29/07/2025
বড়লেখায় শ্রমিক নির্বাচনে জাল ভোট দেওয়ার ভিডিও ভাইরাল: জামায়াতের দুই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ
২৬ জুলাই বড়লেখা উপজেলার একটি শ্রমিক সংগঠনের নির্বাচনে জাল ভোট দেওয়ার অভিযোগে তোলপাড় শুরু হয়েছে। তিন নম্বর বুথে ভোট চলাকালীন একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে, জামায়াতের নায়েবে আমির ও শ্রমিক উপদেষ্টা ফয়সাল আহমদ এবং শ্রমিক সহকারী নির্বাচন কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ সুমন জাল ভোটে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোটগ্রহণের সময় তিন নম্বর বুথের দরজা বন্ধ করে ভেতরে শিল মারার ঘটনা ঘটেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, জামায়াত নেতা ফয়ছল আহমদ, জয়নাল আরও কয়েকজন ব্যক্তি দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং সাধারণ ভোটারদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল।
একজন ভোটার জানান, “ভোটের সময় দরজা বন্ধ, ভেতরে কী হচ্ছে কেউ জানে না। আমরা বাইরে চেঁচামেচি করছি—দরজা খুলেন, এটা কী হচ্ছে!”
ভিডিওতে দেখা যায়, বুথের ভেতরে ৩–৪ জন যুবক ব্যালট পেপারে একের পর এক সিল মারছে, এবং পাশে দাঁড়িয়ে আছেন সহকারী নির্বাচন কমিশনার শাহিন, যিনি জামায়াতপন্থী শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের বড়লেখা শাখার সভাপতি।
জাল ভোটের বুথে ভোট গ্রহণ হয়েছে ফকির বাজার পূর্ব (১৬৫) ফকির বাজার পশ্চিম (১৭৬) কাজিরবন্দ (৫৩) বর্ণি পরতাচক (১৪) বর্ণি গোদাম বাজার (১৭) দাসের বাজার (৩১৯) সিএনজি স্ট্যান্ডগুলোর। মোট ভোটার: ৭৪৪ জন বুট কাস্ট: ৪৬৪ এর মধ্যে ৩২৭টি ভোট পেয়েছেন জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী ইকবাল (মোরগ প্রতীক)।
শ্রমিক নির্বাচন কমিশনের সদস্য আব্দুল কাদির পলাশ তার ফেসবুক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন,
“আমাদের উপদেষ্টা সহ সহকারী দু-একজন কমিশনের সদস্য নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারেননি। আমি জানার পরই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি, কিন্তু উনারা অস্বীকার করেন।”
পরাজিত প্রার্থী সেবুল আহমদ সবুজ জানিয়েছেন, তিনি শ্রম অধিকার আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং পুরো নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
এ ঘটনার পর স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, “শ্রমিক নির্বাচনেও এখন জামায়াতের জালিয়াতি! এটা শুধু নির্বাচনের অপমান নয়, শ্রমিকদের রক্ত-ঘামে গড়া অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র।”
নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে ভিডিওটি ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।