12/06/2026
শোনো প্রিয়, কারো জন্য নিজের জীবনটারে ধ্বংস কইরো না। মাইয়া মানুষের জেদ থাকতে নেই, মাইয়া মানুষ হইতে হয় নরম কমলের মতন।
আমার সাইকোলজি দিয়ে তোমাকে নিয়ে যা ভাবলাম তা হচ্ছে, তুমি কি চাও? চলো দেখে আসি।
আমার সাইকোলজি বলে তুমি প্রতিযোগিতায় নামছো। তোমার টিকটক পেজ, সব কিছু দেখে বুঝলাম, তুমি যা কিছু করতাছো আলমকে ইমপ্রেস করার জন্য। এই যে ড্রেস কিনছো, একদম পাতলা, ছবি, অ্যাঙ্গেল, ধরণ সব কিছুই মুক্তার মতো ওয়েস্টার্ন ড্রেস। যেন মনে হচ্ছে তুমি একটা কম্পিটিশনে নামছো, সব কিছু দিয়া।
কম্পিটিশনটা কি? আলম মুক্তাকে কেন এত বেশি ভালোবেসে ফেললো? তার বডি, তার ফিগার এসব দেখে? তোমার মনে হচ্ছে হয়তো বা। তাহলে তোমাকে কেন আলম নটির পুত ভালোবাসলো না, এত ভদ্রতা দেখানোর পরেও? এই যে একটা জেদ তোমার মধ্যে, তোমাকেও মুক্তার মতো হতে হবে, ওয়েস্টার্ন, নিজেকে বাজেভাবে প্রদর্শন করা, যেন আলম নটির বাচ্চা তোমার প্রতি আকর্ষণ হয়।
তোমাকে কোনো রকম কন্ডিশন ছাড়া প্রচুর ভালোবাসা দিয়ে সে তোমাকে ঘরে তোলে, এটাই সত্যি, এটাই তো চাও নাকি?
আর একটা কথা, তুমি ক্যাপশন দিচ্ছ, তোমার সাজানো আট মাসের সংসার নিজের হাতে সাজাইছো তুমি, সেই জন্য মায়া হচ্ছে। কী সুন্দর সংসার সাজাইছো তুমি? যার জন্য অনেক মায়া হচ্ছে।
দুইটা চেয়ার, একটা খাট, ফ্রিজ, গ্যাসের চুলা—এইসব সংসার সাজানো কয়? তাও আবার মুক্তা ছয় মাস সংসারে থেকে সব চেঞ্জ করে ফেলছে। তাহলে তুমি কি সংসার সাজাইলা, আমারে কও?
এমন তো না, আলমের সংসারে থেকে টাকা জমাইয়া সুন্দর দালানবাড়ি বানাইছো, বাড়িঘর সব কিছু নিজের হাতে গুছাইছো। তাও তো করো নাই। তাহলে কোন দিক থেকে সংসার সাজাইলা? এখানে মুক্তাও তো দাবি করতে পারে। কই, মূর্খের মতো সে তো করে নাই।
আবার তুমি একটা ভিডিওতে কইলা,
“আমার ইউজ করা জিনিস নিয়ে যদি কেউ হ্যাপি থাকে, যাও দোয়া করে দেই।”
হাহাহা, আরে ভাই, তোর মাথার মধ্যে কি গু আছে, মাদারচোদ? তুই ওরে ইউজ করছোস নাকি? তুই ইউজ হইছোস, ওইটাও জানোস না। মাইয়া মানুষ কোনোদিন ছেলেদের ইউজ করতে পারে না, বানচোদ। এটাও মাথায় ঢোকে না তোর? নিজেরে কি মনে করোস?
Sorry, আমি কন্ট্রোল হারাইয়া ফেলছি 🙏 আর কত...
তুই চাই ক্যাপশন দিছোস দুই বছর পর বিয়ে করবি। কেন? আলমের জন্য অপেক্ষা? আলমের এই সংসার ভাঙবে, তারপর আলম আবার তোরে বিয়ে করবে, তাই না? হইলে আলমের বিয়ে নিয়ে তোর এত জ্বলে কেন?
মুক্তার সাথে বিয়ে করার পর আমি তোরে বলছি তো, এই সংসার হইতে দিমু না, কসম খাইছিলাম তো। কই, দিছি? হইছে সংসার? শান্তি পাইছস? আলমের জীবনটা, মুক্তার জীবনটা নরক বানাইয়া দিলাম, তার পরেও তোর শান্তি হয় না?
এই সংসার নিয়ে তোর এত জ্বালা-পোড়া কেন? চুপ থাক। তুই তোর নিজের সংসার গোছা, নিজেরে নিয়ে ভাব।
আরে বানচোদ, নিজের ভালো কুত্তাও চায়। তুই কেন তোর ভালো চাস না? তুই তোর ভালো চাবি কেমনে? যেই মানুষ তোর ভালো চায়, তারেই তুই কুত্তার মতো তাড়াইয়া দেস। এই যে আমারে দিলি।
আসল সমস্যা তো তোর না, তোর ফ্যামিলির। তোর ফ্যামিলি তোরে গাইড করে না, ঠিকমতো পরিচালনা করে না। তোর বাবা যদি আমার বাপের জায়গায় থাকতো, না, পায়ের পাতা থেকে মাথা পর্যন্ত পিটাইয়া সোজা করে দিত।
তোর পিছনে গাইড করার লোক নাই। ফ্যামিলি ছাইড়া দিয়া রাখছে। এটাই তোর ফ্যামিলির সব চাইতে বড় ভুল। তোরে গাইড করার মতো একমাত্র আমি ছিলাম। আমারে কিভাবে তোর জীবন থেকে তাড়াইয়া দিছোস, তুই খুব ভালো করে জানোস। এখন তুই বেপরোয়া।
যাইহোক, দিন শেষে একটা কথাই বলবো, নিজেকে কন্ট্রোল কর। তুই সব সময় আল্লাহরে অভিযোগ করোস, আল্লাহ, আল্লাহ—তোর সাথে এমন কেন করলো? কেন তোরে শান্তি দিচ্ছে না?
আমার প্রশ্ন তোর কাছে, তুই আল্লাহর কাছে এত কিছু চাইছোস, কিন্তু আল্লাহরে কি কোনোদিন কিছু দিছোস? আল্লাহ তো বলছে, তুমি আমারে ৫ ওয়াক্ত নামাজ, পর্দা, আমল দাও, আমি তোমারে যা চাইবা তাই দিমু। কয়দিন দিছোস?
স্থির হ, অস্থির হইস না। অস্থিরতা নিয়ে জীবন চলে না। তুই নিজেই নিজেরে পুড়াইতাছোস। এই যে বেপরোয়া জীবন তোর, এতে মানুষের অ্যাটেনশন পাবি, কিন্তু কপালে কখনো সুখ পাবি না। যৌবন চিরকাল থাকে না। সম্মান থাকতে নিজের জীবনটারে গুছাইয়া ফেল।
শালীনতা বজায় রেখে ভিডিও বানাও। যুগের সাথে তাল মিলাইয়া চলতে গেলে মানুষ তোরে গালাগালি করবই। নিজের চিন্তাভাবনা পজিটিভ কর, নেগেটিভ ভাবনা বাদ দিয়া দে।
এই যে কিছুদিন আগে তুই আমারে কইলি নিজের টাকায় কোরবানি দিছোস। আমার প্রশ্ন, কেন দিছোস? কেউ তোরে কইছে দিতে? যেই টাকা দিয়া কোরবানি দিছোস, ওই টাকার মধ্যে যদি আর কিছু টাকা যোগ করতি, তোর ওমরাহ হজ হইতো। যত অভিযোগ, ওইখানে গিয়া করে আসতি, মন খুলে বিচার চাইতি, নিজের পাপগুলো মুছে আসতি। এটাও তোর মাথায় আসে নাই।
যাইহোক, যেভাবে চলতাছোস, দিন শেষে দেখবি আলম মাদারচোদ ভালো আছে, তুই নিজেই ধ্বংস হইয়া যাবি। খুব বেশি দিন লাগবে না।
আজকের এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচার একটাই রাস্তা—বিয়ে করে সংসার কর, বাচ্চা নিয়ে ফেল। দেখবি সব ঠিক হইয়া গেছে। তখন এইসব আর কোনো কিছু মাথায় আসবে না।
আর একটা কথা মনে রাখিস, যৌবন চিরকাল থাকে না। সৌন্দর্যও থাকে না। মানুষের নজরও থাকে না। কিন্তু চরিত্র, সম্মান আর আত্মসম্মান থাকলে মানুষ শেষ বয়সেও মাথা উঁচু কইরা বাঁচতে পারে।
যাইহোক, রাগ থেইকা না, ঘৃণা থেইকা না—ভালো চাওয়ার জায়গা থেইকা কইলাম। নিজেরে সামলাও। নিজের জীবনটারে গুছাও। অন্যের জীবন লইয়া ভাবা বাদ দাও।
দিন শেষে দেখবা, মানুষেরে হারাইতে পারাটা বড় অর্জন না। নিজেরে বাঁচাইতে পারাটাই আসল অর্জন।
Md Shoriful islam