Think in Recite

Think in Recite আর তার চেয়ে কার কথা উত্তম, যে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দেয়, সৎকর্ম করে এবং বলে, অবশ্যই আমি মুসলিম।

উমর ইবন আল-খাত্তাব রাঃ বলেছিলেন, " জাহিলিয়াত কি তা না জেনেই যখন মানুষ মুসলিম হিসাবে বেড়ে উঠবে তখন ইসলামের বন্ধন আস্তে আস্তে এক এক করে ছুটে যেতে থাকবে।"

এই উক্তিটির বক্তব্য দিতে গিয়ে ইমাম ইবন আল-কায়্যিম রাঃ বলেন:

❝জাহিলিয়্যাহর গতিপ্রকৃতির ব্যাপারে জ্ঞান ও ধারণা থাকার কারণে সাহাবাগণ রাঃ ইসলাম ও এর প্রতিটি খুঁটিনাটি বিষয়াদি, এর কর্মপদ্ধতি(methodology) এবং এর আওতাধীন বিষয়গুলো সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জ্ঞান রাখতেন। ইসলামের ব্যাপারে তারাই সবচেয়ে বেশি উৎসাহী ছিলেন। তারাই ইসলামকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। তারাই ইসলামের শত্রুদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি লড়াই করেছেন এবং ইসলামবিরোধী মতাদর্শের ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি সর্তক জিনিসগুলোর ব্যাপারে তাদের পরিষ্কার জ্ঞান থাকার কারণে। ইসলাম যখন তাদের কাছে এসেছিল তখন ইসলামের সব কিছুই তাদের জীবনযাত্রার সাথে সাথে সাংঘর্ষিক ছিল। তাই, ইসলামের বিপরীতধর্মী জিনিসগুলোর নিকৃষ্টতার সাথে তাদের পূর্বপরিচিতর কারণে তাদের আবেগ আর লড়াই ছিল অন্য সবার চেয়ে তীব্র। আর এ জন্যই ইসলামের প্রতি তাদের জ্ঞান, ভালোবাসা এবং আত্মত্যাগ ছিল সবচেয়ে বেশি। কেননা তারা ইসলামের বিপরীত বিষয়গুলোর ব্যাপারে সম্যক অবগত ছিলেন।

এটা অনেকটা এরকম যে, একজন দুঃখে জর্জরিত অসুস্থ, দরিদ্র, ভীত আর একাকী লোক হঠাৎ করেই এসব কিছু থেকে মুক্তি পেয়ে আরামদায়ক, নিরাপদ, ঐশ্বর্যময় এবং উন্নত জীবন লাভ করল। এরকম লোক তাদের পূর্বের তিক্ত অভিজ্ঞতা থাকার কারণে অপেক্ষাকৃত বেশি সুখী হবে। কারণ যেই ব্যক্তির অতীতে কষ্টের অভিজ্ঞতা নেই সে এই আরামের জীবন আর কষ্টের জীবনের মাঝে যে পার্থক্য সেটা উপলব্ধি করতে পারবে না।❞
ঠিক তদ্রূপ বর্তমান অন্য ধর্মাবলী জীবন, বিভিন্ন সমাজ ব্যবস্থা, বর্তমান উন্নত রাষ্ট্রে সমস্যা, অমুসলিমদের জীবন ব্যবস্থা, তাদের সমস্যা কেন কিভাবে এই গুলো যদি ইসলামের মাধ্যমে তুলনা করি ইসলামের জীবন ব্যবস্থায়। তাহলে আমরাও ইনশাআল্লাহ ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য দেখতে পাবো। বুঝতে পারবো আল্লাহ আমাদের কতটা মর্যাদা দিয়েছে, বেসেছেন কত ভালো এবং কেনই বা আল্লাহ আমাদেরকে ইসলাম কে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করতে আহবান করছেন। আর সেই জন্য আমাদেরকে জানতে হবে ইসলাম সম্পর্কে।

❝পড় তোমার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন।❞(96:01)

জ্ঞানের কারণেই আদি পিতা হযরত আদম (আঃ) সমস্ত ফেরেশতার মধ্যে বিশেষ সম্মান লাভে সমর্থ হয়েছিলেন। (তাফসীরে ইবনে কাসীর)

এ পড়ালেখা হবে আল্লাহ নামে অর্থাৎ দীন ও শরীয়তের সাথে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে। এতে সাধারণ পড়ালেখা শামিল নয়। যে হাদীসে বলা হয়েছে প্রত্যেক মুসলিমের জ্ঞান অর্জন করা ফরয সে হাদীসটিও দীনি শিক্ষা অর্জনের ব্যাপারে। সাধারণ শিক্ষাকে ইসলাম নিষেধ করেনি বা বাধাও দেয়নি তবে অবশ্যই মুসলিম মাত্রই ফরয জ্ঞান অর্জন করতেই হবে। অন্যথায় গুনাহগার হতে হবে। আল্লাহ মানুষকে মায়ের গর্ভ থেকে ভূমিষ্ঠ করেন এমনভাবে যে, তার জ্ঞান বলতে কিছুই থাকে না। জন্মের পর মানুষ যাতে জ্ঞান অর্জন করতে পারে সেজন্য আল্লাহ তা‘আলা দুটি উপকরণ প্রদান করেছেন। ১.হিফয বা মুখস্থ করে জ্ঞানায়ত্ত করা। এর জন্য প্রয়োজন দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণশক্তি ও অনুধাবন শক্তি। আর এসব কিছু আল্লাহ তা‘আলা জন্মগতভাবেই দিয়েছেন। ২.লেখনির মাধ্যমে জ্ঞানার্জন। তাই আল্লাহ লেখার উপকরণ হিসাবে কলম দিয়েছেন। মানুষকে আল্লাহ জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে অজানা জিনিসকে শিক্ষা দেন। (তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ)

❝আমি তোমার প্রতি নাযিল করেছি এক বরকতময় কিতাব, যাতে তারা এর আয়াতসমূহ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করে এবং যাতে বুদ্ধিমানগণ উপদেশ গ্রহণ করে।❞ (38:29)

হযরত হাসান বসরী (রঃ) বলেন যে, যে ব্যক্তি কুরআনের শব্দগুলো মুখস্থ করেছে, কিন্তু কুরআনের উপর আমল করেনি এবং কুরআন সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণাও করেনি, তার কুরআনের শব্দগুলো মুখস্থ করাতে কোনই লাভ নেই। লোকেরা বলেঃ “আমরা কুর'আন সম্পূর্ণরূপে পড়েছি।” কিন্তু কুরআনের একটি উপদেশ এবং কুরআনের একটি হুকুমের নমুনা তাদের মধ্যে দেখা যায় না। এরূপ হওয়া মোটেই উচিত নয়। আসল জিনিস হলো চিন্তা-গবেষণা করা, শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণ করা এবং আমল করা। (তাফসীরে ইবনে কাসীর)


মুসলিম নিজের জন্য সর্বদা বিদ্যার্জনের দরজা খোলা রাখবে, প্রতিদিন অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নিজের ইলমী যোগ্যতা বাড়িয়ে তুলবে । আল্লাহর কাছে তার শেখানো দোআ বলে প্রার্থনা করব,

❝হে আমার রব ,আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দিন।❞ (ত্বা-হা : ১১৪)

বিদ্যার্জনের অপরিসীম গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তার বর্ণনায় তারা যেসব আকর্ষণীয় কথা বলে গেছেন , সেগুলো একাধারে বিদ্যার প্রতি তাদের মনোভাব এবং বিদ্যান্বেষণে তাদের চূড়ান্ত আগ্রহ ও চেষ্টার বিষয়টি আমাদের সামনে তুলে ধরে । যেমন -

ইমাম ইবনু আবদিল বার(র) ইবনু আবী গাসসান থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেন, "যতদিন তুমি শেখার মাঝে থাকবে, ততদিন তুমি জ্ঞানী । যখনই নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ ভাবা শুরু করবে ,তোমার মূর্খতাও তখন থেকে শুরু হবে।"

আব্দুল্লাহ ইবনুল মোবারককে প্রশ্ন করা হয়েছিল," আপনি কতদিন পর্যন্ত জ্ঞান অর্জন করবেন ? তিনি বলেন মৃত্যু পর্যন্ত।"

আবূ আমর ইবনুল আলা কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, "কতদিন পর্যন্ত জ্ঞানান্বেষণে থাকা মানুষের জন্য মানাসই। তিনি উত্তর দেন, বেচে থাকাই যতদিন মানানসই ততদিন।"

ইমাম সুফিয়ান ইবনু উয়াইনাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল,

"মানুষের মাঝে কার জন্য জ্ঞানার্জন করা সবচেয়ে দরকারি?"

তিনি বলেছিলেন, "যে সবচেয়ে জ্ঞানী তার।"

জানতে চাওয়া হলো কেন? তিনি বললেন,"কারণ তার কাছ থেকে কোনো ভুল প্রকাশ পাওয়াটা বেশি বিশ্রী দেখা।"

অতএব, ভুলের উর্ধ্বে থাকার জন্য তাকে সবসময় ইলমের দ্বারস্থ থাকতে হবে।

আলী (রাঃ) বলেন, "জ্ঞান অর্থ-সম্পদের চেয়ে উত্তম। কেননা জ্ঞান তোমাকেই পাহাড়া দেয় কিন্তু অর্থকে পাহাড়া দিতে হয়। অথচ জ্ঞান হলো শাসক, আর অর্থ হলো শাসিত। অর্থ ব্যয় করলে নিঃশেষ হয়ে যায় কিন্তু জ্ঞান বিতরণ করলে আরো বৃদ্ধি পায়।"

13/09/2026

مَنۡ ذَا الَّذِیۡ یُقۡرِضُ اللّٰہَ قَرۡضًا حَسَنًا فَیُضٰعِفَہٗ لَہٗۤ اَضۡعَافًا کَثِیۡرَۃً ؕ وَاللّٰہُ یَقۡبِضُ وَیَبۡصُۜطُ ۪ وَاِلَیۡہِ تُرۡجَعُوۡنَ

কে সে, যে আল্লাহ্‌কে কর্‌যে হাসানা প্রদান করবে ? তিনি তার জন্য তা বহুগুনে বৃদ্ধি করবেন [১।] আর আল্লাহ্‌ সংকুচিত ও সম্প্রসারিত করেন এবং তাঁর দিকেই তোমাদেরকে প্রত্যাবর্তিত করা হবে। [আল বাকারাহ:২৪৫]

[১] কর্জ বা ঋণ দান করলে তার বৃদ্ধি করার কথা এক হাদীসে এসেছে যে, ‘যে ব্যক্তি তার উত্তম সম্পদ থেকে খেজুর সমপরিমাণ সদকা করবে, আল্লাহ্‌ উত্তম সম্পদ ছাড়া কবুল করেন না, আল্লাহ্‌ সে সম্পদ ডান হাতে গ্রহণ করেন। অতঃপর সদকাকারীর জন্য তা রক্ষণাবেক্ষণ করতে থাকেন, যেমনি তোমাদের কেউ তার ঘোড়া শাবককে লালন-পালন করে পাহাড়সম বড় হওয়া পর্যন্ত। [বুখারী ১৪১০]
আল্লাহ্‌কে ঋণ দেয়ার এ অর্থও বলা হয়েছে যে, তাঁর বান্দাদেরকে ঋণ দেয়া এবং তাদের অভাব পূরণ করা। তাই হাদীসে অভাবীদেরকে ঋণ দেয়ারও অনেক ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ‘কোনো একজন মুসলিম অন্য মুসলিমকে দু’বার ঋণ দিলে এ ঋণদান আল্লাহ্‌র পথে সে পরিমাণ সম্পদ একবার সদকা করার সমতুল্য।' [ইবন মাজাহ ২৪৩০]
রাসূল সাল্লাল্লাহু '‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তিই উত্তম যে তার (ঋণের) হককে উত্তমরূপে পরিশোধ করে।’ তবে, যদি অতিরিক্ত দেয়ার শর্ত করা হয়, তাহলে তা সুদ এবং হারাম বলে গণ্য হবে।’ [বুখারী ২৬০৬]

©®Tafsir Abu Bakr Zakaria

26/07/2026

মৃত্যু'ই শেষ না...

"প্রত্যেক প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে। অতঃপর তোমাদেরকে আল্লাহর কাছেই ফিরিয়ে আনা হবে। কিয়ামতের দিনই তোমাদের পূর্ণ প্রতিদান দেওয়া হবে।" (সূরা আল-আনকাবূত ২৯:৫৭; সূরা আলে ইমরান ৩:১৮৫)

25/07/2026

❝দুনিয়াতে আমরা আল্লাহর কাছে কি চাব? কি প্রার্থনা করব?
দুনিয়াতে আমরা আল্লাহর নিকট আল্লাহ তা'আলার মুহাব্বত বা ভালোবাসা চাব।
প্রিয়, আল্লাহর কাছে ভালো ব্যবসা-বাণিজ্য চাওয়ার অনেক মানুষ রয়েছে৷ ঘর-বাড়ি চাওয়ার অনেক মানুষ রয়েছে৷ পদ-পদবী চাওয়ার অনেক মানুষ রয়েছে।
কিন্তু আল্লাহর নিকট আল্লাহকে চাওয়ার মানুষ খুবই কম। এমন মানুষ অপ্রতুল যারা আল্লাহকে বলবে, হে আল্লাহ, আমি তোমার মুহাব্বত চাই, আমি তোমার ভালোবাসা চাই। আমি তোমার সাথে সুসম্পর্ক গড়তে চাই৷ এমন মানুষের বড়ই অভাব❞
~ শায়খ যুলফিকার আহমাদ নকশবন্দী [হাফি.]
[ খুতুবাতে যুলফিকার: ১/১৭৪-৭৫]

তাসবিহ নাকি ইসতিগফার: কোনটি বেশি উপকারী?ইবনুল কাইয়েম (রাহ.) বলেন: আমি একদিন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.)-কে জিজ্ঞেস ক...
21/04/2026

তাসবিহ নাকি ইসতিগফার: কোনটি বেশি উপকারী?

ইবনুল কাইয়েম (রাহ.) বলেন: আমি একদিন শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম, জনৈক আলেমকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, একজন বান্দার জন্য তাসবিহ (আল্লাহর মহিমা ঘোষণা) নাকি ইসতিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা)-কোনটি বেশি উপকারী?

তিনি উত্তরে বলেছিলেন:

"إِذَا كَانَ الثَّوْبُ نَقِيًّا؛ فَالْبَخُورُ وَمَاءُ الْوَرْدِ أَنْفَعُ لَهُ، وَإِذَا كَانَ دَنِسًا؛ فَالصَّابُونُ وَالْمَاءُ الْحَارُّ أَنْفَعُ لَهُ

“কাপড় যদি পরিষ্কার থাকে তবে তাতে ধূপ (সুগন্ধি) ও গোলাপজল ছিটানোই বেশি উপকারী। আর যদি তা নোংরা থাকে তবে সাবান ও গরম পানি ব্যবহার করাই বেশি উপকারী।”

অতঃপর শাইখুল ইসলাম বললেন:

فَكَيْفَ وَالثِّيَابُ لَا تَزَالُ دَنِسَةً؟

'তাহলে আমাদের অবস্থা ভেবে দেখো, যেখানে আমাদের (গুনাহের) কাপড় তো সবসময়ই নোংরা হয়ে থাকে!'" [আল ওয়াবিল আস সাইয়েব: পৃষ্ঠা নং ১২২]

অর্থাৎ আমাদের অন্তর ও আমলের অবস্থা অনেকটা কাপড়ের মতো। যখন বান্দা গুনাহ মুক্ত থাকে বা বান্দার গুনাহ কম থাকে তখন তখন আল্লাহর জিকির ও তাসবিহ তার মর্যাদা বৃদ্ধিতে সুগন্ধির মতো কাজ করে। কিন্তু বান্দার জীবন যখন পাপ-পঙ্গিলতায় পূর্ণ থাকে, সে প্রচুর গুনাহ করে তখন জিকির ও তাসবিহ-এর তুলনায় ইস্তিগফার (ক্ষমা প্রার্থনা) জীবনকে পাপ মুক্ত করার জন্য সাবান ও গরম পানির মত কাজ করে। অর্থাৎ তখন বেশি বেশি ইস্তিগফার পড়ার মাধ্যমে পাপ মুক্ত হওয়াটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আর এ কথায় কোনও সন্দেহ নাই যে, মানুষ হিসেবে আমরা প্রতিনিয়ত ছোট-বড় নানা গুনাহে লিপ্ত হই। এই অবস্থায় আমাদের অন্তরকে কালিমা মুক্ত করার জন্য 'সাবান ও গরম পানি' অর্থাৎ ইসতিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনার গুরুত্ব বেশি।

❑ তাসবিহ ও ইস্তিগফার উভয়টির মধ্যে সমন্বয় থাকা কর্তব্য:

পূর্বোক্ত ব্যাখ্যার আলোকে কখনো জিকির ও তাসবিহ বেশি গুরুত্বপূর্ণ আবার কখনো ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তবে রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর শিক্ষা হল, জিকির ও তাসবিহ এবং ইস্তিগফারের মধ্যে সমন্বয় করা। কারণ প্রকৃতপক্ষে জিকির-তাসবিহ এবং ইস্তিগফার উভয়টাই বান্দার গুনাহ মোচন করে এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করে। (এমন নয় যে, জিকির কেবল মর্যাদা বৃদ্ধি করে আর ইস্তিগফার কেবল গুনাহ মোচন করে)। তাই আমাদের উচিৎ উভয়টির মধ্যে সমন্বয় সাধন করা।

✪ ইমাম বুখারি রাহ. তাঁর সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন:

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: "مَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ فِي يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ حُطَّتْ خَطَايَاهُ وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ"

"যে ব্যক্তি দিনে ১০০ বার 'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি' (আমি আল্লাহর প্রশংসা সহকারে পবিত্রতা ঘোষণা করছি) বলবে তার গুনাহসমূহ মিটিয়ে দেওয়া হবে যদিও তা সমুদ্রের ফেনার মতো বিশাল হয়।" [সহীহ বুখারী: ৬৪০৫]

✪ আল আগার আল মুজানি (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন,

«إِنَّهُ لَيُغَانُ عَلَىٰ قَلْبِي، وَإِنِّي لَأَسْتَغْفِرُ اللَّهَ فِي الْيَوْمِ مِائَةَ مَرَّةٍ»

"নিশ্চয়ই আমার অন্তরে কিছুটা আবরণ বা মেঘের ছায়ার মতো অনুভব হয়, তাই আমি প্রতিদিন আল্লাহর কাছে একশত বার ক্ষমা প্রার্থনা (ইসতিগফার) করি।" [সহিহ মুসলিম: ২৭০২]

রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিষ্পাপ হওয়া সত্ত্বেও সার্বক্ষণিক আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকতেন। এই উচ্চ মর্যাদা সত্ত্বেও তিনি অনুভব করতেন যে, জিকির বা ইবাদতে সামান্যতম বিরতিও যেন তাঁর হৃদয়ে এক ধরণের আবরণের সৃষ্টি করছে। সেই সামান্য আবরণটুকু পরিষ্কার করার জন্য তিনি দিনে ১০০ বার ইসতিগফার করতেন। তাহলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য ইস্তিগফারের প্রয়োজনীয়তা কত বেশি তা সহজেই অনুমেয়।

✪ আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত,

«كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُكْثِرُ مِنْ قَوْلِ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ، أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ»

"রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অধিক হারে এই দোয়াটি পাঠ করতেন: 'সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, আসতাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি' (অর্থাৎ আল্লাহর প্রশংসা সহকারে তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করছি, তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাঁর দিকেই ফিরে আসছি)।" [সহিহ বুখারি: ৪৮১৭, সহিহ মুসলিম: ৪৮৪]

এই বর্ণনাগুলো থেকে বোঝা যায় যে, তাসবিহ (সুবহানাল্লাহ) এবং ইসতিগফার (আসতাগফিরুল্লাহ)—এই দুটির সমন্বয়ই হল নববী আদর্শ। রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিকে তাসিবহ তথা আল্লাহর মহিমা বর্ণনা করতেন আবার সাথে সাথেই ইস্তিগফার তথা আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করতেন। এটিই সেই 'সাবান-গরম পানি' এবং 'সুগন্ধি'র অনন্য সমন্বয়, যা মুমিনের অন্তরকে পবিত্র ও সুশোভিত রাখে এবং আল্লাহর দরবারে তা মর্যাদাকে উন্নীত করে। আল্লাহু আলাম।
উত্তর প্রদানে:
আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ অ্যাসোসিয়েশন, সৌদি আরব

ইমাম ইবনুল জাওযী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,যখন আল্লাহ কোন বান্দার ভালো চান, তখন তার জিহ্বা দ্বারা রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই...
03/04/2026

ইমাম ইবনুল জাওযী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,

যখন আল্লাহ কোন বান্দার ভালো চান, তখন তার জিহ্বা দ্বারা রাসূলাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর দরুদ শরীফ পাঠ করা সহজ করে দেন।"

[ বুসতান আল ওয়ায়েজিন - ১/৩০০ ]

সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম

আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের নেক আমলগুলো কবুল করুন।
20/03/2026

আল্লাহ আমাদের এবং আপনাদের নেক আমলগুলো কবুল করুন।

19/03/2026
19/03/2026

অপ্রয়োজনীয় যাবতীয় কাজ বর্জন করেন। কেবল দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণকর কাজেই সময় ব্যয় করুন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,
مِنْ حُسْنِ إِسْلَامِ الْمَرْءِ تَرْكُهُ مَا لَا يَعْنِيهِ

❝ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্য হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় কাজ বর্জন করা।❞
[ ইমাম ইবনু মাজাহ (রাহ.), আস সুনান, হা: ৩৯৭৬, শাইখ আলবানীর রাহ. মতে সহীহ]

18/03/2026

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনটি ধ্বংসকারী বস্ত্ত থেকে মানুষকে সাবধান করেছেন
(১) প্রবৃত্তি পূজারী হওয়া
(২) লোভের দাস হওয়া এবং
(৩) আত্ম অহংকারী হওয়া।
তিনি বলেন, এটিই হ’ল সবচেয়ে মারাত্মক।

[বায়হাক্বী শু‘আবুল ঈমান: ৭২৫২, সনদ হাসান; মিশকাতুল মাসাবীহ: ৫১২২]

Address

Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Think in Recite posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to Think in Recite:

Shortcuts

Share

Category