাম।

রনিঃ আজকে রাতে পার্টি আছে। ভুলিস না।

আমিঃ আমি না গেলে পার্টি জমবে?

রনিঃ জমবে না।

আমি হেসে উঠলাম।

ঠিক তখন সামনের রাস্তায় একটা ছোটখাটো জটলা দেখতে পেলাম।

একজন বয়স্ক লোক রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কারো সাথে তর্ক করছেন।

আমি প্রথমে গুরুত্ব দিলাম না।

কিন্তু কাছে যেতেই দেখি লোকটা একজন রিকশাওয়ালার পক্ষ নিয়ে কয়েকজন ছেলের সাথে কথা বলছেন।

রনিঃ চল যাই।

আমিঃ দাঁড়া দেখি।

গাড়ি থামিয়ে নামলাম।

দেখলাম আমার এক পরিচিত ছেলে সেখানে দাঁড়িয়ে আছে।

আমাকে দেখেই সে এগিয়ে এলো।

ছেলেটাঃ ভাই, এই লোকটা অনেক জ্ঞান দিচ্ছে।

আমি লোকটার দিকে তাকালাম।

সাদা পাঞ্জাবি পরা। চোখে চশমা। মুখে ভদ্রতার ছাপ।

লোকটা শান্ত গলায় বললেন,

লোকটিঃ একজন গরিব মানুষকে অন্যায়ভাবে মারধর করা ঠিক না।

আমি বিরক্ত হলাম।

আমিঃ আপনি কে?

লোকটিঃ আমি একজন সাধারণ মানুষ।

আমিঃ তাহলে সাধারণ মানুষের মতো থাকেন।

লোকটিঃ অন্যায় দেখলে চুপ থাকা যায় না।

আমার রাগ বাড়তে লাগলো।

কারণ আমি এমন মানুষ সহ্য করতে পারতাম না, যারা আমাকে উপদেশ দেয়।

আমিঃ আপনি কি জানেন কার সাথে কথা বলছেন?

লোকটিঃ সেটা জানার প্রয়োজন নেই।

আমিঃ কী বললেন?

লোকটিঃ মানুষকে ভয় দেখিয়ে বড় হওয়া যায় না।

চারপাশে লোকজন জড়ো হতে শুরু করেছে।

আমি অনুভব করলাম, সবাই আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

আমার অহংকারে আঘাত লাগলো।

আমিঃ বেশি কথা বলছেন কিন্তু।

লোকটিঃ সত্য কথা সবসময়ই কষ্ট দেয়।

রনি আমার কানে কানে বললো,

রনিঃ চল চলে যাই।

কিন্তু তখন আমার মাথা গরম হয়ে গেছে।

আমি আর কিছু শুনতে পাচ্ছিলাম না।

লোকটা আবার বললেন,

লোকটিঃ তোমার বাবা-মা নিশ্চয়ই তোমাকে এমন শিক্ষা দেননি।

এই কথাটা শুনেই আমি বিস্ফোরিত হয়ে গেলাম।

আমিঃ আমার বাবা-মাকে নিয়ে কথা বলবেন না!

লোকটিঃ তাহলে এমন কাজও করো না, যাতে তাদের মাথা নিচু হয়।

আমি দাঁত চেপে তার দিকে এগিয়ে গেলাম।

রনি আমার হাত ধরলো।

রনিঃ আরিয়ান, থাম।

আমিঃ হাত ছাড়।

লোকটিঃ রাগ দিয়ে মানুষ হওয়া যায় না বাবা।

বাবা...

শব্দটা শুনে যেন আরও রেগে গেলাম।

কারণ তখন আমি কাউকে সম্মান করতে শিখিনি।

আমি শুধু নিজের ক্ষমতা দেখাতে জানতাম।

চারপাশে সবাই নিঃশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে আছে।

আর আমি ধীরে ধীরে লোকটার সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। চারপাশে সবাই চুপ হয়ে গেছে।

লোকটিঃ তোমার চোখে অনেক রাগ দেখছি বাবা। কিন্তু এই রাগ একদিন তোমারই ক্ষতি করবে।

আমিঃ আমাকে জ্ঞান দেওয়া বন্ধ করুন।

লোকটিঃ আমি জ্ঞান দিচ্ছি না। শুধু সত্যিটা বলছি।

আমিঃ সত্যি-মিথ্যা শেখানোর জন্য আপনাকে কেউ ডাকেনি।

লোকটিঃ তোমার বয়সে আমিও অনেক ছাত্র দেখেছি। কিন্তু তোমার মতো অহংকারী খুব কম দেখেছি।

এই কথাটা আমার মাথায় আগুন ধরিয়ে দিল।

আমিঃ চুপ!

লোকটিঃ কেন? সত্যি শুনতে কষ্ট হচ্ছে?

আমিঃ একদম চুপ!

লোকটিঃ না হলে কী করবে?

চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো ভয় পেয়ে গেল।

রনি আবার আমার হাত ধরলো।

রনিঃ আরিয়ান, প্লিজ। চল এখান থেকে।

আমিঃ হাত ছাড়!

রনিঃ ভাই, লোকটা বয়স্ক মানুষ।

আমিঃ আমি কাউকে ছাড়ি না।

লোকটিঃ দেখলে? এটাই তোমার সমস্যা। তুমি মনে করো পৃথিবী তোমার বাবার টাকায় চলে।

আমার মাথা পুরোপুরি গরম হয়ে গেল।

আমি হঠাৎ লোকটার কলার চেপে ধরলাম।

চারপাশে হৈচৈ পড়ে গেল।

লোকটিঃ হাত ছাড়ো।

আমিঃ আমাকে শিক্ষা দিতে এসেছেন?

লোকটিঃ তুমি ভুল করছো।

আমিঃ ভুল আমি করি না!

লোকটিঃ মানুষ ভুল করেই শেখে।

এরপর...

রাগের মাথায় আমি তাকে ধাক্কা দিলাম।

লোকটা ভারসাম্য হারিয়ে পিছনে পড়ে গেলেন।

কিন্তু ব্যাপারটা সেখানেই শেষ হয়নি।

পিছনে একটা লোহার রেলিং ছিল।

সজোরে তার মাথা রেলিংয়ে আঘাত করলো।

ঠাস!

মুহূর্তের মধ্যে চারপাশ নিস্তব্ধ হয়ে গেল।

আমি কয়েক সেকেন্ড বুঝতেই পারলাম না কী হয়েছে।

তারপর দেখলাম...

লোকটার মাথা থেকে রক্ত বের হচ্ছে।

রনি চিৎকার করে উঠলো।

রনিঃ আরিয়ান!

চারপাশে মানুষ দৌড়ে এলো।

একজন মহিলার চিৎকার ভেসে এলো।

মানুষঃ হাসপাতালে নিন! দ্রুত হাসপাতালে নিন!

লোকটা অচেতন হয়ে পড়ে আছেন।

আমার বুকের ভেতর হঠাৎ অদ্ভুত একটা অনুভূতি হলো।

জীবনে অনেক মারামারি করেছি।

অনেককে মেরেছি।

কিন্তু এমন কিছু আগে কখনো হয়নি।

রনি আমার দিকে তাকালো।

রনিঃ তুই কী করলি?

আমিঃ আমি...

আমি কোনো উত্তর দিতে পারলাম না।

ঠিক তখন দূর থেকে একটা মেয়ে দৌড়ে আসতে দেখা গেল।

সে ভিড় ঠেলে সামনে এলো।

তারপর মাটিতে পড়ে থাকা মানুষটাকে দেখে চিৎকার করে উঠলো।

মেয়েটিঃ আব্বু!

মুহূর্তের মধ্যে মেয়েটার চোখে পানি চলে এলো।

সে বাবার মাথা কোলে তুলে নিল।

মেয়েটিঃ আব্বু! চোখ খোলো! আব্বু!

তার কান্না শুনে আশেপাশের সবার চোখ ভিজে উঠলো।

আমি স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম।

প্রথমবারের মতো নিজের কাজ দেখে নিজেই হতবাক।

মেয়েটা হঠাৎ আমার দিকে তাকালো।

তার চোখে তখন শুধু ঘৃণা আর আগুন।

মেয়েটিঃ আপনি করেছেন এটা?

আমি চুপ।

মেয়েটিঃ বলুন! আপনি করেছেন?

রনি কিছু বলতে যাচ্ছিল।

কিন্তু মেয়েটা চিৎকার করে উঠলো।

মেয়েটিঃ আমার বাবার কী ক্ষতি করেছিলেন তিনি?

মেয়েটিঃ কেন মারলেন?

আমি কোনো উত্তর দিতে পারলাম না।

কারণ সত্যি বলতে...

আমার কাছে কোনো উত্তর ছিল না।

কয়েকজন লোক দ্রুত রফিক ইসলামকে হাসপাতালে নিয়ে গেল।

মেয়েটাও তাদের সাথে চলে গেল।

যাওয়ার আগে একবার আমার দিকে তাকালো।

সেই দৃষ্টিটা আমি আজও ভুলতে পারিনি।

সেই চোখে ছিল না শুধু ঘৃণা।

ছিল প্রতিশোধের আগুন।
সারা রাত ঘুমাতে পারলাম না।

বারবার সেই দৃশ্যটা চোখের সামনে ভেসে উঠছিল।

লোকটার মাথা রেলিংয়ে আঘাত করা।

রক্ত।

আর সেই মেয়েটার কান্না।

কিন্তু নিজের অহংকারের কারণে আমি কাউকে কিছু বুঝতে দিলাম না।

পরদিন সকালে নিচে নামতেই বাবা আর মা নাস্তা করছিলেন।

মাঃ আয়, নাস্তা কর।

আমিঃ ক্ষুধা নেই।

বাবাঃ আজ এত চুপচাপ কেন?

আমিঃ এমনিই।

বাবাঃ কলেজে কোনো ঝামেলা করেছো?

আমি কিছু বললাম না।

বাবা কয়েক সেকেন্ড আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন।

তারপর আবার নাস্তা করতে লাগলেন।

আমি দ্রুত বেরিয়ে গেলাম।

অন্যদিকে...

ঢাকার একটি হাসপাতালে আইসিইউর সামনে বসে ছিল মেহরিন।

সারারাত তার চোখে ঘুম নেই।

তার বাবা এখনও অচেতন।

ডাক্তার কয়েকবার এসে দেখে গেছেন।

প্রতিবারই মেহরিনের বুক কেঁপে উঠেছে।

পাশে বসে থাকা তার মা বারবার কাঁদছিলেন।

মেহরিন মায়ের হাত ধরে বললো,

মেহরিনঃ আম্মু, কাঁদবেন না।

মাঃ তোর বাবার যদি কিছু হয়ে যায়?

মেহরিনঃ কিছু হবে না।

মাঃ আল্লাহ ওনাকে ভালো করে দিন।

ঠিক তখন ডাক্তার বের হয়ে এলেন।

মেহরিন দ্রুত উঠে দাঁড়ালো।

মেহরিনঃ ডাক্তার, আব্বু কেমন আছেন?

ডাক্তারঃ এখন বিপদ কিছুটা কেটেছে। তবে মাথায় আঘাত বেশ গুরুতর।

মেহরিনঃ উনি কি ভালো হয়ে যাবেন?

ডাক্তারঃ সময় লাগবে।

ডাক্তারের কথা শুনে মেহরিন কিছুটা স্বস্তি পেল।

কিন্তু পরের মুহূর্তেই তার চোখের সামনে ভেসে উঠলো আমার মুখ।

সেই অহংকারী ছেলেটা।

যে বিনা কারণে তার বাবাকে হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

মেহরিন দাঁত চেপে ফেললো।

মেহরিনঃ আমি তোমাকে ছাড়বো না।

মাঃ কাকে বলছিস?

মেহরিনঃ যে মানুষটা আব্বুর এই অবস্থা করেছে।

মাঃ পুলিশে অভিযোগ করবো?

মেহরিন কিছুক্ষণ চুপ করে রইলো।

তারপর ধীরে ধীরে মাথা নাড়লো।

মেহরিনঃ না।

মাঃ কেন?

মেহরিনঃ জেলে পাঠিয়ে খুব বেশি শাস্তি হবে না।

মাঃ তাহলে?

মেহরিনের চোখে তখন অন্যরকম আগুন।

মেহরিনঃ আমি ওকে এমন শাস্তি দেবো, যেটা ও সারা জীবন ভুলতে পারবে না।

ওই মুহূর্তেই প্রতিশোধের বীজ বপন হয়ে গেল।

অন্যদিকে আমি কলেজে গিয়ে দেখি সবাই আমার দিকে অন্যরকম চোখে তাকাচ্ছে।

কেউ সামনে কিছু বলছে না।

কিন্তু পেছনে পেছনে ফিসফিস করছে।

রনি এসে পাশে দাঁড়ালো।

রনিঃ খবর পেয়েছি।

আমিঃ কী খবর?

রনিঃ লোকটার নাম রফিক ইসলাম।

আমিঃ তারপর?

রনিঃ কলেজের একজন সম্মানিত শিক্ষক।

আমার বুক ধক করে উঠলো।

আমিঃ কী?

রনিঃ পাশের কলেজে পড়ান।

আমি প্রথমবার একটু ভয় পেলাম।

রনিঃ আর একটা খবর আছে।

আমিঃ কী?

রনিঃ তার একটা মেয়ে আছে।

আমিঃ তো?

রনিঃ গতকাল হাসপাতালে তুই যাকে দেখেছিস, সেই মেয়েটাই।

আমি কিছু বললাম না।

কিন্তু কেন জানি মেয়েটার কান্নাভেজা মুখটা বারবার মনে পড়ছিল।

চলবে...

#গল্পঃ প্রতিশোধের প্রেম যখন সত্যিকারের ভালোবাসা হয়ে গেল
#লেখক #রায়হান
পর্ব–১:

18/07/2026

জঙ্গলের মাঝে গু🤣

17/07/2026

আব্বা ডাকতে দিলোনা😭

15/07/2026

🇧🇷 মিনিটেই ২ গোল ⚽
🤣এখানেও ৭🤣
রাগ করলা😁

দয়া করে এবার স্পেন সাপর্ট করেন ভাই 😂🤣🙏🏼🙏🏼
15/07/2026

দয়া করে এবার স্পেন সাপর্ট করেন ভাই 😂🤣🙏🏼🙏🏼

15/07/2026

আর্জেন্টিনা নাকি হায়ার সি সি ইঞ্জিন?
Argentina vs England

15/07/2026

আর্জেন্টিনা ফাইনালে😍
England 1-2 Argentina

Address

Dhaka
Dhaka
1205

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Raihan Vai posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share